ঢাকা, সোমবার, ৫ অক্টোবর ২০২৬, ২০ আশ্বিন ১৪৩৩

ড্রাইভিং লাইসেন্স পেতে কত দিন লাগে, জেনে নিন আবেদনের পরের ধাপ

জাতীয় ডেস্ক . ২৪আপডেটনিউজ
২০২৬ অক্টোবর ০৫ ২১:১৮:৫১
ড্রাইভিং লাইসেন্স পেতে কত দিন লাগে, জেনে নিন আবেদনের পরের ধাপ

ড্রাইভিং লাইসেন্সের জন্য আবেদন করলেই হাতে লাইসেন্স চলে আসে না। প্রথমে নিতে হয় লার্নার বা শিক্ষানবিশ ড্রাইভিং লাইসেন্স, এরপর নির্দিষ্ট সময় প্রশিক্ষণ নিয়ে দিতে হয় লিখিত, মৌখিক ও ফিল্ড টেস্ট। পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পর চূড়ান্ত আবেদন ও ফি পরিশোধের মাধ্যমে পাওয়া যায় ই-ড্রাইভিং লাইসেন্স। আর স্মার্ট কার্ড হাতে পেতে সাধারণত আরও সময় লাগে। বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) নাগরিক সনদের তথ্য অনুযায়ী, ই-ড্রাইভিং লাইসেন্স ১ কার্যদিবসে দেওয়ার কথা থাকলেও স্মার্ট কার্ড ডাকযোগে পেতে ১৫–২০ কর্মদিবস পর্যন্ত সময় লাগতে পারে।

তবে পুরো প্রক্রিয়ার সময় হিসাব করলে বিষয়টি আরও দীর্ঘ। কারণ লার্নার লাইসেন্স পাওয়ার পর বিআরটিএর নির্দেশনা অনুযায়ী ২/৩ মাস প্রশিক্ষণ গ্রহণের পর নির্ধারিত কেন্দ্রে দক্ষতা যাচাই পরীক্ষায় অংশ নিতে হয়।

ড্রাইভিং লাইসেন্স পেতে প্রথমে কী করতে হবে?

বাংলাদেশে নতুন ড্রাইভিং লাইসেন্সের আবেদনের প্রথম ধাপ হলো লার্নার বা শিক্ষানবিশ ড্রাইভিং লাইসেন্স নেওয়া। বিআরটিএর তথ্য অনুযায়ী, আবেদনকারীকে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ নিজের স্থায়ী ঠিকানা অথবা প্রয়োজনীয় প্রমাণসহ বর্তমান ঠিকানার আওতাধীন বিআরটিএ সার্কেল অফিসে আবেদন করতে হয়।

লার্নার লাইসেন্স পাওয়ার পর সেটি ব্যবহার করে ড্রাইভিং প্রশিক্ষণ নেওয়া যায়। বিআরটিএর বর্তমান নির্দেশনায় ২/৩ মাস প্রশিক্ষণের পর লিখিত, মৌখিক ও ফিল্ড টেস্টে অংশ নেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

অর্থাৎ, কেউ আজ লার্নার লাইসেন্সের জন্য আবেদন করলেই কয়েক দিনের মধ্যে পুরো ড্রাইভিং লাইসেন্স হাতে পাওয়ার সুযোগ নেই। পরীক্ষার ধাপ শেষ করাই এখানে মূল বিষয়।

লার্নার লাইসেন্স পেতে কত সময় লাগে?

বিআরটিএর নাগরিক সনদে শিক্ষানবিশ ড্রাইভিং লাইসেন্স প্রদানের সময়সীমা ১ থেকে ৩ দিন উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এটি লার্নার লাইসেন্স ইস্যুর সময়; পুরো ড্রাইভিং লাইসেন্স পাওয়ার সময় নয়।

লার্নার লাইসেন্সের জন্য নির্ধারিত আবেদন ফরম, মেডিকেল সার্টিফিকেট, পরিচয়পত্রের কপি, নির্ধারিত ফি জমার রশিদ এবং প্রয়োজনীয় ছবি দিতে হয়। ঠিকানার প্রমাণও প্রযোজ্য ক্ষেত্রে প্রয়োজন হতে পারে।

লার্নার লাইসেন্সের পরের ধাপ

লার্নার লাইসেন্স হাতে পাওয়ার পর শুরু হয় প্রশিক্ষণের ধাপ। বিআরটিএর বর্তমান তথ্য অনুযায়ী, ২/৩ মাস প্রশিক্ষণ নেওয়ার পর নির্ধারিত তারিখ, সময় ও কেন্দ্রে লিখিত, মৌখিক এবং ফিল্ড টেস্ট দিতে হয়। পরীক্ষার সময় লার্নার লাইসেন্সের মূল কপি সঙ্গে রাখতে হয়।

তাই ড্রাইভিং লাইসেন্স পাওয়ার মোট সময় শুধু কার্ড ছাপার সময় দিয়ে হিসাব করলে ভুল হবে।

লিখিত, মৌখিক ও ফিল্ড টেস্টে কী হয়?

লার্নার লাইসেন্সের নির্ধারিত সময় শেষে আবেদনকারীকে ড্রাইভিং কম্পিটেন্সি বা দক্ষতা যাচাই পরীক্ষায় অংশ নিতে হয়। বিআরটিএর নির্দেশনায় এই প্রক্রিয়ায় লিখিত, মৌখিক ও ফিল্ড টেস্ট নেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

এই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পরই পরবর্তী ধাপে যাওয়া যায়। অর্থাৎ পরীক্ষায় অকৃতকার্য হলে চূড়ান্ত ড্রাইভিং লাইসেন্স ইস্যুর প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে না।

পরীক্ষায় পাস করার পর কী করতে হবে?

দক্ষতা যাচাই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পর আবেদনকারীকে বিআরটিএ সার্ভিস পোর্টালে নিজের অ্যাকাউন্টে প্রবেশ করে নির্ধারিত ফি পরিশোধের মাধ্যমে চূড়ান্ত আবেদন করতে হয়। বিআরটিএর নাগরিক সনদ অনুযায়ী, কর্তৃপক্ষের অনুমোদনের পর ই-ড্রাইভিং লাইসেন্স পাওয়া যায়।

এ পর্যায়ে আবেদনকারীর জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—ই-ড্রাইভিং লাইসেন্স এবং স্মার্ট কার্ড ড্রাইভিং লাইসেন্সকে একই জিনিস হিসেবে দেখলে চলবে না। ই-লাইসেন্স দ্রুত পাওয়া গেলেও স্মার্ট কার্ডের জন্য আলাদা প্রিন্টিং ও ডাকযোগে সরবরাহের সময় রয়েছে।

ড্রাইভিং লাইসেন্স হাতে পেতে কত দিন লাগে?

এই প্রশ্নের উত্তর দুটি ভাগে দেখা ভালো।

ই-ড্রাইভিং লাইসেন্স: বিআরটিএর নাগরিক সনদে দক্ষতা যাচাই পরীক্ষায় পাস করার পর চূড়ান্ত আবেদন সম্পন্ন হলে ই-ড্রাইভিং লাইসেন্সের জন্য ১ কার্যদিবস সময়সীমা উল্লেখ রয়েছে।

স্মার্ট কার্ড ড্রাইভিং লাইসেন্স: একই নাগরিক সনদে ফি পরিশোধের পর স্মার্ট কার্ড ডাকযোগে গ্রাহকের ঠিকানায় পৌঁছাতে ১৫–২০ কর্মদিবস সময় লাগতে পারে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

অর্থাৎ পরীক্ষায় পাস করার পর ই-লাইসেন্স দ্রুত পাওয়া সম্ভব হলেও হাতে থাকা ফিজিক্যাল স্মার্ট কার্ড পেতে আরও অপেক্ষা করতে হতে পারে।

ধাপকী করতে হবেআনুমানিক/সরকারি সময়সীমা
১ লার্নার লাইসেন্সের আবেদন ১–৩ দিন
২ ড্রাইভিং প্রশিক্ষণ ২/৩ মাস
৩ লিখিত, মৌখিক ও ফিল্ড টেস্ট নির্ধারিত তারিখে
৪ পরীক্ষায় পাসের পর চূড়ান্ত আবেদন কর্তৃপক্ষের অনুমোদন সাপেক্ষে
৫ ই-ড্রাইভিং লাইসেন্স ১ কার্যদিবস
৬ স্মার্ট কার্ড ডাকযোগে পাওয়া ১৫–২০ কর্মদিবস

এখানে মনে রাখতে হবে, ওপরের সময়গুলো সব ক্ষেত্রে যোগ করে একটি নির্দিষ্ট মোট সময় বলা যায় না। কারণ পরীক্ষার তারিখ, অনুমোদন, আবেদনকারীর তথ্য যাচাই এবং অন্যান্য প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার ওপর বাস্তব সময় নির্ভর করতে পারে।

ড্রাইভিং লাইসেন্সের জন্য বয়স কত হতে হবে?

বিআরটিএর বর্তমান তথ্য অনুযায়ী, অপেশাদার ড্রাইভিং লাইসেন্সের জন্য ন্যূনতম বয়স ১৮ বছর এবং পেশাদার ড্রাইভিং লাইসেন্সের জন্য ন্যূনতম বয়স ২০ বছর।

পেশাদার লাইসেন্সের ক্ষেত্রেও আবার হালকা, মধ্যম ও ভারী শ্রেণির জন্য আলাদা বয়স ও পূর্ববর্তী লাইসেন্স ব্যবহারের শর্ত রয়েছে। পেশাদার মধ্যম লাইসেন্সের জন্য বয়স কমপক্ষে ২৩ বছর এবং পেশাদার হালকা লাইসেন্স কমপক্ষে তিন বছর ব্যবহার করার শর্ত রয়েছে। ভারী লাইসেন্সের জন্য বয়স কমপক্ষে ২৬ বছর এবং মধ্যম লাইসেন্স কমপক্ষে তিন বছর ব্যবহারের শর্ত রয়েছে।

লার্নার লাইসেন্সের জন্য কী কী লাগে?

লার্নার বা শিক্ষানবিশ ড্রাইভিং লাইসেন্সের আবেদনে সাধারণত প্রয়োজন হয়—

নির্ধারিত আবেদন ফরম

রেজিস্টার্ড চিকিৎসকের মেডিকেল সার্টিফিকেট

জাতীয় পরিচয়পত্র, জন্মসনদ বা পাসপোর্টের প্রয়োজনীয় কপি

নির্ধারিত ফি জমার রশিদ

প্রয়োজনীয় ছবি

প্রযোজ্য ক্ষেত্রে ঠিকানার প্রমাণ

বিআরটিএর বর্তমান তথ্য অনুযায়ী, লার্নার লাইসেন্সের জন্য এক ক্যাটাগরিতে ৩৪৫ টাকা এবং দুই ক্যাটাগরিতে ৫১৮ টাকা ফি উল্লেখ রয়েছে।

চূড়ান্ত ড্রাইভিং লাইসেন্সের জন্য কী হয়?

দক্ষতা যাচাই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পর চূড়ান্ত আবেদনের সময় নির্ধারিত ফি দিতে হয়। বিআরটিএর নাগরিক সনদে বর্তমানে অপেশাদার ড্রাইভিং লাইসেন্স ইস্যুর জন্য ৪,৬২৮ টাকা এবং পেশাদার ড্রাইভিং লাইসেন্সের জন্য ২,৮৩৮ টাকা অনলাইনে পরিশোধের তথ্য রয়েছে। অনলাইন পেমেন্টের ক্ষেত্রে গেটওয়ে চার্জ প্রযোজ্য হতে পারে।

পেশাদার ড্রাইভিং লাইসেন্সের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় নথির মধ্যে ডোপ টেস্ট সনদও রয়েছে।

ড্রাইভিং লাইসেন্স পেতে সবচেয়ে বেশি সময় কোথায় লাগে?

নতুন আবেদনকারীর ক্ষেত্রে সবচেয়ে দীর্ঘ ধাপটি সাধারণত লার্নার লাইসেন্স পাওয়ার পরের ২/৩ মাসের প্রশিক্ষণ ও পরবর্তী দক্ষতা যাচাই পরীক্ষার পর্যায়। এরপর পরীক্ষায় পাস করে চূড়ান্ত আবেদন করতে হয়।

অন্যদিকে, পরীক্ষায় পাস করার পর ই-ড্রাইভিং লাইসেন্স পাওয়ার সরকারি সময়সীমা তুলনামূলকভাবে কম—১ কার্যদিবস। তবে স্মার্ট কার্ড ডাকযোগে পেতে ১৫–২০ কর্মদিবস পর্যন্ত সময় লাগতে পারে।

আবেদন করার আগে যে বিষয়গুলো মনে রাখবেন

ড্রাইভিং লাইসেন্স করতে গিয়ে সবচেয়ে বড় ভুল হলো শুধু স্মার্ট কার্ড হাতে পাওয়ার সময়কে পুরো প্রক্রিয়ার সময় ধরে নেওয়া। আসলে প্রথমে লার্নার লাইসেন্স, এরপর প্রশিক্ষণ, তারপর লিখিত-মৌখিক-ফিল্ড টেস্ট এবং সবশেষে চূড়ান্ত আবেদন—এভাবেই পুরো প্রক্রিয়া এগোয়।

তাই বিদেশযাত্রা, চাকরি, গাড়ি কেনা বা অন্য কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমার প্রয়োজন থাকলে শেষ মুহূর্তে আবেদন না করে আগে থেকেই প্রক্রিয়া শুরু করা ভালো। একই সঙ্গে বিআরটিএর সার্ভিস পোর্টালে আবেদন ও পেমেন্ট-সংক্রান্ত সর্বশেষ নির্দেশনা দেখে নেওয়া উচিত।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ই-ড্রাইভিং লাইসেন্স দ্রুত পাওয়া গেলেও স্মার্ট কার্ড হাতে পেতে ১৫–২০ কর্মদিবস পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। আর নতুন আবেদনকারীর ক্ষেত্রে লার্নার লাইসেন্সের পর ২/৩ মাস প্রশিক্ষণের ধাপ থাকায় পুরো প্রক্রিয়াটি এক-দুই সপ্তাহের বিষয় নয়।

FAQ

প্রশ্ন: ড্রাইভিং লাইসেন্স পেতে মোট কত দিন লাগে?

উত্তর: নতুন আবেদনকারীর ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট একক মোট সময় বলা যায় না। লার্নার লাইসেন্সের পর ২/৩ মাস প্রশিক্ষণ নিয়ে পরীক্ষা দিতে হয়। পরীক্ষায় পাস করার পর ই-ড্রাইভিং লাইসেন্সের সরকারি সময়সীমা ১ কার্যদিবস এবং স্মার্ট কার্ড ডাকযোগে পেতে ১৫–২০ কর্মদিবস পর্যন্ত সময় লাগতে পারে।

প্রশ্ন: লার্নার লাইসেন্স পাওয়ার পর কতদিন প্রশিক্ষণ নিতে হয়?

উত্তর: বিআরটিএর বর্তমান নির্দেশনায় লার্নার লাইসেন্স পাওয়ার পর ২/৩ মাস প্রশিক্ষণ গ্রহণের পর লিখিত, মৌখিক ও ফিল্ড টেস্টে অংশ নেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

প্রশ্ন: পরীক্ষায় পাস করার পর ই-ড্রাইভিং লাইসেন্স কত দিনে পাওয়া যায়?

উত্তর: বিআরটিএর নাগরিক সনদে ই-ড্রাইভিং লাইসেন্সের জন্য ১ কার্যদিবসের সময়সীমা উল্লেখ রয়েছে, কর্তৃপক্ষের অনুমোদন সাপেক্ষে।

প্রশ্ন: স্মার্ট কার্ড ড্রাইভিং লাইসেন্স হাতে পেতে কত সময় লাগে?

উত্তর: বিআরটিএর নাগরিক সনদ অনুযায়ী, ফি পরিশোধের পর স্মার্ট কার্ড ডাকযোগে গ্রাহকের ঠিকানায় পৌঁছাতে ১৫–২০ কর্মদিবস সময় লাগতে পারে।

প্রশ্ন: অপেশাদার ড্রাইভিং লাইসেন্সের জন্য ন্যূনতম বয়স কত?

উত্তর: অপেশাদার ড্রাইভিং লাইসেন্সের জন্য ন্যূনতম বয়স ১৮ বছর। পেশাদার ড্রাইভিং লাইসেন্সের জন্য ন্যূনতম বয়স ২০ বছর।

আল-সাদ/

পাঠকের মতামত: