ঢাকা, শনিবার, ৩ অক্টোবর ২০২৬, ১৮ আশ্বিন ১৪৩৩

পাসপোর্ট নেই, দেশে ফেরা নিয়ে যা বললেন শেখ হাসিনা

রাজনীতি ডেস্ক . ২৪আপডেটনিউজ
২০২৬ অক্টোবর ০৩ ১৫:১৫:৩২
পাসপোর্ট নেই, দেশে ফেরা নিয়ে যা বললেন শেখ হাসিনা

লন্ডনের এক সেমিনারে বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বক্তব্যে উঠে এসেছে দেশে ফেরার বিষয়টি। দেশে ফেরার পথে পাসপোর্ট না থাকা থেকে শুরু করে সম্ভাব্য আইনি প্রক্রিয়া, ভারতের রাজনৈতিক আশ্রয় এবং আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকা—বিভিন্ন প্রশ্নে নিজের অবস্থান তুলে ধরেছেন তিনি। একই সঙ্গে দেশের গণতন্ত্র, মানবাধিকার, মত প্রকাশের স্বাধীনতা ও সংখ্যালঘুদের অধিকার নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক মহলের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন শেখ হাসিনা।

সেমিনারে সাংবাদিকদের একাধিক প্রশ্নের মধ্যে বিশেষ গুরুত্ব পায় তার দেশে ফেরার পরিকল্পনা। জানতে চাওয়া হয়, কীভাবে এবং কোন রোডম্যাপে তিনি বাংলাদেশে ফিরতে চান। জবাবে নিজের দীর্ঘ জীবনের কথা উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, “আমি দীর্ঘ জীবন পেয়েছি, দীর্ঘদিন বেঁচেছি। এখন দেশের মানুষের জন্য জীবন উৎসর্গ করতে চাই।”

তার এই বক্তব্যে দেশে ফেরার বিষয়ে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করার পাশাপাশি ঝুঁকির বিষয়টিও সামনে আসে। ফাঁসি বা অন্য কোনো ধরনের ঝুঁকি থাকলেও দেশের মানুষের জন্য কাজ করার প্রত্যয় থেকে তিনি সরে আসতে চান না—এমন বার্তাই তার বক্তব্যে প্রতিফলিত হয়েছে।

ফেরার পথে বড় প্রশ্ন পাসপোর্ট নিয়ে

দেশে ফেরার প্রক্রিয়া নিয়ে কথা বলতে গিয়ে শেখ হাসিনা জানান, বর্তমানে তার হাতে কোনো বৈধ পাসপোর্ট নেই। তার বক্তব্য অনুযায়ী, সরকার সেটি বাতিল করেছে।

তবে পাসপোর্ট না থাকার বিষয়টিকে দেশে ফেরার উদ্যোগের শেষ বাধা হিসেবে দেখছেন না তিনি। প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, কোন পদ্ধতিতে দেশে ফিরবেন এবং সেই প্রক্রিয়া কবে নাগাদ এগোবে, তা পরে বিস্তারিত জানাবেন।

অর্থাৎ, দেশে ফেরার সিদ্ধান্তের কথা জানালেও এর নির্দিষ্ট সময়সূচি বা পূর্ণাঙ্গ প্রক্রিয়া তিনি এই আলোচনায় প্রকাশ করেননি।

ভারতের রাজনৈতিক আশ্রয় নিয়েও আলোচনা

শেখ হাসিনা বর্তমানে ভারতে অবস্থান করছেন। তার রাজনৈতিক আশ্রয়ের বিষয়টিও লন্ডনের সেমিনারে আলোচনায় আসে।

আলোচনায় বলা হয়েছে, ভারত যদি শেখ হাসিনার রাজনৈতিক আশ্রয় বাতিল করে, তখন বন্দি বিনিময় চুক্তি কার্যকর হওয়ার বিষয়টি সামনে আসবে। সেই পরিস্থিতিতে আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তাকে বাংলাদেশে ফেরত দেওয়ার বাধ্যবাধকতা তৈরি হবে বলে সেখানে উল্লেখ করা হয়।

দেশে ফেরার সম্ভাব্য প্রক্রিয়ার সঙ্গে ভারতের অবস্থান এবং বন্দি বিনিময় চুক্তির বিষয়টি এভাবেই আলোচনার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে ওঠে।

আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী নিয়ে ভিন্ন বার্তা

সেমিনারে দেশের আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর দায়িত্ব নিয়েও নিজের বক্তব্য তুলে ধরেন শেখ হাসিনা। তার মতে, বাহিনীগুলোর দায়িত্ব রাজনৈতিক ক্ষমতার সঙ্গে যুক্ত না হয়ে সংবিধান ও দেশের মানুষের প্রতি দায়িত্ব পালনের মধ্যেই থাকা উচিত।

তিনি বলেন, “যারা সাময়িকভাবে ক্ষমতায় আছে, তাদের রাজনৈতিক স্বার্থে কাজ করা আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর দায়িত্ব নয়।”

তার বক্তব্যে সংবিধান অনুযায়ী মানুষের সেবা করার বিষয়টিকেই আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর মূল দায়িত্ব হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।

আন্তর্জাতিক মহলের প্রতি কী আহ্বান

বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পরিস্থিতির পাশাপাশি আন্তর্জাতিক ভূমিকার বিষয়টিও আলোচনায় আনেন শেখ হাসিনা।

গণতন্ত্র, মানবাধিকার, মত প্রকাশের স্বাধীনতা এবং সংখ্যালঘুদের অধিকার নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক মহলকে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

তবে একই সঙ্গে রাষ্ট্র পরিচালনা কিংবা সরকারের কার্যক্রমে বিদেশি হস্তক্ষেপের বিরোধিতা করেছেন শেখ হাসিনা। বাংলাদেশের এসব বিষয়ে আন্তর্জাতিক মহলের নজর থাকলেও দেশের সরকার বা রাষ্ট্র পরিচালনায় বিদেশি হস্তক্ষেপ তিনি গ্রহণ করবেন না বলে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন।

দেশে ফেরার বিষয়ে আপাতত যা জানা গেল

লন্ডনের সেমিনারে শেখ হাসিনার বক্তব্য থেকে দেশে ফেরার বিষয়ে কয়েকটি বিষয় সামনে এসেছে। তিনি দেশে ফেরার ইচ্ছা পুনরায় জানিয়েছেন। একই সঙ্গে জানিয়েছেন, বর্তমানে তার কোনো বৈধ পাসপোর্ট নেই এবং দেশে ফেরার জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার কথাও।

তবে সেই উদ্যোগের সুনির্দিষ্ট পদ্ধতি ও সময় এখনো তিনি জানাননি। এ বিষয়ে পরে বিস্তারিত বলার কথা জানিয়েছেন তিনি।

সব মিলিয়ে লন্ডনের সেমিনারে শেখ হাসিনার বক্তব্যে একদিকে যেমন দেশে ফেরার প্রত্যয়ের বিষয়টি এসেছে, অন্যদিকে উঠে এসেছে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর দায়িত্ব, ভারতের রাজনৈতিক আশ্রয়, বন্দি বিনিময় চুক্তি এবং বাংলাদেশের গণতন্ত্র ও মানবাধিকারের প্রসঙ্গ। ফলে তার বক্তব্যকে ঘিরে দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে।

তানভির ইসলাম/

পাঠকের মতামত:

আপনার জন্য বাছাই করা কিছু নিউজ