লার্নার ড্রাইভিং লাইসেন্স করতে কত টাকা লাগে? জানুন নিয়ম
বাংলাদেশে মোটরসাইকেল বা গাড়ির ড্রাইভিং লাইসেন্স করতে চাইলে প্রথমেই জানতে হবে শিক্ষানবিশ বা লার্নার লাইসেন্সের ফি, আবেদনের নিয়ম এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র। বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, এক ক্যাটাগরির লার্নার লাইসেন্সের ফি ৫১৮ টাকা এবং দুই ক্যাটাগরির জন্য ৭৪৮ টাকা। তবে বিআরটিএর বিভিন্ন সরকারি ওয়েবপেজে পুরোনো ফি-ও দেখা যাচ্ছে। এ কারণে আবেদন করার আগে অনলাইন পোর্টালে প্রদর্শিত বর্তমান ফি যাচাই করা জরুরি।
লার্নার লাইসেন্স হলো চূড়ান্ত ড্রাইভিং লাইসেন্স পাওয়ার প্রাথমিক ধাপ। তাই শুধু আবেদন ফি জানলেই হবে না; কোন ক্যাটাগরিতে আবেদন করবেন, কী কী নথি লাগবে, অনলাইনে কীভাবে আবেদন করবেন এবং লাইসেন্স পাওয়ার পর কী করতে হবে—সেসব বিষয়ও জানা প্রয়োজন।
লার্নার ড্রাইভিং লাইসেন্সের ফি কত?
বিআরটিএর প্রকাশিত সেবা-সংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, এক ক্যাটাগরির শিক্ষানবিশ ড্রাইভিং লাইসেন্সের ফি ৫১৮ টাকা। দুই ক্যাটাগরির জন্য ফি ৭৪৮ টাকা। অনলাইন পেমেন্টের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য গেটওয়ে চার্জ অতিরিক্ত হতে পারে।
সাধারণভাবে, এক ক্যাটাগরিতে শুধু মোটরসাইকেল অথবা একটি নির্দিষ্ট শ্রেণির মোটরযানের জন্য আবেদন করা হয়। দুই ক্যাটাগরিতে মোটরসাইকেল ও হালকা মোটরযানের মতো দুটি শ্রেণি অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে। তবে আবেদনের সময় পোর্টালে প্রদর্শিত ক্যাটাগরি ও শর্ত অনুসরণ করতে হবে।
ফি নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়: বিআরটিএর সার্ভিস পোর্টালের একটি পৃষ্ঠায় এক ক্যাটাগরির ফি ৩৪৫ টাকা এবং দুই ক্যাটাগরির ফি ৫১৮ টাকা উল্লেখ রয়েছে। অন্যদিকে, বিআরটিএর নাগরিক সনদ ও ড্রাইভিং লাইসেন্স-সংক্রান্ত নির্দেশনায় ৫১৮ ও ৭৪৮ টাকার অঙ্ক পাওয়া যায়। এই অসংগতির কারণে আবেদন জমা দেওয়ার আগে বিআরটিএ সার্ভিস পোর্টালে প্রদর্শিত ফি দেখে নেওয়াই নিরাপদ।
এখানে মনে রাখতে হবে, লার্নার লাইসেন্সের ফি এবং চূড়ান্ত ড্রাইভিং লাইসেন্সের ফি এক নয়। দক্ষতা যাচাই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পর চূড়ান্ত লাইসেন্সের জন্য আলাদা ফি দিতে হয়।
লার্নার ড্রাইভিং লাইসেন্স করতে কী কী কাগজ লাগে?
আবেদন করার আগে প্রয়োজনীয় নথি প্রস্তুত রাখলে প্রক্রিয়াটি সহজ হয়। বিআরটিএর প্রকাশিত নির্দেশনায় যেসব নথির কথা বলা হয়েছে, সেগুলোর মধ্যে রয়েছে—
- পরিচয়পত্র: জাতীয় পরিচয়পত্র, জন্মনিবন্ধন বা গ্রহণযোগ্য পরিচয়পত্রের কপি।
- মেডিকেল সার্টিফিকেট: নিবন্ধিত চিকিৎসকের দেওয়া নির্ধারিত মেডিকেল সার্টিফিকেট।
- ঠিকানার প্রমাণ: এনআইডির ঠিকানা ও বর্তমান ঠিকানা আলাদা হলে প্রয়োজনীয় প্রমাণপত্র।
- শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ: সংশ্লিষ্ট আবেদনে চাওয়া হলে সনদের স্ক্যান কপি।
- ফি পরিশোধের প্রমাণ: অনলাইনে পেমেন্টের রসিদ বা পোর্টালে সংরক্ষিত পেমেন্ট তথ্য।
- ছবি ও অন্যান্য নথি: অনলাইন আবেদনে যেসব অতিরিক্ত নথি চাওয়া হবে।
বিআরটিএর নির্দেশনায় মেডিকেল সার্টিফিকেট, পরিচয়পত্র এবং প্রয়োজন অনুযায়ী ঠিকানা ও শিক্ষাগত যোগ্যতার প্রমাণের উল্লেখ রয়েছে। তবে আবেদনের ধরন ও বর্তমান পোর্টালের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় নথি যাচাই করে নেওয়া উচিত।
লার্নার ড্রাইভিং লাইসেন্স করতে বয়স কত হতে হবে?
বিআরটিএর প্রকাশিত নির্দেশনা অনুযায়ী, অপেশাদার ড্রাইভিং লাইসেন্সের জন্য আবেদনকারীর ন্যূনতম বয়স ১৮ বছর এবং পেশাদার ড্রাইভিং লাইসেন্সের জন্য ২০ বছর হতে হয়। পাশাপাশি আবেদনকারীকে সংশ্লিষ্ট ক্যাটাগরির অন্যান্য যোগ্যতার শর্তও পূরণ করতে হবে।
গাড়ি বা মোটরসাইকেল চালানোর জন্য কোন ধরনের লাইসেন্স প্রয়োজন, তা আগে ঠিক করা জরুরি। কারণ যানবাহনের শ্রেণি অনুযায়ী আবেদন ও পরবর্তী লাইসেন্সের শর্তে পার্থক্য থাকতে পারে।
অনলাইনে লার্নার ড্রাইভিং লাইসেন্স করার নিয়ম
লার্নার ড্রাইভিং লাইসেন্সের আবেদন বিআরটিএ সার্ভিস পোর্টালের মাধ্যমে করা যায়। পুরো প্রক্রিয়াটি ধাপে ধাপে সম্পন্ন করতে হবে।
প্রথম ধাপ: বিআরটিএ পোর্টালে প্রবেশ করুন।
প্রথমে বিআরটিএ সার্ভিস পোর্টাল খুলুন। প্রয়োজন হলে অ্যাকাউন্ট তৈরি করে লগইন করুন।
দ্বিতীয় ধাপ: আবেদন ফরম পূরণ করুন।
লার্নার বা শিক্ষানবিশ ড্রাইভিং লাইসেন্সের আবেদন নির্বাচন করে ব্যক্তিগত তথ্য, পরিচয়পত্রের তথ্য ও প্রয়োজনীয় অন্যান্য তথ্য দিন। নাম, জন্মতারিখ ও ঠিকানা যেন পরিচয়পত্রের সঙ্গে মিলে যায়, সেদিকে খেয়াল রাখুন।
তৃতীয় ধাপ: লাইসেন্সের ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন।
আপনি শুধু মোটরসাইকেল চালাতে চান, নাকি মোটরসাইকেলের পাশাপাশি হালকা মোটরযানের জন্যও আবেদন করবেন, তা বিবেচনা করে ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন।
চতুর্থ ধাপ: প্রয়োজনীয় নথি জমা দিন।
পোর্টালে নির্দেশিত মেডিকেল সার্টিফিকেট, পরিচয়পত্র এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় নথি নির্ধারিত নিয়মে আপলোড করুন।
পঞ্চম ধাপ: ফি পরিশোধ করুন।
আবেদনের তথ্য যাচাই করে পোর্টালে প্রদর্শিত নির্ধারিত ফি পরিশোধ করুন। পেমেন্ট সম্পন্ন হলে রসিদ বা লেনদেনের প্রমাণ সংরক্ষণ করুন।
ষষ্ঠ ধাপ: পরবর্তী নির্দেশনা অনুসরণ করুন।
আবেদন সম্পন্ন হওয়ার পর লার্নার লাইসেন্স সংগ্রহ, প্রশিক্ষণ এবং দক্ষতা যাচাই পরীক্ষার বিষয়ে বিআরটিএর নির্দেশনা অনুসরণ করুন।
লার্নার লাইসেন্স পাওয়ার পর কী করতে হবে?
লার্নার লাইসেন্স পাওয়ার পরই চূড়ান্ত ড্রাইভিং লাইসেন্স পাওয়া যায় না। এটি মূলত পরবর্তী প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা যাচাইয়ের প্রক্রিয়ায় অংশ নেওয়ার একটি ধাপ।
বিআরটিএর প্রকাশিত প্রক্রিয়া অনুযায়ী, আবেদনকারীকে নির্ধারিত নিয়মে প্রশিক্ষণ নিতে হয় এবং লিখিত, মৌখিক ও ব্যবহারিক দক্ষতা যাচাই পরীক্ষায় অংশ নিতে হয়। পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলে চূড়ান্ত ড্রাইভিং লাইসেন্সের জন্য আবেদন করতে হয়।
চূড়ান্ত লাইসেন্সের ক্ষেত্রে আবার নির্ধারিত ফি দিতে হয়। বিআরটিএর একটি প্রকাশিত নির্দেশনায় অপেশাদার লাইসেন্সের জন্য ৪,৪৯৭ টাকা এবং পেশাদার লাইসেন্সের জন্য ২,৭৭২ টাকা উল্লেখ রয়েছে। ডাকযোগে লাইসেন্স বিতরণের জন্য অতিরিক্ত ৬০ টাকার কথাও বলা হয়েছে। তবে এগুলো প্রকাশিত নির্দেশনার অঙ্ক; আবেদন করার সময় বর্তমান ফি যাচাই করা প্রয়োজন।
লার্নার লাইসেন্স করতে মোট খরচ কত হতে পারে?
শুধু লার্নার লাইসেন্সের সরকারি ফি দিয়ে মোট খরচের হিসাব শেষ হয় না। আবেদনকারীর পরিস্থিতি অনুযায়ী আরও কিছু খরচ হতে পারে।
- সরকারি আবেদন ফি: নির্বাচিত ক্যাটাগরি অনুযায়ী।
- মেডিকেল সার্টিফিকেট: চিকিৎসকের ফি প্রযোজ্য হলে।
- নথি ও ছবি প্রস্তুত: প্রয়োজন অনুযায়ী।
- অনলাইন পেমেন্ট চার্জ: ব্যবহৃত পেমেন্ট মাধ্যমের নিয়ম অনুযায়ী।
- চূড়ান্ত লাইসেন্সের ফি: পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পর আলাদাভাবে।
এসব আনুষঙ্গিক খরচের নির্দিষ্ট অঙ্ক সবার জন্য এক নয়। তাই আবেদন করার আগে সরকারি ফি এবং ব্যক্তিগতভাবে প্রয়োজন হতে পারে এমন খরচ আলাদা করে হিসাব করুন।
আবেদন করার আগে যে বিষয়গুলো মনে রাখবেন
লার্নার ড্রাইভিং লাইসেন্সের আবেদন করতে গিয়ে ভুল এড়াতে কয়েকটি বিষয় খেয়াল রাখা জরুরি।
- আবেদন করার আগে বিআরটিএর সার্ভিস পোর্টালে সর্বশেষ ফি যাচাই করুন।
- পরিচয়পত্রের সঙ্গে মিল রেখে ব্যক্তিগত তথ্য পূরণ করুন।
- সঠিক যানবাহনের ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন।
- পেমেন্টের রসিদ ও আবেদনসংক্রান্ত তথ্য সংরক্ষণ করুন।
- পরীক্ষার তারিখ, লাইসেন্সের মেয়াদ ও পরবর্তী ধাপ সম্পর্কে বিআরটিএর নির্দেশনা অনুসরণ করুন।
- সরকারি ফি ছাড়া অতিরিক্ত অর্থ দাবি করা হলে তার কারণ ও বৈধতা যাচাই করুন।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, লার্নার লাইসেন্সের ফি নিয়ে বিআরটিএর বিভিন্ন ওয়েবপেজে ভিন্ন তথ্য থাকায় আবেদন জমা দেওয়ার সময় পোর্টালে প্রদর্শিত অঙ্ক নিশ্চিত হয়ে নেওয়া উচিত।
সচরাচর জিজ্ঞাসা (FAQ)
১. লার্নার ড্রাইভিং লাইসেন্স করতে কত টাকা লাগে?
বিআরটিএর কিছু সরকারি নির্দেশনায় এক ক্যাটাগরির জন্য ৫১৮ টাকা এবং দুই ক্যাটাগরির জন্য ৭৪৮ টাকা উল্লেখ রয়েছে। তবে অন্য একটি পোর্টাল পৃষ্ঠায় পুরোনো ফি দেখা যায়। তাই আবেদনের সময় বর্তমান ফি যাচাই করুন।
২. লার্নার ড্রাইভিং লাইসেন্স কি অনলাইনে করা যায়?
হ্যাঁ। বিআরটিএ সার্ভিস পোর্টালের মাধ্যমে আবেদন ও নির্ধারিত ফি পরিশোধ করা যায়। সরকারি পোর্টাল: https://bsp.brta.gov.bd/।
৩. লার্নার লাইসেন্স করতে কী কী কাগজ লাগে?
সাধারণভাবে পরিচয়পত্র, নিবন্ধিত চিকিৎসকের মেডিকেল সার্টিফিকেট এবং পোর্টালে চাওয়া অন্যান্য নথি প্রয়োজন হয়। আবেদনকারীর পরিস্থিতি অনুযায়ী ঠিকানা ও শিক্ষাগত যোগ্যতার প্রমাণও লাগতে পারে।
৪. লার্নার লাইসেন্স পাওয়ার পর কি আবার পরীক্ষা দিতে হয়?
হ্যাঁ। চূড়ান্ত ড্রাইভিং লাইসেন্স পেতে নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুযায়ী দক্ষতা যাচাই পরীক্ষায় অংশ নিতে হয়। উত্তীর্ণ হওয়ার পর চূড়ান্ত লাইসেন্সের জন্য আবেদন করতে হয়।
৫. লার্নার লাইসেন্সের পর চূড়ান্ত লাইসেন্স করতে কি আলাদা ফি লাগে?
হ্যাঁ। লার্নার লাইসেন্সের ফি এবং চূড়ান্ত ড্রাইভিং লাইসেন্সের ফি আলাদা। পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পর চূড়ান্ত লাইসেন্সের জন্য প্রযোজ্য ফি দিতে হয়।
তানভির ইসলাম/
পাঠকের মতামত:
আপনার জন্য বাছাই করা কিছু নিউজ
- আপনার নামে কত জমি আছে, কোথায় কোথায় আছে—অনলাইনে জানবেন যেভাবে
- জমির নামজারি করতে কী কী লাগে, খরচ কত ও সময় কত দিন?
- ৬ কোম্পানির ডিভিডেন্ড ঘোষণা
- Honor Magic9 Pro Max: ৮৮০০mAh ব্যাটারি ও ডুয়াল ২০০MP ক্যামেরা
- ওয়ারিশ সনদ দিয়ে জমি নামজারি করবেন যেভাবে, জানুন নিয়ম
- আজকের সোনার দাম: ২২, ২১ ও ১৮ ক্যারেটের নতুন দর
- আজকের টাকার রেট কত: কমেছে ৩টি দেশের টাকার মান
- বর্তমানে vivo-এর সেরা ৫ ফোন: কোনটার দাম কত, কেন সেরা?
- আজকের সোনার দাম: প্রতি ভরি ১৮, ২১, ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম কত
- জিকিউ বলপেনের ১২.৫০% নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা
- iQOO Neo 12: ১৮৫Hz ডিসপ্লে ও ৯০০০mAh ব্যাটারির চমক
- আজকের সোনার দাম কত? ২২, ২১ ও ১৮ ক্যারেটের নতুন দর
- অনলাইনে জমির নামজারি করবেন যেভাবে, খরচ ১১৭০ টাকা
- জমির নামজারি করতে কত টাকা লাগে? জানুন পুরো নিয়ম