ঢাকা, সোমবার, ৫ অক্টোবর ২০২৬, ২০ আশ্বিন ১৪৩৩

শাজাহান খান ও ছেলে আসিবুরকে গ্রেপ্তার দেখাল আদালত

রাজনীতি ডেস্ক . ২৪আপডেটনিউজ
২০২৬ অক্টোবর ০৫ ২০:১৬:৫৩
শাজাহান খান ও ছেলে আসিবুরকে গ্রেপ্তার দেখাল আদালত

আসিবুর রহমানের নামে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত ৯ কোটি ৮৯ লাখ ৫ হাজার ৬৮৫ টাকার অসংগতিপূর্ণ সম্পদ পাওয়ার অভিযোগে করা মামলায় সাবেক নৌপরিবহন মন্ত্রী শাজাহান খান ও তার ছেলে আসিবুর রহমানকে গ্রেপ্তার দেখিয়েছেন আদালত। সোমবার ঢাকার মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল জজ শাহজাহান কবীরের আদালতে শুনানি শেষে এ আদেশ দেওয়া হয়। পরে বাবা ও ছেলেকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

দুদকের কৌঁসুলি খাদেমুল হক আদালতের আদেশের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। একই মামলায় আসিবুর রহমানকে প্রধান আসামি করা হয়েছে।

সম্পদের হিসাবেই উঠে এসেছে বড় অঙ্ক

মামলার নথিতে আসিবুর রহমানের নামে থাকা স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের একটি হিসাব তুলে ধরা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, আয়করদাতা হওয়ার পরও তার নামে ১১ কোটি ৭৯ লাখ ৫ হাজার ২৪৮ টাকা মূল্যের সম্পদের সন্ধান পাওয়া যায়।

তবে অনুসন্ধানের সময় তার গ্রহণযোগ্য আয়ের উৎস হিসেবে পাওয়া যায় ১ কোটি ৮৯ লাখ ৯৯ হাজার ১৮৩ টাকা। সম্পদের মোট মূল্য ও গ্রহণযোগ্য আয়ের মধ্যে পার্থক্য হিসাব করে ৯ কোটি ৮৯ লাখ ৫ হাজার ৬৮৫ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত অসংগতিপূর্ণ সম্পদ অর্জনের প্রমাণ পাওয়া গেছে বলে মামলার বিবরণে উল্লেখ করা হয়েছে।

বাবার বিরুদ্ধে অভিযোগ কী

এজাহারে বলা হয়েছে, সংসদ সদস্য ও নৌপরিবহন মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময় শাজাহান খান ক্ষমতার অপব্যবহার করেছেন। অভিযোগ অনুযায়ী, প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে অসদুপায়ে অর্জিত অর্থ ব্যবহার করে ছেলে আসিবুর রহমানের নামে স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ গড়ে তুলতে তিনি সহযোগিতা করেছেন।

এই অভিযোগের ভিত্তিতেই শাজাহান খানকে মামলায় আসামি করা হয়েছে। গত বছরের ২ ফেব্রুয়ারি দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয়-১-এ মামলাটি করেন কমিশনের উপপরিচালক কমলেশ মন্ডল।

আদালতে শুনানি, এরপর কারাগারে

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দুদকের সহকারী পরিচালক মাহাথীর মুহাম্মদ সামী গত ৭ সেপ্টেম্বর শাজাহান খান ও আসিবুর রহমানকে এই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেন। তাদের আদালতে উপস্থিত রেখে শুনানির জন্য ৫ অক্টোবর দিন নির্ধারণ করা হয়েছিল।

সোমবার নির্ধারিত শুনানিতে দুজনকেই আদালতে হাজির করা হয়। শুনানি শেষে আদালত তাদের গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দেন। পরে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়।

আসামিপক্ষের আইনজীবী মিজানুর রহমান বাদশাহ একই দিন দুজনের জামিন চেয়ে আবেদন করেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, জামিন আবেদনের শুনানির জন্য আদালত আগামী ১৫ অক্টোবর দিন রেখেছেন।

তদন্ত প্রতিবেদন নিয়ে নতুন তারিখ

মামলার তদন্ত প্রতিবেদন সোমবার আদালতে জমা দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু নির্ধারিত দিনে প্রতিবেদন দিতে পারেনি তদন্ত সংস্থা দুদক।

এ কারণে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আদালত আগামী ২৫ নভেম্বর নতুন দিন নির্ধারণ করেছেন।

আগেই গ্রেপ্তার হয়েছিলেন দুজন

এই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আগে অন্য মামলায় গ্রেপ্তার ছিলেন শাজাহান খান ও তার ছেলে। আওয়ামী সরকারের পতনের প্রায় এক মাস পর ২০২৪ সালের ৫ সেপ্টেম্বর ঢাকার ধানমন্ডি এলাকা থেকে শাজাহান খানকে গ্রেপ্তার করে ডিবি পুলিশ।

এরপর জুলাই আন্দোলনের বেশ কয়েকটি মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয় এবং রিমান্ডে নেওয়া হয়। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের মামলাতেও তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।

অন্যদিকে বাবাকে গ্রেপ্তারের তিন সপ্তাহ পর ২৬ সেপ্টেম্বর ঢাকার শাহজালাল বিমানবন্দর থেকে আসিবুর রহমানকে গ্রেপ্তার করা হয়।

আদালত থেকে বের হওয়ার সময় শাজাহান খানের বক্তব্য

শুনানি শেষে আদালত থেকে নামানোর সময় সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে শাজাহান খান বলেন, “তোমারে দেখিবে যে, মনের কথা বলিবে সে।”

এনসিপি ও জামায়াতে ইসলামী প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “এনসিপি জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে মিশে গিয়ে জামায়াতে ইসলামী হয়ে গেছে।”

আল-মামুন/

পাঠকের মতামত: