ঢাকা, শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ১ কার্তিক ১৪৩৩

জমি কেনার আগে CS, SA, RS ও BS খতিয়ান চিনে নিন

জাতীয় ডেস্ক . ২৪আপডেটনিউজ
২০২৬ অক্টোবর ১৬ ১২:৩০:২৪
জমি কেনার আগে CS, SA, RS ও BS খতিয়ান চিনে নিন

জমি কেনা, উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া সম্পত্তির মালিকানা যাচাই কিংবা পুরোনো জমির রেকর্ড খুঁজতে গেলে CS, SA, RS ও BS খতিয়ানের নাম সামনে আসে। কিন্তু এই চার ধরনের খতিয়ান কী, কোনটি কখন তৈরি হয়েছে এবং জমির মালিকানা যাচাইয়ে কোনটির ভূমিকা কী—তা অনেকের কাছেই পরিষ্কার নয়। বিশেষ করে, একই জমির বিভিন্ন খতিয়ানে মালিকের নাম, দাগ নম্বর বা জমির পরিমাণ আলাদা দেখা গেলে বিভ্রান্তি তৈরি হয়।

সহজভাবে বললে, CS, SA, RS ও BS হলো ভূমি জরিপের বিভিন্ন পর্যায়ে তৈরি রেকর্ড। প্রতিটি খতিয়ান সংশ্লিষ্ট সময়ের জমির তথ্য তুলে ধরে। কোনো জমির জন্য কোন খতিয়ান বেশি গুরুত্বপূর্ণ, তা নির্ভর করে সংশ্লিষ্ট এলাকায় কোন জরিপের চূড়ান্ত রেকর্ড প্রকাশিত হয়েছে এবং জমিটির মালিকানার ইতিহাস কী।

তাই জমি কেনা বা মালিকানা যাচাইয়ের সময় শুধু একটি খতিয়ানের ওপর নির্ভর না করে পুরোনো ও পরবর্তী রেকর্ড, দলিল, নামজারি এবং মৌজা নকশার তথ্য মিলিয়ে দেখা জরুরি।

খতিয়ান কী?

খতিয়ান হলো ভূমি জরিপের মাধ্যমে প্রস্তুত করা একটি সরকারি রেকর্ড, যেখানে নির্দিষ্ট জমির মালিকানা বা স্বত্বসংশ্লিষ্ট তথ্য, দাগ নম্বর, জমির পরিমাণ, জমির শ্রেণি এবং প্রযোজ্য অন্যান্য বিবরণ লিপিবদ্ধ থাকে। খতিয়ানকে স্বত্বলিপি বা ইংরেজিতে Record of Rights বলা হয়।

জমির অবস্থান ও জরিপের পর্যায় অনুযায়ী একটি জমির একাধিক খতিয়ান থাকতে পারে। যেমন, কোনো জমির পুরোনো CS খতিয়ান থাকার পাশাপাশি পরবর্তী SA, RS বা BS খতিয়ানও থাকতে পারে। এসব রেকর্ড তুলনা করলে জমিটির পরিচয় ও মালিকানার পরিবর্তনের ইতিহাস সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়।

তবে একটি বিষয় মনে রাখা জরুরি—খতিয়ান এবং জমির দলিল এক জিনিস নয়। খতিয়ান ভূমি রেকর্ডের গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হলেও বর্তমান মালিকানা যাচাই করতে দলিল, উত্তরাধিকার, নামজারি ও অন্যান্য প্রাসঙ্গিক নথিও পরীক্ষা করা প্রয়োজন।

CS, SA, RS ও BS খতিয়ান কী?

১. CS খতিয়ান: জমির প্রাচীন জরিপ রেকর্ড

CS-এর পূর্ণরূপ Cadastral Survey। এটি বাংলাদেশের ভূমি জরিপের প্রাচীনতম প্রধান রেকর্ডগুলোর একটি। ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তরের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ১৮৮৮ সালে কক্সবাজারের রামুতে CS জরিপের কাজ শুরু হয়। পরে বিভিন্ন এলাকায় পর্যায়ক্রমে জরিপ পরিচালনা করে জমির নকশা ও রেকর্ড প্রস্তুত করা হয়।

CS খতিয়ানে তৎকালীন মালিক বা স্বত্বসংশ্লিষ্ট ব্যক্তির নাম, জমির দাগ নম্বর, জমির পরিমাণ এবং অন্যান্য তথ্য পাওয়া যেতে পারে। এ কারণে জমির পুরোনো মালিকানা ও রেকর্ডের ধারাবাহিকতা অনুসন্ধানে CS খতিয়ান গুরুত্বপূর্ণ।

কেন গুরুত্বপূর্ণ? কোনো জমির পুরোনো পরিচয়, পূর্ববর্তী মালিকানা এবং পরবর্তী রেকর্ডের সঙ্গে তথ্যের মিল খুঁজে বের করতে CS খতিয়ান কাজে লাগে। তবে এটি পুরোনো রেকর্ড হওয়ায় বর্তমান মালিকানা যাচাইয়ের জন্য পরবর্তী দলিল ও রেকর্ডও পরীক্ষা করতে হবে।

২. SA খতিয়ান: জমিদারি প্রথা বিলুপ্তির পরের রেকর্ড

SA-এর পূর্ণরূপ State Acquisition। ১৯৫০ সালের State Acquisition and Tenancy Act-এর প্রেক্ষাপটে জমিদারি প্রথা বিলুপ্তি ও রাষ্ট্রীয় অধিগ্রহণের পর ভূমি রেকর্ড প্রস্তুতের সঙ্গে SA খতিয়ান সম্পর্কিত।

এই রেকর্ডে সংশ্লিষ্ট সময়ের ভূমিস্বত্ব ও জমির তথ্য লিপিবদ্ধ করা হয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে SA খতিয়ানকে PS বা পাকিস্তান আমলের রেকর্ড নামেও উল্লেখ করা হয়।

কেন গুরুত্বপূর্ণ? জমিদারি প্রথা বিলুপ্তির পর জমির রেকর্ডে কী ধরনের পরিবর্তন এসেছে, তা বুঝতে SA খতিয়ান সহায়ক। তবে এর তথ্য যাচাই করতে পুরোনো CS রেকর্ড, পরবর্তী জরিপ এবং জমির মালিকানা পরিবর্তনের দলিলের সঙ্গে তুলনা করা দরকার।

৩. RS খতিয়ান: সংশোধনী জরিপের রেকর্ড

RS-এর পূর্ণরূপ Revisional Survey। এটি সংশোধনী জরিপের রেকর্ড। আগের ভূমি রেকর্ড পর্যালোচনা, প্রয়োজনীয় সংশোধন এবং জমির বিবরণ হালনাগাদ করার উদ্দেশ্যে এ ধরনের জরিপ পরিচালিত হয়েছে।

RS খতিয়ানে আগের রেকর্ডের তুলনায় জমির দাগ নম্বর, পরিমাণ কিংবা মালিকানাসংশ্লিষ্ট তথ্যে পরিবর্তন দেখা যেতে পারে। জরিপের সময় তথ্য সংশোধন, জমি বিভাজন বা অন্যান্য ভূমি-সংক্রান্ত ঘটনার কারণে এমন পার্থক্য হতে পারে।

আরও পড়ুন:

অনলাইনে জমির দাগ নম্বর ও খতিয়ান বের করার নিয়ম

CS, SA, RS ও BS খতিয়ানের পার্থক্য জানুন সহজ ভাষায়

কেন গুরুত্বপূর্ণ? পূর্ববর্তী রেকর্ডের সঙ্গে বর্তমান রেকর্ডের পার্থক্য বোঝা এবং জমির হালনাগাদ পরিচয় যাচাই করতে RS খতিয়ান কাজে লাগে। কোনো এলাকায় পরবর্তী জরিপের চূড়ান্ত রেকর্ড প্রকাশিত না হলে RS খতিয়ানই প্রযোজ্য গুরুত্বপূর্ণ রেকর্ড হতে পারে।

৪. BS খতিয়ান: বাংলাদেশ জরিপের রেকর্ড

BS-এর পূর্ণরূপ Bangladesh Survey। স্বাধীনতা-পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশের বিভিন্ন এলাকায় পরিচালিত ভূমি জরিপের মাধ্যমে এ ধরনের রেকর্ড প্রস্তুত করা হয়েছে। তবে সব এলাকায় জরিপের কাজ একই সময়ে বা একই পর্যায়ে সম্পন্ন হয়নি।

কোনো এলাকায় BS খতিয়ান সর্বশেষ চূড়ান্তভাবে প্রকাশিত জরিপের রেকর্ড হতে পারে। অন্য এলাকায় আবার RS বা অন্য কোনো জরিপের রেকর্ডই প্রযোজ্য সর্বশেষ রেকর্ড হতে পারে।

কেন গুরুত্বপূর্ণ? সংশ্লিষ্ট এলাকায় BS জরিপের চূড়ান্ত রেকর্ড প্রকাশিত হয়ে থাকলে জমির হালনাগাদ তথ্য যাচাইয়ে এটি গুরুত্বপূর্ণ। তবে শুধু BS খতিয়ানে নাম থাকার কারণে সব পরিস্থিতিতে নিরঙ্কুশ মালিকানা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে—এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া ঠিক নয়।

CS, SA, RS ও BS খতিয়ানের পার্থক্য এক নজরে

খতিয়ানের ধরনপূর্ণরূপপ্রধান বৈশিষ্ট্য
CS খতিয়ান Cadastral Survey পুরোনো ভূমি জরিপের রেকর্ড। জমির প্রাথমিক পরিচয়, পুরোনো দাগ ও তৎকালীন স্বত্বের তথ্য জানতে সহায়ক।
SA খতিয়ান State Acquisition রাষ্ট্রীয় অধিগ্রহণ ও জমিদারি প্রথা বিলুপ্তির পরের ভূমি রেকর্ডের সঙ্গে সম্পর্কিত।
RS খতিয়ান Revisional Survey পূর্ববর্তী ভূমি রেকর্ড পর্যালোচনা, সংশোধন ও হালনাগাদের জরিপের রেকর্ড।
BS খতিয়ান Bangladesh Survey বাংলাদেশ জরিপের রেকর্ড। সংশ্লিষ্ট এলাকায় চূড়ান্তভাবে প্রকাশিত হলে হালনাগাদ ভূমি তথ্য যাচাইয়ে কাজে লাগে।

চার ধরনের খতিয়ানের পার্থক্য সহজে বুঝতে নিচের বিষয়গুলো মনে রাখতে পারেন।

এই চারটি খতিয়ানের মধ্যে প্রধান পার্থক্য হলো জরিপের সময়, উদ্দেশ্য ও রেকর্ড প্রস্তুতের পর্যায়ে। এগুলোকে জমির ইতিহাসের বিভিন্ন ধাপের তথ্য হিসেবে বিবেচনা করা যায়।

তবে সব এলাকায় একই ধারায় জরিপ সম্পন্ন হয়নি। তাই CS-এর পর SA, তারপর RS এবং সবশেষে BS—প্রতিটি জমির ক্ষেত্রে এমন ক্রম ধরে নেওয়া ঠিক নয়।

কোন খতিয়ান সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ?

জমির মালিকানা যাচাই করতে গিয়ে অনেকেই জানতে চান, CS, SA, RS ও BS-এর মধ্যে কোন খতিয়ান সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য।

সাধারণভাবে, সংশ্লিষ্ট এলাকার সর্বশেষ চূড়ান্তভাবে প্রকাশিত জরিপের খতিয়ান জমির হালনাগাদ রেকর্ড যাচাইয়ের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ। তবে সর্বশেষ খতিয়ান থাকলেই আগের রেকর্ড অপ্রয়োজনীয় হয়ে যায় না।

ধরা যাক, কোনো জমির BS খতিয়ানে একজনের নাম রয়েছে, কিন্তু পুরোনো CS খতিয়ানে অন্য ব্যক্তির নাম পাওয়া যাচ্ছে। এ ক্ষেত্রে শুধু নামের পার্থক্য দেখে মালিকানা নির্ধারণ করা যাবে না। জমিটি কীভাবে হস্তান্তর হয়েছে, উত্তরাধিকারসূত্রে মালিকানা পরিবর্তিত হয়েছে কি না এবং পরবর্তী রেকর্ড কীভাবে তৈরি হয়েছে—এসব বিষয় যাচাই করতে হবে।

আবার কোনো জমির BS খতিয়ান না থাকলেও সেটি মালিকানাহীন বা অবৈধ জমি হয়ে যায় না। সংশ্লিষ্ট এলাকার জরিপের অবস্থা ও প্রযোজ্য রেকর্ড বিবেচনা করতে হয়।

অর্থাৎ, কোন খতিয়ান বেশি গুরুত্বপূর্ণ, তার উত্তর জমির অবস্থান, রেকর্ডের অবস্থা ও মালিকানার ইতিহাসের ওপর নির্ভর করে।

বিভিন্ন খতিয়ানে দাগ নম্বর বা জমির পরিমাণ আলাদা কেন?

একই জমির CS, SA, RS ও BS খতিয়ানে তথ্যের পার্থক্য দেখা গেলে অনেকেই মনে করেন, জমির মালিকানা নিয়ে সমস্যা রয়েছে। কিন্তু সব পার্থক্যের কারণ এক নয়।

জরিপের সময় জমি ভাগ হওয়া, একাধিক দাগ একত্র হওয়া, সীমানা পুনর্নির্ধারণ, পরিমাপের পার্থক্য কিংবা রেকর্ড সংশোধনের কারণে দাগ নম্বর ও জমির পরিমাণে পরিবর্তন দেখা যেতে পারে। মালিকানা হস্তান্তর বা উত্তরাধিকার পরিবর্তনের কারণেও মালিকের নাম আলাদা হতে পারে।

এ ধরনের পার্থক্য যাচাই করতে কয়েকটি বিষয় মিলিয়ে দেখা জরুরি:

- পুরোনো ও নতুন খতিয়ানের নম্বর এবং মালিকের নাম।

- সংশ্লিষ্ট মৌজার পুরোনো ও নতুন নকশা।

- দাগ নম্বরের পরিবর্তন ও জমির পরিমাণ।

- জমি হস্তান্তরের দলিল এবং উত্তরাধিকারসংক্রান্ত নথি।

- প্রযোজ্য ক্ষেত্রে নামজারি ও অন্যান্য ভূমি রেকর্ড।

তথ্যে অমিল থাকলেই জমি জাল বা অবৈধ—এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত নয়। আবার অমিলের কারণ যাচাই না করে জমি কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়াও ঝুঁকিপূর্ণ।

জমি কেনার আগে খতিয়ান যাচাই করবেন যেভাবে

জমি কেনার ক্ষেত্রে শুধু বিক্রেতার দেখানো একটি খতিয়ান দেখে সিদ্ধান্ত নেওয়া ঠিক নয়। জমির পরিচয় ও মালিকানার ধারাবাহিকতা যাচাই করতে নিচের বিষয়গুলো গুরুত্ব দিয়ে দেখুন।

১. মৌজা ও দাগ নম্বর মিলিয়ে নিন। জমিটি সঠিক মৌজায় অবস্থিত কি না, জেএল নম্বর এবং দাগ নম্বর ঠিক আছে কি না, তা যাচাই করুন।

২. মালিকানার ধারাবাহিকতা পরীক্ষা করুন। বর্তমান বিক্রেতা কীভাবে জমির মালিক হয়েছেন, তা দলিল, উত্তরাধিকারসংক্রান্ত নথি এবং পূর্ববর্তী রেকর্ডের মাধ্যমে যাচাই করুন।

৩. জমির পরিমাণ ও মালিকের অংশ নিশ্চিত করুন। বিক্রেতা পুরো জমি বিক্রি করছেন, নাকি জমির একটি অংশ—তা স্পষ্টভাবে বুঝে নিন। যৌথ মালিকানা থাকলে বিক্রেতার প্রকৃত অংশ যাচাই করুন।

৪. নামজারি ও ভূমি উন্নয়ন করের তথ্য দেখুন। নামজারির রেকর্ড ও কর পরিশোধের তথ্য পরীক্ষা করুন। তবে এগুলোর কোনোটিই এককভাবে নিরঙ্কুশ মালিকানার প্রমাণ নয়।

৫. প্রয়োজনে আইনগত পরামর্শ নিন। বিভিন্ন খতিয়ানে নাম, দাগ বা জমির পরিমাণের অমিল থাকলে সংশ্লিষ্ট ভূমি অফিস কিংবা অভিজ্ঞ ভূমি আইনজীবীর সহায়তা নিন।

জমি কেনার আগে এই যাচাইগুলো সম্পন্ন করলে ভুল তথ্যের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ঝুঁকি কমানো সম্ভব।

অনলাইনে CS, SA, RS ও BS খতিয়ান দেখার নিয়ম

বাংলাদেশ সরকারের ভূমিসেবা ব্যবস্থার মাধ্যমে খতিয়ান অনুসন্ধান এবং রেকর্ডের কপির জন্য আবেদন করা যায়। এজন্য সরকারি ই-পর্চা পোর্টাল ব্যবহার করতে পারেন।

সরকারি ই-পর্চা পোর্টাল

খতিয়ান অনুসন্ধান ও রেকর্ডের কপির জন্য আবেদন

[eporcha.gov.bd](https://eporcha.gov.bd/)

ভূমি মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইট: [land.gov.bd](https://land.gov.bd)

সাধারণভাবে খতিয়ান অনুসন্ধানের জন্য—

1. ই-পর্চা পোর্টালে প্রবেশ করুন।

2. বিভাগ, জেলা, উপজেলা ও মৌজা নির্বাচন করুন।

3. প্রযোজ্য জরিপের ধরন নির্বাচন করুন।

4. খতিয়ান নম্বর বা দাগ নম্বর দিয়ে অনুসন্ধান করুন।

5. রেকর্ডের তথ্য যাচাই করুন এবং প্রয়োজন হলে পোর্টালের নির্দেশনা অনুসারে কপির জন্য আবেদন করুন।

সব এলাকার সব পুরোনো রেকর্ড অনলাইনে পাওয়া যাবে, এমন নিশ্চয়তা নেই। কোনো রেকর্ড খুঁজে না পেলে সংশ্লিষ্ট ভূমি অফিস বা ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তরের সহায়তা নিতে পারেন। অনলাইনে রেকর্ড না পাওয়া মানেই সেটি নেই বা জমির মালিকানা অবৈধ—এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া ঠিক নয়।

CS, SA, RS ও BS খতিয়ানের পার্থক্য জানা থাকলে জমির পুরোনো ইতিহাস, রেকর্ডের পরিবর্তন এবং হালনাগাদ তথ্য বুঝতে সুবিধা হয়। CS পুরোনো জরিপের রেকর্ড, SA রাষ্ট্রীয় অধিগ্রহণ-পরবর্তী ভূমি রেকর্ডের সঙ্গে সম্পর্কিত, RS সংশোধনী জরিপের রেকর্ড এবং BS বাংলাদেশ জরিপের রেকর্ড।

তবে জমির মালিকানা যাচাইয়ের ক্ষেত্রে শুধু খতিয়ানের নাম বা একটি রেকর্ডের ওপর নির্ভর করা উচিত নয়। সংশ্লিষ্ট এলাকার সর্বশেষ চূড়ান্ত জরিপের রেকর্ডের পাশাপাশি প্রয়োজন অনুযায়ী পুরোনো খতিয়ান, দলিল, নামজারি ও মৌজা নকশা যাচাই করতে হবে। বিশেষ করে জমি কেনার আগে মালিকানার ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

সচরাচর জিজ্ঞাসা (FAQ)

১. CS, SA, RS ও BS খতিয়ানের মধ্যে মূল পার্থক্য কী?

এগুলোর মূল পার্থক্য জরিপের সময়, উদ্দেশ্য ও রেকর্ড প্রস্তুতের পর্যায়ে। CS পুরোনো ক্যাডাস্ট্রাল জরিপের রেকর্ড, SA রাষ্ট্রীয় অধিগ্রহণ-পরবর্তী রেকর্ড, RS সংশোধনী জরিপের রেকর্ড এবং BS বাংলাদেশ জরিপের রেকর্ড।

২. CS খতিয়ান কি এখনো গুরুত্বপূর্ণ?

হ্যাঁ। জমির পুরোনো মালিকানা ও রেকর্ডের ধারাবাহিকতা অনুসন্ধানে CS খতিয়ান গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। তবে বর্তমান মালিকানা যাচাই করতে পরবর্তী রেকর্ড ও দলিলও পরীক্ষা করতে হবে।

৩. BS খতিয়ান থাকলে কি অন্য খতিয়ান দেখার প্রয়োজন নেই?

প্রয়োজন হতে পারে। BS খতিয়ান সংশ্লিষ্ট এলাকার সর্বশেষ চূড়ান্ত রেকর্ড হলেও জমির মালিকানার ইতিহাস, দাগ পরিবর্তন ও পূর্ববর্তী স্বত্ব যাচাইয়ে পুরোনো খতিয়ান এবং দলিল গুরুত্বপূর্ণ।

৪. CS, SA, RS ও BS খতিয়ান অনলাইনে পাওয়া যায় কি?

সরকারি [ই-পর্চা পোর্টালে](https://eporcha.gov.bd/?utm_source=chatgpt.com) খতিয়ান অনুসন্ধান ও রেকর্ডের কপির জন্য আবেদন করা যায়। তবে সব এলাকার সব পুরোনো রেকর্ড অনলাইনে নাও থাকতে পারে।

৫. জমির মালিকানা প্রমাণে খতিয়ানই কি যথেষ্ট?

না। খতিয়ান গুরুত্বপূর্ণ ভূমি রেকর্ড হলেও মালিকানা যাচাইয়ে দলিল, উত্তরাধিকারসংক্রান্ত নথি, নামজারি, দখল এবং অন্যান্য প্রাসঙ্গিক তথ্য বিবেচনা করতে হয়। বিরোধ থাকলে আইনগত পরামর্শ নেওয়া উচিত।

আল-মামুন/

পাঠকের মতামত: