আখতারুজ্জামান গ্রেপ্তার, ‘ঠুনকো অজুহাত’ বলছে জামায়াত
বিমানবন্দরে ওমরাহ যাত্রীদের জমজমের পানি পেতে বিলম্বকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া উত্তেজনার জেরে জামায়াত নেতা মোহাম্মদ আখতারুজ্জামান রঞ্জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। শুক্রবার সন্ধ্যায় ঢাকার ক্যান্টনমেন্ট এলাকার বাসা থেকে তাকে আটক করা হয়। এর আগে তার বিরুদ্ধে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালককে হুমকি এবং এক নিরাপত্তা সুপারভাইজারকে মারধরের অভিযোগে মামলা হয়। তবে জামায়াতে ইসলামী বলছে, ‘ঠুনকো অজুহাতে’ মামলার মাধ্যমে তাকে দ্রুত গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
আখতারুজ্জামানের বিরুদ্ধে মামলা ও গ্রেপ্তারের ঘটনায় দলটির পক্ষ থেকে প্রতিবাদ জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে বিমানবন্দরে যাত্রীদের ভোগান্তির বিষয়টি তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিও উঠেছে।
যে ঘটনাকে ঘিরে উত্তেজনা
ঘটনার সূত্রপাত বৃহস্পতিবার সকালে। মদিনা থেকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে দেশে ফেরেন ওমরাহ যাত্রীরা। তাদের জমজমের পানি সরবরাহে দেরি হওয়াকে কেন্দ্র করে বিমানবন্দরে আখতারুজ্জামানের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের কথা কাটাকাটি হয়।
পরে ওই ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওতে বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালককে উদ্দেশ করে আখতারুজ্জামানকে বলতে দেখা যায়, “ঘাড় ধরে বের করে দেব, ঘাড় ধরে বের করে দেব। আপনারা কাজ করেন না, কিছু করেন না, তদবির করে পোস্ট নেন। মাইর খাইতে চান?”
এই ঘটনার পর আখতারুজ্জামানের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়। শুক্রবার ভোররাত সোয়া ৩টার দিকে বিমানবন্দর থানায় মামলাটি করেন বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) নিরাপত্তা কর্মকর্তা শাহরিয়ার আলম সজিব।
মামলায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালককে হুমকি দেওয়ার পাশাপাশি নিরাপত্তা সুপারভাইজারকে মারধরের অভিযোগ আনা হয়। মামলা হওয়ার ১৫ ঘণ্টা পর শুক্রবার সন্ধ্যায় ক্যান্টনমেন্ট এলাকার বাসা থেকে আখতারুজ্জামানকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারকে যেভাবে দেখছে জামায়াত
গ্রেপ্তারের পর জামায়াতে ইসলামী ঘটনাটির প্রতিবাদ জানায়। দলটির নির্বাহী পরিষদের সদস্য ও ঢাকা উত্তরের আমির মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন এক বিবৃতিতে বলেন, একজন খ্যাতিমান বীর মুক্তিযোদ্ধার বিরুদ্ধে সামান্য ও ঠুনকো অজুহাতে মামলা করা এবং এরপর দ্রুত তাকে আটক করা উদ্বেগজনক ও অশুভ লক্ষণ।
জামায়াতের বিবৃতিতে বিমানবন্দর ব্যবস্থাপনা নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে। দলটির ভাষ্য, বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের অব্যবস্থাপনার কারণে ভিআইপি ও সংসদ সদস্যদের দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়েছে এবং তারাও ভোগান্তিতে পড়েছেন।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, আখতারুজ্জামান একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা ও প্রবীণ পার্লামেন্টারিয়ান। দেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে তার অসামান্য অবদানের কথা উল্লেখ করে জামায়াতের দাবি, বিমানবন্দরে দায়িত্ব পালনে অবহেলার বিরুদ্ধে কথা বলার কারণেই তার ওপর ক্ষুব্ধ হয়ে মামলা দেওয়া হয়েছে।
দলটির পক্ষ থেকে আরও বলা হয়েছে, “যিনি যুদ্ধ না করলে দেশ স্বাধীন হত না, সেই বীর মুক্তিযোদ্ধাকে সামান্য কথা কাটাকাটির ঘটনায় কোনো দায়িত্বশীল সংস্থার পক্ষ থেকে দুঃখ প্রকাশ না করে উল্টো মামলা দেওয়া এবং তড়িঘড়ি করে তাকে আটকের ঘটনা কোনোভাবেই দায়িত্বশীল আচরণ হতে পারে না। এমন ঠুনকো অজুহাতে মামলা করে আটকের ঘটনার সংস্কৃতি দেশের জন্য কোনো ভালো লক্ষণ নয়।”
এই বিবৃতিতে অবিলম্বে মামলা প্রত্যাহার করে আখতারুজ্জামানকে ছেড়ে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন।
নিরপেক্ষ তদন্ত চাইলেন মিয়া গোলাম পরওয়ার
আখতারুজ্জামানের বিরুদ্ধে করা মামলা ও তার গ্রেপ্তারের প্রতিবাদ জানিয়েছেন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ারও।
তিনি বলেন, শাহজালাল বিমানবন্দরে বীর মুক্তিযোদ্ধা আখতারুজ্জামানসহ বহু যাত্রী যে ভোগান্তির মধ্যে পড়েছেন, তার নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন। একই সঙ্গে যাত্রী হয়রানি ও অব্যবস্থাপনার পেছনে দায়ী ব্যক্তিদের শনাক্ত করে তাদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।
তার বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “বীর মুক্তিযোদ্ধা আক্তারুজ্জামানসহ বহু যাত্রী (শাহজালাল বিমানবন্দরে) যে ধরনের ভোগান্তির শিকার হয়েছেন, তার নিরপেক্ষ তদন্ত করতে হবে। একইসঙ্গে যাত্রী হয়রানি ও অব্যবস্থাপনার জন্য দায়ী ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।”
গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে মিছিল
আখতারুজ্জামানের বিরুদ্ধে মামলা হওয়ার পর বিষয়টি নিয়ে মাঠেও কর্মসূচি পালন করে জামায়াত। শুক্রবার বিকালে মহানগর উত্তর জামায়াতের নেতাকর্মীরা বিক্ষোভ মিছিল বের করেন।
উত্তরার জসিম উদ্দিন সড়ক থেকে মিছিলটি শুরু হয়। কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও মহানগরীর সহকারী সেক্রেটারি ইয়াসিন আরাফাতের নেতৃত্বে নেতাকর্মীরা মিছিল নিয়ে বিমানবন্দর সড়কে যান। সেখানে তারা সমাবেশ করেন।
মিছিল ও সমাবেশ থেকে আখতারুজ্জামানের বিরুদ্ধে করা মামলা প্রত্যাহার এবং তাকে মুক্তি দেওয়ার দাবি জানানো হয়।
FAQ
১. আখতারুজ্জামান রঞ্জনকে কখন গ্রেপ্তার করা হয়?
শুক্রবার সন্ধ্যায় ঢাকার ক্যান্টনমেন্ট এলাকার বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
২. তার বিরুদ্ধে কী অভিযোগে মামলা হয়েছে?
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালককে হুমকি এবং নিরাপত্তা সুপারভাইজারকে মারধরের অভিযোগে মামলা করা হয়েছে।
৩. মামলাটি কখন করা হয়?
শুক্রবার ভোররাত সোয়া ৩টার দিকে বিমানবন্দর থানায় মামলাটি করেন বেবিচকের নিরাপত্তা কর্মকর্তা শাহরিয়ার আলম সজিব।
৪. জামায়াত আখতারুজ্জামানের গ্রেপ্তার নিয়ে কী বলেছে?
দলটি দাবি করেছে, ‘ঠুনকো অজুহাতে’ তাকে মামলায় জড়িয়ে দ্রুত গ্রেপ্তার করা হয়েছে। একই সঙ্গে মামলা প্রত্যাহার করে তাকে ছেড়ে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।
৫. গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে জামায়াত কী করেছে?
শুক্রবার বিকালে মহানগর উত্তর জামায়াত বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে। মিছিলটি উত্তরার জসিম উদ্দিন সড়ক থেকে বের হয়ে বিমানবন্দর সড়কে গিয়ে সমাবেশে মিলিত হয়।
আল-মামুন/
পাঠকের মতামত:
আপনার জন্য বাছাই করা কিছু নিউজ
- আর্জেন্টিনা বনাম বলিভিয়া ম্যাচ: সরাসরি দেখুন Live
- বাংলাদেশ বনাম ইন্দোনেশিয়া: ১১ গোলের ম্যাচ শেষ, জানুন ফলাফল
- আজকের টাকার রেট কত: বেড়েছে ৮টি দেশের টাকার মান
- চলছে বাংলাদেশ বনাম ইন্দোনেশিয়া ম্যাচ: সরাসরি দেখুন Live
- চলছে আর্জেন্টিনা বনাম বলিভিয়া ম্যাচ: সরাসরি দেখুন Live
- বাংলাদেশ বনাম ইন্দোনেশিয়া ম্যাচ আজ, লাইভ দেখার উপায় ও সময়সূচি
- বাংলাদেশ বনাম ইন্দোনেশিয়া ম্যাচ: ৯০ মিনিটের খেলা শেষ, জানুন ফলাফল
- বাংলাদেশ বনাম ইন্দোনেশিয়া ম্যাচ: সরাসরি দেখুন LIVE
- বাংলাদেশ-ইন্দোনেশিয়া ম্যাচ আজ, কখন ও কোথায় দেখবেন লাইভ
- বাংলাদেশ বনাম ইন্দোনেশিয়া ম্যাচ আজ, লাইভ দেখার সহজ উপায়