ঢাকা, বুধবার, ৭ অক্টোবর ২০২৬, ২২ আশ্বিন ১৪৩৩

অনলাইনে জন্ম নিবন্ধন করবেন যেভাবে, জানুন পুরো প্রক্রিয়া

জাতীয় ডেস্ক . ২৪আপডেটনিউজ
২০২৬ অক্টোবর ০৭ ১৭:৩৬:০৭
অনলাইনে জন্ম নিবন্ধন করবেন যেভাবে, জানুন পুরো প্রক্রিয়া

শিশুর জন্মের পর গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলোর একটি হলো জন্ম নিবন্ধন সম্পন্ন করা। সরকারি বিভিন্ন সেবা গ্রহণ থেকে শুরু করে স্কুলে ভর্তি, পাসপোর্ট, জাতীয় পরিচয়পত্র ও চাকরির মতো নানা কাজে পরবর্তী সময়ে জন্ম নিবন্ধন সনদ প্রয়োজন হতে পারে। তাই জন্মের পর দীর্ঘ সময় অপেক্ষা না করে দ্রুত নিবন্ধন করে নেওয়াই ভালো।

বর্তমানে জন্ম নিবন্ধনের আবেদন প্রক্রিয়ার বড় একটি অংশ অনলাইনেই সম্পন্ন করা যায়। জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধনের সরকারি ওয়েবসাইট BDRIS ব্যবহার করে ঘরে বসে আবেদন শুরু করা সম্ভব। তবে আবেদন অনলাইনে জমা দিলেই সঙ্গে সঙ্গে সনদ পাওয়া যায় না। তথ্য যাচাই ও প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষ হওয়ার পর জন্ম নিবন্ধন সম্পন্ন হয়।

জন্মের ৪৫ দিনের মধ্যে করলে ফি নেই

জন্ম নিবন্ধনের ক্ষেত্রে সময়ের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। শিশুর জন্মের ৪৫ দিনের মধ্যে নিবন্ধন করলে কোনো ফি দিতে হয় না। ৪৫ দিন পেরিয়ে গেলে বয়স অনুযায়ী নিবন্ধন ফি প্রযোজ্য হয়।

৪৫ দিন থেকে ৫ বছর পর্যন্ত বয়স হলে নিবন্ধনের জন্য ২৫ টাকা এবং ৫ বছরের বেশি বয়স হলে ৫০ টাকা ফি দিতে হয়। জন্মতারিখ সংশোধনের আবেদন করলে এর জন্য ১০০ টাকা ফি রয়েছে।

তাই শুধু খরচের বিষয়টি নয়, ভবিষ্যতে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের ঝামেলা এড়াতেও শিশুর জন্মের পর দ্রুত নিবন্ধন করা সুবিধাজনক।

কোথা থেকে অনলাইনে আবেদন করবেন

জন্ম নিবন্ধনের অনলাইন আবেদন করতে জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধনের সরকারি ওয়েবসাইট BDRIS-এ প্রবেশ করতে হবে। সেখানে ‘জন্ম নিবন্ধন আবেদন’ নির্বাচন করার পর আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হবে।

আবেদনের শুরুতেই নিবন্ধনটি কোন ঠিকানার ভিত্তিতে করা হবে, সেটি নির্বাচন করতে হয়। জন্মস্থান, স্থায়ী ঠিকানা অথবা বিদেশে অবস্থান করলে বাংলাদেশ দূতাবাসের ঠিকানার ভিত্তিতে আবেদন করার সুযোগ রয়েছে।

শিশুর কোন কোন তথ্য দিতে হবে

আবেদনপত্রে প্রথমেই নিবন্ধনাধীন ব্যক্তির পরিচয়সংক্রান্ত তথ্য দিতে হবে। নাম বাংলা ও ইংরেজি—দুই ভাষাতেই লিখতে হবে। পাশাপাশি জন্মতারিখ, লিঙ্গ, পিতা-মাতার কততম সন্তান এবং ধর্মসহ প্রয়োজনীয় তথ্য দিতে হবে।

এর সঙ্গে জন্মস্থানের বিস্তারিত ঠিকানাও পূরণ করতে হবে। দেশ, বিভাগ, জেলা, সিটি করপোরেশন বা উপজেলা, পৌরসভা বা ইউনিয়ন, ওয়ার্ড, ডাকঘর এবং গ্রাম বা মহল্লার তথ্য প্রয়োজন হতে পারে। প্রযোজ্য ক্ষেত্রে বাড়ি ও সড়কের তথ্যও দিতে হবে।

বাবা-মায়ের তথ্য দেওয়ার ক্ষেত্রে যা জানা দরকার

জন্ম নিবন্ধনের আবেদনে পিতা ও মাতার পরিচয়ও দিতে হয়। তাঁদের জন্ম নিবন্ধন নম্বর, জন্মতারিখ, বাংলা ও ইংরেজি নাম এবং জাতীয়তার তথ্য দিতে হবে। প্রয়োজন অনুযায়ী জাতীয় পরিচয়পত্র বা পাসপোর্টের তথ্যও দিতে হতে পারে।

তবে এ ক্ষেত্রে বয়সভেদে নিয়ম আলাদা। নিবন্ধনাধীন ব্যক্তির বয়স ১৮ বছরের কম হলে পিতা ও মাতার জন্ম নিবন্ধন বাধ্যতামূলক। অন্যদিকে, বয়স ১৮ বছরের বেশি হলে পিতা-মাতার জন্ম নিবন্ধন বাধ্যতামূলক নয়।

বর্তমান ও স্থায়ী ঠিকানাও দিতে হবে

আবেদনের সময় বর্তমান ঠিকানা এবং স্থায়ী ঠিকানার তথ্য দিতে হবে। জন্মস্থানের ঠিকানা ও স্থায়ী ঠিকানা একই হলে সংশ্লিষ্ট অপশন ব্যবহার করে একই তথ্য দেওয়া যায়।

এই অংশে তথ্য দেওয়ার সময় ঠিকানার বানান ও অন্যান্য বিবরণ ভালোভাবে মিলিয়ে নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ। কারণ আবেদনে দেওয়া তথ্য পরবর্তী জন্ম নিবন্ধন সনদেও প্রভাব ফেলবে।

প্রয়োজনীয় নথি আপলোড করতে হবে

অনলাইন আবেদনের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হলো প্রয়োজনীয় নথি সংযুক্ত করা। বয়স প্রমাণের প্রমাণক এবং স্থায়ী ঠিকানার প্রমাণকসহ প্রয়োজনীয় সহায়ক কাগজপত্রের ছবি আপলোড করতে হতে পারে।

BDRIS-এ নথি আপলোডের ক্ষেত্রে JPG, JPEG ও PNG ফাইল ব্যবহার করা যায়। প্রতিটি ফাইলের সর্বোচ্চ আকার ২ মেগাবাইট।

তবে প্রত্যেক আবেদনকারীর ক্ষেত্রে একই ধরনের কাগজপত্র প্রয়োজন নাও হতে পারে। বয়স ও আবেদনের পরিস্থিতি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় নথি প্রস্তুত করে নেওয়া উচিত।

মোবাইল নম্বর যাচাইয়ের পর আবেদন জমা

আবেদনপত্রের প্রয়োজনীয় সব তথ্য পূরণ এবং নথি সংযুক্ত করার পর মোবাইল নম্বর যাচাই করতে হবে। বাংলাদেশ থেকে আবেদন করা হলে নির্ধারিত মোবাইল নম্বরে OTP পাঠানো হয়।

OTP দিয়ে যাচাই সম্পন্ন করার পর আবেদনটি জমা দেওয়া যাবে। তাই আবেদন করার সময় সচল মোবাইল নম্বর ব্যবহার করা জরুরি।

আবেদন করলেই কি সঙ্গে সঙ্গে সনদ পাওয়া যায়?

না। অনলাইনে আবেদন জমা দেওয়ার অর্থ জন্ম নিবন্ধন সনদ সঙ্গে সঙ্গে পাওয়া নয়।

আবেদন সম্পন্ন করার পর প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়ার জন্য আবেদনপত্র প্রিন্ট করে সংশ্লিষ্ট নিবন্ধন কার্যালয়ে যোগাযোগ করতে হতে পারে। এরপর তথ্য যাচাই ও নিবন্ধনের আনুষ্ঠানিকতা শেষ হলে সনদ দেওয়ার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়।

বাংলা ও ইংরেজি উভয় ভাষায় মূল সনদ বা নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে সনদের কপি বিনামূল্যে পাওয়া যায়।

জন্ম নিবন্ধনের তথ্য পরে যাচাই করে নিন

নিবন্ধন সম্পন্ন হওয়ার পর তথ্য সঠিক আছে কি না, তা যাচাই করে নেওয়া ভালো। সরকারি যাচাই সেবার মাধ্যমে জন্ম নিবন্ধনের তথ্য মিলিয়ে দেখা যায়।

এ জন্য প্রয়োজন হবে ১৭ অংকের জন্ম নিবন্ধন নম্বর এবং জন্মতারিখ। যাচাইয়ের সময় নামের বানান, জন্মতারিখ, বাবা-মায়ের তথ্যসহ গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো মিলিয়ে দেখা উচিত।

আবেদন করার সময় যে ভুলগুলো এড়িয়ে চলবেন

জন্ম নিবন্ধনের ক্ষেত্রে শুরুতেই সঠিক তথ্য দেওয়া সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। নামের বানান, জন্মতারিখ, বাবা-মায়ের তথ্য কিংবা ঠিকানায় ভুল থাকলে পরবর্তী সময়ে তা সংশোধনের জন্য আলাদা প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হতে পারে।

তাই ফরম পূরণ শেষ করার পর সাবমিট করার আগে প্রতিটি তথ্য আবার যাচাই করে নেওয়া উচিত। বিশেষ করে বাংলা ও ইংরেজি নামের বানান এবং জন্মতারিখের ক্ষেত্রে বাড়তি সতর্ক থাকা দরকার।

জন্ম নিবন্ধন ভবিষ্যতের বিভিন্ন সরকারি ও নাগরিক সেবার সঙ্গে যুক্ত থাকায় এটি শুধু একটি সনদ সংগ্রহের বিষয় নয়। শিশুর জন্মের পর নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সঠিক তথ্য দিয়ে নিবন্ধনের আবেদন করে প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করাই সবচেয়ে নিরাপদ পদ্ধতি।

FAQ

অনলাইনে জন্ম নিবন্ধনের আবেদন কোথায় করতে হয়?

জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধনের সরকারি ওয়েবসাইট BDRIS-এ গিয়ে ‘জন্ম নিবন্ধন আবেদন’ অপশন থেকে আবেদন করা যায়।

জন্মের কত দিনের মধ্যে নিবন্ধন করলে কোনো ফি লাগে না?

জন্মের ৪৫ দিনের মধ্যে জন্ম নিবন্ধন করলে কোনো ফি লাগে না।

জন্ম নিবন্ধনের আবেদন করতে বাবা-মায়ের জন্ম নিবন্ধন কি বাধ্যতামূলক?

নিবন্ধনাধীন ব্যক্তির বয়স ১৮ বছরের কম হলে পিতা ও মাতার জন্ম নিবন্ধন বাধ্যতামূলক। বয়স ১৮ বছরের বেশি হলে তা বাধ্যতামূলক নয়।

অনলাইনে আবেদন করার পর কি সঙ্গে সঙ্গে জন্ম নিবন্ধন সনদ পাওয়া যায়?

না। আবেদন জমা দেওয়ার পর তথ্য যাচাই ও প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হওয়ার পর সনদ দেওয়ার প্রক্রিয়া শেষ হয়।

জন্ম নিবন্ধনের তথ্য যাচাই করতে কী প্রয়োজন?

সরকারি যাচাই সেবায় তথ্য দেখতে ১৭ অংকের জন্ম নিবন্ধন নম্বর এবং জন্মতারিখ প্রয়োজন।

তানভির ইসলাম/

পাঠকের মতামত: