ঢাকা, শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

শেখ হাসিনাকে নিয়ে বাংলাদেশ-ভারতকে কী বলল যুক্তরাষ্ট্র

রাজনীতি ডেস্ক . ২৪আপডেটনিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ২৬ ১৮:২৫:১৪
শেখ হাসিনাকে নিয়ে বাংলাদেশ-ভারতকে কী বলল যুক্তরাষ্ট্র

শেখ হাসিনাকে ঘিরে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে যে বৈরিতা তৈরি হয়েছে, তা দুই দেশ নিজেদের মধ্যে আলোচনা করেই কাটিয়ে উঠবে—এমন প্রত্যাশার কথা জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ক্ষমতাচ্যুত বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসানির সঙ্গে কী করা উচিত, সে বিষয়ে ওয়াশিংটনের কোনো নির্দিষ্ট মতামত নেই বলেও স্পষ্ট করেছে মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

নিউইয়র্কে বুধবার অনুষ্ঠিত এক ব্রিফিংয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের এই অবস্থান তুলে ধরেন মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা। সেখানে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি, শেখ হাসিনা এবং বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক নিয়ে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হয়।

‘সমাধানে পৌঁছাবে’ বাংলাদেশ ও ভারত

শেখ হাসিনা ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান জানতে চাইলে মার্কিন কর্মকর্তা জানান, এ বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক অবস্থান নেয়নি ওয়াশিংটন।

তবে তার বক্তব্যে উঠে আসে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার সম্পর্কের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক। তিনি বলেন, শেখ হাসিনার বিষয়টি দুই দেশের মধ্যে বৈরিতার বড় কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ ও ভারত নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে একটি সমাধানে পৌঁছাবে বলে যুক্তরাষ্ট্র আশা করছে।

শেখ হাসিনার ক্ষেত্রে কী ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া উচিত, সে বিষয়েও যুক্তরাষ্ট্র কোনো নির্দিষ্ট অবস্থান জানায়নি বলে জানান ওই কর্মকর্তা।

কোথায় এবং কী প্রেক্ষাপটে এই বক্তব্য

নিউইয়র্কের ফরেন প্রেস সেন্টারে ‘একটি স্থিতিশীল, সমৃদ্ধ ও সার্বভৌম দক্ষিণ এশিয়ার সমর্থনে মার্কিন নীতি’ শিরোনামে ব্রিফিংটি আয়োজন করা হয়।

বাংলাদেশ, ভারত, নেপাল ও শ্রীলঙ্কার সাংবাদিকেরা এতে অংশ নেন। সেখানে বিডিনিউজ টুয়েন্টি ফোরের প্রতিনিধিও উপস্থিত ছিলেন।

এই ধরনের ‘অন-ব্যাকগ্রাউন্ড’ ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকেরা আলোচনায় পাওয়া তথ্য প্রকাশ করতে পারেন। তবে তথ্য প্রদানকারী কর্মকর্তার নির্দিষ্ট পরিচয় প্রকাশ করা যায় না।

২০২৪ সালের আন্দোলনের পর ভারতে শেখ হাসিনা

২০২৪ সালের আন্দোলনের পর ক্ষমতা হারানোর পর থেকে শেখ হাসিনা ভারতে অবস্থান করছেন। এরপর গত নভেম্বরে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল মানবতাবিরোধী অপরাধে তাকে মৃত্যুদণ্ড দেয়।

শেখ হাসিনাকে ঘিরে বাংলাদেশের অবস্থান এবং ভারতে তার অবস্থানের বিষয়টি তাই বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের আলোচনায় উঠে আসে। নিউইয়র্কের ব্রিফিংয়েও এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের দৃষ্টিভঙ্গি জানতে চান সাংবাদিকেরা।

বাংলাদেশের রাজনীতি নিয়ে সরাসরি মন্তব্য এড়াল যুক্তরাষ্ট্র

আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কার্যক্রমের ওপর নিষেধাজ্ঞা নিয়েও মার্কিন কর্মকর্তার কাছে জানতে চাওয়া হয়। জবাবে তিনি বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি নিয়ে কোনো মন্তব্য করতে চাননি।

তবে বাংলাদেশের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক এবং বিএনপির সঙ্গে সম্পর্ককে খুবই ভালো বলে উল্লেখ করেন তিনি। একই সঙ্গে নির্বাচিত সরকারের সঙ্গে কাজ অব্যাহত রাখার ইচ্ছার কথাও জানান।

বাংলাদেশকে আরও শক্তিশালী ও নিরাপদ করার যে কাজ চলছে, তাতে যুক্তরাষ্ট্র পাশে রয়েছে বলেও জানান মার্কিন কর্মকর্তা। তার ভাষ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশকে আরও সমৃদ্ধ করার ক্ষেত্রেও যুক্তরাষ্ট্রের কোনো কার্পণ্য নেই। এ কারণেই বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি নিয়ে মন্তব্য করাকে তিনি সমীচীন মনে করছেন না।

ব্রিফিংয়ের আগে বিথানি মরিসনের বক্তব্য

এই ব্রিফিংয়ের আগে নিউইয়র্ক ফরেন প্রেস সেন্টারে দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক মার্কিন উপসহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী বিথানি মরিসন বক্তব্য দেন।

দক্ষিণ এশিয়ার বর্তমান পরিস্থিতি এবং ট্রাম্প প্রশাসনের নীতির আলোকে তিনি বক্তব্য উপস্থাপন করেন। পরে সাংবাদিকদের সঙ্গে ফটোসেশনেও অংশ নেন তিনি।

তানভির ইসলাম/

পাঠকের মতামত:

আপনার জন্য বাছাই করা কিছু নিউজ