ঢাকা, সোমবার, ৫ অক্টোবর ২০২৬, ২০ আশ্বিন ১৪৩৩

ইতালির ২০২৭ কর্মী নিয়োগ: কবে আবেদন, কারা পাবেন সুযোগ

প্রবাসী ডেস্ক . ২৪আপডেটনিউজ
২০২৬ অক্টোবর ০৫ ১২:১৮:৩১
ইতালির ২০২৭ কর্মী নিয়োগ: কবে আবেদন, কারা পাবেন সুযোগ

ইতালিতে যেতে আগ্রহী বিদেশি কর্মীদের জন্য ২০২৭ সালেও বড় পরিসরে কাজের সুযোগ থাকছে। দেশটির নির্ধারিত অভিবাসন কর্মসূচির আওতায় আগামী বছর ১ লাখ ৬৫ হাজার ৮৫০ জন বিদেশি কর্মী নেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে। এর মধ্যে কৃষি, পর্যটন, পরিবারভিত্তিক পরিচর্যা ও অন্যান্য অমৌসুমি কাজের পাশাপাশি স্বনিয়োজিত কর্মসংস্থানের সুযোগও রাখা হয়েছে। এই কোটার আওতাভুক্ত দেশগুলোর তালিকায় রয়েছে বাংলাদেশ।

তবে ইতালিতে কাজের এই সুযোগের ক্ষেত্রে একটি বিষয় শুরুতেই পরিষ্কার থাকা জরুরি। বিদেশি কর্মী সাধারণত নিজের পক্ষ থেকে সরাসরি কোটার জন্য আবেদন করেন না। ইতালিতে থাকা নিয়োগকর্তা বা অনুমোদিত প্রতিনিধি সংশ্লিষ্ট কর্মীর জন্য প্রয়োজনীয় অনুমোদনের আবেদন করেন। এরপর অনুমোদন পাওয়া গেলে নিজ দেশ থেকে ভিসার প্রক্রিয়ায় যেতে হয়।

২০২৭ সালের কোটা কীভাবে ভাগ করা হয়েছে

ইতালির ২০২৬-২০২৮ মেয়াদের ‘ডিক্রেতো ফ্লুসি’ কর্মসূচির আওতায় তিন ধরনের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে—মৌসুমি, অমৌসুমি এবং স্বনিয়োজিত কাজ।

২০২৭ সালের জন্য নির্ধারিত ১ লাখ ৬৫ হাজার ৮৫০ জনের মধ্যে অমৌসুমি চাকরির জন্য রয়েছে ৭৬ হাজার ২০০টি সুযোগ। কৃষি ও পর্যটন খাতের মৌসুমি কাজের জন্য নির্ধারিত হয়েছে ৮৯ হাজার কোটা। আর স্বনিয়োজিত কাজের ক্ষেত্রে রাখা হয়েছে ৬৫০টি স্থান।

অমৌসুমি কাজের নির্ধারিত কোটার মধ্যেই পরিবারভিত্তিক পরিচর্যা বা কেয়ারগিভিং খাতের জন্য রাখা হয়েছে ১৪ হাজার স্থান।

কোন খাতে কবে আবেদন শুরু

২০২৭ সালের নিয়োগ প্রক্রিয়ায় সব খাতের জন্য একই দিনে আবেদন করার সুযোগ নেই। কাজের ধরন অনুযায়ী আলাদা ‘ক্লিক ডে’ নির্ধারণ করা হয়েছে।

কৃষি খাতের মৌসুমি কর্মী: ১২ জানুয়ারি ২০২৭

পর্যটন খাতের মৌসুমি কর্মী: ৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৭

অমৌসুমি কাজ: ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৭

পরিবারভিত্তিক পরিচর্যা: ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৭

প্রতিটি ক্ষেত্রেই আবেদন গ্রহণ শুরু হবে ইতালির স্থানীয় সময় সকাল ৯টায়। নির্ধারিত কোটায় জায়গা অবশিষ্ট থাকলে আবেদন করার সুযোগ ৩১ ডিসেম্বর ২০২৭ পর্যন্ত থাকবে।

আবেদন শুরুর আগেই যে কাজটি করতে হবে

ক্লিক ডের আগে আবেদনপত্র প্রস্তুত করার জন্য ‘প্রিকম্পাইলেশন’ পর্ব রাখা হয়েছে। এই ধাপ শুরু হবে ২৩ অক্টোবর ২০২৬ সকাল ৯টায়। আবেদনপত্র প্রাক-পূরণের সময়সীমা থাকবে ৭ ডিসেম্বর ২০২৬ রাত ৮টা পর্যন্ত।

এই কাজের জন্য ব্যবহার করতে হবে ইতালির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের Portale Servizi ALI প্ল্যাটফর্ম।

তবে আবেদনপত্রের এই ধাপটি নিয়ে বিদেশি কর্মীদের একটি বিষয় মনে রাখা প্রয়োজন—কোটায় কর্মী নেওয়ার মূল আবেদনটি নিয়োগকর্তা বা অনুমোদিত প্রতিনিধির মাধ্যমে এগোয়।

বাংলাদেশসহ যেসব দেশের নাগরিকদের সুযোগ

ইতালির সরকারি তালিকায় বাংলাদেশের নাম রয়েছে। একই সঙ্গে ভারত, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা, ফিলিপাইন, নেপাল-সংলগ্ন বিভিন্ন শ্রমবাজারের দেশ এবং আফ্রিকার বেশ কয়েকটি দেশের নাগরিকদের জন্যও এই কর্মী কোটায় সুযোগ রাখা হয়েছে।

অর্থাৎ বাংলাদেশি কর্মীরাও ২০২৭ সালের নির্ধারিত কোটার আওতায় আসতে পারেন, যদি সংশ্লিষ্ট নিয়োগ ও সরকারি প্রক্রিয়ার শর্ত পূরণ হয়।

কোটার আবেদন থেকে ভিসা—প্রক্রিয়াটি কী

ইতালিতে থাকা কোনো নিয়োগকর্তা কিংবা অনুমোদিত প্রতিনিধি প্রথমে সংশ্লিষ্ট বিদেশি কর্মীর জন্য চাকরির অনুমোদন বা nulla osta চেয়ে আবেদন করেন।

এই অনুমোদন পাওয়ার পর কর্মীর পরবর্তী ধাপ শুরু হয় নিজ দেশে। তখন ইতালীয় দূতাবাস বা কনস্যুলেটের মাধ্যমে কাজের ভিসার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হয়।

তাই শুধু ইতালিতে কর্মী নেওয়ার ঘোষণা দেখেই ব্যক্তিগতভাবে কোটায় আবেদন করার বিষয়টি ধরে নেওয়া ঠিক হবে না। পুরো প্রক্রিয়ায় বৈধ নিয়োগকর্তা এবং সরকারি অনুমোদন গুরুত্বপূর্ণ।

২০২৬ থেকে ২০২৮—তিন বছরে প্রায় ৫ লাখ কর্মী

ইতালির এই পরিকল্পনা শুধু ২০২৭ সালের জন্য নয়। ২০২৬ থেকে ২০২৮—এই তিন বছরের জন্য মোট ৪ লাখ ৯৭ হাজার ৫৫০ জন বিদেশি কর্মী নেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে।

বছর অনুযায়ী নির্ধারিত সংখ্যা হলো—

বছরবিদেশি কর্মীর কোটা
২০২৬ ১ লাখ ৬৪ হাজার ৮৫০
২০২৭ ১ লাখ ৬৫ হাজার ৮৫০
২০২৮ ১ লাখ ৬৬ হাজার ৮৫০
মোট৪ লাখ ৯৭ হাজার ৫৫০

এর ফলে তিন বছরের পরিকল্পনায় ২০২৭ সালের কোটা ২০২৬ সালের তুলনায় বেশি এবং ২০২৮ সালে সেটি আরও বাড়িয়ে ১ লাখ ৬৬ হাজার ৮৫০ জন করা হয়েছে।

চাকরির নামে অর্থ দেওয়ার আগে যাচাই জরুরি

ইতালিতে কর্মসংস্থানের এই সুযোগকে কেন্দ্র করে আবেদনকারীদের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর একটি হলো বৈধ প্রক্রিয়া অনুসরণ করা। কর্মী নিয়োগের আবেদন বৈধ নিয়োগকর্তা ও সরকারি ব্যবস্থার মাধ্যমেই এগোয়।

তাই চাকরি বা ভিসা করে দেওয়ার কথা বলে কেউ অর্থ দাবি করলে আগে নিয়োগপত্র, নিয়োগকর্তা এবং nulla osta-এর সত্যতা যাচাই করা জরুরি। সরকারি প্রক্রিয়ার বাইরে কোনো ব্যক্তি বা দালালের ওপর নির্ভর করে অর্থ দেওয়া ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।

২০২৭ সালের জন্য ইতালির এই কর্মী নিয়োগ পরিকল্পনায় বাংলাদেশের নাগরিকদের জন্যও সুযোগ রাখা হয়েছে। তবে সুযোগটি কাজে লাগাতে হলে নির্ধারিত সময়, খাতভিত্তিক আবেদন তারিখ এবং নিয়োগকর্তার মাধ্যমে পরিচালিত সরকারি প্রক্রিয়া সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা থাকা প্রয়োজন।

FAQ

১. ২০২৭ সালে ইতালি কতজন বিদেশি কর্মী নেবে?

২০২৭ সালের জন্য ইতালি মোট ১ লাখ ৬৫ হাজার ৮৫০ জন বিদেশি কর্মীর কোটা নির্ধারণ করেছে।

২. বাংলাদেশিরা কি এই কর্মী নিয়োগের আওতায় রয়েছেন?

হ্যাঁ। ইতালির সরকারি তালিকায় বাংলাদেশ রয়েছে।

৩. ২০২৭ সালের প্রিকম্পাইলেশন কখন শুরু হবে?

প্রিকম্পাইলেশন শুরু হবে ২৩ অক্টোবর ২০২৬ সকাল ৯টায় এবং চলবে ৭ ডিসেম্বর ২০২৬ রাত ৮টা পর্যন্ত।

৪. ২০২৭ সালের ক্লিক ডে কবে?

কৃষির জন্য ১২ জানুয়ারি, পর্যটনের জন্য ৯ ফেব্রুয়ারি, অমৌসুমি কাজের জন্য ১৬ ফেব্রুয়ারি এবং পরিবারভিত্তিক পরিচর্যার জন্য ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৭। প্রতিটি ক্ষেত্রেই সময় সকাল ৯টা, ইতালির স্থানীয় সময়।

৫. বিদেশি কর্মী কি নিজে সরাসরি ইতালির কোটায় আবেদন করেন?

সাধারণভাবে না। ইতালিতে থাকা নিয়োগকর্তা বা অনুমোদিত প্রতিনিধি কর্মীর জন্য nulla osta-এর আবেদন করেন। অনুমোদনের পর কর্মী নিজ দেশে ইতালীয় দূতাবাস বা কনস্যুলেটের মাধ্যমে কাজের ভিসার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেন।

আল-সাদ/

পাঠকের মতামত: