Alamin Islam
Senior Reporter
সৌদির ক্যালেন্ডার অনুযায়ী প্রথম রোজা যে দিন থেকে শুরু হবে
সৌদি আরবের দাপ্তরিক পঞ্জিকা 'উম্ম আল-কুরা'র হিসাব অনুযায়ী, আগামী ১৮ ফেব্রুয়ারি (বুধবার) থেকে দেশটিতে পবিত্র রমজান মাস শুরু হতে যাচ্ছে। তবে প্রতিবেশী দেশ সংযুক্ত আরব আমিরাতের জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের দাবি, মঙ্গলবার মধ্যপ্রাচ্যের আকাশে নতুন চাঁদের দেখা পাওয়া সম্ভব নয়। এই ভিন্নমতের জেরে আবারও আলোচনায় এসেছে সৌদির চাঁদ দেখার নির্ভরযোগ্যতার বিষয়টি।
বিজ্ঞান ও পঞ্জিকার সংঘাত
দীর্ঘদিন ধরেই অভিযোগ উঠছে যে, আকাশ পর্যবেক্ষণের চেয়ে পূর্বনির্ধারিত ক্যালেন্ডার অনুসরণ করেই রমজান ও ঈদের ঘোষণা দেয় রিয়াদ। গত বছরের ২৬ মার্চ 'মিডেল ইস্ট আই'-এর এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছিল, সৌদি কর্তৃপক্ষ গত কয়েক বছরে চাঁদ দেখার বিষয়ে বারবার 'অনির্ভরযোগ্য' তথ্য প্রদান করেছে। মূলত উম্ম আল-কুরা ক্যালেন্ডারের সঙ্গে মিল রাখতেই এই ঘোষণাগুলো দেওয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
ঐতিহাসিক কিছু বিতর্কিত সিদ্ধান্ত
২০২৩ সালের ঈদুল ফিতর নিয়ে তৈরি হওয়া বিতর্কটি ছিল সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য। ২০ এপ্রিল যখন সৌদি আরব ঈদের চাঁদের অনুসন্ধান করছিল, তখন কুয়েতের প্রখ্যাত জ্যোতির্বিদ আব্দেল আল-সাদুন স্পষ্টভাবে জানিয়েছিলেন যে, ওইদিন আরব উপদ্বীপে চাঁদ দেখা অসম্ভব। তিনি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে বলেছিলেন, "যদি কেউ চাঁদ দেখে থাকেন, তবে প্রমাণ হিসেবে তার ছবি তুলুন।"
শেষ পর্যন্ত সৌদি আরব ২১ এপ্রিল ঈদ ঘোষণা করলেও কোনো অকাট্য প্রমাণ দিতে পারেনি। পরবর্তীতে দেশটির জ্যোতির্বিদ মুলহাম আল-হিন্দি একটি সিসিডি ক্যামেরায় তোলা ঝাপসা ছবি প্রকাশ করে দাবিটি প্রমাণের চেষ্টা করেছিলেন। একই ধরনের বিতর্ক দেখা দিয়েছিল ২০২৪ সালের ৬ জুন, যখন বৈজ্ঞানিক অসম্ভাব্যতা সত্ত্বেও ঈদুল আজহার তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছিল।
বিশেষজ্ঞদের পর্যবেক্ষণ: সৌদি বনাম তুরস্ক
ইসলামিক বর্ষপঞ্জিকা বিশেষজ্ঞ ও নিউ ক্রিসেন্ট সোসাইটির প্রতিষ্ঠাতা ইমাদ আহমেদ এই প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তার মতে, সৌদি আরব এমন সময়েও চাঁদ দেখার দাবি করে যখন তা বিজ্ঞানের দৃষ্টিতে অবাস্তব। তিনি বলেন, "প্রতি বছর কেবল নির্দিষ্ট দুই-তিনজন ব্যক্তিই চাঁদ দেখার দাবি করেন, যা অন্য কেউ দেখতে পান না। অথচ এই ঘোষণাগুলো ঠিকই উম্ম আল-কুরা বর্ষপঞ্জিকার সঙ্গে মিলে যায়।"
ইমাদ আহমেদ আরও জানান, তুরস্কও আধুনিক হিসাব-নিকাশ ব্যবহার করে ঈদের দিন ঠিক করে। তবে তুরস্কের পদ্ধতিটি অত্যন্ত স্বচ্ছ। তারা সরাসরি ঘোষণা দেয় যে তারা বৈজ্ঞানিক হিসাব মানছে। কিন্তু সৌদি আরব বৈজ্ঞানিক হিসাবের ছক অনুসরণ করলেও দাবি করে যে তারা বাস্তবে 'চাঁদ দেখেছে'।
বিশ্বজুড়ে এর প্রভাব
যুক্তরাজ্যের মতো দেশগুলোতে নিজস্ব কোনো চাঁদ দেখা কমিটি না থাকায় তারা সৌদির সিদ্ধান্তকেই চূড়ান্ত বলে গণ্য করে। যদিও অনেক ইসলামি চিন্তাবিদ এই অন্ধ অনুকরণ নিয়ে বারবার সতর্ক করেছেন। রমজান ও ঈদ নির্ভর করে মূলত চাঁদের উপস্থিতির ওপর, যা ২৯ বা ৩০ দিনের মাস নির্ধারণ করে। কিন্তু সৌদির এই ক্যালেন্ডার-নির্ভর সংস্কৃতি মুসলিম বিশ্বের একটি বড় অংশের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি করছে।
তানভির ইসলাম/
পাঠকের মতামত:
আপনার জন্য বাছাই করা কিছু নিউজ
- ৫ পরিচালককে ১০০ কোটি টাকা জরিমানা, জানুন কারণ
- কারখানা বন্ধ, লোকসানে ডুবছে কোম্পানি—তবু শেয়ারদর বাড়ল হু হু করে
- ৪ আর্থিক প্রতিষ্ঠানের টাকা ফেরতের বড় ঘোষণা, ১০ লাখে মিলবে পুরো অর্থ
- আর মাত্র ১০ বছর! এলন মাস্ক বলছেন, টাকা ছাড়াই চলবে পৃথিবী
- একাদশে ভর্তিতে বড় খবর, ৯৩% আসন সবার জন্য—জানুন কোটা কত
- আজকের স্বর্ণ ও রুপার নতুন দর জেনে নিন
- এসএসসি পরীক্ষার্থীদের জন্য সুখবর, প্রকাশ হলো বহুল প্রতীক্ষিত রুটিন
- আবেদন নাকচ, তবুও রিফাইনারি বানাচ্ছে সুপার পেট্রোকেমিক্যাল!
- ২০২৭ সালের এসএসসি পরীক্ষার নতুন তারিখ ঘোষণা
- ‘চিন্তা করো না আগামী, আমি তোমার সঙ্গে ছিলাম, আছি, থাকবো’
- মোদী-ট্রাম্প বৈঠকের অজানা ঘটনা ফাঁস করলেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত
- ‘সার্ভারে ত্রুটি’ দেখিয়ে ৪৮ গ্রাহকের কোটি টাকা উধাও, বের হলো আসল রহস্য
- সিটি ব্যাংকের ইজিএমে বড় পরিবর্তন, বাদ পড়ল যে প্রস্তাব