ঢাকা, সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬, ২৭ আশ্বিন ১৪৩৩

সংসারে দূরত্ব বাড়ছে? বিশেষজ্ঞদের ৭ পরামর্শ

লাইফ স্টাইল ডেস্ক . ২৪আপডেটনিউজ
২০২৬ অক্টোবর ১২ ১৫:৫৮:৩৭
সংসারে দূরত্ব বাড়ছে? বিশেষজ্ঞদের ৭ পরামর্শ

দাম্পত্য জীবনে দূরত্ব তৈরি হয় বড় ঝগড়া থেকে নয়, বরং ছোট ছোট অবহেলা জমতে জমতে। আর সম্পর্ক টিকিয়ে রাখার চাবিকাঠিও লুকিয়ে আছে প্রতিদিনের ছোট ছোট অভ্যাসে। দীর্ঘ দাম্পত্য গবেষণা ও সম্পর্ক-বিশেষজ্ঞদের পরামর্শে উঠে এসেছে এমন সাতটি উপায়, যা মানলে সংসারের বন্ধন হতে পারে আরও দৃঢ়।

বড় সমস্যা নয়, ছোট অবহেলাই ভাঙে সম্পর্ক

বিয়ের শুরুতে যে টান থাকে, সময়ের সঙ্গে সেটি ধরে রাখা অনেক দম্পতির জন্যই চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়। কাজের চাপ, সন্তানের দায়িত্ব, আর্থিক দুশ্চিন্তা, মোবাইল ফোনে ডুবে থাকা—সব মিলিয়ে একসঙ্গে থেকেও মানসিকভাবে দূরে সরে যান অনেকে।

মনোবিজ্ঞানী জন গটম্যান চার দশকেরও বেশি সময় ধরে হাজার হাজার দম্পতির ওপর গবেষণা করেছেন। তাঁর গবেষণার একটি বড় সিদ্ধান্ত হলো, সুখী দাম্পত্য নির্ভর করে দৈনন্দিন আচরণের ওপর, কোনো নাটকীয় ঘটনার ওপর নয়। ওয়াশিংটন বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিচালিত তাঁর গবেষণায় দেখা গেছে, দম্পতিরা একে অপরের আবেগের ডাকে কতটা সাড়া দেন, সেটাই সম্পর্কের ভবিষ্যৎ অনেকাংশে নির্ধারণ করে দেয়।

১. মন খুলে কথা বলুন, মন দিয়ে শুনুন

সম্পর্কের সবচেয়ে বড় ভিত্তি যোগাযোগ। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু নিজের কথা বলাই যথেষ্ট নয়; সঙ্গী কী বলছেন, তা মনোযোগ দিয়ে শোনাও সমান জরুরি।

দিনে অন্তত কিছুটা সময় মোবাইল ও টিভি ছাড়া একান্তে কথা বলুন।

সঙ্গীর কথা শেষ না হওয়া পর্যন্ত বাধা দেবেন না।

সমস্যার সমাধান দেওয়ার আগে সঙ্গীর অনুভূতি বোঝার চেষ্টা করুন।

২. অভিযোগ নয়, সমস্যার কথা বলুন

কোনো বিষয়ে মনোমালিন্য হলে সঙ্গীকে দোষারোপ না করে নিজের অনুভূতির কথা বলার পরামর্শ দেন মনোবিদরা। যেমন "তুমি সবসময় দেরি করো" বলার বদলে "দেরি হলে আমার দুশ্চিন্তা হয়" বলা তুলনামূলক কম আঘাত করে এবং আলোচনার পথ খোলা রাখে।

গটম্যানের গবেষণায় চারটি আচরণকে দাম্পত্যের জন্য সবচেয়ে ক্ষতিকর হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে: ক্রমাগত সমালোচনা, তাচ্ছিল্য, আত্মপক্ষ সমর্থনে অতিরিক্ত রক্ষণাত্মক হওয়া এবং আলোচনা থেকে সরে যাওয়া বা নীরব থাকা। এগুলোর মধ্যে তাচ্ছিল্যকে সবচেয়ে ক্ষতিকর ধরা হয়।

৩. কৃতজ্ঞতা প্রকাশে কার্পণ্য নয়

"ধন্যবাদ" বা "তুমি পাশে আছো বলে ভালো লাগে"—এমন ছোট কথাও সম্পর্কে বড় প্রভাব ফেলে। সংসারের কাজ, সন্তান লালন-পালন কিংবা আর্থিক দায়িত্ব—সঙ্গীর অবদানকে স্বীকৃতি দিলে তাঁর মধ্যে মূল্যায়িত হওয়ার অনুভূতি তৈরি হয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই অভ্যাস সম্পর্কে ইতিবাচকতা বাড়ায়।

৪. একসঙ্গে মানসম্মত সময় কাটান

একই বাড়িতে থাকলেই একসঙ্গে সময় কাটানো হয় না। সপ্তাহে অন্তত একদিন হলেও দুজনে মিলে হাঁটতে যাওয়া, একসঙ্গে রান্না করা বা পছন্দের কোনো কাজ করা যেতে পারে। এতে পারস্পরিক বোঝাপড়া ও ঘনিষ্ঠতা বাড়ে। খরচসাপেক্ষ আয়োজন জরুরি নয়; জরুরি হলো পরস্পরের জন্য নির্ভেজাল সময় রাখা।

৫. সিদ্ধান্তে দুজনেরই অংশগ্রহণ

সংসার, সন্তানের পড়াশোনা, অর্থ ব্যয় বা পরিবারের সঙ্গে সম্পর্ক—গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত একতরফা না নিয়ে আলোচনার ভিত্তিতে নেওয়া ভালো। এতে দুজনেই নিজেকে সংসারের সমান অংশীদার মনে করেন। পারিবারিক আর্থিক বিষয়ে স্বচ্ছতা থাকলে অনেক অবিশ্বাস ও বিবাদ এড়ানো যায়।

৬. বিশ্বাস ও সম্মান ধরে রাখুন

আস্থা একবার ভাঙলে তা ফিরিয়ে আনা কঠিন। সঙ্গীর অনুপস্থিতিতে তাঁর সমালোচনা করা, অন্যের সামনে অপমান করা কিংবা তুচ্ছতাচ্ছিল্য করা সম্মানবোধে আঘাত করে। মতের অমিল থাকলেও সম্মানজনক ভাষা বজায় রাখা সুস্থ সম্পর্কের লক্ষণ।

৭. প্রয়োজনে পেশাদার সহায়তা নিন

সমস্যা জটিল হয়ে গেলে বা নিজেরা মীমাংসা করতে না পারলে কাউন্সেলর বা সম্পর্ক-বিশেষজ্ঞের সহায়তা নেওয়া দুর্বলতা নয়, বরং সম্পর্ক বাঁচানোর সচেতন উদ্যোগ। মানসিক স্বাস্থ্য-সংশ্লিষ্ট পেশাজীবীরা বলছেন, সমস্যা বড় হওয়ার আগেই পরামর্শ নিলে ফল ভালো হয়।

মনে রাখার মতো কথা

নিখুঁত দাম্পত্য বলে কিছু নেই। মতভেদ প্রতিটি সম্পর্কেই হয়; আসল বিষয় হলো মতভেদের পর দুজন কীভাবে একে অপরের কাছে ফিরে আসেন। প্রতিদিনের সামান্য যত্ন, শ্রদ্ধা আর খোলামেলা আলাপই দীর্ঘ দাম্পত্যের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য পুঁজি।

তানভির ইসলাম/

পাঠকের মতামত:

আপনার জন্য বাছাই করা কিছু নিউজ