নাবিল গ্রুপের সঙ্গে প্রথম আলোর সম্পর্ক, উঠল বড় প্রশ্ন
একদিকে ইসলামী ব্যাংকের ঋণ জালিয়াতির ঘটনায় আলোচনায় থাকা নাবিল গ্রুপ, অন্যদিকে দেশের শীর্ষস্থানীয় দৈনিক প্রথম আলো—এই দুই পক্ষের ব্যবসায়িক যোগাযোগ নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছেন অনুসন্ধানী সাংবাদিক জুলকারনাইন সায়ের। তার অভিযোগ, যে ব্যবসায়িক গোষ্ঠীর কর্মকাণ্ড নিয়ে একসময় সংবাদ প্রকাশ হয়েছিল, পরবর্তী সময়ে সেই গোষ্ঠীর সঙ্গেই প্রথম আলোর বিভিন্ন ধরনের বাণিজ্যিক সম্পর্ক তৈরি হয়েছে। আর এই সম্পর্কের প্রভাব সংবাদ প্রকাশের ক্ষেত্রে ‘সেলফ-সেন্সরশিপ’ তৈরি করেছে বলে দাবি করেছেন তিনি।
সম্প্রতি নিজের ফেসবুক পেজে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে জুলকারনাইন সায়ের এসব অভিযোগ সামনে আনেন। তার বক্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক মহলে আলোচনা তৈরি হয়েছে। তবে অভিযোগগুলোর বিষয়ে প্রথম আলোর পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
যে সম্পর্ক নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে
জুলকারনাইন সায়েরের বক্তব্যে মূলত নাবিল গ্রুপের সঙ্গে প্রথম আলোর বিভিন্ন ব্যবসায়িক যোগাযোগের বিষয়টি সামনে এসেছে। তিনি দাবি করেছেন, নাবিল গ্রুপের প্রতিষ্ঠান ‘স্টার টিভি’র সঙ্গে একটি সমঝোতা চুক্তির ভিত্তিতে প্রথম আলো নারী ফুটবল টুর্নামেন্ট আয়োজন করেছে।
এর পাশাপাশি আরও একটি ব্যবসায়িক সংযোগের কথা উল্লেখ করেছেন তিনি। তার অভিযোগ, প্রথম আলো সম্পাদকের পরিবারের মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান ‘অ্যানেক্স কমিউনিকেশন’ নাবিল গ্রুপের পিআর এবং ইমেজ বিল্ডিংয়ের কাজ করছে।
এই দুই ধরনের সম্পর্ককে সামনে রেখে সায়ের প্রশ্ন তুলেছেন, কোনো প্রতিষ্ঠানকে নিয়ে সাংবাদিকতার অনুসন্ধান বা নেতিবাচক সংবাদ প্রকাশের প্রয়োজন থাকলে একই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যমের ব্যবসায়িক যোগাযোগ কতটা স্বচ্ছ থাকা উচিত।
অতীতের সংবাদ থেকে বর্তমান বাণিজ্যিক সম্পর্ক
সায়েরের উত্থাপিত বক্তব্যের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো নাবিল গ্রুপের অতীত কর্মকাণ্ড। তার দাবি, বিভিন্ন সময়ে নাবিল গ্রুপ ইসলামী ব্যাংক থেকে জালিয়াতির মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ ঋণ নিয়েছিল। বিষয়টি একপর্যায়ে প্রথম আলোর অনুসন্ধানী প্রতিবেদনেও প্রকাশিত হয়েছিল।
কিন্তু তার অভিযোগ অনুযায়ী, পরবর্তী সময়ে পরিস্থিতি বদলে যায়। যেই নাবিল গ্রুপকে নিয়ে আগে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছিল, সেই প্রতিষ্ঠানই পরে প্রথম আলোর অন্যতম ঘনিষ্ঠ ব্যবসায়িক অংশীদারে পরিণত হয়।
এই পরিবর্তিত সম্পর্কের কারণেই সংবাদ প্রকাশের স্বাধীনতা ও ব্যবসায়িক স্বার্থের সীমারেখা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে বলে মনে করেন সায়ের।
সংবাদ প্রকাশে ‘আত্মনিয়ন্ত্রণের’ অভিযোগ
জুলকারনাইন সায়েরের সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগ, নাবিল গ্রুপ বা তাদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে এখন প্রথম আলোর নীতিনির্ধারকদের পক্ষে নেতিবাচক সংবাদ প্রকাশ করা সম্ভব হচ্ছে না।
তার মতে, ব্যবসায়িক সম্পর্ক সংবাদ নির্বাচনের ক্ষেত্রে প্রভাব ফেললে পাঠকের কাছে কোনো প্রতিষ্ঠানের গুরুত্বপূর্ণ কর্মকাণ্ড বা বিতর্কিত বিষয় সবসময় পৌঁছাবে না। এর ফলে সংবাদমাধ্যমের ওপর পাঠকের আস্থার বিষয়টিও প্রশ্নের মুখে পড়তে পারে।
সায়ের এই পরিস্থিতিকে সংবাদমাধ্যমের বাণিজ্যিক স্বার্থ এবং সাংবাদিকতার দায়িত্বের মধ্যে থাকা সীমারেখা দুর্বল হয়ে যাওয়ার সঙ্গে তুলনা করেছেন। তার ভাষায়, “সংবাদ এবং ব্যবসায়িক স্বার্থের মাঝখানে যে দেয়াল থাকার কথা, তা আজ ধসে পড়েছে।”
সাংবাদিকতার ভূমিকা নিয়েও বিতর্ক
নাবিল গ্রুপ ও প্রথম আলোর কথিত সম্পর্ককে শুধু একটি ব্যবসায়িক সমঝোতার বিষয় হিসেবে দেখছেন না পিনাকী ভট্টাচার্য ও জুলকারনাইন সায়েরের মতো সাংবাদিকরা। তাদের দৃষ্টিতে, এর মধ্য দিয়ে সাংবাদিকতার চরিত্রই ‘বিজ্ঞাপনে রূপান্তরিত’ হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।
তাদের বক্তব্য হলো, একটি সংবাদমাধ্যম যদি কোনো প্রভাবশালী ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে বাণিজ্যিকভাবে যুক্ত থাকে, তাহলে সেই সম্পর্ক পাঠকের সামনে পরিষ্কার থাকা প্রয়োজন। ব্যবসায়িক অংশীদারিত্বের বিষয়টি প্রকাশ্যে থাকলে সংবাদমাধ্যমের নিরপেক্ষতা নিয়ে পাঠক নিজেও বিষয়টি মূল্যায়ন করার সুযোগ পান।
প্রথম আলোর বক্তব্য কী?
উত্থাপিত অভিযোগের বিষয়ে প্রথম আলোর পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
ফলে নাবিল গ্রুপের সঙ্গে প্রথম আলোর ব্যবসায়িক যোগাযোগ কতটা বিস্তৃত, সেই সম্পর্ক সংবাদ প্রকাশে বাস্তবে কোনো প্রভাব ফেলেছে কি না এবং সাংবাদিক জুলকারনাইন সায়েরের অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর বক্তব্য কী—এসব প্রশ্নের উত্তর এখনও সামনে আসেনি।
তবে অভিযোগটি দেশের মূলধারার সংবাদমাধ্যমে ব্যবসায়িক সম্পর্ক, সংবাদ প্রকাশের স্বাধীনতা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার বিষয়গুলোকে আবারও আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে এসেছে।
FAQ
১. প্রথম আলো ও নাবিল গ্রুপের সম্পর্ক নিয়ে অভিযোগটি কে করেছেন?
অনুসন্ধানী সাংবাদিক জুলকারনাইন সায়ের নিজের ফেসবুক পেজে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে এ বিষয়ে অভিযোগ করেছেন।
২. নাবিল গ্রুপের সঙ্গে প্রথম আলোর কী ধরনের সম্পর্কের কথা বলা হয়েছে?
দেওয়া তথ্যে ‘স্টার টিভি’র সঙ্গে সমঝোতা চুক্তির মাধ্যমে নারী ফুটবল টুর্নামেন্ট আয়োজন এবং ‘অ্যানেক্স কমিউনিকেশন’-এর মাধ্যমে নাবিল গ্রুপের পিআর ও ইমেজ বিল্ডিংয়ের কাজের অভিযোগের কথা বলা হয়েছে।
৩. ইসলামী ব্যাংকের সঙ্গে নাবিল গ্রুপের বিষয়টি কেন আলোচনায় এসেছে?
জুলকারনাইন সায়েরের বক্তব্য অনুযায়ী, নাবিল গ্রুপ বিভিন্ন সময়ে ইসলামী ব্যাংক থেকে জালিয়াতির মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ ঋণ নিয়েছিল এবং বিষয়টি একসময় প্রথম আলোর অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে উঠে এসেছিল।
৪. ‘সেলফ-সেন্সরশিপ’ বলতে কী অভিযোগ করা হয়েছে?
সায়েরের অভিযোগ হলো, ব্যবসায়িক সম্পর্কের কারণে নাবিল গ্রুপ বা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে নেতিবাচক প্রতিবেদন প্রকাশের ক্ষেত্রে প্রথম আলোর নীতিনির্ধারকদের মধ্যে এক ধরনের আত্মনিয়ন্ত্রণ তৈরি হয়েছে।
৫. প্রথম আলো কি এই অভিযোগের জবাব দিয়েছে?
আপনার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এ বিষয়ে প্রথম আলোর পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
আল-সাদ/
পাঠকের মতামত:
আপনার জন্য বাছাই করা কিছু নিউজ
- এনসিসি ব্যাংকের শেয়ার বিক্রি, বাজারমূল্য ১ কোটি ৩০ লাখ টাকা
- ব্রাজিল বনাম ভারত: শেষ পর্যন্ত কী হলো ম্যাচে, জানুন ফলাফল
- আজকের টাকার রেট কত: বাড়লো ২০টি দেশের টাকার মান
- আজ ১০/০৪/২০২৬ তারিখ: ১৮ ক্যারেট, ২১ ক্যারেট, ২২ ক্যারেট সোনার দাম
- ডোমিনেজ স্টিলে মালিকানা বদল, এবার পর্ষদেও বড় রদবদল
- আয়-সম্পদে বড় উত্থান অ্যাপেক্স ফুডসের, ডিভিডেন্ড কেন একই?
- সরকারি কর্মকর্তা কর্মচারীদের জন্য সুখবর