ঢাকা, মঙ্গলবার, ৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২১ মাঘ ১৪৩২

শবে বরাত কী? জেনে নিন সহীহ হাদীস ও কুরআনের আলোকে এর গুরুত্ব

ধর্ম ডেস্ক . ২৪আপডেটনিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ০৩ ১৬:৪৬:৪১
শবে বরাত কী? জেনে নিন সহীহ হাদীস ও কুরআনের আলোকে এর গুরুত্ব

মুসলিম উম্মাহর কাছে অতি পরিচিত একটি রাত হলো ‘শবে বরাত’। ফারসি শব্দ ‘শব’ মানে রাত আর ‘বরাত’ মানে মুক্তি। অর্থাৎ শবে বরাত মানে মুক্তির রজনী। এই রাতটি হিজরি শাবান মাসের ১৪ তারিখ দিবাগত রাতে পালন করা হয়। শবে বরাত নিয়ে অনেক অতিরঞ্জিত কথা প্রচলিত থাকলেও, বিশুদ্ধ হাদীসের আলোকে এই রাতের গুরুত্ব অপরিসীম।

কুরআনের আলোকে ব্যাখ্যা

পবিত্র কুরআনের সূরা আদ-দুখান-এ একটি ‘বরকতময় রাত’ (লাইলাতুম মুবারাকাহ)-এর কথা উল্লেখ আছে। অনেক তাফসীরবিদ এই রাতকে শবে বরাত বললেও, ইবনে কাসীরসহ অধিকাংশ নির্ভরযোগ্য মুফাসসিরের মতে, কুরআনে বর্ণিত সেই রাতটি হলো ‘লাইলাতুল কদর’ (যা রমজান মাসে)। তবে শাবান মাসের এই মধ্যবর্তী রাতের ফযীলত সহীহ হাদীস দ্বারা প্রমাণিত।

সহীহ হাদীসের রেফারেন্স

শবে বরাতের ফযীলত সম্পর্কে সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য ও সহীহ হাদীসটি হলো:

১. সাধারণ ক্ষমার ঘোষণা:

রাসূলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন—

“আল্লাহ তাআলা অর্ধ-শাবানের রাতে (শবে বরাতে) তাঁর সৃষ্টির দিকে রহমতের দৃষ্টি দেন এবং মুশরিক (আল্লাহর সাথে অংশীদার সাব্যস্তকারী) ও বিদ্বেষ পোষণকারী (হিংসুক) ব্যতীত সকল সৃষ্টিকে ক্ষমা করে দেন।”রেফারেন্স: (সহীহ ইবনে হিব্বান, হাদীস নং- ৫৬৬৫; আলবানী একে সহীহ বলেছেন)

২. শাবান মাসের গুরুত্ব:

রাসূলুল্লাহ (সা.) শাবান মাসে বছরের অন্য মাসের তুলনায় (রমজান ছাড়া) সবচেয়ে বেশি নফল রোজা রাখতেন। হযরত আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত:

“আমি রাসূলুল্লাহ (সা.)-কে শাবান মাসের মতো এত অধিক (নফল) রোজা আর কোনো মাসে রাখতে দেখিনি।”রেফারেন্স: (সহীহ বুখারী, হাদীস নং- ১৯৬৯; সহীহ মুসলিম, হাদীস নং- ১১৫৬)

শবে বরাতে মুমিনের করণীয়

সহীহ হাদীসের আলোকে এই রাতে নির্দিষ্ট কোনো পদ্ধতির ইবাদত নেই। তবে একজন মুসলিম নিচের কাজগুলো করতে পারেন:

হিংসা ও শিরক মুক্ত হওয়া: হাদীস অনুযায়ী, এই রাতে ক্ষমা পাওয়ার প্রধান শর্ত হলো অন্তর থেকে অন্যের প্রতি হিংসা দূর করা এবং শিরক থেকে মুক্ত থাকা।

নফল ইবাদত: ব্যক্তিগতভাবে নফল নামায, কুরআন তিলাওয়াত ও যিকির করা।

তওবা ও দোয়া: আল্লাহর কাছে নিজের গুনাহের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করা।

পরদিন রোজা রাখা: আইয়ামে বিজের (প্রতি আরবি মাসের ১৩, ১৪ ও ১৫ তারিখ) নফল রোজার অংশ হিসেবে ১৫ই শাবান রোজা রাখা উত্তম।

শবে বরাত মূলত নিজেকে পরিশুদ্ধ করার এবং রমজানের প্রস্তুতি নেওয়ার একটি বিশেষ সুযোগ। সহীহ হাদীসের নির্দেশনা অনুযায়ী শিরক ও হিংসা ত্যাগ করে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করাই এই রাতের মূল শিক্ষা।

আল-মামুন/

ট্যাগ: Islam শবে বরাতের আমল শবে বরাতের দোয়া শবে বরাতের রোজা শবে বরাত কবে Lailatul Barat Significance of Shabe Barat Shab-e-Barat 2026 কুরআনের আলোকে শবে বরাত Mid-Shaban night শবে বরাত কি শবে বরাত মানে কি শবে বরাত কেন পালন করা হয় লাইলাতুল বারাআত কী শবে বরাতের সহীহ হাদীস শবে বরাতের দলিল সহীহ হাদীসে শবে বরাতের গুরুত্ব শাবান মাসের ১৪ তারিখের হাদীস অর্ধ-শাবানের রাতের ফযীলত শবে বরাতের নামায পড়ার নিয়ম শবে বরাত ইবাদত করার সঠিক নিয়ম শবে বরাতের বিদআত ও বর্জনীয় কাজ শবে বরাতে বর্জনীয় কাজসমূহ শবে বরাতের ভুল ধারণা শবে বরাত ও ভাগ্য রজনী What is Shab-e-Barat Shab-e-Barat meaning Shabe Barat in Quran Sahih Hadith about Shabe Barat Evidence of Lailatul Barat Authentic Hadith on 15th Shaban Is Shab-e-Barat mentioned in Hadith Shab-e-Barat prayers and amal How to perform Shab-e-Barat namaz Shab-e-Barat fasting Dua for Shab-e-Barat Islamic importance of Shabe Barat Shab-e-Barat misconceptions Bidah in Shab-e-Barat Shab-e-Barat myths vs reality Sahih Hadith Quran Reference

পাঠকের মতামত:

আপনার জন্য বাছাই করা কিছু নিউজ