ঢাকা, শুক্রবার, ২ অক্টোবর ২০২৬, ১৭ আশ্বিন ১৪৩৩

২০২৬ সালে ৩০ হাজার টাকার মধ্যে সেরা ৫ গেমিং ফোন

তথ্য ও প্রযুক্তি ডেস্ক . ২৪আপডেটনিউজ
২০২৬ অক্টোবর ০২ ২০:৫৩:০৮
২০২৬ সালে ৩০ হাজার টাকার মধ্যে সেরা ৫ গেমিং ফোন

২০২৬ সালে ৩০ হাজার টাকা বাজেটের মধ্যে গেমিং ফোন কিনতে চাইলে শুধু বেশি Hz-এর ডিসপ্লে দেখলেই হবে না। প্রসেসরের শক্তি, GPU, RAM, স্টোরেজের গতি, ব্যাটারি ও দীর্ঘক্ষণ গেম খেলার সময় পারফরম্যান্স ধরে রাখার ক্ষমতাও গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশি বাজারে বর্তমানে এই বাজেটে এমন কয়েকটি ফোন রয়েছে, যেগুলো গেমিংয়ের পাশাপাশি দৈনন্দিন কাজেও ভালো পারফরম্যান্স দিতে পারে।

বর্তমান বাজারদর ও স্পেসিফিকেশন বিবেচনায় Realme P4x, Meizu Lucky 08, Infinix Note Edge, Infinix Hot 60 Pro Plus এবং Redmi Note 17—এই পাঁচটি ফোন ৩০ হাজার টাকার মধ্যে গেমিংয়ের জন্য আলোচনায় রাখার মতো। তবে পাঁচটির গেমিং সক্ষমতা এক নয়; বিশেষ করে চিপসেটের পারফরম্যান্সে যথেষ্ট পার্থক্য রয়েছে।

৩০ হাজার টাকার মধ্যে ৫ ফোন এক নজরে

ফোনচিপসেটডিসপ্লেRAM/স্টোরেজব্যাটারিবাংলাদেশে দাম
Realme P4x Dimensity 7400 Ultra 6.7" 144Hz 6GB/128GB 7000mAh ৳22,700
Meizu Lucky 08 Snapdragon 7s Gen 2 6.78" 144Hz LTPO AMOLED 8GB/256GB 6000mAh ৳22,790 থেকে
Infinix Note Edge Dimensity 7100 6.78" 1.5K AMOLED, 120Hz 8GB/256GB* 6500mAh প্রায় ৳29,699*
Infinix Hot 60 Pro Plus Helio G100 Ultimate* 6.8" 144Hz 8GB/256GB 5160mAh ৳28,499
Redmi Note 17 Snapdragon 6s 4G Gen 2 6.99" AMOLED, 120Hz 6GB/128GB 7700mAh ৳28,990

*বাজারভেদে বা বিক্রেতার তালিকায় স্পেসিফিকেশনে পার্থক্য দেখা যাচ্ছে। Infinix Note Edge-এর ক্ষেত্রে অফিসিয়াল Infinix স্পেসিফিকেশনে Dimensity 7100 উল্লেখ রয়েছে। তাই গেমিং পারফরম্যান্স বিচার করার সময় অফিসিয়াল তথ্যকেই অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।

১. Realme P4x

৩০ হাজার টাকার অনেক নিচে থেকেও Realme P4x-এর সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিক হলো এর Dimensity 7400 Ultra চিপসেট। ফোনটিতে 6.7 ইঞ্চির 144Hz ডিসপ্লে এবং 7000mAh ব্যাটারি রয়েছে। ফলে দীর্ঘ সময় গেম খেলার ক্ষেত্রে বড় ব্যাটারি যেমন সুবিধা দেবে, তেমনি 144Hz রিফ্রেশ রেট দ্রুতগতির গেমে স্ক্রলিং ও অ্যানিমেশনকে মসৃণ রাখতে সাহায্য করতে পারে।

বাংলাদেশে 6GB RAM ও 128GB স্টোরেজের মডেলটির দাম বর্তমানে ৳22,700 এবং তালিকাটি অফিসিয়াল ওয়ারেন্টিসহ স্টক থাকার কথা উল্লেখ করছে। ফোনটিতে 45W চার্জিং ও 5G সংযোগও রয়েছে।

গেমারদের জন্য এখানে মূল আকর্ষণ হলো Dimensity 7400 Ultra + 144Hz ডিসপ্লে + 7000mAh ব্যাটারি—এই তিনটির সমন্বয়।

২. Meizu Lucky 08

Meizu Lucky 08 গেমিংয়ের জন্য আলাদা গেমিং ফোন না হলেও এর হার্ডওয়্যার কনফিগারেশন ৩০ হাজার টাকার মধ্যে যথেষ্ট আকর্ষণীয়। এতে Qualcomm Snapdragon 7s Gen 2 চিপসেট, 6.78 ইঞ্চির 1.5K LTPO AMOLED ডিসপ্লে এবং সর্বোচ্চ 144Hz রিফ্রেশ রেট রয়েছে।

ফোনটির 8GB RAM ও 256GB স্টোরেজ সংস্করণের বাংলাদেশি বাজারদর বর্তমানে প্রায় ৳22,790 থেকে শুরু হচ্ছে। তবে এটি আনঅফিসিয়াল/গ্রে-মার্কেট সেট, তাই কেনার আগে ওয়ারেন্টি ও IMEI বিষয়টি যাচাই করা জরুরি।

Snapdragon 7s Gen 2-এর সঙ্গে 144Hz ডিসপ্লে এবং 6000mAh ব্যাটারি থাকায় যারা গেমিংয়ের পাশাপাশি উজ্জ্বল ও মসৃণ AMOLED ডিসপ্লে চান, তাদের জন্য ফোনটি নজরে রাখার মতো।

৩. Infinix Note Edge

৩০ হাজার টাকার কাছাকাছি বাজেটে Infinix Note Edge আরেকটি উল্লেখযোগ্য মডেল। বাংলাদেশি বাজারে ফোনটির 12GB RAM ও 256GB স্টোরেজের একটি তালিকা প্রায় ৳29,699 দামে দেখা যাচ্ছে।

তবে এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় রয়েছে। কিছু বাংলাদেশি বাজার তালিকায় Note Edge-এর চিপসেট হিসেবে Dimensity 8200 Ultimate উল্লেখ করা হলেও Infinix-এর অফিসিয়াল স্পেসিফিকেশনে MediaTek Dimensity 7100 দেওয়া হয়েছে। একই অফিসিয়াল তথ্য অনুযায়ী ফোনটিতে 6.78 ইঞ্চির 1.5K AMOLED ডিসপ্লে, সর্বোচ্চ 120Hz রিফ্রেশ রেট, 6500mAh ব্যাটারি এবং 45W চার্জিং রয়েছে।

তাই এটিকে শুধুমাত্র অনলাইন বিক্রেতার তালিকায় থাকা 8200 Ultimate চিপের ভিত্তিতে শক্তিশালী গেমিং ফোন হিসেবে বিবেচনা করা ঠিক হবে না। কেনার সময় বক্সের মডেল ও চিপসেটের তথ্য যাচাই করাই নিরাপদ।

৪. Infinix Hot 60 Pro Plus

Infinix Hot 60 Pro Plus-এর 8GB RAM ও 256GB স্টোরেজ সংস্করণের বর্তমান ট্র্যাক করা দাম ৳28,499। এই দামটি অফিসিয়াল বাংলাদেশি স্টক হিসেবে তালিকাভুক্ত এবং Daraz-এ স্টকে থাকার তথ্যও রয়েছে।

ফোনটিতে 6.8 ইঞ্চির 144Hz ডিসপ্লে, 108MP প্রধান ক্যামেরা, 5160mAh ব্যাটারি এবং 45W চার্জিং রয়েছে। তবে গেমিংয়ের ক্ষেত্রে এখানে একটি বিষয় মনে রাখা দরকার—এটি মূলত গেমিং-কেন্দ্রিক ফোন নয় এবং ব্যবহৃত চিপসেটের পারফরম্যান্সও P4x বা উচ্চতর পারফরম্যান্সের ডিভাইসগুলোর সঙ্গে এক করে দেখা উচিত নয়।

অর্থাৎ 144Hz ডিসপ্লে থাকলেও শুধু রিফ্রেশ রেট দেখে ফোনটির গেমিং ক্ষমতা বিচার করা ঠিক হবে না।

৫. Redmi Note 17

Redmi Note 17-এর সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হলো এর 7700mAh ব্যাটারি। Xiaomi-এর অফিসিয়াল তথ্য অনুযায়ী ফোনটিতে 6.99 ইঞ্চির FHD+ AMOLED ডিসপ্লে, সর্বোচ্চ 120Hz রিফ্রেশ রেট, 240Hz টাচ স্যাম্পলিং এবং 45W চার্জিং রয়েছে।

বাংলাদেশি বাজারে 6GB/128GB সংস্করণটির দাম বর্তমানে প্রায় ৳28,990 বলে তালিকাভুক্ত হয়েছে। তবে গেমিংয়ের ক্ষেত্রে এটি মূলত ব্যাটারি ও ডিসপ্লে-কেন্দ্রিক বাজেট ফোন; Snapdragon 6s 4G Gen 2 চিপসেটের কারণে এটিকে উচ্চ-ক্ষমতার গেমিং ফোন হিসেবে বিবেচনা করা উচিত নয়।

তবে যারা দীর্ঘ সময় গেম খেলেন এবং গেমিংয়ের পাশাপাশি বড় AMOLED ডিসপ্লে ও দীর্ঘ ব্যাটারি ব্যাকআপ চান, তাদের জন্য এটি বিবেচনার তালিকায় থাকতে পারে।

৩০ হাজার টাকায় ফোন কিনতে গেলে শুধু 120Hz বা 144Hz দেখবেন না

গেমিং ফোন বাছাইয়ের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি ভুল হয় ডিসপ্লের রিফ্রেশ রেট দেখে। 144Hz স্ক্রিন থাকলেই যে ফোনটি সব গেমে উচ্চ FPS দিতে পারবে, এমন নয়। গেমের FPS মূলত প্রসেসর ও GPU, সফটওয়্যার অপ্টিমাইজেশন, তাপ নিয়ন্ত্রণ এবং গেমটির নিজস্ব সাপোর্টের ওপর নির্ভর করে।

এই কারণে Realme P4x-এর মতো ফোনে Dimensity 7400 Ultra চিপসেটের সঙ্গে 144Hz ডিসপ্লে থাকা গুরুত্বপূর্ণ। আবার Meizu Lucky 08-এ Snapdragon 7s Gen 2-এর সঙ্গে 144Hz LTPO AMOLED রয়েছে। অন্যদিকে Redmi Note 17-এর 120Hz স্ক্রিন মসৃণ হলেও এর Snapdragon 6s 4G Gen 2 তুলনামূলকভাবে কম পারফরম্যান্স-কেন্দ্রিক।

৩০ হাজার টাকার মধ্যে কোন ফোন কার জন্য?

পারফরম্যান্স ও ব্যাটারির ভারসাম্য চাইলে: Realme P4x-এর Dimensity 7400 Ultra, 144Hz ডিসপ্লে ও 7000mAh ব্যাটারি নজরে রাখার মতো।

AMOLED ডিসপ্লে ও গেমিং একসঙ্গে চাইলে: Meizu Lucky 08-এর 1.5K 144Hz LTPO AMOLED এবং Snapdragon 7s Gen 2 উল্লেখযোগ্য।

বড় ব্যাটারি অগ্রাধিকার হলে: Redmi Note 17-এর 7700mAh ব্যাটারি এই তালিকায় আলাদা করে নজর কাড়ে।

বড় 144Hz ডিসপ্লে ও ক্যামেরা-ফিচারও চাইলে: Infinix Hot 60 Pro Plus একটি বিকল্প হতে পারে, যদিও এর গেমিং পারফরম্যান্সকে শুধুমাত্র 144Hz স্ক্রিনের ভিত্তিতে বিচার করা উচিত নয়।

কেনার আগে যে বিষয়গুলো অবশ্যই যাচাই করবেন

৩০ হাজার টাকার মধ্যে ফোন কেনার সময় একই মডেলের অফিসিয়াল ও আনঅফিসিয়াল দামে বড় পার্থক্য থাকতে পারে। Meizu Lucky 08-এর ক্ষেত্রে বর্তমানে ট্র্যাক করা দামটি আনঅফিসিয়াল, যেখানে Realme P4x-এর তালিকাভুক্ত দাম অফিসিয়াল ওয়ারেন্টিসহ।

তাই শুধু কম দাম দেখে ফোন কেনার বদলে ওয়ারেন্টি, BTRC-রেজিস্টার্ড IMEI, RAM/স্টোরেজ ভ্যারিয়েন্ট এবং চিপসেটের সঠিক তথ্য যাচাই করা জরুরি। বিশেষ করে অনলাইন মার্কেটপ্লেসে একই মডেলের একাধিক কনফিগারেশন থাকতে পারে।

আরেকটি বিষয় হলো, গেমিংয়ের সময় ফোন গরম হয়ে গেলে দীর্ঘ সেশনে পারফরম্যান্স কমে যেতে পারে। তাই প্রসেসরের পাশাপাশি ফোনের কুলিং ব্যবস্থা, গেম মোড, টাচ রেসপন্স ও সফটওয়্যার অপ্টিমাইজেশনও বিবেচনা করা উচিত।

৩০ হাজার টাকার বাজেটে ২০২৬ সালে গেমিং ফোনের বাজার আগের তুলনায় বেশ বৈচিত্র্যময়। তবে এই তালিকার ফোনগুলোকে একই ধরনের গেমিং পারফরম্যান্সের ডিভাইস হিসেবে দেখা ঠিক হবে না। Realme P4x ও Meizu Lucky 08-এর মতো মডেল পারফরম্যান্স-কেন্দ্রিক হার্ডওয়্যারের কারণে আলাদা গুরুত্ব পায়, আর Redmi Note 17-এর মতো ফোনের বড় আকর্ষণ ব্যাটারি ও ডিসপ্লে। অন্যদিকে Infinix-এর মডেলগুলোতে দাম, ডিসপ্লে ও অন্যান্য ফিচারের সমন্বয় রয়েছে।

বাজারদর দ্রুত পরিবর্তিত হতে পারে। বিশেষ করে আনঅফিসিয়াল সেটের ক্ষেত্রে দোকান, ভ্যারিয়েন্ট ও স্টকের ওপর দাম বদলাতে পারে। তাই কেনার আগে সর্বশেষ দাম এবং ওয়ারেন্টি যাচাই করা উচিত।

FAQ

প্রশ্ন: ৩০ হাজার টাকার মধ্যে গেমিং ফোন কেনার সময় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় কী?

উত্তর: প্রসেসর ও GPU সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। এর পাশাপাশি ডিসপ্লের রিফ্রেশ রেট, RAM, স্টোরেজের গতি, ব্যাটারি, চার্জিং ও তাপ নিয়ন্ত্রণও বিবেচনা করা উচিত।

প্রশ্ন: 144Hz ডিসপ্লে থাকলেই কি ফোনটি ভালো গেমিং ফোন?

উত্তর: না। 144Hz ডিসপ্লে গেমিংকে মসৃণ করতে সাহায্য করতে পারে, কিন্তু গেমে কত FPS পাওয়া যাবে তা প্রসেসর, GPU, সফটওয়্যার অপ্টিমাইজেশন এবং গেমের সাপোর্টের ওপরও নির্ভর করে।

প্রশ্ন: Realme P4x-এ কোন প্রসেসর রয়েছে?

উত্তর: Realme P4x-এ MediaTek Dimensity 7400 Ultra চিপসেট রয়েছে। ফোনটির 6.7 ইঞ্চির 144Hz ডিসপ্লে ও 7000mAh ব্যাটারিও রয়েছে।

প্রশ্ন: Meizu Lucky 08 কি গেমিংয়ের জন্য ব্যবহার করা যায়?

উত্তর: হ্যাঁ। এতে Snapdragon 7s Gen 2, 144Hz LTPO AMOLED ডিসপ্লে এবং 6000mAh ব্যাটারি রয়েছে। তবে বাংলাদেশে বর্তমানে ট্র্যাক করা দামটি আনঅফিসিয়াল সেটের।

প্রশ্ন: Redmi Note 17-এর সবচেয়ে বড় সুবিধা কী?

উত্তর: এর 7700mAh ব্যাটারি এবং 6.99 ইঞ্চির 120Hz AMOLED ডিসপ্লে অন্যতম প্রধান আকর্ষণ। তবে Snapdragon 6s 4G Gen 2 চিপসেটের কারণে এটিকে মূলত ব্যাটারি-কেন্দ্রিক বাজেট ফোন হিসেবেই দেখা বেশি যুক্তিযুক্ত।

তানভির ইসলাম/

পাঠকের মতামত:

আপনার জন্য বাছাই করা কিছু নিউজ