Alamin Islam
Senior Reporter
বিয়ে করলেই নাগরিকত্ব! এই ৬ দেশে সুযোগ মিস করবেন না
জন্মসূত্রে আমরা বাংলাদেশের নাগরিক। কিন্তু বর্তমান বিশ্বায়নের যুগে অনেকেই চান, নিজের দেশের পাশাপাশি অন্য কোনো দেশের নাগরিকত্বও থাকুক। এর অন্যতম সহজ উপায় হলো বিদেশি নাগরিকের সঙ্গে বৈধভাবে বিয়ে করা। কখনও পড়াশোনা বা চাকরির সূত্রে বিদেশে গিয়েই গড়ে ওঠে সম্পর্ক, যা অনেক ক্ষেত্রে বিয়েতে রূপ নেয়।
বিশ্বের কিছু দেশ আছে যেখানে স্থানীয় নাগরিককে বিয়ে করলে আইনগতভাবে নাগরিকত্ব অর্জনের সুযোগ মিলবে। চলুন জেনে নিই সেই দেশগুলো এবং নাগরিকত্ব পাওয়ার শর্তাবলী।
তুরস্ক
তুরস্কে বিয়ে সম্পন্ন হওয়ার পর তিন বছর একসাথে বসবাস করলে নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করা যায়। তুরস্কের নাগরিকত্ব পাওয়ার এক বড় সুবিধা হলো, তুর্কি পাসপোর্ট ব্যবহার করে ১১০টিরও বেশি দেশে ভিসা ফ্রি বা ভিসা অন অ্যারাইভাল সুবিধা পাওয়া সম্ভব।
স্পেন
দক্ষিণ ইউরোপের প্রধান দেশ স্পেনে আইন অনুযায়ী, এক বছর ধরে স্প্যানিশ নাগরিকের সঙ্গে বসবাস করলে নাগরিকত্বের আবেদন করা যায়। নাগরিকত্ব পেলে আপনি লাতিন আমেরিকা, ফিলিপাইন এবং পর্তুগালসহ একাধিক দেশে দ্বৈত নাগরিকত্বের সুযোগ পাবেন। আবেদন করার জন্য অবশ্যই লাগবে বিয়ের বৈধ সনদ এবং একসঙ্গে বসবাসের প্রমাণ।
আর্জেন্টিনা
আর্জেন্টিনার নাগরিককে বিয়ে করলে মাত্র দুই বছরের মধ্যে নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করা সম্ভব। শর্ত হিসেবে প্রয়োজন বৈধ বিয়ে, অপরাধমুক্তি রেকর্ড এবং সাধারণ স্প্যানিশ ভাষার জ্ঞান।
মেক্সিকো
মেক্সিকোর আইন অনুযায়ী, একজন মেক্সিকান নাগরিককে বিয়ে করলে দুই বছরের বসবাসের পর নাগরিকত্ব নেওয়া যায়। আবেদন করার সময় প্রয়োজন বৈধ বিয়ের সনদ, একসাথে বসবাসের প্রমাণ এবং স্প্যানিশ ভাষার মৌলিক দক্ষতা।
সুইজারল্যান্ড
সুইজারল্যান্ড সাধারণত কঠোর অভিবাসন নীতির দেশ হলেও বিয়ের মাধ্যমে নাগরিকত্ব অর্জন তুলনামূলক সহজ। সুইস নাগরিককে বিয়ে করলে তিন বছর একসাথে থাকা এবং পাঁচ বছর দেশেই বসবাসের পর নাগরিকত্বের আবেদন করা যায়। বিদেশে থাকলেও, ছয় বছরের বৈধ বিবাহিত জীবন অতিক্রান্ত হলে আবেদন করা সম্ভব। নাগরিকত্বের জন্য প্রয়োজন সুইস ভাষা ও সংস্কৃতির জ্ঞান, অপরাধমুক্তি এবং বৈধ দাম্পত্য সম্পর্কের প্রমাণ।
কেপ ভার্ড
পশ্চিম আফ্রিকার দ্বীপরাষ্ট্র কেপ ভার্ডে বিয়ে করলেই নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করা যায়। শর্ত হলো বিয়ে সম্পূর্ণ বৈধভাবে সম্পন্ন হতে হবে।
বিশ্বায়নের এই যুগে বৈধ দাম্পত্যের সঙ্গে নাগরিকত্বের সুযোগ এক নতুন দিগন্ত খুলেছে। অনেকের জন্য এটি শুধু ব্যক্তিগত সম্পর্ক নয়, ভবিষ্যতের নতুন সম্ভাবনারও দ্বার খুলে দিচ্ছে।
FAQ – বিয়ে করে নাগরিকত্ব
প্রশ্ন ১: বিয়ে করে কোন দেশগুলোতে নাগরিকত্ব পাওয়া যায়?
উত্তর: তুরস্ক, স্পেন, আর্জেন্টিনা, মেক্সিকো, সুইজারল্যান্ড এবং কেপ ভার্ডের নাগরিকদের সঙ্গে বৈধ বিয়ে করলে নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করা যায়।
প্রশ্ন ২: তুরস্কে বিয়ে করে নাগরিকত্ব পাওয়ার শর্ত কী?
উত্তর: তুরস্কে বিয়ে করার পর তিন বছর একসাথে বসবাস করলে নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করা যায়। তুর্কি পাসপোর্ট দিয়ে ১১০টিরও বেশি দেশে ভিসা ফ্রি বা ভিসা অন অ্যারাইভাল সুবিধা পাওয়া যায়।
প্রশ্ন ৩: স্পেনে বিয়ে করে নাগরিকত্ব কিভাবে পাওয়া যায়?
উত্তর: স্প্যানিশ নাগরিককে বিয়ে করে এক বছর একসাথে বসবাস করতে হবে। নাগরিকত্বের জন্য লাগবে বিয়ের বৈধ সনদ ও একসঙ্গে বসবাসের প্রমাণ। নাগরিকত্ব পাওয়ার পর লাতিন আমেরিকা, ফিলিপাইন, পর্তুগাল ইত্যাদি দেশে দ্বৈত নাগরিকত্বের সুযোগ মিলবে।
প্রশ্ন ৪: আর্জেন্টিনার নাগরিককে বিয়ে করলে নাগরিকত্বের শর্ত কী?
উত্তর: আর্জেন্টিনার নাগরিককে বিয়ে করলে দুই বছরের মধ্যে নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করা যায়। শর্ত হিসেবে প্রয়োজন বৈধ বিয়ে, অপরাধমুক্তি রেকর্ড এবং সাধারণ স্প্যানিশ ভাষার জ্ঞান।
প্রশ্ন ৫: মেক্সিকোতে বিয়ে করে নাগরিকত্বের জন্য কী লাগবে?
উত্তর: একজন মেক্সিকান নাগরিককে বিয়ে করলে দুই বছরের বসবাসের পর নাগরিকত্ব নেওয়া যায়। আবেদন করার জন্য প্রয়োজন বৈধ বিয়ের সনদ, একসাথে বসবাসের প্রমাণ এবং স্প্যানিশ ভাষার মৌলিক দক্ষতা।
প্রশ্ন ৬: সুইজারল্যান্ডে বিয়ে করে নাগরিকত্ব পাওয়ার নিয়ম কী?
উত্তর: সুইস নাগরিককে বিয়ে করলে তিন বছর একসাথে বসবাস এবং পাঁচ বছর দেশে থাকা প্রয়োজন। বিদেশে থাকলেও, ছয় বছরের বৈধ বিবাহিত জীবন পূর্ণ হলে নাগরিকত্বের আবেদন করা যায়। এছাড়া আবেদন করতে হবে সুইস ভাষা, সংস্কৃতি জানা এবং অপরাধমুক্তি রেকর্ড দেখাতে হবে।
প্রশ্ন ৭: কেপ ভার্ডে নাগরিকত্বের জন্য কি করতে হবে?
উত্তর: কেপ ভার্ডের নাগরিককে বৈধভাবে বিয়ে করলে নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করা সম্ভব।
প্রশ্ন ৮: বিয়ে করে নাগরিকত্ব নেওয়ার সুবিধা কী কী?
উত্তর: বিয়ে করে নাগরিকত্ব নেওয়ার ফলে একাধিক দেশের ভ্রমণ সুবিধা, দ্বৈত নাগরিকত্বের সুযোগ, পাসপোর্ট সুবিধা এবং বিদেশে বসবাসের আইনগত অধিকার পাওয়া যায়।
প্রশ্ন ৯: নাগরিকত্বের আবেদন করার জন্য কি প্রমাণ দরকার?
উত্তর: সাধারণত প্রয়োজন বৈধ বিয়ে সনদ, একসাথে বসবাসের প্রমাণ, অপরাধমুক্তি রেকর্ড এবং ভাষা বা সংস্কৃতির জ্ঞান। দেশের নিয়ম অনুযায়ী কিছু শর্ত বাড়তে বা কমতে পারে।
আহমেদ শরিফ/
পাঠকের মতামত:
আপনার জন্য বাছাই করা কিছু নিউজ
- আজ শবে বারাত: জানুন নামাজের নিয়ম, দোয়া, কত রাকাত নামাজ পড়তে হয়
- আইসিসি থেকে সুখবর পেল বাংলাদেশ দল
- আজকের স্বর্ণের দাম: (মঙ্গলবার, ৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬)
- আজকের স্বর্ণের দাম: (বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬)
- শেয়ারবাজারে বড় চমক: ক্রেতার চাপে ১৫ শেয়ারে বিক্রেতা উধাও
- ৭ খাতের হাত ধরে বড় লাফ শেয়ারবাজারে
- পাকিস্তানের নতুন সিদ্ধান্তে তোলপাড়, চাপে আইসিসি
- ৮ম শ্রেণির বৃত্তি পরীক্ষা ২০২৫ রেজাল্ট কবে দিবে
- সঠিক নিয়মে লেবু খাচ্ছেন তো? জেনে নিন ৫ উপায়
- শবে বরাত কী? জেনে নিন সহীহ হাদীস ও কুরআনের আলোকে এর গুরুত্ব
- ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ বয়কট: বড় আর্থিক ক্ষতির মুখে কি বিসিবি?
- রেকর্ড লাফ! ভরিতে ৫৪২৪ টাকা বাড়লো সোনার দাম
- earthquake bangladesh: ২০ মিনিটে ২ বার ভূমিকম্পেকাঁপল বাংলাদেশ
- শবে বরাতেও আল্লাহ যে ৬ ধরনের মানুষদের ক্ষমা করবেন না
- আজকের খেলার সময়সূচি:শ্রীলঙ্কা বনাম ইংল্যান্ড