ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর ২০২৬, ২৩ আশ্বিন ১৪৩৩

শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ নিয়ে আবারও যা জানাল ভারত

রাজনীতি ডেস্ক . ২৪আপডেটনিউজ
২০২৬ অক্টোবর ০৮ ১৭:১৯:৫৪
শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ নিয়ে আবারও যা জানাল ভারত

শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর বিষয়ে ভারতের অবস্থানে আপাতত বড় কোনো পরিবর্তন নেই। নয়াদিল্লি বলছে, সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীকে প্রত্যাবাসনের প্রশ্নটি রাজনৈতিকভাবে নয়, নির্ধারিত আইনি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়েই নিষ্পত্তি করতে হবে। তাই এ বিষয়ে কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমাও এখন বলা যাচ্ছে না।

বুধবার (৭ অক্টোবর) ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিয়মিত ব্রিফিংয়ে মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল এ অবস্থান তুলে ধরেন। তাঁর বক্তব্যে একই সঙ্গে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের প্রসঙ্গও আসে। তিনি জানান, ভারত দুই দেশের সম্পর্ককে ‘ইতিবাচক, গঠনমূলক ও ভবিষ্যৎমুখী’ রাখতে চায় এবং সেই লক্ষ্যেই আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে।

প্রত্যর্পণের সিদ্ধান্ত কেন সময়সাপেক্ষ

শেখ হাসিনাকে দেশে ফেরানোর বিষয়টি কোন পথে এগোবে, তার একটি কাঠামোবদ্ধ আইনি ব্যবস্থা রয়েছে বলে জানিয়েছেন ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী।

সম্প্রতি রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে সেন্টার ফর গভর্নেন্স স্টাডিজ (সিজিএস) আয়োজিত বে অব বেঙ্গল কনভারসেশনের ‘পাওয়ার অ্যান্ড প্রুডেন্স’ সেশনে এ প্রসঙ্গে কথা বলেন তিনি।

সেখানে শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ নিয়ে প্রশ্ন করা হলে ত্রিবেদী জানান, এ ধরনের বিষয়ে বিচার বিভাগ ও আদালতের সরাসরি সম্পৃক্ততা রয়েছে। তাঁর ভাষায়, পুরো বিষয়টির জন্য একটি নির্দিষ্ট আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হয় এবং সেটি যথেষ্ট কাঠামোবদ্ধ। সে কারণেই কারও পক্ষে আগে থেকে নির্দিষ্ট সময়সীমা ঠিক করে দেওয়া সম্ভব নয়।

বাংলাদেশের আবেদন কী অবস্থায়

শেখ হাসিনাকে ফেরত চেয়ে বাংলাদেশ সরকার ভারতের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে আবেদন করেছে। তবে সেই আবেদনের নিষ্পত্তি এখনো হয়নি।

ভারতের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের অনুরোধটি দুই দেশের মধ্যে প্রতিষ্ঠিত দ্বিপক্ষীয় প্রত্যর্পণ চুক্তির পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট বিচারিক প্রক্রিয়ার আলোকে পরীক্ষা করা হচ্ছে। অর্থাৎ, আবেদনটি যাচাইয়ের ক্ষেত্রে নির্ধারিত আইনগত পথই অনুসরণ করা হচ্ছে এবং এ বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি।

২০২৪ সালের আগস্টের সেই পরিস্থিতি

শেখ হাসিনা কীভাবে ভারতে পৌঁছেছিলেন, সেই ঘটনাপ্রবাহ নিয়েও নিজের বক্তব্য দিয়েছেন ভারতীয় হাইকমিশনার।

২০২৪ সালের আগস্টে গণ-অভ্যুত্থানের মুখে শেখ হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর ভারতে আশ্রয় নেন। দীনেশ ত্রিবেদীর বক্তব্য অনুযায়ী, তাঁকে ভারতে নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা ভারত সরকার করেনি। এমনকি তাঁর আগমনকে কেন্দ্র করে দিল্লিরও আগে থেকে কোনো প্রস্তুতি ছিল না।

হাইকমিশনারের ভাষ্য অনুযায়ী, ভারতীয় বিমানবাহিনী বা সেনাবাহিনীর কোনো বাহন তাঁকে ভারতে নিয়ে যায়নি। বাংলাদেশে তখন তৈরি হওয়া চরম উদ্বেগজনক ও মর্মান্তিক পরিস্থিতির মধ্যেই তাঁকে বহনকারী সামরিক উড়োজাহাজ ভারতে পৌঁছায়।

সেই সময় কাগজে-কলমে শেখ হাসিনা বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন বলে উল্লেখ করেন ত্রিবেদী। তাঁর বক্তব্য, ওই পরিস্থিতিতে উড়োজাহাজটির অবতরণের অনুমতি দেওয়া ছাড়া ভারতের সামনে প্রায় কোনো বিকল্প ছিল না। নিকট প্রতিবেশী হিসেবে সেই পরিস্থিতি সামাল দেওয়াকে তিনি ভারতের দায়িত্ব হিসেবে ব্যাখ্যা করেন।

প্রত্যর্পণ ইস্যুর বাইরে যে বার্তা দিল ভারত

শেখ হাসিনাকে ফেরানোর প্রশ্নের পাশাপাশি বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের দীর্ঘমেয়াদি দিকটিও তুলে ধরেছেন দীনেশ ত্রিবেদী।

তাঁর বক্তব্যে, দুই দেশের সম্পর্ককে শুধু তাৎক্ষণিক কোনো স্বার্থ কিংবা লেনদেনের ভিত্তিতে দেখলে এর পূর্ণ চিত্র পাওয়া যায় না। বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে দীর্ঘদিনের সাংস্কৃতিক ও মনস্তাত্ত্বিক বন্ধন রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

সংকটের সময়ে একজন দায়িত্বশীল প্রতিবেশী পাশে দাঁড়ায়—এমন অবস্থানের কথাও তুলে ধরেন হাইকমিশনার। একই সঙ্গে বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের বিষয়টি উল্লেখ করে তিনি বলেন, দেশটি নিজের নিরাপত্তা মূল্যায়নের ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ সক্ষম।

ভবিষ্যতে দুই দেশের অংশীদারত্ব এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে পারস্পরিক আস্থা ও বিশ্বাসকে গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হিসেবে দেখছেন দীনেশ ত্রিবেদী।

এদিকে শেখ হাসিনাকে ফেরানোর বিষয়ে ভারতের সর্বশেষ বক্তব্যে মূলত একটি বিষয়ই স্পষ্ট—বাংলাদেশের করা অনুরোধের নিষ্পত্তি নির্ধারিত আইনি ও বিচারিক কাঠামোর মধ্যেই হবে। এ প্রক্রিয়ার কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত বা নির্দিষ্ট সময়সীমা এখনো জানানো হয়নি।

FAQ

১. শেখ হাসিনাকে ফেরানোর বিষয়ে ভারতের বর্তমান অবস্থান কী?

ভারত জানিয়েছে, শেখ হাসিনার প্রত্যাবাসন একটি আইনি বিষয় এবং নির্দিষ্ট আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই এটি বিবেচনা করা হবে।

২. বাংলাদেশ কি শেখ হাসিনাকে ফেরত চেয়ে ভারতকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছে?

হ্যাঁ। বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে শেখ হাসিনাকে ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য আনুষ্ঠানিক আবেদন করা হয়েছে।

৩. শেখ হাসিনাকে ফেরানোর বিষয়ে কি ভারতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়েছে?

না। ভারত জানিয়েছে, আবেদনটি দ্বিপক্ষীয় প্রত্যর্পণ চুক্তি ও সংশ্লিষ্ট বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে যাচাই করা হচ্ছে এবং এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।

৪. শেখ হাসিনাকে ফেরানোর নির্দিষ্ট সময়সীমা কেন নেই?

দীনেশ ত্রিবেদীর বক্তব্য অনুযায়ী, প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়ায় বিচার বিভাগ ও আদালত সরাসরি যুক্ত থাকায় আগে থেকে নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ করা সম্ভব নয়।

৫. বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক নিয়ে ভারতের অবস্থান কী?

রণধীর জয়সওয়াল জানিয়েছেন, ভারত দুই দেশের সম্পর্ককে ‘ইতিবাচক, গঠনমূলক ও ভবিষ্যৎমুখী’ রাখতে চায়। দীনেশ ত্রিবেদীও পারস্পরিক আস্থা ও বিশ্বাসের ওপর ভবিষ্যৎ অংশীদারত্ব এগিয়ে নেওয়ার কথা বলেছেন।

আল-সাদ/

পাঠকের মতামত: