ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর ২০২৬, ১৬ আশ্বিন ১৪৩৩

Md Razib Ali

Senior Reporter

আর্জেন্টিনা বনাম বলিভিয়া ম্যাচে গোলবন্যা, জিতল কে?

খেলা ডেস্ক . ২৪আপডেটনিউজ
২০২৬ অক্টোবর ০১ ০৭:৫৯:২৭
আর্জেন্টিনা বনাম বলিভিয়া ম্যাচে গোলবন্যা, জিতল কে?

আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচে বলিভিয়ার বিপক্ষে বড় জয় পেয়েছে আর্জেন্টিনা। কর্দোবার মারিও আলবের্তো কেম্পেসে ৪-০ গোলে জিতেছে আলবিসেলেস্তেরা। লাউতারো মার্তিনেজ, নিকো পাজ, কুটি রোমেরো ও হোসে ম্যানুয়েল লোপেজের গোলে ম্যাচে চারবার বলিভিয়ার জালে বল পাঠায় আর্জেন্টিনা।

ম্যাচের ১৯ মিনিটে লাউতারো মার্তিনেজের গোলে এগিয়ে যায় আর্জেন্টিনা। ২৯ মিনিটে নিকো পাজ ব্যবধান দ্বিগুণ করেন। দ্বিতীয়ার্ধের ৫৪ মিনিটে কুটি রোমেরোর হেড থেকে আসে তৃতীয় গোল। এরপর ৮৬ মিনিটে জোসে ম্যানুয়েল লোপেজের গোলে স্কোরলাইন ৪-০ হয়।

৯০ মিনিটের মূল সময় শেষ হওয়ার পর তিন মিনিট অতিরিক্ত সময় যোগ করা হয়। সেই সময়েও আর কোনো গোল হয়নি। ফলে শেষ পর্যন্ত ৪-০ ব্যবধানেই ম্যাচ শেষ করে আর্জেন্টিনা।

শুরু থেকেই আর্জেন্টিনার নিয়ন্ত্রণ

ম্যাচের প্রথম মিনিট থেকেই বল দখলে রেখে আক্রমণ গড়ার চেষ্টা করে আর্জেন্টিনা। শুরুতে বলিভিয়া নিজেদের রক্ষণভাগ সংগঠিত রেখে সেই চাপ সামলানোর চেষ্টা করে এবং আর্জেন্টিনাকে বক্সের কাছাকাছি জায়গা দিতে চায়নি।

তবে সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে আর্জেন্টিনা মাঝমাঠে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ বাড়াতে থাকে। নিকো পাজ ও অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার বলের গতি নিয়ন্ত্রণ করে আক্রমণ তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। ১১ মিনিটের পর আর্জেন্টিনার আক্রমণে আরও গতি দেখা যায়।

১৯ মিনিটে লাউতারোর গোল

আর্জেন্টিনার একের পর এক আক্রমণের ফল আসে ১৯ মিনিটে। লাউতারো মার্তিনেজের গোলে ম্যাচে প্রথমবারের মতো এগিয়ে যায় আর্জেন্টিনা।

গোল পাওয়ার পরও থেমে থাকেনি আলবিসেলেস্তেরা। বরং বল দ্রুত সরিয়ে বলিভিয়ার রক্ষণে নতুন জায়গা তৈরির চেষ্টা চালিয়ে যায় তারা।

২৯ মিনিটে নিকো পাজের দুর্দান্ত ফিনিশ

প্রথম গোলের ১০ মিনিট পরেই ব্যবধান বাড়ায় আর্জেন্টিনা। ২৯ মিনিটে এজেকিয়েল পালাসিওসের কাছ থেকে বল পেয়ে বক্সের ভেতরে ঢোকেন নিকো পাজ। এরপর গোলরক্ষকের ওপর দিয়ে বল তুলে দিয়ে ঠান্ডা মাথায় ফিনিশ করেন তিনি।

পাজের এই গোলেই আর্জেন্টিনার লিড দাঁড়ায় ২-০।

এরপরও আক্রমণ চালিয়ে যায় আর্জেন্টিনা। ৩৪ মিনিটে দুই গোলের ব্যবধান নিয়েও তারা আক্রমণের গতি কমায়নি। বল দ্রুত এক পাশ থেকে অন্য পাশে নিয়ে বলিভিয়ার রক্ষণে ফাঁক খোঁজা হচ্ছিল।

চোট পেয়ে মাঠ ছাড়েন ডি. আরোয়ো

৪০ মিনিটে বলিভিয়ার ডি. আরোয়ো মাঠে পড়ে গেলে তাকে চিকিৎসা দেওয়া হয়। শারীরিক সমস্যার কারণে তিনি আর ম্যাচ চালিয়ে যেতে পারেননি।

৪২ মিনিটে তার পরিবর্তে মাঠে নামেন ভিভিয়ানি। ফলে বলিভিয়াকে বাধ্য হয়েই রক্ষণভাগে পরিবর্তন আনতে হয়।

বিরতির আগে তৃতীয় গোলের সুযোগ নষ্ট

প্রথমার্ধের শেষ দিকে তৃতীয় গোলের সুযোগ পেয়েছিল আর্জেন্টিনা। ৪৪ মিনিটে এজেকিয়েল পালাসিওসের পাসে গোলরক্ষকের মুখোমুখি হয়ে যান হুলিয়ান আলভারেজ।

তবে ফিনিশ করতে কিছুটা সময় নেওয়ায় গোলরক্ষক ও বলিভিয়ার রক্ষণভাগের খেলোয়াড়রা পরিস্থিতি সামলে নেন। ফলে বিরতির আগেই ব্যবধান ৩-০ করতে পারেনি আর্জেন্টিনা।

৪৫ মিনিটের পর তিন মিনিট অতিরিক্ত সময় দেওয়া হয়। শেষ পর্যন্ত প্রথমার্ধে আর্জেন্টিনা ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে থেকেই বিরতিতে যায়।

দ্বিতীয়ার্ধেও একই চিত্র

দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে দুই দলই অপরিবর্তিত একাদশ নিয়ে মাঠে নামে। ৪৬ মিনিটে খেলা শুরু হওয়ার পর আর্জেন্টিনা আবারও বলের নিয়ন্ত্রণ নেয়।

৫১ মিনিটে বল এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে নিয়ে বলিভিয়ার রক্ষণে জায়গা তৈরির চেষ্টা করতে থাকে তারা। তৃতীয় গোলের জন্য চাপ বাড়াতে থাকে আলবিসেলেস্তেরা।

৫৪ মিনিটে কুটি রোমেরোর হেডে ৩-০

আর্জেন্টিনার তৃতীয় গোল আসে ৫৪ মিনিটে। সেট-পিস থেকে আসা বলে বলিভিয়ার রক্ষণভাগের ওপর উঠে শক্তিশালী হেড করেন কুটি রোমেরো। তার হেড সরাসরি জালে গিয়ে ঠেকলে আর্জেন্টিনা ৩-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়।

গোলের পরও আক্রমণ থামায়নি আর্জেন্টিনা।

৫৬ মিনিটে লিওনেল স্কালোনি একসঙ্গে তিনটি পরিবর্তন করেন। ভ্যালেন্তিন বারকো মাঠে আসেন জিয়ানলুকা প্রেস্টিয়ান্নির বদলে। ফ্রাঙ্কো মাস্তানতুওনো নামেন নিকো পাজের পরিবর্তে। আর তৃতীয় গোল করা কুটি রোমেরোর জায়গায় মাঠে প্রবেশ করেন লিওনার্দো বালের্দি।

আরও গোলের সুযোগ তৈরি করে আর্জেন্টিনা

৫৯ মিনিটে ফ্রাঙ্কো মাস্তানতুওনোর কর্নার থেকে লিসান্দ্রো মার্তিনেজ হেডে গোলের চেষ্টা করেন। তবে তার হেড সামান্য ব্যবধানে বাম পাশ দিয়ে বাইরে চলে যায়।

৬৫ মিনিটে আবারও কর্নার থেকে সুযোগ তৈরি হয়। এবার মাস্তানতুওনোর ক্রস থেকে অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার হেড করেন। কিন্তু বল গোলবারের ওপর দিয়ে চলে যায়।

৭০ মিনিটে ম্যাচের শেষ ২০ মিনিটে প্রবেশ করেও আর্জেন্টিনার আক্রমণের গতি কমেনি। তিন গোলের ব্যবধান থাকলেও তারা দ্রুত বল চালিয়ে আরও সুযোগ তৈরির চেষ্টা চালিয়ে যায়।

৭৫ মিনিটে আরও তিন পরিবর্তন

৭৫ মিনিটে স্কালোনি আরও তিনটি পরিবর্তন করেন। আগুস্তিন গিয়াইয়ের জায়গায় মাঠে আসেন সান্তিয়াগো সিমন। অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টারের বদলে নামেন এজেকিয়েল ফার্নান্দেজ। আর লাউতারো মার্তিনেজের জায়গায় মাঠে প্রবেশ করেন জোসে ম্যানুয়েল লোপেজ।

৮০ মিনিটে আর্জেন্টিনা ৩-০ ব্যবধানে এগিয়ে ছিল এবং ম্যাচের নিয়ন্ত্রণও তাদের হাতেই ছিল।

৮৫ মিনিটে বাতিল লোপেজের গোল

ম্যাচের ৮৫ মিনিটে আর্জেন্টিনা চতুর্থ গোল পেয়েছে বলে মনে হয়েছিল। জোসে ম্যানুয়েল লোপেজ বল জালে পাঠিয়ে উদযাপন শুরু করলেও সেই গোল বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি।

সহকারী রেফারি অফসাইডের সংকেত দেওয়ায় গোলটি বাতিল হয়ে যায়।

তবে চতুর্থ গোলের জন্য আর্জেন্টিনাকে আর বেশিক্ষণ অপেক্ষা করতে হয়নি।

৮৬ মিনিটে লোপেজের বৈধ গোল

এর মাত্র এক মিনিট পরই লোপেজ আবার সুযোগ পান এবং এবার গোলটি বৈধ হয়।

তরুণ বোকা জুনিয়র্স খেলোয়াড়ের দারুণ দৌড়ের পর বল এগিয়ে আসে লোপেজের কাছে। কয়েকজন ডিফেন্ডারকে পেছনে ফেলে তৈরি হওয়া আক্রমণ থেকে লোপেজ শক্তিশালী ফিনিশে বল জালে পাঠান।

৮৬ মিনিটের এই গোলে আর্জেন্টিনার লিড বেড়ে দাঁড়ায় ৪-০।

শেষ মুহূর্তে আরও পরিবর্তন

ম্যাচের শেষ দিকে দুই দলই আরও পরিবর্তন আনে। ৮৩ মিনিটে আর্জেন্টিনার হয়ে ভ্যালেন্তিন গোমেজ ও লিওনেল ফ্লোরেস মাঠে নামেন। তারা এক্সেকিয়েল পালাসিওস ও লিসান্দ্রো মার্তিনেজের জায়গা নেন।

বলিভিয়ার হয়ে একই সময়ে মাঠে প্রবেশ করেন দিয়েগো মেদিনা। তিনি রবার্তো ফার্নান্দেজের পরিবর্তে খেলতে নামেন।

৯০ মিনিট শেষে আর্জেন্টিনা ৪-০ এগিয়ে

৯০ মিনিটের নির্ধারিত সময় শেষ হওয়ার পর রেফারি আরও তিন মিনিট যোগ করেন। তবে অতিরিক্ত সময়েও স্কোরে আর কোনো পরিবর্তন হয়নি।

ফলে ম্যাচের শেষ স্কোরলাইন দাঁড়ায় আর্জেন্টিনা ৪-০ বলিভিয়া।

আর্জেন্টিনার হয়ে গোল করেছেন লাউতারো মার্তিনেজ, নিকো পাজ, কুটি রোমেরো ও হোসে ম্যানুয়েল লোপেজ। এর মধ্যে লোপেজের একটি গোল অফসাইডের কারণে বাতিল হওয়ার পর ৮৬ মিনিটে তিনি বৈধভাবে চতুর্থ গোলটি করেন।

ম্যাচের গোলগুলো

১৯ মিনিটে লাউতারো মার্তিনেজের গোলে আর্জেন্টিনা প্রথমবার এগিয়ে যায়। ২৯ মিনিটে নিকো পাজের গোলে ব্যবধান হয় ২-০। দ্বিতীয়ার্ধে ৫৪ মিনিটে কুটি রোমেরো হেডে তৃতীয় গোল করেন। এরপর ৮৬ মিনিটে জোসে ম্যানুয়েল লোপেজের গোলে আর্জেন্টিনার স্কোর দাঁড়ায় ৪-০।

FAQ

প্রশ্ন: আর্জেন্টিনা বনাম বলিভিয়া ম্যাচের ফল কী?

উত্তর: আর্জেন্টিনা ৪-০ গোলে বলিভিয়াকে হারিয়েছে।

প্রশ্ন: আর্জেন্টিনার হয়ে কারা গোল করেছেন?

উত্তর: লাউতারো মার্তিনেজ, নিকো পাজ, কুটি রোমেরো ও হোসে ম্যানুয়েল লোপেজ গোল করেছেন।

প্রশ্ন: হোসে ম্যানুয়েল লোপেজ কখন গোল করেন?

উত্তর: ম্যাচের ৮৬ মিনিটে লোপেজ আর্জেন্টিনার চতুর্থ গোল করেন।

প্রশ্ন: লোপেজের কোনো গোল কি বাতিল হয়েছিল?

উত্তর: হ্যাঁ। ৮৫ মিনিটে অফসাইডের কারণে তার একটি গোল বাতিল হয়। এক মিনিট পর তিনি বৈধভাবে গোল করেন।

প্রশ্ন: ৯০ মিনিটের পর কত সময় যোগ হয়েছিল?

উত্তর: নির্ধারিত ৯০ মিনিটের পর তিন মিনিট অতিরিক্ত সময় যোগ করা হয়।

তানভির ইসলাম/

পাঠকের মতামত:

আপনার জন্য বাছাই করা কিছু নিউজ