ঢাকা, শুক্রবার, ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১ ফাল্গুন ১৪৩২

Alamin Islam

Senior Reporter

জয়ের পরেই আ. লীগ অফিস খুললেন বিএনপি নেতা, ভিডিও ভাইরাল

রাজনীতি ডেস্ক . ২৪আপডেটনিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ১৩ ১৯:৪২:৩৯
জয়ের পরেই আ. লীগ অফিস খুললেন বিএনপি নেতা, ভিডিও ভাইরাল

নির্বাচনী লড়াইয়ের রেশ কাটতে না কাটতেই পঞ্চগড় সদর উপজেলায় দেখা গেল রাজনীতির এক ভিন্ন ছবি। সচরাচর রাজনৈতিক বৈরিতা দেখা গেলেও, এখানে বিজয়ী হওয়ার পর নিষিদ্ধঘোষিত ছাত্রসংগঠন ছাত্রলীগের অভিভাবক সংগঠন আওয়ামী লীগের কার্যালয় নিজ হাতে খুলে দিলেন সদর উপজেলা বিএনপি সভাপতি আবু দাউদ প্রধান। শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) সকালে চাকলাহাট ইউনিয়নে ঘটে যাওয়া এই নজিরবিহীন ঘটনাটি এখন টক অফ দ্য টাউন।

সম্প্রীতির বার্তা নাকি কৌশল?

শুক্রবার সকালে চাকলাহাট ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের একটি তালাবদ্ধ কার্যালয় সবার উপস্থিতিতে খুলে দেন নবনির্বাচিত এই নেতা। এ সময় তিনি স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন এবং তাদের পাশে থাকার আশ্বাস দেন। মুহূর্তের মধ্যেই সেই দৃশ্য ক্যামেরাবন্দি হয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে, যা নিয়ে জেলাজুড়ে চলছে নানা বিশ্লেষণ।

যা বলছেন সংশ্লিষ্টরা

ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কামরুজ্জামান বুলেটকে বলতে শোনা যায়, “আজ সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আবু দাউদ প্রধান আমাদের ইউনিয়ন অফিসটি নিজ উদ্যোগে তালামুক্ত করে দিয়েছেন। দীর্ঘ সময় পর আমরা আমাদের অফিসে প্রবেশের সুযোগ পেলাম।”

এদিকে স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা আবুল হোসেনের কণ্ঠে ঝরেছে স্বস্তি ও আকুতি। তিনি বলেন, “আমাদের বিরুদ্ধে অনেক মিথ্যা মামলা হয়েছে। আমরা যেন এই পরিস্থিতি থেকে রক্ষা পাই এবং এলাকায় শান্তিতে থাকতে পারি, সেই অনুরোধ জানিয়েছি দাউদ প্রধানের কাছে।” তিনি আরও স্পষ্ট করেন যে, অফিসটি জামায়াতের নেতা-কর্মীরা তালাবদ্ধ করে রেখেছিল। আজ পরিষ্কার করার পর এটি বসার উপযোগী করা হলেও এখনই এখান থেকে আওয়ামী লীগের কোনো রাজনৈতিক কর্মসূচি পালন করা হবে না।

বিএনপি নেতার যুক্তি: ‘শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান’

কেন এমন উদ্যোগ নিলেন—জানতে চাইলে বিএনপি নেতা আবু দাউদ প্রধান বলেন, “দীর্ঘ ১৮ বছর পর মানুষ আমাদের ম্যান্ডেট দিয়েছে। স্বাধীনতার স্বপক্ষের সব শক্তিকে সঙ্গে নিয়ে আমি এগোতে চাই। জামায়াত এই অফিসটি বন্ধ করে রেখেছিল, যার ফলে এলাকায় একটা চাপা উত্তেজনা বিরাজ করছিল। কোনো পক্ষ যেন অশান্তি সৃষ্টি করতে না পারে, সেজন্যই আমি অফিসটি খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।” তিনি আরও যোগ করেন, কোনো প্রকার অন্যায় বা বিশৃঙ্খলাকে তিনি প্রশ্রয় দেবেন না।

দেশপ্রেমের প্রশ্নে আপোষহীন স্থানীয় নেতারা

সাবেক ছাত্রলীগ নেতা আনিসুজ্জমান স্বপন এই পদক্ষেপকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন। তিনি বলেন, “আমরা দলমত নির্বিশেষে এলাকায় মিলেমিশে থাকতে চাই। তবে বাংলাদেশের পতাকা কিংবা মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে যদি কেউ কোনো ষড়যন্ত্র করে, তবে আমরা সবাই মিলে তা প্রতিহত করব।”

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের অভিমত

পঞ্চগড়ের রাজনৈতিক মহলে এই ঘটনাটি মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছে। অনেকে এটিকে ‘সুস্থ রাজনীতির চর্চা’ হিসেবে দেখলেও, আওয়ামী লীগের মতো সংগঠনের অফিস বিএনপি নেতা কেন খুললেন, তা নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে প্রশ্ন তুলছেন কেউ কেউ। তবে এই উদ্যোগের ফলে চাকলাহাট ইউনিয়নে আপাতত রাজনৈতিক উত্তেজনা অনেকটা কমেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

তানভির ইসলাম/

পাঠকের মতামত:

আপনার জন্য বাছাই করা কিছু নিউজ

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ