ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩

জনতা ব্যাংকের অনিয়মের যত চিত্র, সামনে এলো তদন্তে

অর্থনীতি ডেস্ক . ২৪আপডেটনিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ২৪ ১৪:৩৩:২৭
জনতা ব্যাংকের অনিয়মের যত চিত্র, সামনে এলো তদন্তে

একটি ব্যাংকের একই তদন্তে উঠে এসেছে অদাবিকৃত আমানত শনাক্তে প্রযুক্তিগত ব্যর্থতা, হাজার কোটি টাকার দায় সমন্বয় না হওয়া, বিপুল অঙ্কের সুদ আদায়ের সুযোগ হারানো, বিদেশে অনুমোদনহীন নিয়োগ এবং অস্তিত্বহীন ল্যাপটপ কেনার মতো নানা ঘটনা। রাষ্ট্রায়ত্ত জনতা ব্যাংকের বিভিন্ন স্তরে বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিদর্শনে এসব অনিয়মের সত্যতা পাওয়া গেছে।

প্রধান কার্যালয় থেকে উপশাখা, দেশের কার্যক্রম থেকে বিদেশি শাখা—জনতা ব্যাংকের প্রায় সব স্তরেই অনিয়মের চিত্র পাওয়া গেছে। রেমিট্যান্সের প্রণোদনা আত্মসাৎ, ঋণপত্রের ভুয়া কমিশন, কেন্দ্রীয়ভাবে স্বয়ংক্রিয় যন্ত্রের ঝুঁকিপূর্ণ ব্যবহার, বৈদেশিক হিসাবে লেনদেনে সমন্বয়হীনতা, হলমার্কসহ হাজারো গ্রাহকের অদাবিকৃত অর্থ কুক্ষিগত করা এবং গোঁজামিলের মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় অর্থ অপচয়ের মতো ঘটনাও এসেছে তদন্তে।

এসব অনিয়মের সঙ্গে ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদ, ব্যবস্থাপনা কমিটি ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনায় পরিচালনা পর্ষদ ও ব্যবস্থাপনা কমিটি একসঙ্গে ভেঙে দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। দেশের ইতিহাসে কোনো সরকারি ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে দেওয়ার এমন ঘটনা এটিই প্রথম হতে যাচ্ছে। তবে গতকাল বুধবার সন্ধ্যা পর্যন্ত জনতা ব্যাংকের কোনো কমিটিই ভেঙে দেওয়া হয়নি।

৮ হাজার ২৭০ কোটি টাকার সুদ আদায়ের সুযোগ হারিয়েছে ব্যাংক

বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিদর্শনে জনতা ব্যাংকের ঋণ ব্যবস্থাপনায়ও বড় ধরনের অসংগতি ধরা পড়েছে। নথিপত্র অনুযায়ী, জনতা ভবন করপোরেট শাখা নস্ট্রো হিসাব থেকে অর্থ ডেবিট করার পর তার বিপরীতে নির্ধারিত সময়ে ফোর্সড বা ডিমান্ড লোন তৈরি করেনি।

এর ফলে গ্রাহকের কাছে ব্যাংকের যে অর্থ পাওনা ছিল, তার দায় যথাসময়ে সৃষ্টি হয়নি। একই সঙ্গে শাখাটির প্রাপ্য সুদ আয়ও যথাযথভাবে হিসাব করা হয়নি।

ওরিয়ন অয়েল অ্যান্ড শিপিং লিমিটেডের কাছ থেকে পাওনা অর্থ বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বিপিডিবি) মাধ্যমে আদায়ের ক্ষেত্রেও ব্যাংক ব্যবস্থাপনার উদ্যোগ পর্যাপ্ত ছিল না বলে নথিতে উল্লেখ রয়েছে।

বিপিডিবির সম্মতিপত্রের ভিত্তিতে পরিচালনা পর্ষদ অনুমোদিত ঋণসীমার মধ্যে ওরিয়ন অয়েল অ্যান্ড শিপিং লিমিটেডের পক্ষে আমদানির জন্য বিশেষ এলসি খোলা হয়েছিল। পরে প্রতিষ্ঠানটির বিলের মাধ্যমে দায় সমন্বয় করা হয়। কিন্তু গ্রাহকের এগ্রো হিসাবে সৃষ্টি হওয়া ৮ হাজার ৩০৭ কোটি টাকা এখন পর্যন্ত পরিশোধ হয়নি।

ফলে ওই গ্রাহকের হিসাবে সৃষ্টি হওয়া ৮ হাজার ৩১৬ কোটি টাকার নস্ট্রো ডেবিট দায়ও সমন্বয় করা সম্ভব হয়নি।

অন্যদিকে বেক্সিমকো গ্রুপভুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর নামে সময়মতো ডিমান্ড লোন তৈরি না করায় জনতা ব্যাংক প্রায় ৮ হাজার ২০০ কোটি টাকা সুদ আদায়ের সুযোগ হারিয়েছে। ওরিয়ন অয়েল অ্যান্ড শিপিং লিমিটেডের ক্ষেত্রেও একই কারণে প্রায় ৪৭০ কোটি টাকা সুদ আদায় করা যায়নি।

দুই ক্ষেত্রের অর্থ যোগ করলে সঠিক ব্যাংকিং নিয়মাচার অনুসরণ না করার কারণে প্রায় ৮ হাজার ২৭০ কোটি টাকার সুদ আদায় হয়নি।

অদাবিকৃত আমানতের হিসাবেও বড় ঘাটতি

ব্যাংকের কোর ব্যাংকিং সফটওয়্যার (সিবিএস) নিয়েও গুরুতর সীমাবদ্ধতার তথ্য পাওয়া গেছে। জনতা ব্যাংকের নিজস্ব তথ্য অনুযায়ী, ১০ বছরের বেশি সময় ধরে ইন-অপারেটিভ থাকা হিসাবগুলো থেকে গ্রাহকের তথ্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে শনাক্ত করতে পারছে না সফটওয়্যারটি।

এর ফলে ১০ বছরের বেশি সময় ধরে পড়ে থাকা অদাবিকৃত আমানত শনাক্তের সমস্যা সমাধানে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে পারেনি ব্যাংক কর্তৃপক্ষ। বর্তমান সিবিএস ব্যবহার করে শাখাভিত্তিক অদাবিকৃত আমানতের তথ্য সংগ্রহের সমস্যাও দূর হয়নি।

বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিদর্শন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সিবিএসে অদাবিকৃত আমানত চিহ্নিত করার সুযোগ না থাকায় বড় ধরনের জালিয়াতি ও পাচারের সুযোগ রয়েছে। পাশাপাশি ২০০৯ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত সময়ের সঠিক তথ্যও সংগ্রহ করা যাচ্ছে না। প্রতিবেদনে ব্যাংক ব্যবস্থাপনার দক্ষতার ঘাটতি বিষয়টি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হওয়ার প্রতীয়মানতার কথাও বলা হয়েছে।

পরিদর্শনে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ১ অক্টোবর পর্যন্ত জনতা ব্যাংকের ৫৮টি শাখার ৪৮৮টি হিসাবে ১০ বছর ও তার বেশি সময় ধরে অদাবিকৃত আমানত ছিল ৯৪ কোটি টাকা। তবে ট্রেজারি ডিপার্টমেন্টের দেওয়া ওই বিবরণীতে স্থানীয় কার্যালয়সহ অনেক শাখার তথ্য অন্তর্ভুক্ত ছিল না।

ইডিএফের অসমর্থিত এন্ট্রিতেও অনিয়ম

রপ্তানি উন্নয়ন তহবিল বা ইডিএফের হিসাব ব্যবস্থাপনাতেও নিয়মের ব্যত্যয় পাওয়া গেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইডিএফের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর এফসি ক্লিয়ারিং অ্যাকাউন্ট ডেবিট করা অথবা শাখার মাধ্যমে ঋণপত্রের মেয়াদ শেষ হলে নস্ট্রো অ্যাকাউন্ট নগদায়নের পর গ্রাহকের নামে দায় সৃষ্টি করার নিয়ম জনতা ব্যাংক অনুসরণ করেনি।

ইডিএফের অসমর্থিত এন্ট্রিগুলোও যথাসময়ে সমন্বয় করা হয়নি। গত ৩০ জুন স্থানীয় কার্যালয় থেকে পাঠানো অ্যাডভাইসের মাধ্যমে অসমর্থিত ৪ কোটি ৯৫ লাখ ২৭ হাজার ৬৫৩ মার্কিন ডলারের মধ্যে ৪ কোটি ৪৩ লাখ ৬৪ হাজার মার্কিন ডলার সমন্বয় করা হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের পর্যবেক্ষণে এ ক্ষেত্রেও ব্যাংক ব্যবস্থাপনা ও পরিচালনা পর্ষদের অদক্ষতা এবং অকার্যকারিতার বিষয়টি উঠে এসেছে।

ইউএইতে শ্রেণিকৃত ঋণ, অবলোপন ৩০৪ কোটি টাকা

দেশের বাইরে জনতা ব্যাংকের কার্যক্রমেও অনিয়মের তথ্য পাওয়া গেছে। নথিপত্র অনুযায়ী, সংযুক্ত আরব আমিরাতে (ইউএই) ব্যাংকটির দুটি শাখায় ৪১ দশমিক ৪৮ মিলিয়ন আমিরাতি দিরহাম শ্রেণিকৃত ঋণ রয়েছে।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানগুলোর দায় ছিল বাংলাদেশি মুদ্রায় ৪ কোটি ৩৯ লাখ টাকা। একই সঙ্গে শেখ খলিফা ফান্ডের ফাইন্যান্স মার্জিন, মেট্রোপলিটন এন্টারপ্রাইজ এবং শেখ খলিফা বিন জায়েদ আল-নাহিয়ানের নামে দীর্ঘমেয়াদি ১৪২ দশমিক ৮৮ মিলিয়ন বা ৩০৪ কোটি টাকা অবলোপন করা রয়েছে। বিষয়টিকে উদ্বেগজনক হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

কেনা হয়েছিল ছয় ল্যাপটপ, অস্তিত্ব মেলেনি

ইউএইতে জনতা ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের ব্যয় ব্যবস্থাপনাতেও অসংগতি পাওয়া গেছে। বিভিন্ন খাতে অনুমোদিত সর্বোচ্চ ব্যয়সীমার তুলনায় প্রকৃত ব্যয় উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বেশি ছিল।

এর মধ্যে ২০২০ সালের ২৭ মে প্রধান নির্বাহীর কার্যালয়ের জন্য লিবার্টি কম্পিউটার্স এলএলসি থেকে ২১ হাজার ৮৯২ দিরহামে ছয়টি ল্যাপটপ কেনার তথ্য রয়েছে। কিন্তু পরিদর্শনের সময় ওই ল্যাপটপগুলোর কোনো অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি।

এ ছাড়া ইউএইতে জনতা ব্যাংকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে ১২ কর্মকর্তার মধ্যে তিনজন ভারতীয় নাগরিককে অনুমোদন ছাড়াই নিয়োগ দেওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে।

ইতালির অফিস ও রেমিট্যান্স লেনদেনেও প্রশ্ন

জনতা এক্সচেঞ্জ কোম্পানির ইতালির রোমের কার্যক্রমেও অনিয়মের তথ্য উঠে এসেছে। প্রতিষ্ঠানটির প্রধান কার্যালয় ও রোম শাখা আগে একই এলাকায় ছিল। কিন্তু ২০১৭ সালে কোনো বোধগম্য কারণ ছাড়াই দুটি অফিস আলাদা করা হয়।

অন্যদিকে ইতালির জনতা এক্সচেঞ্জ কোম্পানি এসআরএল থেকে পাঠানো বৈদেশিক রেমিট্যান্স জনতা ব্যাংকের দিলকুশা করপোরেট শাখার ‘সান্দ্রি অ্যাকাউন্ট-অ্যাডভান্স পেমেন্ট টু ট্রান্সফার’ খাত থেকে অগ্রিম পরিশোধ করা হয়।

অনিয়মের তালিকায় রেমিট্যান্স থেকে এলসি কমিশন

বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুসন্ধানে জনতা ব্যাংকের অনিয়মের তালিকা শুধু ঋণ বা বিদেশি কার্যক্রমেই সীমাবদ্ধ থাকেনি। রেমিট্যান্সের প্রণোদনা আত্মসাৎ এবং এলসির ভুয়া কমিশনের তথ্যও এসেছে।

এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে কেন্দ্রীয়ভাবে স্বয়ংক্রিয় যন্ত্রের ঝুঁকিপূর্ণ ব্যবহার, বৈদেশিক হিসাবে লেনদেনে সমন্বয়হীনতার মাধ্যমে শত শত কোটি টাকা লোপাট, হলমার্কসহ হাজারো গ্রাহকের অদাবিকৃত বিপুল অর্থ কুক্ষিগত করা এবং গোঁজামিলের মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় অর্থ অপচয়ের ঘটনা।

তদন্তে এসব অনিয়মের সঙ্গে পরিচালনা পর্ষদ, ব্যবস্থাপনা কমিটি এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। অনিয়মের দায় প্রমাণিত হওয়ায় পর্ষদ ভেঙে দেওয়ার মতো কঠোর পদক্ষেপের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

জুনে শুরু তদন্ত, এরপর একাধিক দফায় জবাব চাওয়া

জনতা ব্যাংকের অনিয়ম খতিয়ে দেখতে বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিদর্শন দল গত জুনে তদন্ত শুরু করে। একাধিক দফায় অনুসন্ধানের পর তৈরি করা প্রতিবেদনে অনিয়ম, জালিয়াতি ও দুর্নীতির বিস্তৃত চিত্র উঠে আসে।

প্রতিবেদন নিয়ে জনতা ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ ও ব্যবস্থাপনা কমিটির সঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংক একাধিক বৈঠক করে। সেখানে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ কোনো যৌক্তিক কারণ ও উপযুক্ত জবাব দিতে পারেনি।

এরপর গভর্নর বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে বোর্ডকে ফের জবাব দেওয়ার জন্য ১৫ দিনের সময় বেঁধে দেন। কিন্তু এবারও ব্যাংক কর্তৃপক্ষ সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দিতে ব্যর্থ হয়।

এর পরিপ্রেক্ষিতে অনুসন্ধান দল পরিচালনা পর্ষদ ও ব্যবস্থাপনা কমিটি ভেঙে দেওয়ার সুপারিশ করে। পরে বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট বিভাগের নির্বাহী পরিচালক ও ডেপুটি গভর্নর গত সপ্তাহে জনতা ব্যাংককে যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য চিঠি পাঠান।

তবে গতকাল বুধবার সন্ধ্যা পর্যন্ত ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদ কিংবা ব্যবস্থাপনা কমিটি কোনোটি ভেঙে দেওয়া হয়নি।

এমডি বলছেন, জবাব দেওয়া হয়েছে

জনতা ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মো. মজিবর রহমান ব্যাংকের অদক্ষতা ও ত্রুটির বিষয়টি স্বীকার করেছেন।

আগামীর সময়কে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ ব্যাংকের পদক্ষেপের বিষয়টি সবার জানা। আমরা জবাব দিয়েছি। সংশ্লিষ্ট বিভাগের কর্মকর্তাদের নিয়ে আপত্তির বিষয়গুলো সম্পর্কে আলোচনা হয়েছে। পরে ভালো করে জবাব দেওয়া হবে।’

হলমার্কের অদাবিকৃত অর্থ সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘আর হলমার্কের ৮০ কোটি টাকার মতো অদাবিকৃত অর্থ আদালতে মামলা থাকায় ফেরত দেওয়া যাচ্ছে না। আদালতের আদেশ পেলে তা সমন্বয় করা হবে।’

নস্ট্রো হিসাবের অনিয়ম প্রসঙ্গে এমডি বলেন, ‘আর নস্ট্রো হিসাবে যে অনিয়মের কথা বলা হয়েছে, তা সিস্টেমের ত্রুটির কারণে হয়েছে। এটা সামনে দূর করা হবে। যদিও এভাবে ব্যাংক চালাতে ঝুঁকি থাকে।’

সংযুক্ত আরব আমিরাতে ব্যাংকের মূলধন বাড়ানোর প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘সংযুক্ত আরব আমিরাতে মূলধন বাড়ানো হয়েছে। মাদার ব্যাংক হিসাবে ২ বিলিয়ন দিরহাম সমপরিমাণ অর্থ নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে। তাতে অর্থ মন্ত্রণালয় সম্মতি দিয়েছে। আমরা খেলাপি আদায়ে মনোযোগ দিচ্ছি। এক্সিট পলিসির মাধ্যমে আদায় বাড়ানোর চেষ্টা করছি।’

বাংলাদেশ ব্যাংকের অবস্থান

জনতা ব্যাংকের অনিয়মের বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের অবস্থান তুলে ধরে সংস্থাটির মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান বলেন, ‘বাংলাদেশ ব্যাংক সবসময় অনিয়মের বিপক্ষে। সেটা চব্বিশের গণঅভ্যুত্থান-পূর্ববর্তী কিংবা পরবর্তী হোক। আর বিদেশে অনিয়ম হলে তা তো পার পাবে না। আইন মেনে সব করা হবে। কোনো অপরাধী যেন পার না পায়। অপরাধীর কোনো পরিচয় দেখে না বাংলাদেশ ব্যাংক।’

জনতা ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ ও ব্যবস্থাপনা কমিটি ভেঙে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হলেও গতকাল বুধবার সন্ধ্যা পর্যন্ত তা বাস্তবায়িত হয়নি। তবে বাংলাদেশ ব্যাংকের তদন্তে ব্যাংকটির দেশীয় ও বিদেশি কার্যক্রমে যেসব অনিয়মের তথ্য উঠে এসেছে, সেগুলোর ভিত্তিতেই পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।

তানভির ইসলাম/

পাঠকের মতামত: