ঢাকা, শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ১ কার্তিক ১৪৩৩

বারবার প্রস্রাব হয় কেন? যে ৭টি কারণ অবহেলা করবেন না

স্বাস্থ্য ডেস্ক . ২৪আপডেটনিউজ
২০২৬ অক্টোবর ১৬ ১৬:৩৭:২৯
বারবার প্রস্রাব হয় কেন? যে ৭টি কারণ অবহেলা করবেন না

বারবার প্রস্রাবের বেগ হওয়া সব সময় গুরুতর কোনো রোগের লক্ষণ নয়। বেশি পানি পান, চা-কফি খাওয়া কিংবা রাতে ঘুমানোর আগে অতিরিক্ত তরল পান করলে স্বাভাবিকভাবেই প্রস্রাবের পরিমাণ বাড়তে পারে। তবে কোনো স্পষ্ট কারণ ছাড়াই ঘন ঘন প্রস্রাব হওয়া, রাতে বারবার ঘুম ভেঙে যাওয়া, প্রস্রাবে জ্বালাপোড়া কিংবা অতিরিক্ত তৃষ্ণার মতো উপসর্গ দেখা দিলে বিষয়টি অবহেলা করা ঠিক নয়। এসব লক্ষণ মূত্রনালির সংক্রমণ, ডায়াবেটিস, মূত্রথলির সমস্যা কিংবা পুরুষদের প্রোস্টেট বড় হওয়ার সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে।

চিকিৎসাবিজ্ঞানে বারবার প্রস্রাব হওয়ার সমস্যাকে *Frequent Urination* বলা হয়। কতবার প্রস্রাব হচ্ছে, প্রতিবার কতটা প্রস্রাব বের হচ্ছে এবং এর সঙ্গে অন্য কোনো উপসর্গ আছে কি না—এসব তথ্য সমস্যার কারণ বুঝতে গুরুত্বপূর্ণ। তাই শুধু প্রস্রাবের সংখ্যা দেখে রোগ নির্ণয় করা যায় না।

দিনে কতবার প্রস্রাব হওয়া স্বাভাবিক?

একজন সুস্থ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ সাধারণত দিনে প্রায় ৬ থেকে ৮ বার প্রস্রাব করতে পারেন। তবে পানি পানের পরিমাণ, আবহাওয়া, শারীরিক পরিশ্রম, বয়স, ওষুধ এবং ব্যক্তিভেদে এই সংখ্যা কমবেশি হতে পারে। তাই দিনে নির্দিষ্ট সংখ্যার বেশি প্রস্রাব হলেই সেটিকে রোগ বলা যাবে না।

অন্যদিকে, আগের তুলনায় হঠাৎ প্রস্রাবের সংখ্যা বেড়ে যাওয়া, অল্প অল্প প্রস্রাব হওয়া, বারবার তীব্র বেগ অনুভব করা কিংবা রাতে একাধিকবার ঘুম ভেঙে টয়লেটে যেতে হওয়া সমস্যার ইঙ্গিত দিতে পারে। বিশেষ করে এই পরিবর্তন নিয়মিত হলে বা দৈনন্দিন জীবন ও ঘুমে ব্যাঘাত ঘটালে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।

বারবার প্রস্রাব হওয়ার ৭টি সম্ভাব্য কারণ

১. বেশি পানি পান ও চা-কফি খাওয়া

দিনে বেশি পানি পান করলে প্রস্রাবের পরিমাণ বাড়া স্বাভাবিক। একইভাবে চা, কফি ও অন্যান্য ক্যাফেইনযুক্ত পানীয় প্রস্রাবের বেগ বাড়াতে পারে। অ্যালকোহলও প্রস্রাবের পরিমাণ বাড়াতে পারে।

এ ধরনের ক্ষেত্রে সাধারণত পানীয় গ্রহণের সঙ্গে প্রস্রাবের সংখ্যার সম্পর্ক থাকে। তবে পানি বা ক্যাফেইন গ্রহণের পরিমাণ স্বাভাবিক থাকা সত্ত্বেও সমস্যা চলতে থাকলে অন্য কারণ খুঁজে দেখা দরকার।

২. ডায়াবেটিস

বারবার প্রস্রাব হওয়ার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কারণ হলো ডায়াবেটিস। রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা বেশি হলে কিডনি অতিরিক্ত গ্লুকোজ প্রস্রাবের মাধ্যমে বের করার চেষ্টা করে। এর সঙ্গে পানি বের হয়ে যাওয়ায় প্রস্রাবের পরিমাণ বাড়তে পারে।

ডায়াবেটিসের ক্ষেত্রে ঘন ঘন প্রস্রাবের পাশাপাশি আরও কিছু লক্ষণ দেখা যেতে পারে। যেমন—

- অতিরিক্ত তৃষ্ণা পাওয়া

- স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি ক্ষুধা লাগা

- অকারণে ওজন কমে যাওয়া

- দুর্বলতা ও ক্লান্তি

- ঝাপসা দেখা

তবে সবার ক্ষেত্রে সব লক্ষণ একসঙ্গে দেখা যায় না। বারবার প্রস্রাবের সঙ্গে অতিরিক্ত তৃষ্ণা বা অকারণে ওজন কমার মতো উপসর্গ থাকলে রক্তের গ্লুকোজ পরীক্ষা করানো গুরুত্বপূর্ণ।

৩. মূত্রনালির সংক্রমণ (UTI)

মূত্রনালি বা মূত্রথলিতে সংক্রমণ হলে বারবার প্রস্রাবের বেগ হতে পারে। অনেক সময় প্রস্রাবের পরিমাণ খুব কম হলেও মনে হয় আবার প্রস্রাব করতে হবে।

এই সমস্যার সঙ্গে সাধারণত দেখা যেতে পারে—

- প্রস্রাবের সময় জ্বালাপোড়া বা ব্যথা

- তলপেটে ব্যথা বা অস্বস্তি

- ঘন ঘন প্রস্রাবের তাগিদ

- প্রস্রাব ঘোলা হওয়া বা অস্বাভাবিক গন্ধ

- কখনো প্রস্রাবে রক্ত দেখা

সংক্রমণ কিডনিতে ছড়িয়ে পড়লে জ্বর, কাঁপুনি, পিঠের এক পাশ বা কোমরের পাশে ব্যথা এবং বমি হতে পারে। এসব লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া প্রয়োজন।

৪. অতিসক্রিয় মূত্রথলি

*Overactive Bladder* বা অতিসক্রিয় মূত্রথলি এমন একটি অবস্থা, যেখানে মূত্রথলি প্রস্রাব ধরে রাখার সময়ও হঠাৎ তীব্র বেগ তৈরি করতে পারে। ফলে অল্প সময়ের ব্যবধানে বারবার টয়লেটে যাওয়ার প্রয়োজন হয়।

এ ক্ষেত্রে হঠাৎ প্রস্রাবের তাগিদ, রাতে ঘুম ভেঙে প্রস্রাব করা এবং কখনো টয়লেটে পৌঁছানোর আগেই প্রস্রাব বের হয়ে যাওয়ার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। তবে একই ধরনের উপসর্গ সংক্রমণসহ অন্য কারণেও হতে পারে। তাই পরীক্ষা ছাড়া একে অতিসক্রিয় মূত্রথলি ধরে নেওয়া ঠিক নয়।

৫. পুরুষদের প্রোস্টেট বড় হওয়া

বয়স বাড়ার সঙ্গে অনেক পুরুষের প্রোস্টেট গ্রন্থি বড় হতে পারে। একে *Benign Prostatic Hyperplasia (BPH)* বলা হয়। প্রোস্টেট বড় হলে মূত্রনালিতে চাপ পড়ে প্রস্রাবের স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হতে পারে।

এ ক্ষেত্রে যেসব লক্ষণ দেখা যায়, সেগুলোর মধ্যে রয়েছে—

- রাতে বারবার প্রস্রাবের জন্য ঘুম ভাঙা

- প্রস্রাব শুরু করতে দেরি হওয়া

- প্রস্রাবের ধারা দুর্বল হওয়া

- প্রস্রাব শেষ করার পরও মূত্রথলি পুরো খালি হয়নি বলে মনে হওয়া

- প্রস্রাব করার পরও কিছুটা প্রস্রাব ঝরে পড়া

এসব উপসর্গ দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। প্রস্রাব একেবারেই বন্ধ হয়ে গেলে জরুরি চিকিৎসা প্রয়োজন।

৬. গর্ভাবস্থা ও হরমোনের পরিবর্তন

গর্ভাবস্থায় শরীরে রক্তের পরিমাণ ও কিডনির কার্যক্রমে পরিবর্তন আসে। জরায়ু বড় হওয়ার সঙ্গে মূত্রথলির ওপর চাপও বাড়তে পারে। ফলে বিশেষ করে গর্ভাবস্থার বিভিন্ন পর্যায়ে বারবার প্রস্রাবের প্রয়োজন হতে পারে।

তবে গর্ভাবস্থায় ঘন ঘন প্রস্রাবের সঙ্গে জ্বালাপোড়া, ব্যথা বা জ্বর থাকলে সেটিকে শুধু স্বাভাবিক পরিবর্তন মনে করা উচিত নয়। এ সময় মূত্রনালির সংক্রমণের আশঙ্কা থাকলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

৭. ওষুধ ও অন্যান্য শারীরিক সমস্যা

কিছু ওষুধ, বিশেষ করে শরীর থেকে অতিরিক্ত পানি বের করে দেওয়ার জন্য ব্যবহৃত *Diuretic* বা মূত্রবর্ধক ওষুধ, প্রস্রাবের পরিমাণ বাড়াতে পারে। এ ছাড়া কিডনি বা মূত্রথলির কিছু সমস্যা, মূত্রথলির পাথর এবং স্নায়ুর কার্যক্রমে পরিবর্তনের কারণেও প্রস্রাবের অভ্যাসে পরিবর্তন আসতে পারে।

তাই নতুন কোনো ওষুধ শুরু করার পর সমস্যা দেখা দিলে চিকিৎসককে বিষয়টি জানানো প্রয়োজন। নিজের সিদ্ধান্তে নিয়মিত ওষুধ বন্ধ করা উচিত নয়।

রাতে বারবার প্রস্রাব হয় কেন?

রাতে ঘুমানোর পর একাধিকবার প্রস্রাবের জন্য জেগে ওঠাকে *Nocturia* বলা হয়। ঘুমানোর আগে বেশি পানি পান, চা-কফি খাওয়া কিংবা মূত্রবর্ধক ওষুধ গ্রহণের কারণে এটি হতে পারে। তবে নিয়মিত রাতে ঘুম ভেঙে গেলে ডায়াবেটিস, প্রোস্টেট বড় হওয়া, অতিসক্রিয় মূত্রথলি কিংবা কিছু ক্ষেত্রে ঘুমের সময় শ্বাসপ্রশ্বাসের সমস্যার মতো কারণও বিবেচনায় নিতে হয়।

বয়স বাড়ার সঙ্গে রাতের প্রস্রাবের ধরন বদলাতে পারে। কিন্তু ঘুমের ব্যাঘাত নিয়মিত হলে, সঙ্গে অতিরিক্ত তৃষ্ণা থাকলে অথবা প্রস্রাবের প্রবাহে সমস্যা দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

কোন লক্ষণ দেখলে বুঝবেন চিকিৎসকের পরামর্শ প্রয়োজন?

বারবার প্রস্রাবের সঙ্গে নিচের লক্ষণগুলো থাকলে বিষয়টি অবহেলা করবেন না।

- প্রস্রাবের সময় জ্বালাপোড়া বা ব্যথা

- প্রস্রাবে রক্ত দেখা

- জ্বর বা কাঁপুনি

- কোমরের পাশে, পিঠে বা তলপেটে ব্যথা

- অতিরিক্ত তৃষ্ণা ও অকারণে ওজন কমে যাওয়া

- প্রস্রাবের ধারা দুর্বল হওয়া বা মূত্রথলি খালি করতে সমস্যা

- প্রস্রাবের বেগ ধরে রাখতে না পারা

- রাতে বারবার ঘুম ভেঙে যাওয়া এবং দৈনন্দিন কাজে ব্যাঘাত ঘটানো

বিশেষ করে প্রস্রাব একেবারেই করতে না পারা, প্রস্রাবে রক্ত দেখা কিংবা বারবার প্রস্রাবের সঙ্গে জ্বর ও পাশের দিকে তীব্র ব্যথা থাকলে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া প্রয়োজন। জ্বরের সঙ্গে কাঁপুনি, বমি বা তীব্র অসুস্থতা থাকলে জরুরি মূল্যায়ন দরকার হতে পারে।

বারবার প্রস্রাব হলে কী কী পরীক্ষা লাগতে পারে?

সমস্যার কারণ নির্ণয়ে চিকিৎসক প্রথমে জানতে চাইবেন কত দিন ধরে প্রস্রাবের সংখ্যা বেড়েছে, প্রতিবার প্রস্রাবের পরিমাণ কেমন, রাতে কতবার ঘুম ভাঙে এবং অন্য কোনো উপসর্গ আছে কি না। পানি পানের অভ্যাস, চলমান ওষুধ ও পূর্বের রোগের ইতিহাসও গুরুত্বপূর্ণ।

উপসর্গ অনুযায়ী চিকিৎসক নিচের পরীক্ষাগুলোর এক বা একাধিক করতে দিতে পারেন—

**প্রস্রাব পরীক্ষা:** সংক্রমণ, রক্ত বা অন্য অস্বাভাবিকতার ইঙ্গিত খুঁজতে।

**প্রস্রাবের কালচার:** মূত্রনালির সংক্রমণ সন্দেহ হলে জীবাণু শনাক্ত করতে এবং উপযুক্ত অ্যান্টিবায়োটিক নির্বাচনে সহায়তার জন্য।

**রক্তের গ্লুকোজ বা HbA1c পরীক্ষা:** ডায়াবেটিসের সম্ভাবনা যাচাই করতে।

**কিডনি-সম্পর্কিত রক্ত পরীক্ষা:** প্রয়োজন অনুযায়ী কিডনির কার্যক্রম মূল্যায়ন করতে।

**আল্ট্রাসনোগ্রাম বা অন্যান্য পরীক্ষা:** প্রস্রাবের প্রবাহে বাধা, মূত্রথলি পুরো খালি না হওয়া কিংবা অন্য কোনো সমস্যা সন্দেহ হলে।

সবার জন্য সব পরীক্ষা প্রয়োজন হয় না। উপসর্গ ও শারীরিক মূল্যায়নের ভিত্তিতে চিকিৎসক সিদ্ধান্ত নেন।

বারবার প্রস্রাবের সমস্যা কমাতে কী করবেন?

কারণ অনুযায়ী চিকিৎসা ভিন্ন হয়। তবে দৈনন্দিন কিছু অভ্যাস উপসর্গ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করতে পারে।

১. **পানি পানের হিসাব রাখুন:** প্রয়োজন অনুযায়ী পানি পান করুন। অতিরিক্ত প্রস্রাবের ভয়ে পানি খুব কমিয়ে দেবেন না, কারণ এতে পানিশূন্যতা হতে পারে।

২. **চা-কফি খেয়াল করুন:** ক্যাফেইনযুক্ত পানীয় খাওয়ার পর প্রস্রাবের বেগ বাড়লে পরিমাণ কমিয়ে দেখুন। রাতে ঘুমানোর কাছাকাছি সময়ে এগুলো এড়িয়ে চলা উপকারী হতে পারে।

৩. **প্রস্রাবের সময় ও পরিমাণ লিখে রাখুন:** কয়েক দিন কখন পানি পান করছেন, কখন প্রস্রাব হচ্ছে এবং রাতে কতবার ঘুম ভাঙছে—এসব লিখে রাখলে চিকিৎসকের জন্য কারণ নির্ণয় সহজ হতে পারে।

৪. **ওষুধ নিজে থেকে বন্ধ করবেন না:** কোনো ওষুধের কারণে সমস্যা হচ্ছে বলে সন্দেহ হলে চিকিৎসকের সঙ্গে আলোচনা করুন।

৫. **সংক্রমণের লক্ষণ থাকলে চিকিৎসা নিন:** নিজের সিদ্ধান্তে অ্যান্টিবায়োটিক শুরু করবেন না। প্রয়োজন অনুযায়ী পরীক্ষা ও চিকিৎসকের পরামর্শ অনুসরণ করুন।

৬. **সমস্যা দীর্ঘস্থায়ী হলে পরীক্ষা করান:** বারবার প্রস্রাবের পেছনে ডায়াবেটিস বা অন্য কোনো শারীরিক সমস্যা থাকলে দ্রুত শনাক্ত করা গুরুত্বপূর্ণ।

বারবার প্রস্রাব হওয়া কখনো বেশি পানি পান বা ক্যাফেইন গ্রহণের স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া, আবার কখনো ডায়াবেটিস, মূত্রনালির সংক্রমণ, অতিসক্রিয় মূত্রথলি কিংবা প্রোস্টেটের সমস্যার লক্ষণ হতে পারে। তাই শুধু প্রস্রাবের সংখ্যা দেখে আতঙ্কিত হওয়ার প্রয়োজন নেই, আবার সমস্যাটি নিয়মিত হলে অবহেলাও করা উচিত নয়।

প্রস্রাবের ধরনে নতুন পরিবর্তন, রাতে ঘন ঘন ঘুম ভাঙা, অতিরিক্ত তৃষ্ণা, জ্বালাপোড়া বা ব্যথা দেখা দিলে কারণ নির্ণয়ের জন্য চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। সঠিক সময়ে পরীক্ষা ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা জটিলতা এড়াতে সাহায্য করতে পারে।

**স্বাস্থ্য সতর্কতা:** এই প্রতিবেদনটি সাধারণ স্বাস্থ্যতথ্যের জন্য। এটি ব্যক্তিগত রোগ নির্ণয় বা চিকিৎসকের পরামর্শের বিকল্প নয়।

গুরুত্বপূর্ণ FAQ

১. দিনে কতবার প্রস্রাব হলে তা অস্বাভাবিক?

প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে দিনে প্রায় ৬–৮ বার প্রস্রাব সাধারণ একটি পরিসর। তবে পানি পান, ওষুধ, বয়স ও শারীরিক অবস্থার কারণে এই সংখ্যা বদলাতে পারে। নিজের স্বাভাবিক অভ্যাসের তুলনায় পরিবর্তন এবং অন্য উপসর্গ আছে কি না, সেটিই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

২. বারবার প্রস্রাব হওয়া কি ডায়াবেটিসের লক্ষণ?

হ্যাঁ, এটি ডায়াবেটিসের একটি সম্ভাব্য লক্ষণ। বিশেষ করে অতিরিক্ত তৃষ্ণা, ক্লান্তি বা অকারণে ওজন কমার সঙ্গে থাকলে রক্তের গ্লুকোজ পরীক্ষা করানো উচিত। তবে শুধু এই লক্ষণ দিয়ে ডায়াবেটিস নিশ্চিত করা যায় না।

৩. রাতে বারবার প্রস্রাব হওয়ার কারণ কী?

রাতে বেশি তরল পান, চা-কফি, মূত্রবর্ধক ওষুধ, ডায়াবেটিস, অতিসক্রিয় মূত্রথলি এবং পুরুষদের প্রোস্টেট বড় হওয়ার কারণে এমন হতে পারে। নিয়মিত ঘুমের ব্যাঘাত ঘটলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া ভালো।

৪. প্রস্রাবে জ্বালাপোড়ার সঙ্গে ঘন ঘন প্রস্রাব হলে কী করবেন?

মূত্রনালির সংক্রমণসহ বিভিন্ন কারণে এমন হতে পারে। চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। জ্বর, কাঁপুনি, পাশের দিকে ব্যথা বা বমি থাকলে দ্রুত চিকিৎসা প্রয়োজন।

৫. বারবার প্রস্রাব হলে কি পানি পান কমিয়ে দিতে হবে?

না। চিকিৎসকের বিশেষ নির্দেশ না থাকলে শুধু প্রস্রাব কমানোর জন্য পানি অতিরিক্ত কমিয়ে দেওয়া ঠিক নয়। প্রয়োজন অনুযায়ী পানি পান করুন এবং সমস্যা চলতে থাকলে কারণ নির্ণয়ের জন্য চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

তানিভর ইসলাম/

পাঠকের মতামত: