ঢাকা, বুধবার, ৭ অক্টোবর ২০২৬, ২২ আশ্বিন ১৪৩৩

২৪ বছর পর ‘ফায়ার’ নিয়ে মান্নার সেই ভিডিওতে যা জানা গেল

বিনোদন ডেস্ক . ২৪আপডেটনিউজ
২০২৬ অক্টোবর ০৭ ১৭:২৯:৪৯
২৪ বছর পর ‘ফায়ার’ নিয়ে মান্নার সেই ভিডিওতে যা জানা গেল

একটি সিনেমা ঘিরে তৈরি হয়েছিল বিতর্ক, আর সেই বিতর্কের কেন্দ্রে উঠে এসেছিল চিত্রনায়ক মান্নার নাম। ২০০২ সালে মুক্তি পাওয়া ‘ফায়ার’ সিনেমায় অশ্লীল দৃশ্য থাকার অভিযোগের পর প্রশ্ন উঠেছিল, সিনেমাটিতে মান্নার সম্পৃক্ততা কতটা ছিল। ২৪ বছর পর সামনে আসা তাঁর একটি পুরোনো ভিডিও সেই প্রশ্নের নতুন একটি দিক সামনে এনেছে। সেখানে মান্না জানিয়েছেন, সিনেমাটির কাজ অর্ধেক হওয়ার পরই তিনি আর শুটিংয়ে ফেরেননি। এমনকি পরে ‘ফায়ার’-এর ডাবিংয়েও তাঁর অংশ নেওয়া হয়নি।

মান্নার প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান কৃতাঞ্জলি থেকে পাওয়া ভিডিওটিতে মূলত নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেছেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, সিনেমাটির সব কাজ তাঁর নিয়ন্ত্রণে ছিল না। তবে নিজের অভিনয়ের ক্ষেত্রে তিনি কোনো অশ্লীল দৃশ্যে অংশ নেননি বলে দৃঢ়ভাবে দাবি করেছেন।

সিনেমার মাঝপথেই থেমে যায় মান্নার কাজ

‘ফায়ার’-এর পুরো নির্মাণপ্রক্রিয়ায় মান্না ছিলেন না—এমন তথ্যই উঠে এসেছে তাঁর নিজের বক্তব্য ও স্ত্রী শেলী মান্নার ভাষ্যে।

পুরোনো ভিডিওতে মান্না জানান, সিনেমাটির অর্ধেক কাজ করার পর তিনি আর শুটিং করেননি। পরবর্তী পর্যায়ে নিজের চরিত্রের জন্য কণ্ঠও দেননি তিনি।

শেলী মান্নার বক্তব্যও বলছে, ২০০২ সালে সিনেমাটি মুক্তি পেলেও এর সম্পূর্ণ কাজ মান্না শেষ করেননি। তাঁর দাবি, মান্না সরে যাওয়ার পর তাঁর জায়গায় ডামি ব্যবহার করে কিছু দৃশ্য ধারণ করা হয়েছিল।

বিতর্কিত দৃশ্য নিয়ে মান্নার অবস্থান কী ছিল

‘ফায়ার’ মুক্তির পর কয়েকটি দৃশ্য নিয়ে দর্শক ও সমালোচকদের মধ্যে বিতর্ক তৈরি হয়। সেই বিতর্কের প্রেক্ষাপটে মান্নার পুরোনো ভিডিওতে উঠে আসে তাঁর নিজের অবস্থান।

মান্না বলেন, একটি সিনেমায় তাঁর সহশিল্পী, পরিচালক কিংবা প্রযোজক পরবর্তী সময়ে কী করছেন, তার প্রতিটি বিষয় একজন শিল্পীর পক্ষে সবসময় যাচাই করা সম্ভব নয়। সিনেমার পুরো কাজ তাঁর হাতে ছিল না বলেও তিনি বোঝান।

তবে নিজের অভিনয় নিয়ে কোনো দ্বিধা রাখেননি তিনি। তাঁর দাবি, অশ্লীল কোনো দৃশ্যে তিনি অভিনয় করেননি।

প্রযোজকের সঙ্গে বিরোধের কথাও জানান শেলী

শেলী মান্নার বক্তব্য অনুযায়ী, সিনেমাটি নিয়ে মান্নার সঙ্গে প্রযোজকের বিরোধ তৈরি হয়েছিল। তাঁর ভাষ্য, মান্না বুঝতে পেরেছিলেন—সিনেমায় এমন কিছু করা হচ্ছে, যা তাঁর নিজের অবস্থানের সঙ্গে যায় না।

এমনকি মান্নাকে ছাড়াই কিছু অপ্রাসঙ্গিক দৃশ্যের শুটিং করা হয়েছে বলে তাঁর ধারণা হয়েছিল। এর বাইরে পাইরেসিসসহ আরও কয়েকটি বিষয় নিয়েও প্রযোজকের সঙ্গে তাঁর বিরোধ দেখা দেয়।

এসব ঘটনার ধারাবাহিকতাতেই শেষ পর্যন্ত ‘ফায়ার’ থেকে নিজেকে সরিয়ে নেন মান্না বলে জানান শেলী।

শুধু অশ্লীলতা নয়, শিডিউল নিয়েও ছিল জটিলতা

তৎকালীন চলচ্চিত্র অঙ্গনের পরিস্থিতির বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতির এক নেতা জানান, সেই সময়ে অনেক সিনেমায় অশ্লীল দৃশ্য যুক্ত করা হতো। মান্না এসবের বিরোধিতা করতেন।

ওই নেতার বক্তব্য অনুযায়ী, অশ্লীলতামুক্ত সামাজিক সিনেমা তৈরির জন্য কয়েকজন পরিচালক, ফাইট ডিরেক্টর ও কলাকুশলীকে নিয়ে উদ্যোগও নিয়েছিলেন মান্না।

তবে তাঁর মতে, ‘ফায়ার’ থেকে মান্নার সরে যাওয়ার পেছনে কেবল অশ্লীলতা নিয়ে আপত্তিই ছিল না। সিনেমাটির শিডিউল নিয়েও তাঁর জটিলতা তৈরি হয়েছিল। সব মিলিয়েই তিনি কাজটি ছেড়ে দেন বলে দাবি করেন ওই নেতা।

চলচ্চিত্রে অশ্লীলতার বিরুদ্ধে একাই লড়েছিলেন মান্না

অশ্লীলতার বিরুদ্ধে মান্নার অবস্থান ছিল দীর্ঘদিনের। তিনি নিজেই জানিয়েছিলেন, বাংলাদেশ ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে অশ্লীলতার বিরুদ্ধে তিনি সবসময় প্রতিবাদ করে এসেছেন।

শেলী মান্নার বক্তব্যেও সেই অবস্থানের কথা এসেছে। তিনি জানান, মান্না কখনো অশ্লীল সিনেমায় অভিনয় করতে আগ্রহী ছিলেন না। বরং এ ধরনের সিনেমা নির্মাণের বিরোধিতা করতেন।

একপর্যায়ে অশ্লীলতার বিরুদ্ধে তাঁর অবস্থান অনেকটাই একার লড়াইয়ে পরিণত হয়েছিল বলেও জানান শেলী।

পুরোনো ভিডিওতে মান্নাকেও এ নিয়ে হতাশা ও ক্লান্তির কথা বলতে শোনা যায়। তাঁর বক্তব্য ছিল, একজনের পক্ষে একা দীর্ঘদিন অশ্লীলতার বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়। প্রতিবাদ করতে গিয়ে তাঁকে নানা আলোচনা ও সমালোচনার মধ্য দিয়েও যেতে হয়েছিল।

‘ফায়ার’-এর নির্মাতা ও নায়িকা

‘ফায়ার’ সিনেমার পরিচালক ও প্রযোজক ছিলেন মোহাম্মদ হোসেন। এতে নায়িকার ভূমিকায় অভিনয় করেন পলি।

তবে সিনেমাটি নিয়ে যে অভিযোগ ও বিতর্ক তৈরি হয়েছে, সে বিষয়ে মোহাম্মদ হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। কারণ বর্তমানে তিনি দেশের বাইরে অবস্থান করছেন।

ফলে ২৪ বছর পর প্রকাশ্যে আসা মান্নার পুরোনো ভিডিও এবং তাঁর স্ত্রী শেলী মান্না ও তৎকালীন চলচ্চিত্র অঙ্গনের এক নেতার বক্তব্যের ভিত্তিতেই ‘ফায়ার’ থেকে মান্নার সরে দাঁড়ানোর কারণের বিভিন্ন দিক সামনে এসেছে।

FAQ

‘ফায়ার’ সিনেমা থেকে মান্না কি পুরো কাজ শেষ করে সরে গিয়েছিলেন?

না। মান্নার নিজের বক্তব্য অনুযায়ী, সিনেমাটির অর্ধেক কাজ করার পর তিনি আর শুটিং করেননি। পরে ডাবিংয়েও অংশ নেননি।

‘ফায়ার’-এর অশ্লীল দৃশ্যে মান্না অভিনয় করেছিলেন কি?

মান্না পুরোনো ভিডিওতে এই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন। তাঁর দাবি, তিনি কোনো অশ্লীল দৃশ্যে অভিনয় করেননি।

মান্না কেন সিনেমাটি থেকে সরে দাঁড়ান বলে শেলী মান্না জানিয়েছেন?

শেলী মান্নার ভাষ্য অনুযায়ী, সিনেমায় তাঁর অবস্থানের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ কিছু কাজ হচ্ছিল বলে মান্নার ধারণা হয়েছিল। তাঁকে ছাড়াই কিছু অপ্রাসঙ্গিক দৃশ্যের শুটিং, পাইরেসিসহ আরও কিছু বিষয় নিয়ে প্রযোজকের সঙ্গে বিরোধও তৈরি হয়েছিল।

‘ফায়ার’ নিয়ে শিডিউল সমস্যা হয়েছিল কি?

চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতির এক নেতার বক্তব্য অনুযায়ী, অশ্লীলতা নিয়ে আপত্তির পাশাপাশি ‘ফায়ার’-এর শিডিউল নিয়েও মান্নার জটিলতা তৈরি হয়েছিল।

‘ফায়ার’ সিনেমাটি কারা করেছিলেন?

সিনেমাটি পরিচালনা ও প্রযোজনা করেন মোহাম্মদ হোসেন। এতে নায়িকার চরিত্রে অভিনয় করেন পলি।

তানভির ইসলাম/

পাঠকের মতামত: