ঢাকা, বুধবার, ৭ অক্টোবর ২০২৬, ২২ আশ্বিন ১৪৩৩

৪০ হাজার টাকায় এই মুহূর্তের সেরা ৫ স্মার্টফোন

তথ্য ও প্রযুক্তি ডেস্ক . ২৪আপডেটনিউজ
২০২৬ অক্টোবর ০৭ ১৪:০৩:৪১
৪০ হাজার টাকায় এই মুহূর্তের সেরা ৫ স্মার্টফোন

৪০ হাজার টাকা বাজেট এখন স্মার্টফোন কেনার জন্য বেশ প্রতিযোগিতাপূর্ণ একটি সেগমেন্ট। এই দামের মধ্যে একদিকে পাওয়া যাচ্ছে 5G ফোন, অন্যদিকে রয়েছে ১২০Hz ও ১৪৪Hz AMOLED ডিসপ্লে, OIS ক্যামেরা, ৬ হাজার থেকে ৮ হাজারের বেশি mAh ব্যাটারি এবং দ্রুত চার্জিংয়ের সুবিধা। ফলে শুধু ‘সবচেয়ে বেশি RAM’ দেখেই ফোন বেছে নেওয়ার দিন অনেকটাই শেষ।

বর্তমান বাংলাদেশি বাজারের দাম, অফিসিয়াল স্পেসিফিকেশন ও ব্যবহারিক দিক বিবেচনায় ৪০ হাজার টাকার মধ্যে নজরে রাখার মতো পাঁচটি ফোন হলো Redmi Note 15 5G, OPPO A6s Pro, TECNO CAMON 50, vivo Y500 এবং Samsung Galaxy A17 5G। তবে পাঁচটির শক্তির জায়গা আলাদা—কেউ 5G ও ক্যামেরায় এগিয়ে, কেউ ব্যাটারিতে, আবার কেউ দীর্ঘদিন সফটওয়্যার আপডেট পাওয়ার দিক থেকে সুবিধাজনক।

৪০ হাজার টাকায় ফোন কিনতে গেলে আগে যে বিষয়গুলো দেখবেন

এই বাজেটে ফোন কেনার সময় শুধু ক্যামেরার megapixel বা RAM-এর পরিমাণ দেখে সিদ্ধান্ত নেওয়া ঠিক হবে না। প্রসেসরের সক্ষমতা, ডিসপ্লের ধরন, ক্যামেরায় OIS আছে কি না, ব্যাটারি, চার্জিং স্পিড, 5G সুবিধা এবং সফটওয়্যার আপডেট—সবগুলো বিষয় একসঙ্গে বিবেচনা করা জরুরি।

আরেকটি বিষয় হলো, বাংলাদেশে একই ফোনের অফিসিয়াল ও আনঅফিশিয়াল সংস্করণের দাম এক নয়। তাই কম দামে ফোন পেলেই সেটিকে সেরা ডিল ধরে নেওয়ার আগে ওয়ারেন্টি ও মডেল নম্বর যাচাই করা উচিত।

১. Redmi Note 15 5G — 5G ও ক্যামেরার ভারসাম্যে এগিয়ে

৪০ হাজার টাকার বাজেটে 5G ফোন খুঁজলে Redmi Note 15 5G প্রথম সারির একটি বিকল্প। Xiaomi Bangladesh-এর অফিসিয়াল তালিকায় ৮GB RAM ও ২৫৬GB স্টোরেজ সংস্করণের দাম ৩৬,৯৯৯ টাকা + VAT।

ফোনটিতে রয়েছে ৬.৭৭ ইঞ্চির FHD+ AMOLED ডিসপ্লে, ১২০Hz refresh rate এবং সর্বোচ্চ ৩,২০০ nits peak brightness। ফলে ভিডিও দেখা, সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার কিংবা গেম খেলার সময় ডিসপ্লে অভিজ্ঞতা এই দামের মধ্যে বেশ আকর্ষণীয়।

পারফরম্যান্সের জন্য রয়েছে ৪nm প্রযুক্তির Snapdragon 6 Gen 3 চিপসেট। সঙ্গে ৮GB RAM ও ২৫৬GB UFS 2.2 storage। ক্যামেরায় রয়েছে ১০৮MP main camera এবং ৮MP ultra-wide camera, আর সামনে ২০MP selfie camera।

ব্যাটারি ৫,৫২০mAh এবং ৪৫W turbo charging সাপোর্ট করে। ফোনটির ওজন প্রায় ১৭৮ গ্রাম এবং পুরুত্ব ৭.৩৫ মিমি, ফলে বড় ব্যাটারি থাকার পরও এটি তুলনামূলক হালকা ও পাতলা।

কার জন্য ভালো: 5G, AMOLED ডিসপ্লে, ভালো ক্যামেরা ও ভারসাম্যপূর্ণ পারফরম্যান্স—সব একসঙ্গে চান যারা।

দাম: ৩৬,৯৯৯ টাকা + VAT।

২. OPPO A6s Pro — ব্যাটারি ও চার্জিংয়ে শক্তিশালী

যারা 5G-কে অগ্রাধিকার দিচ্ছেন না, তাদের জন্য OPPO A6s Pro ৪০ হাজার টাকার মধ্যে আকর্ষণীয় একটি ফোন। বাংলাদেশে ৮GB+২৫৬GB সংস্করণের দাম ৩৯,৯৯০ টাকা হিসেবে পাওয়া যাচ্ছে।

ফোনটিতে রয়েছে ৬.৫৭ ইঞ্চির FHD+ AMOLED ডিসপ্লে এবং ১২০Hz refresh rate। প্রসেসর হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে MediaTek Helio G100 MAX। সঙ্গে ৮GB RAM ও ২৫৬GB UFS 2.2 storage রয়েছে।

এর বড় আকর্ষণ ব্যাটারি। ফোনটিতে ৭,০০০mAh ব্যাটারি এবং সর্বোচ্চ ৮০W SUPERVOOC fast charging দেওয়া হয়েছে। ফলে যারা সারাদিন ফোন ব্যবহার করেন এবং দ্রুত চার্জিং চান, তাদের কাছে এটি বেশ কার্যকর হতে পারে।

ক্যামেরায় রয়েছে ৫০MP main camera ও ২MP secondary camera। সামনে দেওয়া হয়েছে ৫০MP selfie camera। অর্থাৎ selfie ও ভিডিও কলের ক্ষেত্রে কাগজে-কলমে ফোনটির ভালো সুবিধা রয়েছে।

তবে মনে রাখতে হবে, অফিসিয়াল OPPO Bangladesh স্পেসিফিকেশন অনুযায়ী এই মডেলটি 4G, 5G নয়। তাই 5G যদি আপনার জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়, তাহলে Redmi Note 15 5G-এর মতো বিকল্প বেশি উপযোগী।

কার জন্য ভালো: বড় ব্যাটারি, AMOLED ডিসপ্লে, দ্রুত চার্জিং ও selfie camera-কে গুরুত্ব দেন যারা।

দাম: প্রায় ৩৯,৯৯০ টাকা।

৩. TECNO CAMON 50 — ক্যামেরা ও ডিসপ্লেতে নজরকাড়া

৪০ হাজার টাকার মধ্যে ক্যামেরা ও ডিসপ্লের সমন্বয় চাইলে TECNO CAMON 50 বেশ শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বী। বাংলাদেশে ৮GB+১২৮GB সংস্করণের দাম ৩১,৯৯৯ টাকা এবং ৮GB+২৫৬GB সংস্করণের দাম ৩৬,৯৯৯ টাকা হিসেবে তালিকাভুক্ত হয়েছে।

ফোনটির অন্যতম আকর্ষণ ৬.৭৮ ইঞ্চির AMOLED ডিসপ্লে। এতে ১৪৪Hz refresh rate এবং ১.৫K resolution রয়েছে। ফলে সাধারণ ব্যবহার থেকে শুরু করে ভিডিও দেখা ও গেমিং—সব ক্ষেত্রেই মসৃণ স্ক্রলিং পাওয়া যায়।

পারফরম্যান্সের জন্য রয়েছে MediaTek Helio G200 Ultimate প্রসেসর। ব্যাটারি ৬,৫০০mAh এবং ৪৫W Super Charge সাপোর্ট করে।

ক্যামেরার দিকেও যথেষ্ট গুরুত্ব দিয়েছে TECNO। ফোনটির পেছনে রয়েছে ৫০MP OIS main camera ও ৮MP ultra-wide camera, আর সামনে ৩২MP selfie camera। বড় sensor ও OIS থাকায় বিশেষ করে কম আলোতে ছবি তোলার ক্ষেত্রে এটি এই দামের মধ্যে আকর্ষণীয় হতে পারে।

কার জন্য ভালো: ক্যামেরা, AMOLED ডিসপ্লে, বড় ব্যাটারি ও বেশি storage চান যারা।

দাম: ৩১,৯৯৯ টাকা থেকে; ৮GB+২৫৬GB সংস্করণ ৩৬,৯৯৯ টাকা পর্যন্ত।

৪. vivo Y500 — ৮,১০০mAh ব্যাটারির জন্য আলাদা

৪০ হাজার টাকার মধ্যে ব্যাটারিকে যদি সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেন, তাহলে vivo Y500 তালিকায় আলাদা করে নজর কাড়ে। বাংলাদেশে ৬GB+১২৮GB সংস্করণের অফিসিয়াল দাম ৩৯,৯৯৯ টাকা + VAT।

ফোনটির সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য ৮,১০০mAh ব্যাটারি। সঙ্গে রয়েছে ৪৪W fast charging। এত বড় ব্যাটারি থাকার কারণে যারা দীর্ঘ সময় চার্জার থেকে দূরে থাকতে চান, তাদের জন্য ফোনটি বেশ আকর্ষণীয়।

ডিসপ্লে হিসেবে রয়েছে ৬.৮৩ ইঞ্চির 1.5K AMOLED panel, ১২০Hz refresh rate এবং ২,৮০০×১,২৬০ resolution। ক্যামেরায় রয়েছে ৫০MP Sony main camera ও ২MP secondary camera, আর সামনে ৩২MP selfie camera।

এখানে অবশ্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় আছে—vivo Y500-তে 5G নেই। অফিসিয়াল vivo Bangladesh স্পেসিফিকেশনে এটি 4G ফোন হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

কার জন্য ভালো: ব্যাটারি ব্যাকআপ, বড় AMOLED ডিসপ্লে ও দীর্ঘ সময়ের ব্যবহারকে অগ্রাধিকার দেন যারা।

দাম: ৩৯,৯৯৯ টাকা + VAT।

৫. Samsung Galaxy A17 5G — দীর্ঘমেয়াদি ব্যবহারে আকর্ষণীয়

Samsung-এর ফোন চাইলে ৪০ হাজার টাকার কাছাকাছি বাজেটে Galaxy A17 5G বিবেচনা করা যায়। বাংলাদেশের বাজারে ৬GB+১২৮GB সংস্করণটি প্রায় ৩৯,৯৯৯ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে।

ফোনটিতে রয়েছে ৬.৭ ইঞ্চির Super AMOLED ডিসপ্লে, যদিও refresh rate সর্বোচ্চ ৯০Hz। ক্যামেরার ক্ষেত্রে পেছনে রয়েছে ৫০MP + ৫MP + ২MP ট্রিপল ক্যামেরা সেটআপ এবং মূল ক্যামেরায় OIS সাপোর্ট রয়েছে। সামনে রয়েছে ১৩MP selfie camera।

ব্যাটারি ৫,০০০mAh। অন্যদিকে Samsung-এর বড় সুবিধা হলো দীর্ঘমেয়াদি software support। Galaxy A17 5G-এর security update period ২০৩১ সালের আগস্ট পর্যন্ত তালিকাভুক্ত রয়েছে।

তবে একই দামে কিছু প্রতিদ্বন্দ্বী ফোনে বেশি refresh rate, বড় ব্যাটারি বা দ্রুত charging পাওয়া যায়। তাই Galaxy A17 5G-এর মূল আকর্ষণ raw specification নয়; বরং Samsung-এর ecosystem, software support এবং পরিচিত ব্র্যান্ড অভিজ্ঞতা।

কার জন্য ভালো: দীর্ঘদিন ফোন ব্যবহার করতে চান এবং Samsung-এর software support-কে গুরুত্ব দেন যারা।

দাম: ৬GB+১২৮GB প্রায় ৩৯,৯৯৯ টাকা।

তাহলে ৪০ হাজার টাকায় কোন ফোনটি নেবেন?

একটি ফোনকে সবার জন্য ‘সেরা’ বলা ঠিক হবে না। আপনার প্রয়োজন অনুযায়ী পছন্দ বদলে যাবে।

5G ও সামগ্রিক ভারসাম্যের জন্য Redmi Note 15 5G এগিয়ে।

ব্যাটারি ও দ্রুত চার্জিংয়ের জন্য OPPO A6s Pro নজরে রাখা যায়।

ক্যামেরা ও ১৪৪Hz AMOLED ডিসপ্লের জন্য TECNO CAMON 50 বেশ আকর্ষণীয়।

সবচেয়ে বড় ব্যাটারি চাইলে vivo Y500 আলাদা সুবিধা দিচ্ছে।

আর দীর্ঘমেয়াদি software support ও Samsung-এর ecosystem চাইলে Galaxy A17 5G বিবেচনা করা যায়।

তবে কেনার আগে একটি বিষয় অবশ্যই মাথায় রাখা দরকার—৪০ হাজার টাকার বাজেট মানেই সব ফোনের একই সুবিধা নয়। কেউ যদি নিয়মিত 5G ব্যবহার করতে চান, তার জন্য 4G ফোনের বড় ব্যাটারি খুব বেশি কাজে নাও আসতে পারে। আবার যারা দিনে একবার চার্জ করেই দীর্ঘ সময় ফোন চালাতে চান, তাদের কাছে বড় ব্যাটারি বেশি গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।

সুতরাং ফোন কেনার আগে নিজের ব্যবহার—গেমিং, ক্যামেরা, ভিডিও, 5G, ব্যাটারি নাকি দীর্ঘদিন software update—কোন বিষয়টি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, সেটি ঠিক করেই মডেল বেছে নেওয়া ভালো।

FAQ

৪০ হাজার টাকার মধ্যে কোন ফোনটি সবচেয়ে ভালো?

সবার জন্য একই ফোন সেরা নয়। 5G ও ভারসাম্যের জন্য Redmi Note 15 5G, ব্যাটারির জন্য OPPO A6s Pro বা vivo Y500 এবং ক্যামেরা-ডিসপ্লের জন্য TECNO CAMON 50 বিবেচনা করা যায়।

৪০ হাজার টাকার মধ্যে 5G ফোন পাওয়া যায়?

হ্যাঁ। Redmi Note 15 5G এবং Samsung Galaxy A17 5G-এর মতো ফোন এই বাজেটের মধ্যে পাওয়া যাচ্ছে। Redmi Note 15 5G-এর অফিসিয়াল বাংলাদেশি দাম ৩৬,৯৯৯ টাকা + VAT।

সবচেয়ে বড় ব্যাটারির ফোন কোনটি?

এই তালিকায় vivo Y500-এর ৮,১০০mAh ব্যাটারি সবচেয়ে বড়। OPPO A6s Pro-তে ৭,০০০mAh এবং TECNO CAMON 50-এ ৬,৫০০mAh ব্যাটারি রয়েছে।

ক্যামেরার জন্য কোন ফোনটি ভালো?

Redmi Note 15 5G-তে ১০৮MP main camera, TECNO CAMON 50-এ ৫০MP OIS main camera এবং OPPO A6s Pro-তে ৫০MP main ও ৫০MP selfie camera রয়েছে। তাই শুধু megapixel নয়, OIS, sensor ও camera setup বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া ভালো।

৪০ হাজার টাকার ফোনে 5G নেওয়া কি জরুরি?

আপনি যদি দীর্ঘদিন ফোন ব্যবহার করতে চান এবং আপনার এলাকায় 5G সুবিধা ব্যবহার করার পরিকল্পনা থাকে, তাহলে 5G ফোন নেওয়া ভবিষ্যতের জন্য বেশি সুবিধাজনক। তবে 5G প্রয়োজন না হলে বড় ব্যাটারি, ক্যামেরা বা দ্রুত charging-কে অগ্রাধিকার দেওয়া যেতে পারে।

তানভির ইসলাম/

পাঠকের মতামত: