Alamin Islam
Senior Reporter
টাকা ছাড়াই সদকার সওয়াব পাওয়ার ৫টি সহজ উপায়
ইসলামে ইবাদত কেবল নির্দিষ্ট কিছু রীতির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং মানুষের প্রতিটি ইতিবাচক আচরণই মহান আল্লাহর কাছে অত্যন্ত মূল্যবান। সাধারণত ‘সদকা’ বা দান বলতে আমরা অর্থ বিলিয়ে দেওয়াকে বুঝলেও, নবীজি (সা.) এই ধারণাকে দিয়েছেন এক বৈপ্লবিক রূপ। তাঁর অমিয় বাণী অনুযায়ী, সমাজের প্রতিটি মানুষের জন্য প্রতিদিন সদকা করার সুযোগ রয়েছে, যার জন্য পকেটে টাকা থাকা আবশ্যিক নয়।
কল্যাণকর প্রতিটি কাজই যখন সদকা
হজরত জাবির ইবনে আবদুল্লাহ (রা.) বর্ণনা করেন, বিশ্বনবী (সা.) বলেছেন, “প্রত্যেকটি নেক কাজ বা কল্যাণকর কাজই হলো সদকা।” (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৬০২১)।
ইসলামি স্কলারদের মতে, এখানে ‘সদকা’ বলতে মূলত আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রাপ্ত পুরস্কার বা সওয়াবকে বোঝানো হয়েছে। একজন মুমিন যখন সওয়াবের উদ্দেশ্যে কোনো ভালো কাজ করেন, তখন তিনি নিশ্চিতভাবেই পুরস্কৃত হন। এমনকি নিয়ত ছাড়াও যদি কেউ প্রাত্যহিক জীবনে কারো উপকার করেন, তবে সেখানেও মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রতিদানের প্রবল সম্ভাবনা থাকে।
বিনা খরচে সওয়াব অর্জনের ৫টি উপায়
ইবনুল বাত্তাল (র.)-এর মতে, একজন অভাবী মানুষও চাইলে একজন ধনবানের সমান পুণ্য অর্জন করতে পারেন। শরিয়ত ও বিবেক যা কিছুকে সুন্দর বলে স্বীকৃতি দেয়, তার সবই ‘মারুফ’ বা কল্যাণকর কাজের অন্তর্ভুক্ত। হাদিসের আলোকে এমন কিছু সহজ সদকার উদাহরণ নিচে দেওয়া হলো:
১. জিকিরের মাধ্যমে সওয়াব: ধনসম্পদ না থাকলেও কেবল জিকিরের মাধ্যমে বিপুল সওয়াব সম্ভব। ‘সুবহানাল্লাহ’, ‘আলহামদুলিল্লাহ’ কিংবা ‘লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ পাঠ করা প্রতিটিই স্বতন্ত্র সদকা। মূলত গরিব সাহাবিদের সান্ত্বনা দিতেই নবীজি (সা.) এই তাসবিহগুলোর গুরুত্ব শিখিয়েছিলেন। (সহিহ মুসলিম)
২. সামাজিক শিষ্টাচার ও পরোপকার: মানুষের সাথে হাসিমুখে কথা বলা, পথ হারানো ব্যক্তিকে গন্তব্য চিনিয়ে দেওয়া কিংবা কোনো দৃষ্টিহীনকে রাস্তা পার করে দেওয়াও সদকার অন্তর্ভুক্ত। এমনকি রাস্তা থেকে পাথর বা কাঁটার মতো কষ্টদায়ক বস্তু সরিয়ে ফেলা কিংবা নিজের পানির পাত্র থেকে অন্যকে পানি পান করানোও বিশাল সওয়াবের কাজ। (সুনানে তিরমিজি)
৩. দেহের প্রতিটি অঙ্গের কৃতজ্ঞতা: মানবদেহে মোট ৩৬০টি জোড়া রয়েছে। হাদিস অনুযায়ী, সুস্থতার শুকরিয়া হিসেবে প্রতিদিন প্রতিটি জোড়ার বিপরীতে সদকা করা প্রয়োজন। কেউ যদি জিকিরের মাধ্যমে কিংবা রাস্তা থেকে আবর্জনা সরিয়ে সমাজকে পরিচ্ছন্ন রাখে, তবে সে মূলত তার শরীরকে জাহান্নামের আগুন থেকে মুক্ত করে নিল। (সহিহ মুসলিম)
৪. পারিবারিক বন্ধন ও ন্যায়বিচার: স্ত্রীর সঙ্গে সময় কাটানো বা সুন্দর আচরণ করাকেও ইবাদত হিসেবে গণ্য করেছে ইসলাম। এছাড়া বিবাদমান দুই ব্যক্তির মধ্যে সমঝোতা বা ন্যায়বিচার নিশ্চিত করাও সদকা হিসেবে গণ্য হয়।
৫. ক্ষতিকর কাজ থেকে বিরত থাকা: যদি কারো পক্ষে কোনো ভালো কাজ করা সম্ভব না হয়, তবে সে যেন অন্তত অন্যের অনিষ্ট করা থেকে নিজেকে দূরে রাখে। রাসুল (সা.)-এর মতে, মানুষের ক্ষতি না করাও নিজের জন্য একটি সদকা।
কেন এই জীবনদর্শন জরুরি?
ইসলামের এই সুমহান শিক্ষা আমাদের জীবনকে নতুন করে সাজাতে সাহায্য করে। এটি কেবল গরিব-ধনী ভেদাভেদ দূর করে সওয়াবের সমান সুযোগই তৈরি করে না, বরং একটি শান্তিপূর্ণ ও মানবিক সমাজ বিনির্মাণে ভূমিকা রাখে।
আমরা অনেক সময় বড় কোনো সুযোগের অপেক্ষায় থেকে হাতের কাছে থাকা ছোট ছোট নেক কাজগুলো এড়িয়ে যাই। অথচ মুচকি হাসি কিংবা রাস্তা থেকে সরানো একটি সাধারণ কাঁটাও যে আল্লাহর কাছে সদকা হিসেবে কবুল হতে পারে—এই বোধই একজন মানুষের জীবনকে সার্থক করে তুলতে যথেষ্ট।
আল-মামুন/
পাঠকের মতামত:
আপনার জন্য বাছাই করা কিছু নিউজ
- চলছে বাংলাদেশ বনাম নিউজিল্যান্ড দ্বিতীয় ওয়ানডে: সরাসরি দেখুন Live
- শেষ হলো বাংলাদেশ বনাম নিউজিল্যান্ডের মধ্যকার ম্যাচ, জানুন ফলাফল
- চলছে বাংলাদেশ বনাম নিউজিল্যান্ড ম্যাচ: ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশ, দেখুন Live
- একলাফে কমলো স্বর্ণের দাম
- বাংলাদেশ বনাম নিউজিল্যান্ড: নাহিদের গতির ঝড়, দেখুন Live
- সংরক্ষিত নারী আসনে ৩৬ জনকে চূড়ান্ত মনোনয়ন দিয়েছে বিএনপি
- নাহিদ রানার ফাইফার, অল-আউট নিউজিল্যান্ড
- একলাফে বাড়লো তেলের দাম
- সরকারের কূটনৈতিক ব্যর্থতা ও দ্বিমুখিভাবের কারণে বাংলাদেশের তেলের জাহাজ ফিরিয়ে দিচ্ছে ইরান
- আজকের খেলার সময়সূচি:রিয়াল মাদ্রিদ বনাম আলাভেস