ঢাকা, বুধবার, ৭ অক্টোবর ২০২৬, ২২ আশ্বিন ১৪৩৩

মেসির আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে যত রেকর্ড, যা ভাঙা কঠিন

খেলা ডেস্ক . ২৪আপডেটনিউজ
২০২৬ অক্টোবর ০৭ ০৯:৪১:১৪
মেসির আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে যত রেকর্ড, যা ভাঙা কঠিন

একটি গোল করে, দুটি অ্যাসিস্ট দিয়ে আর্জেন্টিনার জার্সিতে বিদায় নিয়েছেন লিওনেল মেসি। বেনিনের বিপক্ষে শেষ ম্যাচের পর তার আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের শেষ হিসাব দাঁড়িয়েছে ২০৮ ম্যাচ, ১২৬ গোল ও ৭০ অ্যাসিস্ট। কিন্তু মেসির আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের আসল ব্যাপ্তি শুধু এই তিনটি সংখ্যায় ধরা যায় না। আর্জেন্টিনার হয়ে সর্বোচ্চ ম্যাচ ও গোলের রেকর্ড থেকে শুরু করে বিশ্বকাপের সবচেয়ে বেশি ম্যাচ, জয়, অ্যাসিস্ট ও গোল-অবদানের রেকর্ড—দুই দশকের বেশি সময়ের ক্যারিয়ারে এমন একাধিক নজির রেখে গেছেন তিনি, যেগুলো ভাঙা কঠিনই নয়, অনেক ক্ষেত্রে অসম্ভবের কাছাকাছি।

২০০৫ সালে আন্তর্জাতিক অভিষেকের পর ২০২৬ সালে শেষ ম্যাচ—এই দীর্ঘ যাত্রায় মেসি খেলেছেন ছয়টি বিশ্বকাপ ও সাতটি কোপা আমেরিকা। জিতেছেন বিশ্বকাপ, দুটি কোপা আমেরিকা ও ফাইনালিসিমা। আর ব্যক্তিগত অর্জনের খাতায় যোগ হয়েছে একের পর এক ঐতিহাসিক রেকর্ড।

আর্জেন্টিনার হয়ে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ

বেনিনের বিপক্ষে ম্যাচটি ছিল আর্জেন্টিনার হয়ে মেসির ২০৮তম ও শেষ ম্যাচ। এর মাধ্যমে জাতীয় দলের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলার রেকর্ড নিজের দখলেই রেখেছেন তিনি।

বিদায়ী ম্যাচের আগে আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের হিসাবে তার ম্যাচ ছিল ২০৭টি; বেনিনের বিপক্ষে মাঠে নামার পর সেটি দাঁড়ায় ২০৮-এ।

অর্থাৎ আর্জেন্টিনার হয়ে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলা এবং সবচেয়ে বেশি গোল করা—দুই রেকর্ডই মেসির।

আর্জেন্টিনার সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা

জাতীয় দলের হয়ে মেসির গোলসংখ্যা এখন ১২৬। বেনিনের বিপক্ষে শেষ ম্যাচে পেনাল্টি থেকে গোল করে তিনি আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার শেষ করেছেন ১২৬ গোল নিয়ে।

তার আগে আর্জেন্টিনার সর্বোচ্চ গোলদাতার রেকর্ড ছিল গ্যাব্রিয়েল বাতিস্তুতার। মেসি অনেক আগেই সেই রেকর্ড ভেঙে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যান।

দক্ষিণ আমেরিকার পুরুষ ফুটবলারদের মধ্যেও আন্তর্জাতিক গোলের হিসাবে মেসিই শীর্ষে। বিশ্ব ফুটবলে পুরুষদের আন্তর্জাতিক গোলের তালিকায় তিনি শেষ করেছেন দ্বিতীয় স্থানে, ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর পেছনে।

আর্জেন্টিনার হয়ে সবচেয়ে বেশি অ্যাসিস্ট

মেসির আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের আরেকটি বড় রেকর্ড তার অ্যাসিস্ট। বেনিনের বিপক্ষে শেষ ম্যাচেই দুটি গোল বানিয়ে দিয়ে আর্জেন্টিনার হয়ে তার অ্যাসিস্টের সংখ্যা ৭০-এ পৌঁছেছে বলে সাম্প্রতিক ম্যাচ-পরবর্তী পরিসংখ্যানগুলোতে উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে এখানে একটি বিষয় মনে রাখা জরুরি—অ্যাসিস্ট গণনার পদ্ধতি ও ডেটাবেসভেদে সংখ্যায় পার্থক্য দেখা যায়। তাই প্রকাশনার ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট কোনো ডেটাবেসের হিসাব অনুসরণ করা ভালো।

বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ

বিশ্বকাপের ইতিহাসে মেসির সবচেয়ে বড় রেকর্ডগুলোর একটি হলো ৩৪ ম্যাচ।

২০০৬ থেকে ২০২৬—ছয়টি বিশ্বকাপ খেলেছেন তিনি। ২০২৬ বিশ্বকাপ শেষে তার মোট ম্যাচ দাঁড়ায় ৩৪টি, যা বিশ্বকাপের ইতিহাসে সর্বোচ্চ।

ছয়টি বিশ্বকাপে খেলেছেন—

২০০৬ জার্মানি

২০১০ দক্ষিণ আফ্রিকা

২০১৪ ব্রাজিল

২০১৮ রাশিয়া

২০২২ কাতার

২০২৬ যুক্তরাষ্ট্র-মেক্সিকো-কানাডা

এই ছয় আসরেই তিনি আর্জেন্টিনার গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড় ছিলেন।

বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি জয়

শুধু ম্যাচ খেলার রেকর্ড নয়, বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ জয়ের রেকর্ডও মেসির।

তার বিশ্বকাপ জয়ের সংখ্যা ২৩। ২০২৬ বিশ্বকাপেই তিনি এই রেকর্ড আরও শক্ত করেন।

এই রেকর্ডটি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ বিশ্বকাপের মতো বড় মঞ্চে একটি খেলোয়াড়ের দীর্ঘ সময় ধরে নিয়মিত দলকে জয়ের পথে রাখা কতটা কঠিন, সেটিই এর মাধ্যমে বোঝা যায়।

বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি অ্যাসিস্ট

বিশ্বকাপে মেসির অ্যাসিস্ট সংখ্যা ১২, যা এই প্রতিযোগিতার ইতিহাসে সর্বোচ্চ বলে স্বীকৃত। ২০২৬ বিশ্বকাপেও তিনি চারটি অ্যাসিস্ট করেছেন।

অর্থাৎ বিশ্বকাপে শুধু গোল করাই নয়, সতীর্থদের দিয়ে গোল করানোর ক্ষেত্রেও মেসি সবার ওপরে।

বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি গোল-অবদান

গোল ও অ্যাসিস্ট একসঙ্গে হিসাব করলে মেসির বিশ্বকাপ রেকর্ড আরও বড়।

২১ গোল ও ১২ অ্যাসিস্ট মিলিয়ে বিশ্বকাপে তার মোট ৩৩ গোল-অবদান। এই সংখ্যাটিও বিশ্বকাপের ইতিহাসে সর্বোচ্চ।

অর্থাৎ বিশ্বকাপে মেসি সরাসরি ৩৩টি গোলে অবদান রেখেছেন—নিজে গোল করেছেন অথবা সতীর্থকে দিয়ে করিয়েছেন।

বিশ্বকাপের ছয়টি আসরে অ্যাসিস্ট করা একমাত্র খেলোয়াড়

ছয়টি বিশ্বকাপ খেলে মেসি শুধু গোলই করেননি, প্রতিটি আসরেই অন্তত একটি অ্যাসিস্টও করেছেন।

এমন কীর্তি বিশ্বকাপের ইতিহাসে বিরল। ২০২৬ বিশ্বকাপের পর মেসি হয়ে ওঠেন ছয়টি আলাদা বিশ্বকাপে অ্যাসিস্ট করা একমাত্র খেলোয়াড়।

বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি মিনিট খেলার রেকর্ড

ছয়টি বিশ্বকাপ মিলিয়ে মেসির খেলা মিনিটের সংখ্যাও রেকর্ড গড়েছে।

তার মোট বিশ্বকাপ খেলার সময় প্রায় ৩,০৫৪ মিনিট, যা বিশ্বকাপের ইতিহাসে সর্বোচ্চগুলোর মধ্যে নয়, বরং রেকর্ড।

এটি মেসির দীর্ঘস্থায়ী ধারাবাহিকতারও একটি বড় প্রমাণ।

বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি ম্যাচে অধিনায়কত্ব

মেসি শুধু নিয়মিত খেলোয়াড়ই ছিলেন না; দীর্ঘ সময় আর্জেন্টিনাকে নেতৃত্বও দিয়েছেন। বিশ্বকাপে তার অধিনায়ক হিসেবে ম্যাচসংখ্যা ২৭, যা রেকর্ড।

বিশ্বকাপের সবচেয়ে বড় মঞ্চে এত দীর্ঘ সময় অধিনায়ক হিসেবে থাকা তার নেতৃত্বের স্থায়িত্বও তুলে ধরে।

বিশ্বকাপের ইতিহাসে টানা ৯ ম্যাচে গোল

২০২২ বিশ্বকাপের শেষ দিক থেকে ২০২৬ বিশ্বকাপ পর্যন্ত মেসি টানা ৯টি বিশ্বকাপ ম্যাচে গোল করেছেন।

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ২০২২ সালের রাউন্ড অব ১৬ ম্যাচ থেকে শুরু হওয়া এই ধারায় নেদারল্যান্ডস, ক্রোয়েশিয়া ও ফ্রান্সের বিপক্ষে গোল করার পর ২০২৬ বিশ্বকাপেও আলজেরিয়া, অস্ট্রিয়া, জর্ডান, কেপ ভার্দে ও মিসরের বিপক্ষে গোল করেন।

এটি বিশ্বকাপের ইতিহাসে টানা ম্যাচে গোল করার সর্বকালের রেকর্ড।

বিশ্বকাপের টানা ছয় নকআউট ম্যাচে গোল

মেসি আরও একটি অসাধারণ রেকর্ড করেছেন—বিশ্বকাপের টানা ছয়টি নকআউট ম্যাচে গোল করা প্রথম খেলোয়াড় তিনি।

২০২২ সালের রাউন্ড অব ১৬ থেকে শুরু হওয়া এই ধারাটি ২০২৬ বিশ্বকাপের মিসরের বিপক্ষে ম্যাচ পর্যন্ত গড়ায়।

বিশ্বকাপের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচগুলোতে ধারাবাহিকভাবে গোল করা যে কতটা কঠিন, এই রেকর্ডটি তারই প্রমাণ।

এক বিশ্বকাপে নকআউটের সব পর্যায়ে গোল

২০২৬ বিশ্বকাপে নতুন ফরম্যাটে রাউন্ড অব ৩২ যুক্ত হওয়ার পর মেসি বিশ্বকাপের সব নকআউট পর্যায়ে গোল করা প্রথম খেলোয়াড় হন।

তিনি রাউন্ড অব ৩২, রাউন্ড অব ১৬, কোয়ার্টার ফাইনাল, সেমিফাইনাল ও ফাইনাল—প্রতিটি পর্যায়েই গোল করার নজির গড়েন।

এর আগে ২০২২ সালে তিনি একটি বিশ্বকাপের প্রচলিত পাঁচটি পর্যায়—গ্রুপ পর্ব থেকে ফাইনাল পর্যন্ত—সব পর্যায়েই গোল করেছিলেন।

এক বিশ্বকাপে গ্রুপ থেকে ফাইনাল পর্যন্ত প্রতিটি ধাপে গোল

কাতার বিশ্বকাপে মেসি গ্রুপ পর্ব, রাউন্ড অব ১৬, কোয়ার্টার ফাইনাল, সেমিফাইনাল এবং ফাইনাল—প্রতিটি পর্যায়েই গোল করেছিলেন।

ফলে ২০২২ সালে তিনি বিশ্বকাপের ইতিহাসে একটি আসরের প্রতিটি ধাপে গোল করা প্রথম খেলোয়াড় হন।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ফাইনালেও তিনি দুই গোল করেছিলেন এবং শেষ পর্যন্ত আর্জেন্টিনা বিশ্বকাপ জেতে।

বিশ্বকাপে দুইবার গোল্ডেন বল জেতা একমাত্র খেলোয়াড়

বিশ্বকাপের সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার গোল্ডেন বল মেসি জিতেছেন দুইবার—২০১৪ ও ২০২২ সালে।

এমন কীর্তি বিশ্বকাপের ইতিহাসে আর কোনো খেলোয়াড়ের নেই।

২০১৪ সালে আর্জেন্টিনা ফাইনালে জার্মানির কাছে হারলেও মেসি টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড় হন। আট বছর পর কাতারে তিনি শুধু পুরস্কারই জেতেননি, দলকে বিশ্বকাপও এনে দেন।

তিনটি বিশ্বকাপ ফাইনাল খেলা

মেসি বিশ্বকাপের ফাইনালে খেলেছেন তিনবার—২০১৪, ২০২২ ও ২০২৬ সালে।

২০১৪ ও ২০২৬ সালে আর্জেন্টিনা রানার্সআপ হলেও ২০২২ সালে ফ্রান্সকে হারিয়ে বিশ্বকাপ জেতে।

২০২৬ সালের ফাইনালে মাঠে নামার মাধ্যমে মেসি বিশ্বকাপের ইতিহাসে তিনটি ফাইনাল খেলা খেলোয়াড়দের বিশেষ তালিকায় জায়গা করে নেন। তিনি তিনটি ফাইনালেই শুরু থেকে খেলেছেন—এটিও একটি অনন্য রেকর্ড।

ছয়টি বিশ্বকাপে খেলা

২০০৬ থেকে ২০২৬ পর্যন্ত মোট ছয়টি বিশ্বকাপ খেলেছেন মেসি। এই কীর্তি তাকে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো ও গিয়ের্মো ওচোয়ার সঙ্গে ছয় বিশ্বকাপ খেলা খেলোয়াড়দের তালিকায় রাখে।

তবে ছয় আসরের প্রতিটিতে ম্যাচ খেলার ধারাবাহিকতার কারণে মেসি বিশ্বকাপের উপস্থিতি ও মিনিটের ক্ষেত্রে আরও কয়েকটি রেকর্ড নিজের করে নিয়েছেন।

কোপা আমেরিকায় সবচেয়ে বেশি ম্যাচ

কোপা আমেরিকাতেও মেসির রেকর্ডের তালিকা দীর্ঘ।

তিনি সাতটি আসরে মোট ৩৯ ম্যাচ খেলেছেন, যা কোপা আমেরিকার ইতিহাসে সর্বোচ্চ।

এই সাতটি আসর হলো ২০০৭, ২০১১, ২০১৫, ২০১৬, ২০১৯, ২০২১ ও ২০২৪।

দক্ষিণ আমেরিকার বিশ্বকাপ বাছাইয়ে সর্বোচ্চ গোল

কনমেবল অঞ্চলের বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে মেসি করেছেন ৩৬ গোল।

৭২ ম্যাচে এই ৩৬ গোল তাকে দক্ষিণ আমেরিকার বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা করেছে। ম্যাচসংখ্যার দিক থেকে ইভান উর্তাদোর সঙ্গে তার রেকর্ড রয়েছে, তবে গোলের ক্ষেত্রে মেসি এককভাবে শীর্ষে।

২০২৬ বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি বয়সী আর্জেন্টাইন গোলদাতা

২০২৬ বিশ্বকাপেও রেকর্ডের তালিকায় নতুন অধ্যায় যোগ করেছেন মেসি।

৩৯ বছর বয়সে গোল করে তিনি বিশ্বকাপে গোল করা সবচেয়ে বেশি বয়সী আর্জেন্টাইন খেলোয়াড়ের রেকর্ড গড়েছেন। সেই বিশ্বকাপে তার গোল ছিল ৮টি, সঙ্গে ছিল চারটি অ্যাসিস্ট।

আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের শেষ রেকর্ডও হলো রেকর্ড

মেসির শেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচের গল্পটিও তার ক্যারিয়ারের সঙ্গে মানানসই।

বেনিনের বিপক্ষে ৩-০ জয়ে একটি গোল এবং দুটি অ্যাসিস্ট করে তিনি জাতীয় দলের অধ্যায় শেষ করেন। ফলে আর্জেন্টিনার হয়ে তার শেষ ম্যাচটিও হয়ে থাকে সরাসরি তিনটি গোলে অবদান রাখার ম্যাচ।

শেষ পর্যন্ত মেসির আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় সংখ্যাগুলো দাঁড়াল—২০৮ ম্যাচ, ১২৬ গোল, ৭০ অ্যাসিস্ট, ছয় বিশ্বকাপ, সাত কোপা আমেরিকা এবং চারটি সিনিয়র আন্তর্জাতিক শিরোপা।

রেকর্ডের বাইরে মেসির সবচেয়ে বড় অর্জন

মেসির রেকর্ডের তালিকা যত দীর্ঘই হোক, তার আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় সম্ভবত ট্রফিগুলো।

আর্জেন্টিনার সিনিয়র দলের হয়ে তিনি জিতেছেন—

২০২১ কোপা আমেরিকা

২০২২ ফাইনালিসিমা

২০২২ ফিফা বিশ্বকাপ

২০২৪ কোপা আমেরিকা

এর সঙ্গে বয়সভিত্তিক ও অলিম্পিক সাফল্য ধরলে জাতীয় দলের জার্সিতে তার শিরোপার সংখ্যা ছয়—২০০৫ সালের অনূর্ধ্ব-২০ বিশ্বকাপ এবং ২০০৮ সালের অলিম্পিক সোনাও রয়েছে সেই তালিকায়।

একসময় যে মেসির বিরুদ্ধে সবচেয়ে বড় অভিযোগ ছিল—আর্জেন্টিনার হয়ে তিনি শিরোপা জিততে পারেন না—ক্যারিয়ারের শেষ দিকে এসে সেই সমালোচনাকেই ইতিহাসে পরিণত করেছেন তিনি।

তাই মেসির আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার শুধু ২০৮ ম্যাচ ও ১২৬ গোলের গল্প নয়। এটি এমন এক রেকর্ডের অধ্যায়, যেখানে বিশ্বকাপের মঞ্চ, কোপা আমেরিকা, বিশ্বকাপ বাছাই, গোল, অ্যাসিস্ট, জয়, অধিনায়কত্ব—প্রায় প্রতিটি জায়গাতেই তার নাম আলাদা করে লেখা হয়েছে।

আর সবচেয়ে প্রতীকী বিষয় হলো, বিদায়ের ম্যাচেও রেকর্ডের সেই গল্প থামেনি—বেনিনের বিপক্ষে গোল ও দুটি অ্যাসিস্ট দিয়ে মেসি জাতীয় দলের জার্সি খুলেছেন শেষবারের মতো।

FAQ

প্রশ্ন: আর্জেন্টিনার হয়ে মেসির সবচেয়ে বড় রেকর্ড কোনটি?

উত্তর: আর্জেন্টিনার হয়ে মেসির সবচেয়ে বড় দুটি রেকর্ড হলো সবচেয়ে বেশি ম্যাচ—২০৮টি এবং সবচেয়ে বেশি গোল—১২৬টি।

প্রশ্ন: বিশ্বকাপে মেসির সবচেয়ে বড় রেকর্ড কী?

উত্তর: বিশ্বকাপে মেসির একাধিক রেকর্ড রয়েছে। এর মধ্যে ৩৪ ম্যাচ, ২৩ জয়, ১২ অ্যাসিস্ট এবং ৩৩ গোল-অবদান উল্লেখযোগ্য।

প্রশ্ন: বিশ্বকাপে টানা কত ম্যাচে গোল করেছেন মেসি?

উত্তর: মেসি টানা ৯টি বিশ্বকাপ ম্যাচে গোল করেছেন, যা বিশ্বকাপের ইতিহাসে সর্বোচ্চ ধারাবাহিক গোলের রেকর্ড।

প্রশ্ন: মেসি কতবার বিশ্বকাপের গোল্ডেন বল জিতেছেন?

উত্তর: মেসি দুইবার—২০১৪ ও ২০২২ সালে বিশ্বকাপের গোল্ডেন বল জিতেছেন। তিনিই প্রথম ও একমাত্র খেলোয়াড় যিনি এই পুরস্কার দুইবার পেয়েছেন।

প্রশ্ন: দক্ষিণ আমেরিকার বিশ্বকাপ বাছাইয়ে মেসির রেকর্ড কী?

উত্তর: কনমেবল বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে মেসি ৩৬ গোল করেছেন, যা এই প্রতিযোগিতার ইতিহাসে সর্বোচ্চ।

তানভির ইসলাম/

পাঠকের মতামত: