৩ সপ্তাহের ধসের পর শেয়ারবাজারে ফিরছে চাঙ্গাভাব
নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশের শেয়ারবাজারে টানা পতনের ধকল যেন কিছুটা সামাল দিতে শুরু করেছে। গত তিন সপ্তাহে প্রায় প্রতিদিনই সূচক কমেছে। তবে সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবস রোববার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) দেখা গেছে ইতিবাচক প্রবণতা, যা বিনিয়োগকারীদের মনে কিছুটা হলেও আশার সঞ্চার করেছে।
গত ১৪ কার্যদিবসের মধ্যে ১২ কার্যদিবসেই দেশের শেয়ারবাজারে সূচকের পতন হয়েছে। এতে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে চরম হতাশা ও উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে। ৬ এপ্রিল ডিএসইর প্রধান সূচক ছিল ৫ হাজার ২০৬ পয়েন্ট। এরপর ধারাবাহিক পতনের ফলে ৩০ এপ্রিল তা নেমে আসে ৪ হাজার ৯১৭ পয়েন্টে। এই সময়ের মধ্যে সূচক কমেছে ২৮৯ পয়েন্ট।
সূচকের পতনের পাশাপাশি বাজার মূলধনেও বড় ধাক্কা খেয়েছে বিনিয়োগকারীরা। ৬ এপ্রিল ডিএসইর বাজার মূলধন ছিল ৬ লাখ ৭১ হাজার ৬৪৩ কোটি টাকা। ৩০ এপ্রিল এই অঙ্ক কমে দাঁড়ায় ৬ লাখ ৫৬ হাজার ৫৯ কোটি টাকায়। অর্থাৎ মাত্র কয়েক সপ্তাহে বিনিয়োগ হারিয়েছে প্রায় ২০ হাজার ৮৫৮ কোটি টাকা।
তবে ৪ মে রোববার, সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবসে বাজারে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। দিনের শুরুতে উত্থান দেখা দিলেও বেলা ১টার দিকে সূচক নেতিবাচকে নেমে যায়। কিন্তু বাজারে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের সক্রিয়তায় আবার ঘুরে দাঁড়ায় সূচক। বিশেষ করে আইসিবির মত প্রতিষ্ঠানগুলোর সক্রিয় অংশগ্রহণ বাজারকে উত্থানের দিকে নিয়ে যেতে সাহায্য করেছে। দিন শেষে সূচক বেড়েছে ৩৮.৩৩ পয়েন্ট।
এই উত্থানের ফলে ডিএসইর প্রধান সূচক আবার দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ৯১৭ পয়েন্টে, যা গত বুধবারের সমান। ডিএসই শরীয়াহ সূচক বেড়ে হয়েছে ১ হাজার ১০০ পয়েন্ট এবং ডিএসই-৩০ সূচক কমে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৮৩৪ পয়েন্টে।
বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরিয়ে আনার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশক হলো লেনদেন। রোববার ডিএসইতে মোট ৩৯৯ কোটি ৩৩ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে। যা আগের কার্যদিবসের ৩২৬ কোটি ৬৩ লাখ টাকার চেয়ে প্রায় ৭২ কোটি টাকা বেশি।
ডিএসইতে আজ লেনদেন হওয়া ৩৯৫টি কোম্পানির মধ্যে শেয়ার ও ইউনিটের দর বেড়েছে ২৯০টির, কমেছে ৬৭টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ৩৮টির।
অন্যদিকে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) রোববার মোট লেনদেন হয়েছে ৬ কোটি ৩৯ লাখ টাকার, যা আগের দিনের ৪১ কোটি ৫৮ লাখ টাকার তুলনায় অনেক কম। যদিও প্রতিষ্ঠানভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, দর বেড়েছে ১২০টি প্রতিষ্ঠানের, কমেছে ৬১টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ২৩টির।
সিএসইর সার্বিক সূচক সিএএসপিআই আজ ০.০৭ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ১৩ হাজার ৮০৫ পয়েন্টে। আগের দিন এই সূচক কমেছিল ৩০.৫৭ পয়েন্ট।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, টানা ধসের মধ্যে আজকের উত্থান বিনিয়োগকারীদের জন্য আশার আলো। বিশেষ করে বাজারে যদি প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা সক্রিয়ভাবে অংশ নিতে থাকে, তাহলে সূচক দ্রুতই স্থিতিশীল হয়ে উঠতে পারে। বাজারের স্থিতিশীলতা বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফেরাতে বড় ভূমিকা রাখে।
বিশ্লেষকরা আরও বলছেন, বাজারে যে ধস চলছে তার পেছনে অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগের অনীহা, এবং খাতভিত্তিক দুর্বল পারফরম্যান্সের প্রভাব রয়েছে। এখন যদি সরকার ও নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলো বাজারের প্রতি সহায়ক নীতিমালা গ্রহণ করে, তাহলে সূচকের এই ইতিবাচক গতি অব্যাহত রাখা সম্ভব হবে।
বিনিয়োগকারীদের জন্য এখন গুরুত্বপূর্ণ সময়—তারা যদি ভীত না হয়ে ভালো মৌলভিত্তিক কোম্পানিতে বিনিয়োগ ধরে রাখেন, তবে এই ধস থেকে উত্তরণের সম্ভাবনা রয়েছে। আজকের বাজার ইতিবাচক বার্তা দিয়েছে, যা আগামী দিনে একটি নতুন ধাপের সূচনা হতে পারে।
আল-আমিন ইসলাম/
পাঠকের মতামত:
আপনার জন্য বাছাই করা কিছু নিউজ
- ক্যাপিটেক ফান্ডের বিনিয়োগকারীদের জন্য নতুন ঘোষণা
- পে-স্কেল নিয়ে আবারও শঙ্কা, প্রধানমন্ত্রীর নতুন নির্দেশ
- জেনেক্স শেয়ার নিয়ে নতুন সিদ্ধান্ত, আদনানের দুই বিও হিসাব স্থগিত
- ৩০০ কোটি টাকা সংগ্রহ করবে ঢাকা ব্যাংক, জানুন বন্ড ছাড়ার কারণ
- ১৬ আগস্ট আজকের স্বর্ণের দাম
- ভ্যানগার্ড ফাইন্যান্স ওয়ান ফান্ডের অর্থ বিতরণে বড় সংশোধনী
- ১৭ আগস্ট আজকের সোনার দাম
- ছুটির তালিকায় থাকা ২৬ আগস্ট নিয়ে মিলল স্পষ্ট তথ্য
- টিভিতে বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া সিরিজ না দেখানোর আসল কারণ জানাল বোর্ড
- সর্বনিম্ন ২০ হাজার, সর্বোচ্চ ১.৬ লাখ—নতুন পে স্কেলের হিসাব
- রমজান ও ঈদ নিয়ে বড় আপডেট, সম্ভাব্য তারিখ জানা গেল
- ভুলে হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাট ডিলিট? পুরোনো মেসেজ ফেরত পাবেন যেভাবে
- বৃষ্টি নিয়ে আবহাওয়া অধিদপ্তরের নতুন তথ্য
- নতুন পে-স্কেল নিয়ে চূড়ান্ত বার্তা দিল প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়