ঢাকা, মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬, ৫ কার্তিক ১৪৩৩

রোজ শ্যাম্পু করলে কি সত্যিই চুল পড়ে? যা বলছেন বিশেষজ্ঞেরা

লাইফ স্টাইল ডেস্ক . ২৪আপডেটনিউজ
২০২৬ অক্টোবর ২০ ১৩:১২:০৫
রোজ শ্যাম্পু করলে কি সত্যিই চুল পড়ে? যা বলছেন বিশেষজ্ঞেরা

গরমে ঘামে ভেজা মাথা, শহরের ধুলোবালি আর ভিড়ে মিশে চুল তেলতেলে হয়ে যায়। অনেকে তাই প্রতিদিনই শ্যাম্পু করেন। আবার অনেকের ধারণা, রোজ শ্যাম্পু করলে চুল রুক্ষ হয়ে যায়, ঝরে পড়ে। কিন্তু চর্মরোগ বিশেষজ্ঞদের মতে, এর কোনো এক নিয়ম সবার জন্য খাটে না। কতদিন পরপর শ্যাম্পু করবেন, তা নির্ভর করে আপনার মাথার ত্বক, চুলের ধরন, জীবনযাত্রা ও পরিবেশের ওপর।

শ্যাম্পু আসলে কী করে

মাথার ত্বকের গ্রন্থি থেকে প্রাকৃতিকভাবে সিবাম নামে এক ধরনের তেলের মতো পদার্থ নিঃসৃত হয়। এটি চুল ও ত্বককে সুরক্ষা দেয়। কিন্তু এর পরিমাণ বেশি হলে সঙ্গে ঘাম, ধুলো, মৃত কোষ ও চুলে ব্যবহৃত প্রসাধনী জমে ত্বক অস্বস্তিকর হয়ে ওঠে। শ্যাম্পুর কাজ এই জমে থাকা ময়লা ও বাড়তি তেল পরিষ্কার করা। অর্থাৎ মাথার ত্বক পরিষ্কার রাখাই শ্যাম্পুর মূল লক্ষ্য।

রোজ শ্যাম্পু করলে কি ক্ষতি হয়

একটি প্রচলিত ধারণা হলো, ঘন ঘন শ্যাম্পু করলে চুল পড়ে বা পাতলা হয়ে যায়। বিশেষজ্ঞদের মতে, শ্যাম্পু করলে চুল গোড়া থেকে ওঠে না। স্বাভাবিকভাবে প্রতিদিন কিছু চুল ঝরে, যা শ্যাম্পুর সময় চোখে পড়ে বলে মনে হয় বেশি পড়ছে। এই চুল শ্যাম্পু না করলেও ঝরত।

তবে সবার জন্য রোজ শ্যাম্পু সমান উপযোগী নয়:

শুষ্ক বা রুক্ষ চুলে: ঘন ঘন শ্যাম্পুতে মাথার ত্বকের প্রয়োজনীয় তেল বেশি সরে গেলে ত্বক শুকিয়ে টান ধরতে পারে, খুশকির সমস্যা বাড়তে পারে।

রাসায়নিক বা রং করা চুলে: রং, স্ট্রেইটেনিং বা কেমিক্যাল ট্রিটমেন্ট করা চুল তুলনায় সংবেদনশীল। বারবার শ্যাম্পুতে রং দ্রুত ফিকে হতে পারে।

কোঁকড়া বা প্রাকৃতিকভাবে শুষ্ক চুলে: এ ধরনের চুলে তেল সহজে নিচ পর্যন্ত পৌঁছায় না, তাই কম শ্যাম্পু করাই সাধারণত ভালো।

কাদের জন্য ঘন ঘন শ্যাম্পু জরুরি

যাঁদের মাথার ত্বক বেশি তেল নিঃসরণ করে

যাঁরা প্রতিদিন ঘামেন, যেমন ব্যায়াম করেন বা বাইরে কাজ করেন

ধুলোবালি, ধোঁয়া বা দূষিত পরিবেশে বেশি সময় কাটান যাঁরা

যাঁরা চুলে নিয়মিত তেল, জেল, স্প্রে বা অন্য স্টাইলিং পণ্য ব্যবহার করেন

আরও পড়ুন:

বাথরুম পরিষ্কারের পরও দুর্গন্ধ? জেনে নিন করণীয়

জুতার দুর্গন্ধে বিব্রত? সহজ ৫ উপায়ে মিলবে মুক্তি

যাঁদের মাথার ত্বকে খুশকি বা সেবোরিক ডার্মাটাইটিসের সমস্যা আছে। এ ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শে ঔষধি শ্যাম্পু ব্যবহার করতে হতে পারে

কত দিন পরপর শ্যাম্পু করবেন

সব ধরনের চুলের জন্য নির্দিষ্ট কোনো সংখ্যা নেই। সাধারণ একটি ধারণা:

তৈলাক্ত চুল ও ত্বক: প্রায় প্রতিদিন বা এক দিন পরপর

স্বাভাবিক চুল: সপ্তাহে দুই থেকে তিনবার

শুষ্ক বা কোঁকড়া চুল: সপ্তাহে একবার বা দুইবার

অতিরিক্ত ঘাম ও ধুলোয় থাকলে: প্রয়োজন অনুযায়ী বেশি

মাথার ত্বক চুলকাচ্ছে, ভারী লাগছে বা গন্ধ হচ্ছে কি না, সেটিই শ্যাম্পুর সময় হয়েছে কি না বোঝার সবচেয়ে সহজ উপায়।

শ্যাম্পু করার সঠিক নিয়ম

শ্যাম্পু মূলত মাথার ত্বকে লাগান এবং আঙুলের ডগা দিয়ে আলতো করে ম্যাসাজ করুন। নখ দিয়ে ঘষবেন না

চুলের দৈর্ঘ্য বা ডগায় শ্যাম্পু ঘষার দরকার নেই। ফেনা ধুয়ে যাওয়ার সময় এমনিতেই ডগা পরিষ্কার হয়

খুব গরম পানি এড়িয়ে হালকা কুসুম গরম বা স্বাভাবিক তাপমাত্রার পানি ব্যবহার করুন

ভালোভাবে ধুয়ে ফেলুন, যাতে শ্যাম্পুর অবশিষ্টাংশ ত্বকে জমে না থাকে

রোজ শ্যাম্পু করলে মৃদু বা হালকা ফর্মুলার শ্যাম্পু বেছে নিন

চুলের ধরন অনুযায়ী প্রয়োজনে কন্ডিশনার ব্যবহার করুন। কন্ডিশনার সাধারণত চুলের মাঝখান থেকে ডগা পর্যন্ত লাগানো হয়

ভেজা চুল তোয়ালে দিয়ে জোরে ঘষে না মুছে আলতো চেপে মুছুন

শ্যাম্পু নিয়ে কয়েকটি প্রচলিত ভুল ধারণা

"শ্যাম্পু বদলাতে হয় নিয়মিত, না হলে কাজ করে না।" চুল শ্যাম্পুতে অভ্যস্ত হয়ে যায় বলে প্রচলিত ধারণার পক্ষে শক্ত বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই। শ্যাম্পু তখনই বদলান, যখন ত্বকে অস্বস্তি বা সমস্যা হয়।

"শ্যাম্পু না করলে চুল নিজে থেকে পরিষ্কার হয়ে যায়।" এটি সব ক্ষেত্রে ঠিক নয়। দীর্ঘদিন শ্যাম্পু না করলে মাথার ত্বকে ময়লা ও তেল জমে চুলকানি, খুশকি বা সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়তে পারে।

"বেশি ফেনা মানে বেশি পরিষ্কার।" ফেনার পরিমাণের সঙ্গে পরিষ্কার করার ক্ষমতার সরাসরি সম্পর্ক নেই।

কখন চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের কাছে যাবেন

অনেক দিন ধরে অতিরিক্ত খুশকি বা তীব্র চুলকানি থাকলে

মাথার ত্বকে লালচে ভাব, ফুসকুড়ি বা আঁশ ওঠা চলতে থাকলে

হঠাৎ অস্বাভাবিক হারে চুল পড়তে শুরু করলে

মাথার ত্বকে ব্যথা, ঘা বা পুঁজ দেখা দিলে

শ্যাম্পু বদলেও সমস্যা না কমলে

(বি.দ্র.: এই প্রতিবেদন সাধারণ স্বাস্থ্যসচেতনতার উদ্দেশ্যে লেখা। এটি চিকিৎসকের পরামর্শের বিকল্প নয়।)

প্রাসঙ্গিক FAQ

প্রশ্ন ১: প্রতিদিন শ্যাম্পু করলে কি চুল পড়ে?

উত্তর: না, শ্যাম্পু করলে সুস্থ চুল গোড়া থেকে ওঠে না। প্রতিদিন স্বাভাবিকভাবে কিছু চুল ঝরে, যা শ্যাম্পুর সময় বেশি চোখে পড়ে। তবে হঠাৎ অস্বাভাবিক চুল পড়লে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

প্রশ্ন ২: সপ্তাহে কতবার শ্যাম্পু করা উচিত?

উত্তর: এটি চুল ও ত্বকের ধরনের ওপর নির্ভর করে। তৈলাক্ত চুলে প্রায় প্রতিদিন বা একদিন পরপর, স্বাভাবিক চুলে সপ্তাহে দুই-তিনবার এবং শুষ্ক বা কোঁকড়া চুলে সপ্তাহে একবার-দুইবার যথেষ্ট হতে পারে।

প্রশ্ন ৩: রোজ শ্যাম্পু করলে কি চুল রুক্ষ হয়ে যায়?

উত্তর: যাঁদের চুল স্বভাবতই শুষ্ক, তাঁদের ক্ষেত্রে ঘন ঘন শ্যাম্পুতে মাথার ত্বকের প্রাকৃতিক তেল কমে গিয়ে রুক্ষতা বাড়তে পারে। এ ক্ষেত্রে মৃদু শ্যাম্পু ও কন্ডিশনার ব্যবহার সহায়ক।

প্রশ্ন ৪: শ্যাম্পু না করলে কী সমস্যা হতে পারে?

উত্তর: দীর্ঘদিন শ্যাম্পু না করলে মাথার ত্বকে তেল, ঘাম ও মৃত কোষ জমে চুলকানি, দুর্গন্ধ ও খুশকি দেখা দিতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে সংক্রমণের ঝুঁকিও বাড়ে।

প্রশ্ন ৫: শ্যাম্পুর সঙ্গে কন্ডিশনার ব্যবহার কি জরুরি?

উত্তর: সবার জন্য বাধ্যতামূলক নয়, তবে শুষ্ক, রাসায়নিক ট্রিটমেন্ট করা বা লম্বা চুলে কন্ডিশনার ডগা মসৃণ ও নরম রাখতে সাহায্য করে। এটি সাধারণত মাথার ত্বকে নয়, চুলের মাঝখান থেকে ডগা পর্যন্ত লাগাতে হয়।

তানভির ইসলাম/

পাঠকের মতামত: