আওয়ামী লীগের রাজনীতি বন্ধের সিদ্ধান্ত কি সরকারই নিতে পারে?
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমেদ ২৬ সেপ্টেম্বর ঢাকার ধোলাইখালে বিএনপির স্থানীয় নেতাকর্মীদের আয়োজিত এক সমাবেশে বলেন, আওয়ামী লীগ ও তার ভাষায় ‘ফ্যাসিস্ট শক্তিকে’ বাংলাদেশে আর রাজনীতি করতে দেওয়া হবে না। তিনি আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে গুম, গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ তুলে সংশ্লিষ্টদের বিচারের কথাও বলেন।
মন্ত্রী যখন বলেন, আওয়ামী লীগকে আর রাজনীতি করতে দেওয়া হবে না, তখন স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন আসে—এ ধরনের সিদ্ধান্ত কি সরকার একাই নিতে পারে, নাকি শেষ পর্যন্ত আদালত ও আইনি প্রক্রিয়াই নির্ধারণ করবে দলটির রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ?
বর্তমান আইনি কাঠামো বলছে, বিষয়টি শুধু একজন মন্ত্রীর বক্তব্য দিয়ে নির্ধারিত হয় না। সরকার আইন অনুযায়ী কোনো রাজনৈতিক দলের কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ করতে পারে, নির্বাচন কমিশনের ওপর তার প্রভাব পড়ে এবং সেই সিদ্ধান্তের বৈধতা আদালতে চ্যালেঞ্জও করা যেতে পারে। আবার কোনো দলকে স্থায়ীভাবে রাজনৈতিকভাবে নিষিদ্ধ করার প্রশ্নে বিচারিক প্রক্রিয়া ও আইনের নির্দিষ্ট বিধান গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।
আওয়ামী লীগের ওপর এখন কী নিষেধাজ্ঞা আছে?
আওয়ামী লীগের ক্ষেত্রে বিষয়টি নতুন করে শুরু হয়নি। ২০২৫ সালের ১২ মে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের এক প্রজ্ঞাপনে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে দলটির নেতাকর্মীদের বিচার শেষ না হওয়া পর্যন্ত আওয়ামী লীগ এবং এর অঙ্গ, সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের সব ধরনের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা হয়।
এই নিষেধাজ্ঞার আওতায় রয়েছে দলীয় প্রকাশনা, গণমাধ্যমে প্রচার, অনলাইন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারণা, মিছিল, সভা, সমাবেশ এবং সম্মেলনের মতো রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড। অর্থাৎ বর্তমানে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ—এটি কেবল রাজনৈতিক বক্তব্য নয়, সরকারি প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে কার্যকর করা একটি সিদ্ধান্ত।
পরে ২০২৬ সালে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের সংশোধনও করা হয়েছে। ২০২৬ সালের ১০ এপ্রিলের সংশোধনী আইনটি সন্ত্রাসবিরোধী আইন, ২০০৯-এর সংশ্লিষ্ট বিধান সংশোধন করে।
তাহলে সরকার কি কোনো রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ করতে পারে?
আইনের বর্তমান কাঠামো অনুযায়ী, সরকারের হাতে রাজনৈতিক দলের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের ক্ষমতার ভিত্তি রয়েছে।
Representation of the People Order, 1972-এর 90H ধারায় বলা হয়েছে, কোনো রাজনৈতিক দল সরকার কর্তৃক নিষিদ্ধ ঘোষিত হলে তার নিবন্ধন বাতিল হতে পারে। একই আইনের 90HH ধারায় বলা হয়েছে, কোনো নিবন্ধিত দলের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড সরকার স্থগিত করলে নির্বাচন কমিশন সেই দলের নিবন্ধন ও সংরক্ষিত প্রতীক স্থগিত রাখতে পারে।
অর্থাৎ বিষয়টি এমন নয় যে ‘সরকারের কোনো ক্ষমতাই নেই, শুধু আদালতই সিদ্ধান্ত নিতে পারে।’ বিদ্যমান আইনে সরকারের নির্বাহী ক্ষমতারও একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।
তবে এখানেই পুরো বিষয়টি শেষ নয়।
স্থায়ীভাবে রাজনীতি বন্ধের সিদ্ধান্ত কি শুধু মন্ত্রীর বক্তব্যেই হয়ে যায়?
না। একজন মন্ত্রীর রাজনৈতিক বক্তব্য এবং আইনগতভাবে কার্যকর নিষেধাজ্ঞা এক বিষয় নয়।
সালাউদ্দিন আহমেদ ২৬ সেপ্টেম্বর যে বক্তব্য দিয়েছেন, সেটি রাজনৈতিক অবস্থান ও সরকারের অবস্থানের ঘোষণা হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু কোনো দলের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ আইনগতভাবে নির্ধারণ করতে হলে সংশ্লিষ্ট আইন, সরকারি আদেশ, নির্বাচন কমিশনের কার্যক্রম এবং প্রয়োজনে আদালতের বিচারিক পর্যালোচনার বিষয় সামনে আসে।
এর একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ হলো—২০২৬ সালের জুলাইয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নিজেই বলেছিলেন, আওয়ামী লীগকে নির্বাহী বা প্রশাসনিক আদেশে রাজনৈতিক দল হিসেবে নিষিদ্ধ করার পক্ষে সরকার নয়; বরং সংশ্লিষ্ট আইনের অধীনে বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দলটির রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নির্ধারণের কথা বলা হয়েছিল।
অর্থাৎ সরকারের বক্তব্যের মধ্যেও ‘রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ’ এবং ‘স্থায়ীভাবে দলটির রাজনৈতিক অস্তিত্ব শেষ’—এই দুই বিষয়ের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে।
সংবিধান কী বলছে?
বাংলাদেশের সংবিধানের ৩৮ অনুচ্ছেদে নাগরিকের সমিতি বা সংগঠন করার অধিকার স্বীকৃত হয়েছে। তবে এই অধিকার নিরঙ্কুশ নয়। আইন দ্বারা নৈতিকতা বা জনশৃঙ্খলার স্বার্থে যুক্তিসংগত বিধিনিষেধ আরোপ করা যেতে পারে। একই অনুচ্ছেদে সন্ত্রাসী বা জঙ্গি কর্মকাণ্ড সংগঠনের উদ্দেশ্যে গঠিত সংগঠন এবং সংবিধানের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ উদ্দেশ্যের সংগঠন নিয়ে সীমাবদ্ধতাও রয়েছে।
তাই কোনো রাজনৈতিক দলকে নিষিদ্ধ করার প্রশ্নে শুধু রাজনৈতিক সিদ্ধান্তই যথেষ্ট নয়; সিদ্ধান্তটি কোন আইনের অধীনে নেওয়া হয়েছে এবং তা সংবিধান ও আইনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না—সেটিও গুরুত্বপূর্ণ।
আদালতের ভূমিকা কোথায়?
সরকার কোনো সিদ্ধান্ত নিলেই সেটি আদালতের পর্যালোচনার বাইরে চলে যায় না। আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ করার ২০২৫ সালের প্রজ্ঞাপনের বৈধতা নিয়েও ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরে হাইকোর্টে রিট হয়েছিল।
৭ সেপ্টেম্বর করা ওই রিটে ১২ মে ২০২৫ সালের সরকারি প্রজ্ঞাপনকে আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণা করার আবেদন জানানো হয় এবং এর কার্যকারিতা স্থগিত চাওয়া হয়। তবে ১৩ সেপ্টেম্বর হাইকোর্ট আবেদনটি যথাযথভাবে উপস্থাপিত না হওয়ায় খারিজ করে দেন।
এখানে একটি বিষয় পরিষ্কার করা জরুরি—ওই রিট খারিজের অর্থ হাইকোর্ট আওয়ামী লীগকে স্থায়ীভাবে নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছেন—এমন নয়। প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, আবেদনটি যথাযথভাবে উপস্থাপিত না হওয়ায় খারিজ করা হয়েছিল।
‘জনগণ সিদ্ধান্ত নেবে’—এ কথার অর্থ কী?
রাজনৈতিক দল নির্বাচনে অংশ নেবে কি না, ভোটাররা কোনো দলকে সমর্থন করবে কি না—গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় এসব ক্ষেত্রে জনগণের ভোট গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু কোনো রাজনৈতিক দল আইনগতভাবে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার অবস্থায় থাকবে কি না, সেটি শুধু ভোটারদের সিদ্ধান্তের বিষয় নয়।
রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন, নির্বাচনে অংশগ্রহণ এবং নিবন্ধন বাতিলের জন্য নির্দিষ্ট আইনি কাঠামো রয়েছে। Representation of the People Order-এর অধীনে রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন বাতিলের বিধান রয়েছে এবং নিবন্ধন বাতিলের আদেশের বিরুদ্ধে হাইকোর্ট বিভাগে আপিলের ব্যবস্থাও আছে।
ফলে জনগণের রাজনৈতিক পছন্দ এবং একটি দলের আইনগতভাবে রাজনীতি করার অধিকার—দুটি আলাদা বিষয়।
আওয়ামী লীগের ক্ষেত্রে এখন পর্যন্ত অবস্থাটা কী?
বর্তমান পরিস্থিতিকে তিনটি স্তরে দেখা যায়—
২০২৬ সালের জুনে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমানও বলেছিলেন, আওয়ামী লীগকে রাজনৈতিক দল হিসেবে নিষিদ্ধ করার বিষয়টি আদালত ও আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের এখতিয়ারের সঙ্গে সম্পর্কিত; বিচার চলাকালে দলটির রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড মাঠপর্যায়ে নিষিদ্ধ থাকবে।
এর আগে ২০২৬ সালের জুলাইয়েও সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নির্বাহী আদেশের পরিবর্তে আইনি ও বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নির্ধারণের কথা।
তাহলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যের আইনি অর্থ কী?
সালাউদ্দিন আহমেদের বক্তব্যকে সবচেয়ে নির্ভুলভাবে বলা যায় সরকারের রাজনৈতিক অবস্থান ও ভবিষ্যৎ নীতির ঘোষণা হিসেবে। কিন্তু এই বক্তব্য নিজে কোনো নতুন আদালতের রায় বা আলাদা করে নতুন নিষেধাজ্ঞার প্রজ্ঞাপন নয়।
বর্তমান আইনে সরকার রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ করার ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারে। একই সঙ্গে সেই সিদ্ধান্তের আইনগত বৈধতা আদালতে প্রশ্নবিদ্ধ হতে পারে এবং রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন সংক্রান্ত বিষয়ে নির্বাচন কমিশনেরও নির্দিষ্ট ভূমিকা রয়েছে।
সুতরাং প্রশ্নটির সরল উত্তর হলো—শুধু জনগণ নয়, শুধু আদালতও নয়; কোন পর্যায়ে কোন সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে তার ওপর কর্তৃপক্ষ নির্ভর করে। রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ করার ক্ষেত্রে সরকারের ক্ষমতা আছে, নির্বাচনী নিবন্ধনের ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা আছে, আর এসব সিদ্ধান্তের বৈধতা ও সাংবিধানিক প্রশ্নের চূড়ান্ত বিচারিক নির্ধারণ আদালতের এখতিয়ারে আসতে পারে।
এ কারণেই ‘আওয়ামী লীগ আর কখনো রাজনীতি করতে পারবে না’—এমন একটি স্থায়ী আইনগত ফলাফলকে শুধু স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যের ভিত্তিতে ইতোমধ্যে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হিসেবে উপস্থাপন করা ঠিক হবে না। বর্তমান বাস্তবতা হলো, দলটির রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ রয়েছে এবং এর দীর্ঘমেয়াদি রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে আইনি ও বিচারিক প্রক্রিয়া গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
FAQ
১. আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড কি বর্তমানে নিষিদ্ধ?
হ্যাঁ। ১২ মে ২০২৫ সালের সরকারি প্রজ্ঞাপনে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে দলটির নেতাকর্মীদের বিচার শেষ না হওয়া পর্যন্ত আওয়ামী লীগ ও সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলোর রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ করা হয়।
২. সরকার কি রাজনৈতিক দলের কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ করতে পারে?
বর্তমান আইনি কাঠামোতে সরকারের এমন ক্ষমতার বিধান রয়েছে। Representation of the People Order অনুযায়ী সরকার কোনো রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ ঘোষণা করলে তার নিবন্ধন বাতিলের বিধানও রয়েছে।
৩. তাহলে আদালতের ভূমিকা কী?
সরকারের সিদ্ধান্তের বৈধতা ও সাংবিধানিক প্রশ্ন আদালতে চ্যালেঞ্জ হতে পারে। আওয়ামী লীগের কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধের সরকারি প্রজ্ঞাপন নিয়েও হাইকোর্টে রিট হয়েছিল, যদিও ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ সেটি যথাযথভাবে উপস্থাপিত না হওয়ায় খারিজ হয়।
৪. জনগণ কি আওয়ামী লীগের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করতে পারবে?
নির্বাচনে জনগণের ভোট রাজনৈতিক দলের জনসমর্থন নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ। তবে কোনো দল আইনগতভাবে নির্বাচনে অংশ নিতে পারবে কি না, সেটি দলীয় নিবন্ধন ও প্রচলিত আইনি কাঠামোর ওপরও নির্ভর করে।
৫. স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য কি আওয়ামী লীগকে স্থায়ীভাবে নিষিদ্ধ করার নতুন আদালতের সিদ্ধান্ত?
না। ২৬ সেপ্টেম্বরের বক্তব্যটি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর রাজনৈতিক অবস্থান প্রকাশ করে। এটিকে আলাদা কোনো নতুন আদালতের রায় হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। বর্তমান নিষেধাজ্ঞা ও দলটির ভবিষ্যৎ নিয়ে সরকারি আদেশ, নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা এবং বিচারিক প্রক্রিয়া—সবগুলো বিষয় আলাদাভাবে বিবেচ্য।
তানভির ইসলাম/
পাঠকের মতামত:
আপনার জন্য বাছাই করা কিছু নিউজ
- বাংলাদেশ বনাম সিঙ্গাপুর ম্যাচ: সরাসরি দেখুন Live
- বাংলাদেশ-সিঙ্গাপুর ম্যাচ কবে, কখন ও কোথায়, লাইভ দেখবেন যেভাবে
- কলা খাওয়ার সঠিক সময় কখন? সকাল নাকি রাত, জানুন
- ৩৫–৪০ হাজারে ২০২৬ সালের সেরা ৫ গেমিং ফোন
- চলছে বাংলাদেশ বনাম সিঙ্গাপুর ম্যাচ: সরাসরি দেখুন Live
- HONOR X9e Pro: ১১,০০০mAh ব্যাটারি ও ১০,০০০ নিটস ডিসপ্লে
- বাংলাদেশ বনাম সিঙ্গাপুর: শেষ হাসি হাসল কোন দল?
- বাংলাদেশ বনাম সিঙ্গাপুর ম্যাচ আজ, সময় ও লাইভ দেখার উপায়
- আজকের টাকার রেট কত: কমেছে ১৯টি দেশের টাকার মান