ঢাকা, মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর ২০২৬, ২১ আশ্বিন ১৪৩৩

ইউটিউবের নতুন নিয়ম, যেসব ভিডিওতে মিলবে না আয়

তথ্য ও প্রযুক্তি ডেস্ক . ২৪আপডেটনিউজ
২০২৬ অক্টোবর ০৬ ১৫:৩৯:০৩
ইউটিউবের নতুন নিয়ম, যেসব ভিডিওতে মিলবে না আয়

এআই প্রযুক্তির সাহায্যে অল্প সময়ে বিপুল পরিমাণ অডিও, ছবি ও ভিডিও তৈরি করা সম্ভব হচ্ছে। এর ফলে ইউটিউবেও এআই-নির্ভর কনটেন্টের সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে। তবে এই প্রবণতার মধ্যে নিম্নমানের, একই ধরনের ও বিভ্রান্তিকর ভিডিওর বিস্তার ঠেকাতে নতুন নীতির ঘোষণা দিয়েছে ইউটিউব। নির্দিষ্ট ধরনের এআই-নির্ভর ভিডিওর ক্ষেত্রে ইউটিউব পার্টনার প্রোগ্রামের (YPP) মাধ্যমে আয়ের সুযোগ আর থাকবে না।

ইউটিউব জানিয়েছে, নতুন ব্যবস্থার মূল লক্ষ্য হলো দর্শকদের জন্য আরও মৌলিক ও মানসম্মত কনটেন্টকে গুরুত্ব দেওয়া। একই সঙ্গে বারবার তৈরি করা, নিম্নমানের কিংবা দর্শকদের বিভ্রান্ত করতে পারে—এমন ভিডিওর বিস্তার কমানোও এই নীতির অন্যতম উদ্দেশ্য।

কোন ধরনের ভিডিও ‘ইন-অথেনটিক কনটেন্ট’ হবে

নতুন নিয়মে নির্দিষ্ট কিছু ভিডিওকে ‘ইন-অথেনটিক (অপ্রামাণ্য) কনটেন্ট’ হিসেবে বিবেচনা করা হবে। এর মধ্যে রয়েছে তিন ধরনের কনটেন্ট।

প্রথমত, একই ধরনের ভিডিও বারবার তৈরি বা প্রকাশ করা হলে এবং সেই কাজে এআইয়ের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা থাকলে তা এই শ্রেণির আওতায় পড়বে।

দ্বিতীয়ত, দর্শকদের বিভ্রান্ত করা, কোনো বিষয়ে তাদের প্রভাবিত করা কিংবা আবেগের দিক থেকে অস্বস্তিতে ফেলার উদ্দেশ্যে তৈরি ভিডিওও ‘ইন-অথেনটিক কনটেন্ট’ হিসেবে বিবেচিত হবে।

তৃতীয়ত, স্বাস্থ্য, চিকিৎসা, অর্থনীতি বা আইনি পরামর্শের মতো সংবেদনশীল বিষয়ে মানুষের মতো দেখতে বা আচরণ করতে সক্ষম এআই চরিত্র ব্যবহার করা ভিডিওও নতুন নীতির আওতায় আসবে।

কেন এমন সিদ্ধান্ত ইউটিউবের

ইউটিউবের ভাষ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক সময়ে এআই ব্যবহার করে বিপুল সংখ্যায় নিম্নমানের ভিডিও তৈরি ও প্রকাশের প্রবণতা বেড়েছে। অল্প সময়ে অনেক কনটেন্ট তৈরি করা গেলেও এর ফলে প্ল্যাটফর্মে থাকা ভিডিওগুলোর সামগ্রিক মান ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

শুধু তা-ই নয়, এ ধরনের কনটেন্ট দর্শকদের অভিজ্ঞতার ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। পাশাপাশি প্ল্যাটফর্মে বিজ্ঞাপনদাতাদের আস্থার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। এসব কারণেই ইউটিউব মৌলিক ও দর্শকদের জন্য বাস্তব মূল্য তৈরি করে—এমন ভিডিওকে বেশি গুরুত্ব দিতে চায়।

সব এআই ভিডিও কি আয় হারাবে?

না। ইউটিউবের এই সিদ্ধান্তকে সব ধরনের এআই-নির্মিত ভিডিওর ওপর নিষেধাজ্ঞা হিসেবে দেখা যাবে না। এআই ব্যবহার করে তৈরি হলেও কোনো ভিডিও যদি মৌলিক ও তথ্যবহুল হয় এবং ইউটিউবের নীতিমালা মেনে তৈরি করা হয়, তাহলে সেটি আগের মতোই আয় করার যোগ্য থাকতে পারে।

অর্থাৎ পরিবর্তনের মূল লক্ষ্য এআই প্রযুক্তি ব্যবহার বন্ধ করা নয়; বরং এআইয়ের সাহায্যে তৈরি নিম্নমানের, পুনরাবৃত্তিমূলক ও বিভ্রান্তিকর কনটেন্টের বিস্তার নিয়ন্ত্রণ করা।

নির্মাতাদের জন্য কী বদলাচ্ছে

নতুন সিদ্ধান্তের পর এআই ব্যবহার করে ভিডিও তৈরি করেন—এমন নির্মাতাদের কনটেন্ট তৈরির ধরন নিয়ে আরও সতর্ক হতে হবে। বিশেষ করে ভিডিও কতটা মৌলিক, তথ্য কতটা নির্ভুল এবং দর্শকের জন্য সেটি প্রকৃত অর্থে কী মূল্য তৈরি করছে—এসব বিষয়ে গুরুত্ব দিতে হবে।

ইউটিউবের নতুন নীতির ফলে তাই শুধু দ্রুত ভিডিও তৈরি ও প্রকাশ করাই যথেষ্ট হবে না। মৌলিকত্ব ও তথ্যের সঠিকতার ওপরও বেশি গুরুত্ব দিতে হবে নির্মাতাদের।

এক নজরে ইউটিউবের নতুন নীতি

সামনে এআই কনটেন্ট তৈরিতে বাড়বে সতর্কতা

ইউটিউবের নতুন সিদ্ধান্তে স্পষ্ট, প্ল্যাটফর্মে এআই ব্যবহার করে কনটেন্ট তৈরির সুযোগ পুরোপুরি বন্ধ হচ্ছে না। তবে কেবল এআইয়ের সাহায্যে দ্রুত ও বিপুল পরিমাণ ভিডিও তৈরি করলেই তা মনিটাইজেশনের জন্য উপযুক্ত হবে না।

মৌলিক, সৃজনশীল ও তথ্যভিত্তিক ভিডিও তৈরির পাশাপাশি দর্শকদের জন্য বাস্তব মূল্য তৈরি করছে কি না, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। ফলে এআই ব্যবহারকারী নির্মাতাদের এখন থেকে কনটেন্ট তৈরির ক্ষেত্রে আগের তুলনায় আরও বেশি গুরুত্ব দিতে হবে মৌলিকতা ও তথ্যের নির্ভুলতার ওপর।

পাঠকের সাধারণ প্রশ্ন

প্রশ্ন: ইউটিউব কি সব এআই-নির্মিত ভিডিও বন্ধ করে দিচ্ছে?

উত্তর: না। নীতিমালা মেনে তৈরি মৌলিক ও তথ্যবহুল এআই-নির্ভর ভিডিও মনিটাইজেশনের জন্য যোগ্য থাকতে পারে।

প্রশ্ন: কোন ধরনের এআই ভিডিওকে ‘ইন-অথেনটিক কনটেন্ট’ বলা হবে?

উত্তর: একই ধরনের বা বারবার তৈরি এআই-নির্ভর ভিডিও, বিভ্রান্ত বা আবেগগতভাবে অস্বস্তিতে ফেলার উদ্দেশ্যে তৈরি কনটেন্ট এবং সংবেদনশীল বিষয়ে মানুষের মতো এআই চরিত্র ব্যবহার করা ভিডিও এই শ্রেণিতে পড়বে।

প্রশ্ন: কোন সংবেদনশীল বিষয়গুলো নতুন নিয়মে উল্লেখ করা হয়েছে?

উত্তর: স্বাস্থ্য, চিকিৎসা, অর্থনীতি এবং আইনি পরামর্শের মতো বিষয় উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রশ্ন: নতুন নিয়মের মূল উদ্দেশ্য কী?

উত্তর: নিম্নমানের, পুনরাবৃত্তিমূলক ও বিভ্রান্তিকর কনটেন্টের বিস্তার ঠেকিয়ে মৌলিক, সৃজনশীল ও তথ্যভিত্তিক ভিডিওকে অগ্রাধিকার দেওয়া।

তানভির ইসলাম/

পাঠকের মতামত: