এক ধাক্কায় দারিদ্র্যসীমার নিচে যেতে পারে ৬ কোটি ২০ লাখ
বাংলাদেশের অর্থনীতিতে বড় ধরনের ধাক্কা এলে তার সবচেয়ে বড় অভিঘাত পড়তে পারে সাধারণ মানুষের জীবনে। বিশ্বব্যাংকের হিসাবে, এমন পরিস্থিতিতে প্রায় ৬ কোটি ২০ লাখ মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে নেমে যেতে পারেন। এরই মধ্যে মূল্যস্ফীতি, আয় কমে যাওয়া এবং জ্বালানি সংকট মানুষের জীবনযাত্রাকে চাপে ফেলেছে। ফলে কয়েক দশকে দারিদ্র্য কমানোর যে অগ্রগতি হয়েছিল, সেটি ধরে রাখাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
মঙ্গলবার প্রকাশিত বিশ্বব্যাংকের ‘বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট আপডেট’ প্রতিবেদনে দেশের অর্থনীতির বর্তমান দুর্বলতা, দারিদ্র্যের পরিবর্তন, কর্মসংস্থান, সামাজিক সুরক্ষা এবং জ্বালানি ভর্তুকির নানা দিক তুলে ধরা হয়েছে।
প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ সালে দেশে দারিদ্র্যের হার ছিল ১৮ দশমিক ৭ শতাংশ। ২০২৬ সালে সেটি বেড়ে ২২ দশমিক ৫ শতাংশ হতে পারে। একই সময়ে দিনে ৩ ডলারের আন্তর্জাতিক দারিদ্র্যসীমা অনুযায়ী চরম দারিদ্র্যের হার ৫ দশমিক ৯ শতাংশ থেকে বেড়ে ১০ দশমিক ১ শতাংশে পৌঁছাতে পারে।
চার বছরের মূল্যস্ফীতিতে কমেছে মানুষের ক্রয়ক্ষমতা
দারিদ্র্য পরিস্থিতির এই অবনতির পেছনে মূল্যস্ফীতিকে অন্যতম বড় কারণ হিসেবে দেখছে বিশ্বব্যাংক। গত চার বছর ধরে পণ্যের দাম বেশি থাকায় মানুষের প্রকৃত ক্রয়ক্ষমতা কমেছে। অর্থাৎ আয় থাকলেও আগের মতো প্রয়োজনীয় পণ্য ও সেবা কেনার সক্ষমতা থাকছে না।
এর সঙ্গে অর্থনীতির ধীর গতি যোগ হওয়ায় কাজের সুযোগ এবং আয়—দুই ক্ষেত্রেই চাপ তৈরি হয়েছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের উচ্চ দাম পরিস্থিতিকে আরও কঠিন করেছে।
বিশ্বব্যাংকের ধারণা, শুধু ২০২৬ অর্থবছরেই দারিদ্র্যের হার ১ দশমিক ১ শতাংশীয় পয়েন্ট বাড়তে পারে। ২০২৫ অর্থবছরের পর নতুন করে প্রায় ২১ লাখ মানুষ দারিদ্র্যের মধ্যে পড়েছে।
জ্বালানি সংকটে থমকে যাচ্ছে কর্মসংস্থান
দারিদ্র্যের চাপ বাড়ার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ হয়ে উঠেছে জ্বালানি সংকট। জ্বালানির অনিশ্চিত সরবরাহে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমের সময় কমেছে। কিছু কারখানাকে উৎপাদনও বন্ধ রাখতে হয়েছে।
এর প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়েছে শিল্প খাতে। উৎপাদন কমার পাশাপাশি নতুন কর্মসংস্থান তৈরির সুযোগও সংকুচিত হয়েছে।
শ্রমবাজারে সাম্প্রতিক সময়ে নারীদের ওপর এই চাপ তুলনামূলক বেশি পড়েছে। তবে কত মানুষ চাকরি হারিয়েছেন, সেই সংখ্যা এখনই নির্দিষ্ট করে বলা যাচ্ছে না। কারণ ২০২৫ সালের পর শ্রমশক্তি জরিপের নতুন তথ্য পাওয়া যায়নি। এ কারণে শ্রমবাজারের সামগ্রিক অবনতির সুনির্দিষ্ট চিত্র পাওয়া কঠিন বলে জানিয়েছে বিশ্বব্যাংক।
অর্থাৎ যে পরিবারগুলোর হাতে সঞ্চয় বা অর্থনৈতিক ধাক্কা সামলানোর সক্ষমতা কম, তারাই এখন একাধিক সংকটের মুখোমুখি হচ্ছে।
সহায়তা দিচ্ছে সরকার, কিন্তু করের চাপও বাড়ছে
দরিদ্র মানুষকে সহায়তা করার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের রাজস্ব কাঠামোর কার্যকারিতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে বিশ্বব্যাংক।
২০২২ সালের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, প্রত্যক্ষ কর ও বিভিন্ন সরকারি সহায়তা বৈষম্য ও দারিদ্র্য কমাতে ভূমিকা রেখেছিল। জিনি সহগ ৫২ দশমিক ৪ থেকে ৫০ দশমিক ৭-এ নেমেছিল। একই সময়ে দারিদ্র্যের হার ১৯ দশমিক ৬ শতাংশ থেকে ১৮ দশমিক ৮ শতাংশে কমেছিল।
কিন্তু পরোক্ষ করের প্রভাব হিসাবের মধ্যে আনলে পরিস্থিতি বদলে যায়। জিনি সহগ আবার বেড়ে ৫১ দশমিক ৪ হয় এবং দারিদ্র্যের হারও ২০ দশমিক ৬ শতাংশে উঠে যায়।
বিশ্বব্যাংকের বিশ্লেষণের অর্থ হলো, সরকারি সহায়তা দরিদ্র পরিবারকে যে সুবিধা দিচ্ছে, পরোক্ষ করের বোঝা তার বড় অংশ কমিয়ে দিচ্ছে। ফলে দরিদ্র পরিবারগুলো সরকারের কাছ থেকে পাওয়া সুবিধার তুলনায় বেশি অর্থ কর হিসেবে পরিশোধ করছে।
মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত নতুন চাপ তৈরি করেছে
দেশের অভ্যন্তরীণ দুর্বলতার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক পরিস্থিতিও বাংলাদেশের অর্থনীতিতে বাড়তি ঝুঁকি তৈরি করেছে। প্রতিবেদনে চলমান ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধের প্রভাবও তুলে ধরা হয়েছে।
বিশ্বব্যাংকের মতে, বাংলাদেশের আর্থিক খাত, রাজস্ব ব্যবস্থা, জ্বালানি এবং সরকারি বিনিয়োগে দীর্ঘদিনের কাঠামোগত দুর্বলতা অর্থনীতির সংকট মোকাবিলার সক্ষমতা কমিয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত সেই দুর্বলতার ওপর আরও চাপ সৃষ্টি করেছে।
যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্ববাজারে জ্বালানি ও সারের দাম বেড়েছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশের আমদানি ব্যয়ে।
বিশ্বব্যাংকের হিসাবে, বাংলাদেশের জ্বালানি তেল আমদানির বিল ১০৭ শতাংশ বেড়েছে। একই সময়ে সারের আমদানি বেড়েছে ৪২ শতাংশ।
এই সংঘাত দীর্ঘ হলে জ্বালানি আমদানির ব্যয় আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। সেক্ষেত্রে সরকারের ভর্তুকি ব্যয় বাড়ার পাশাপাশি রাজস্বের ওপর চাপ তৈরি হবে। দীর্ঘস্থায়ী জ্বালানি সংকট বেসরকারি বিনিয়োগ ও শিল্প খাতের পুনরুদ্ধারকেও পিছিয়ে দিতে পারে।
বিশ্বব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশ ছাড়া দক্ষিণ এশিয়ার বেশিরভাগ দেশে মূল্যস্ফীতি এখন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের লক্ষ্যমাত্রার মধ্যে অথবা তার নিচে রয়েছে।
সামাজিক সুরক্ষার বড় সমস্যা ব্যবস্থাপনায়
অর্থনৈতিক সংকটে মানুষের পাশে দাঁড়াতে সরকার একদিকে জ্বালানি ও সার ভর্তুকি দিচ্ছে, অন্যদিকে বিভিন্ন সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি পরিচালনা করছে। কিন্তু এসব উদ্যোগের কাঠামো নিয়ে বিশ্বব্যাংকের উদ্বেগ রয়েছে।
প্রতিষ্ঠানটির মতে, সমস্যা মূলত সামাজিক সুরক্ষায় কত টাকা ব্যয় হচ্ছে, সেটি নয়। বড় দুর্বলতা প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনায়।
২০২৬ সালে ২৫টি মন্ত্রণালয়ের অধীনে ৯০টি সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি চলছে। এত বেশি কর্মসূচি আলাদাভাবে পরিচালিত হওয়ায় সহায়তার পরিমাণ ও কার্যকারিতা কমে যাচ্ছে।
যোগ্যতা নির্ধারণের নিয়ম একেক কর্মসূচিতে একেক রকম। একই ব্যক্তি একাধিক তালিকায় থাকতে পারেন। আবার সহায়তা পৌঁছানোর প্রক্রিয়াও জটিল। এসব কারণে প্রশাসনিক ব্যয় বাড়ছে এবং প্রয়োজনের সময় সবচেয়ে দরিদ্র পরিবারগুলোর একটি অংশ সহায়তা থেকে বাদ পড়ছে।
বিশ্বব্যাংকের হিসাবে, দেশের সবচেয়ে দরিদ্র ২০ শতাংশ পরিবারের ৬২ শতাংশ সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির সুবিধার বাইরে রয়েছে। অথচ সবচেয়ে ধনী ২০ শতাংশ পরিবারের ১৮ শতাংশ এসব কর্মসূচির সুবিধা পাচ্ছে।
ফ্যামিলি কার্ড কতটা কাজে আসতে পারে
এই বাস্তবতায় সরকারের ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচিতে সম্ভাবনা দেখছে বিশ্বব্যাংক। পরিবারকে কেন্দ্র করে সহায়তা দেওয়ার জন্য এটি একটি অভিন্ন প্ল্যাটফর্ম হতে পারে বলে মনে করছে প্রতিষ্ঠানটি।
তবে কর্মসূচির ফল নির্ভর করবে সুবিধাভোগী নির্বাচনের নির্ভুলতার ওপর। পুরোনো কর্মসূচিগুলোর মতো ভুল তালিকা তৈরি হলে ফ্যামিলি কার্ড থেকেও কাঙ্ক্ষিত সুফল মিলবে না।
বিশ্বব্যাংকের হিসাব বলছে, বর্তমানে চালু সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচিগুলো দারিদ্র্যের হার প্রায় ৩ দশমিক ০৫ শতাংশীয় পয়েন্ট কমাতে পারে।
ফ্যামিলি কার্ড চালু হলে এবং সুবিধাভোগী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে একই ধরনের ভুল থাকলেও দারিদ্র্যের হার আরও শূন্য দশমিক ৯৫ শতাংশীয় পয়েন্ট কমতে পারে। এর মাধ্যমে প্রায় ১৫ লাখ ৮০ হাজার মানুষ দারিদ্র্য থেকে বেরিয়ে আসার সুযোগ পেতে পারেন।
আর ফ্যামিলি কার্ডের পাশাপাশি বয়স্ক ও বিধবা ভাতার তালিকা আরও নির্ভুল করা এবং একটি সমন্বিত খাদ্য সহায়তা কর্মসূচি চালু করা গেলে দারিদ্র্যের হার ১ দশমিক ৭২ শতাংশীয় পয়েন্ট কমতে পারে। এতে প্রায় ২৮ লাখ ৫০ হাজার মানুষ দারিদ্র্য থেকে বেরিয়ে আসতে পারে। এই উদ্যোগ বাস্তবায়নে অতিরিক্ত ব্যয় হবে জিডিপির শূন্য দশমিক ২১ শতাংশ।
বিদ্যুৎ ভর্তুকির বড় অংশ যাচ্ছে তুলনামূলক ধনীদের কাছে
বাংলাদেশের ভর্তুকি ব্যবস্থার আরেকটি বড় দিক সামনে এসেছে বিদ্যুৎ খাতে। গত এক দশকে বিদ্যুৎ ও গ্যাসে সরকারের ব্যয় কয়েক গুণ বেড়েছে।
২০১৪ অর্থবছরে এই দুই খাতে ভর্তুকি ছিল ৮ হাজার ৫৮০ কোটি টাকা। ২০২৫ অর্থবছরে সেটি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮৩ হাজার ৬০০ কোটি টাকা, যা জিডিপির ১ দশমিক ৫ শতাংশ। এর মধ্যে ৭০ থেকে ৯০ শতাংশ ব্যয় হয় বিদ্যুৎ খাতে।
গ্রাহকের কাছ থেকে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের গড় মূল্য নেওয়া হচ্ছে ১০ টাকা ৬৩ পয়সা। কিন্তু বিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যবহৃত গ্যাসের ভর্তুকিও ধরলে প্রতি ইউনিটের প্রকৃত খরচ ১৫ টাকা ১৬ পয়সা।
ফলে প্রতি ইউনিটে ঘাটতি দাঁড়াচ্ছে ৪ টাকা ৫৩ পয়সা। এই ঘাটতি পূরণে সরকারের সহায়তা জিডিপির প্রায় ১ দশমিক ১ শতাংশের সমান।
কিন্তু এই অর্থের সুবিধা সমাজের সব শ্রেণির মধ্যে সমানভাবে বণ্টিত হচ্ছে না। আবাসিক গ্রাহকেরা মোট বিদ্যুৎ ভর্তুকির প্রায় ৭২ শতাংশ পান। সবচেয়ে ধনী ২০ শতাংশ পরিবারের অংশ ৩৩ শতাংশ, আর সবচেয়ে দরিদ্র ২০ শতাংশ পরিবারের অংশ মাত্র ১৫ দশমিক ৪ শতাংশ।
সবচেয়ে দরিদ্র ৪০ শতাংশ মানুষ একসঙ্গে মোট ভর্তুকির মাত্র ৩০ শতাংশ পায়।
তবে দরিদ্র পরিবারের আয়ের তুলনায় এই ভর্তুকির গুরুত্ব বেশি। বিদ্যুতের কম দাম এবং ভর্তুকিযুক্ত বিদ্যুৎ ব্যবহার করে উৎপাদিত পণ্যের কম দামের সুবিধা মিলিয়ে সবচেয়ে দরিদ্র ২০ শতাংশ পরিবারের ক্ষেত্রে এর মূল্য তাদের কর-পূর্ব আয়ের ১৮ দশমিক ১ শতাংশ। ধনী ২০ শতাংশ পরিবারের ক্ষেত্রে এই হার ২ দশমিক ৩ শতাংশ।
ভর্তুকি উঠলে ৪৭ লাখ মানুষ নতুন করে দরিদ্র হতে পারেন
বিশ্বব্যাংক বলছে, কোনো বিকল্প সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থা না রেখে বিদ্যুৎ ভর্তুকি পুরোপুরি প্রত্যাহার করলে এর সামাজিক মূল্যও কম হবে না।
এমন সিদ্ধান্তে দারিদ্র্যের হার ২ দশমিক ৮ শতাংশীয় পয়েন্ট বেড়ে যেতে পারে। তাৎক্ষণিকভাবে প্রায় ৪৭ লাখ মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে চলে যাওয়ার ঝুঁকিতে পড়বেন।
একই সঙ্গে বিদ্যুতের বিল এবং উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় আয়-বৈষম্যের সূচক জিনি সহগ ১ দশমিক ৬ পয়েন্ট বাড়তে পারে।
গ্যাসের ওপর নির্ভরতা কমাতে নতুন চ্যালেঞ্জ
বিদ্যুৎ খাতের সমস্যা শুধু ভর্তুকিতে সীমাবদ্ধ নয়। শিল্প উৎপাদন, রপ্তানি, বেসরকারি বিনিয়োগ এবং কর্মসংস্থানের জন্য নির্ভরযোগ্য ও সাশ্রয়ী জ্বালানি নিশ্চিত করাও বড় প্রয়োজন।
দেশীয় গ্যাস দীর্ঘদিন বাংলাদেশের জ্বালানি ব্যবস্থার প্রধান ভিত্তি ছিল। কিন্তু পুরোনো গ্যাসক্ষেত্রের মজুত কমে যাওয়ায় উৎপাদন কমেছে। একই সময়ে নতুন গ্যাস অনুসন্ধানের গতিও চাহিদার সঙ্গে তাল মেলাতে পারেনি।
এর ফলে ২০১৭ সালের পরিস্থিতির সঙ্গে বর্তমান অবস্থার বড় পার্থক্য তৈরি হয়েছে। সে সময় দেশের প্রাকৃতিক গ্যাসের চাহিদার প্রায় পুরোটাই স্থানীয় উৎপাদন দিয়ে পূরণ করা সম্ভব ছিল। এখন মোট চাহিদার এক-তৃতীয়াংশ মেটাতে আমদানি করা এলএনজির ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে।
অন্যদিকে বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্র বাড়ার কারণে উৎপাদন সক্ষমতা দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে। বর্তমানে দেশের মোট বিদ্যুৎ উৎপাদনের ৪৩ শতাংশ আসে বেসরকারি খাত থেকে।
তবু জ্বালানি সরবরাহের ঘাটতি এবং সঞ্চালন ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা বিদ্যুৎ খাতকে চাপের মধ্যে রেখেছে।
সমাধানের পথে জ্বালানি সরবরাহ ও সুশাসনে জোর
বিশ্বব্যাংকের মতে, এই পরিস্থিতিতে তাৎক্ষণিক অগ্রাধিকার হওয়া উচিত জ্বালানি সরবরাহকে স্থিতিশীল করা। পাশাপাশি বিদ্যুৎ খাতের ব্যবস্থাপনা ও সুশাসনেও উন্নতি প্রয়োজন।
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হলে বিদ্যুৎ সরবরাহ বাড়বে এবং গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের ওপর কিছুটা চাপ কমতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।
অন্যদিকে বড় ধরনের বিদ্যুৎ ভর্তুকি বাদ দেওয়া গেলে সরকারের আর্থিক সাশ্রয় হবে। বিশ্বব্যাংকের হিসাবে, সেই সাশ্রয়ের পরিমাণ জিডিপির ১ দশমিক ৯ শতাংশ।
বর্তমানে সবচেয়ে দরিদ্র ৪০ শতাংশ মানুষ এই ভর্তুকির এক-তৃতীয়াংশেরও কম সুবিধা পাচ্ছে। বিশ্বব্যাংকের হিসাব অনুযায়ী, ভর্তুকি তুলে নেওয়ার কারণে এই জনগোষ্ঠীর অতিরিক্ত ব্যয় পুরোপুরি компенসেট করা হলেও সরকার জিডিপির প্রায় শূন্য দশমিক ৬ শতাংশ সমপরিমাণ অর্থ সাশ্রয় করতে পারবে।
সব মিলিয়ে বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদনের মূল বার্তা হলো—বাংলাদেশের দারিদ্র্য কমানোর পুরোনো অর্জন এখন একাধিক দিক থেকে চাপে রয়েছে। মূল্যস্ফীতি মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমাচ্ছে, জ্বালানি সংকট কর্মসংস্থানকে বাধাগ্রস্ত করছে, সামাজিক সুরক্ষার সুবিধা সবার কাছে সমানভাবে পৌঁছাচ্ছে না এবং ভর্তুকির বড় অংশ তুলনামূলক সচ্ছল পরিবারগুলোর কাছেও যাচ্ছে। এই বাস্তবতায় বড় কোনো অর্থনৈতিক ধাক্কা এলে বিপুলসংখ্যক মানুষ দ্রুত দারিদ্র্যসীমার নিচে নেমে যেতে পারেন।
FAQ
প্রশ্ন: বড় অর্থনৈতিক ধাক্কা এলে কত মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে যেতে পারেন?
উত্তর: বিশ্বব্যাংকের হিসাবে, বড় ধরনের অর্থনৈতিক ধাক্কায় প্রায় ৬ কোটি ২০ লাখ মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে চলে যেতে পারেন।
প্রশ্ন: ২০২৬ সালে বাংলাদেশের দারিদ্র্যের হার কত হতে পারে?
উত্তর: ২০২৬ সালে দেশের দারিদ্র্যের হার ২২ দশমিক ৫ শতাংশে উঠতে পারে বলে বিশ্বব্যাংক জানিয়েছে।
প্রশ্ন: বাংলাদেশে দারিদ্র্য বাড়ার প্রধান কারণ কী?
উত্তর: গত চার বছরের উচ্চ মূল্যস্ফীতি, মানুষের প্রকৃত ক্রয়ক্ষমতা কমে যাওয়া, অর্থনীতির ধীর গতি এবং জ্বালানি সংকটকে দারিদ্র্য বৃদ্ধির গুরুত্বপূর্ণ কারণ হিসেবে প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়েছে।
প্রশ্ন: বিদ্যুৎ ভর্তুকি তুলে দিলে কত মানুষ দারিদ্র্যে পড়তে পারেন?
উত্তর: বিকল্প কোনো সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থা ছাড়া বিদ্যুৎ ভর্তুকি পুরোপুরি তুলে দিলে প্রায় ৪৭ লাখ মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে চলে যেতে পারেন।
প্রশ্ন: ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে কত মানুষ দারিদ্র্য থেকে বের হতে পারেন?
উত্তর: একই ধরনের সুবিধাভোগী বাছাইয়ের ভুল থাকলেও ফ্যামিলি কার্ড চালু হলে প্রায় ১৫ লাখ ৮০ হাজার মানুষ দারিদ্র্য থেকে বেরিয়ে আসতে পারেন। আর এর সঙ্গে বয়স্ক ও বিধবা ভাতায় বাছাই আরও নির্ভুল করা এবং সমন্বিত খাদ্য সহায়তা কর্মসূচি চালু হলে প্রায় ২৮ লাখ ৫০ হাজার মানুষ দারিদ্র্য থেকে বেরিয়ে আসতে পারেন।
আল-সাদ/
পাঠকের মতামত:
আপনার জন্য বাছাই করা কিছু নিউজ
- মুনাফার ধারাবাহিকতার পর বিএসআরএম স্টিলে আসছে বড় সিদ্ধান্ত
- আর্জেন্টিনা বনাম বেনিন ম্যাচ কখন, কোথায় কীভাবে লাইভ দেখবেন
- আজকের সোনার দাম: ১৮, ২১ ও ২২ ক্যারেটের দর
- আজকের টাকার রেট কত: কমেছে ১টি দেশের টাকার মান
- Vivo V80 কেনার আগে জেনে নিন এর ভালো-মন্দ, কার জন্য সেরা
- আজকের স্বার্ণের দাম: ১৮, ২১ ও ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের দর
- আর্জেন্টিনা বনাম বেনিন ম্যাচ: সময়, একাদশ ও লাইভ দেখার উপায়
- OPPO Find X10 Pro Max-এ তিন ২০০MP ক্যামেরা, ব্যাটারি ৮,০০০mAh
- আজকের সোনার দাম: ১৮, ২১ ও ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের ভরি কত
- মেসির শেষ ম্যাচ আজ, আর্জেন্টিনা-বেনিন কখন ও কোথায় দেখবেন