ঢাকা, সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬, ২৭ আশ্বিন ১৪৩৩

ফ্রান্সে পড়লে মাসে ২,১০০ ইউরো, কিন্তু আবেদনে আছে একটি শর্ত

শিক্ষা ডেস্ক . ২৪আপডেটনিউজ
২০২৬ অক্টোবর ১২ ২০:১৫:৩৩
ফ্রান্সে পড়লে মাসে ২,১০০ ইউরো, কিন্তু আবেদনে আছে একটি শর্ত

ফ্রান্সে স্নাতকোত্তর বা পিএইচডি করতে গেলে মাসে হাতে আসতে পারে সর্বোচ্চ ২ হাজার ১০০ ইউরো। ফ্রান্স সরকারের আইফেল স্কলারশিপে এই সুবিধা রাখা হয়েছে। বাংলাদেশসহ যেকোনো দেশের শিক্ষার্থী আবেদন করতে পারবেন, শেষ তারিখ ২০২৭ সালের ৮ জানুয়ারি। তবে একটি শর্ত আছে: এই বৃত্তির জন্য শিক্ষার্থী নিজে সরাসরি আবেদন করতে পারেন না।

বৃত্তিটি কার, কেন এত আলোচিত

ফ্রান্সের ইউরো অ্যান্ড ফরেন অ্যাফেয়ার্স মন্ত্রণালয়ের কর্মসূচি এটি, দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এটি দিয়ে থাকে। ফ্রান্সের নানা স্কলারশিপের কারণে প্রতি বছর বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের মেধাবীরা সেখানে উচ্চশিক্ষায় যান। তার মধ্যে আইফেল স্কলারশিপ বিশেষ মর্যাদার বলে পরিচিত।

অর্থের হিসাব: কী কী মিলবে

মাসিক ভাতার অঙ্ক পড়ার স্তর অনুযায়ী আলাদা:

স্নাতকোত্তর: €১,২০০

পিএইচডি: €২,১০০

ভাতার বাইরে বৃত্তিধারীরা আরও যা পাবেন:

আবাসন ভাতা

যাওয়া-আসার বিমান খরচ

স্বাস্থ্যবিমা ও অন্যান্য ভাতা

ফ্রান্সের ভেতরে স্থানীয় যাতায়াতে সহায়তা

একটি বিষয় আগেভাগে জেনে রাখা ভালো। টিউশন ফি এই বৃত্তির আওতায় পড়ে না। তবে বাকি খরচ সামলানোর জন্য পর্যাপ্ত আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়।

শিক্ষার্থীরা চাইলে পেশাগত দক্ষতা অর্জনে ইন্টার্নশিপও করতে পারবেন। এর জন্য নিজের প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে আবেদন করে একটি চুক্তি করতে হয়।

আবেদনের আগে নিজেকে মিলিয়ে নিন

আবেদনকারীকে অবশ্যই আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী হতে হবে। ফ্রান্সের নাগরিকেরা এ বৃত্তির জন্য আবেদন করতে পারবেন না। যাঁরা এখন ফ্রান্সেই স্নাতকোত্তরে পড়ছেন, তাঁরাও বাদ।

ভাষার ক্ষেত্রে ইংরেজি অথবা ফ্রেঞ্চে দক্ষতা চাই। প্রমাণ হিসেবে জমা দিতে হবে আইইএলটিএস স্কোর কিংবা ফ্রেঞ্চ ভাষাদক্ষতার সনদ।

পিএইচডিতে যাঁরা ফ্রান্সের বাইরে থাকেন, তাঁরা অগ্রাধিকার পাবেন।

বয়সের সীমাও আছে:

স্নাতকোত্তর: সর্বোচ্চ ২৯ বছর

পিএইচডি: সর্বোচ্চ ৩৫ বছর

আবেদনের পথ: সরাসরি নয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের হাত ধরে

আইফেল স্কলারশিপে ব্যক্তিগতভাবে আবেদনের সুযোগ নেই। শিক্ষার্থীর হয়ে আবেদন জমা দেয় তাঁর বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বা ফ্রেঞ্চ হাইয়ার এডুকেশন ইনস্টিটিউশন্স। পুরো প্রক্রিয়া দুটি ধাপে সম্পন্ন হয়:

প্রথম ধাপ: ফ্রান্সের কিছু নামকরা বিশ্ববিদ্যালয়ে সরাসরি ভর্তির আবেদন করুন। ফর্ম পূরণের সময় স্পষ্ট করে লিখুন যে আপনি আইফেল স্কলারশিপের জন্যও আবেদন করতে চান।

দ্বিতীয় ধাপ: বৃত্তি পেলেন কি না, তা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষই আপনাকে জানাবে।

সময়সীমা মনে রাখুন: ৮ জানুয়ারি ২০২৭।

বিস্তারিত জানতে এখানেক্লিক করুন।

প্রাসঙ্গিক প্রশ্নোত্তর (FAQ)

১. আইফেল স্কলারশিপে কি সরাসরি আবেদন করা যায়?

না। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বা ফ্রেঞ্চ হাইয়ার এডুকেশন ইনস্টিটিউশন্সের মাধ্যমে আবেদন করতে হয়। প্রথমে ফ্রান্সের বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদন করে ফর্মে স্কলারশিপের কথা উল্লেখ করতে হবে।

২. বাংলাদেশের শিক্ষার্থীরা কি এই বৃত্তি পেতে পারেন?

হ্যাঁ। বাংলাদেশসহ যেকোনো দেশের আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী আবেদন করতে পারবেন। ফ্রান্সের নাগরিকেরা পারবেন না।

৩. মাসে কত টাকা ভাতা মিলবে?

স্নাতকোত্তরে €১,২০০ এবং পিএইচডিতে €২,১০০। এর সঙ্গে আবাসন ভাতা, বিমান খরচ, স্বাস্থ্যবিমা ও স্থানীয় যাতায়াতে সহায়তাও আছে।

৪. টিউশন ফি কি বৃত্তির মধ্যে ধরা আছে?

না। তবে অন্যান্য খরচের জন্য পর্যাপ্ত আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়।

৫. বয়সসীমা কত?

স্নাতকোত্তরের জন্য সর্বোচ্চ ২৯ বছর এবং পিএইচডির জন্য সর্বোচ্চ ৩৫ বছর।

তানভির ইসলাম/

পাঠকের মতামত:

আপনার জন্য বাছাই করা কিছু নিউজ