ঢাকা, শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬, ২৫ আশ্বিন ১৪৩৩

iPhone 18 Pro Max কিনবেন? আগে জেনে নিন ৭টি বিষয়

তথ্য ও প্রযুক্তি ডেস্ক . ২৪আপডেটনিউজ
২০২৬ অক্টোবর ১০ ১৭:০৩:৫১
iPhone 18 Pro Max কিনবেন? আগে জেনে নিন ৭টি বিষয়

বাংলাদেশের বাজারে Apple-এর নতুন প্রিমিয়াম ফোন iPhone 18 Pro Max পাওয়া যাচ্ছে। তবে শুধু দাম দেখে ফোনটি কিনলে বিপাকে পড়তে পারেন। কারণ, একই মডেলের ফোনের দাম, আমদানির দেশ, সিম ব্যবহারের সুবিধা, ওয়ারেন্টি এবং বিক্রয়-পরবর্তী সেবায় পার্থক্য থাকতে পারে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের কিছু সংস্করণে ফিজিক্যাল সিম কার্ড ব্যবহারের সুযোগ নেই। তাই কেনার আগে ফোনের মডেল নম্বর, IMEI নিবন্ধন ও ওয়ারেন্টির শর্ত যাচাই করা জরুরি।

Apple ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬-এ iPhone 18 Pro Max উন্মোচন করে এবং ১৮ সেপ্টেম্বর থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে বিক্রি শুরু হয়। এরপর বাংলাদেশের বিভিন্ন বিক্রেতার কাছেও ফোনটি পাওয়া যেতে শুরু করে। তবে বিদেশি বাজারে বিক্রি শুরু হওয়া, বাংলাদেশে আমদানি করে বিক্রি করা এবং অনুমোদিত চ্যানেলে বিক্রি—এই তিনটি বিষয় এক নয়।

বাংলাদেশে iPhone 18 Pro Max-এর দাম কত?

২০২৬ সালের অক্টোবরের শুরুতে প্রকাশিত বাজারতথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে iPhone 18 Pro Max-এর ২৫৬ জিবি সংস্করণের দাম বিক্রেতাভেদে প্রায় ১ লাখ ৯৯ হাজার ৯৯০ টাকা থেকে ২ লাখ ৫৯ হাজার ৯৯৯ টাকা পর্যন্ত দেখা গেছে। কিছু বিক্রেতা ওয়ারেন্টিসহ ফোন বিক্রির কথা বলছে, আবার কিছু তালিকায় ওয়ারেন্টি ছাড়া আমদানি করা সেট রয়েছে।

এখানে একটি বিষয় মনে রাখা দরকার—বাংলাদেশের সব বিক্রেতার জন্য একক সরকারি খুচরা মূল্য নিশ্চিত করা যায়নি। তাই নিচের দামগুলো বাজারে পাওয়া তালিকার উদাহরণ, সব দোকানের চূড়ান্ত দাম নয়।

সংস্করণবাজারে দেখা দামের উদাহরণ
২৫৬ জিবি প্রায় ১,৯৯,৯৯০ টাকা থেকে
৫১২ জিবি প্রায় ২,৬৪,৯৯০ টাকা থেকে
১ টিবি প্রায় ৩,৬৯,৯৯৯ টাকা থেকে
২ টিবি প্রায় ৪,৩৯,৯৯০ টাকা থেকে

দ্রষ্টব্য: বিভিন্ন বিক্রেতার তালিকায় পাওয়া দামের উদাহরণ। স্টক, অঞ্চলভিত্তিক সংস্করণ ও ওয়ারেন্টি অনুযায়ী দাম পরিবর্তিত হতে পারে।

দাম তুলনা করার সময় একই স্টোরেজের পাশাপাশি একই অঞ্চলের মডেল, সিমের ধরন ও ওয়ারেন্টি মিলিয়ে দেখা উচিত। একটি দোকানে কম দাম দেখলেই সেটি সব দিক থেকে ভালো কেনাকাটা হবে, এমন নয়।

১. কেনার আগে নিশ্চিত হোন—ফোনটি কোন দেশের সংস্করণ

iPhone 18 Pro Max-এর বিভিন্ন অঞ্চলের জন্য আলাদা মডেল নম্বর রয়েছে। সব সংস্করণের সিম ব্যবহারের সুবিধা এক নয়। ফলে ফোনটি যুক্তরাষ্ট্র, চীন, জাপান, মধ্যপ্রাচ্য কিংবা অন্য কোনো বাজারের জন্য তৈরি কি না, তা জেনে নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।

বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের সংস্করণে ফিজিক্যাল সিম ট্রে নেই; এটি eSIM-নির্ভর। অন্যদিকে, অনেক আন্তর্জাতিক সংস্করণে ফিজিক্যাল ন্যানো-সিম ব্যবহারের সুবিধা রয়েছে।

বাংলাদেশে কেনার সময় যা করবেন:

- ফোনের Model Number ও Part Number পরীক্ষা করুন।

- সেটিংসের Settings → General → About বিভাগে গিয়ে মডেল-সংক্রান্ত তথ্য দেখুন।

- আপনার মোবাইল অপারেটর eSIM সুবিধা দেয় কি না, তা আগে নিশ্চিত করুন।

- ফিজিক্যাল সিম প্রয়োজন হলে ফোনে সিম ট্রে আছে কি না সরাসরি দেখে নিন।

শুধু বাক্সে লেখা দেশের নাম বা বিক্রেতার মৌখিক আশ্বাসের ওপর নির্ভর করবেন না। ফোনের প্রকৃত মডেল নম্বর মিলিয়ে নেওয়াই ভালো।

২. IMEI যাচাই না করে ফোন কিনবেন না

বাংলাদেশে নতুন ফোন কেনার আগে সেটের IMEI বৈধতা যাচাই করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) জানিয়েছে, গ্রাহকেরা ফোনের ১৫ সংখ্যার IMEI ব্যবহার করে হ্যান্ডসেটের বৈধতা যাচাই করতে পারেন।

বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন

যাচাইয়ের পদ্ধতি:

1. ফোনে *#06# ডায়াল করে IMEI নম্বর বের করুন।

2. মেসেজ অপশনে গিয়ে লিখুন KYD এরপর একটি স্পেস দিয়ে ১৫ সংখ্যার IMEI নম্বর লিখুন।

3. মেসেজটি 16002 নম্বরে পাঠান।

4. ফিরতি মেসেজে পাওয়া তথ্য দেখে ফোনটির বৈধতা যাচাই করুন। ডুয়াল-সিম বা একাধিক IMEI থাকা ফোনের ক্ষেত্রে প্রতিটি IMEI আলাদাভাবে পরীক্ষা করুন।

এ ছাড়া বিটিআরসির NEIR পোর্টাল ব্যবহার করেও নিবন্ধন-সংক্রান্ত তথ্য যাচাই করা যায়।

সতর্কতা: ফোনের IMEI, বাক্সের IMEI এবং কেনার রসিদে থাকা তথ্য মিলিয়ে নিন। কোনো তথ্য না মিললে বা IMEI যাচাইয়ে সমস্যা দেখা দিলে কারণ পরিষ্কার না হওয়া পর্যন্ত ফোনটি কিনবেন না।

৩. ‘অফিশিয়াল ওয়ারেন্টি’ কথাটি শুনেই সিদ্ধান্ত নেবেন না

বাংলাদেশে ফোন কেনার সময় ‘অফিশিয়াল’, ‘আনঅফিশিয়াল’ ও ‘ওয়ারেন্টিসহ’—এ ধরনের শব্দ প্রায়ই ব্যবহৃত হয়। কিন্তু বিক্রেতার দেওয়া ওয়ারেন্টি আর Apple-এর নিজস্ব সীমিত ওয়ারেন্টি বা অনুমোদিত সেবার শর্ত এক বিষয় নয়।

আরও পড়ুন:

OPPO Reno 17 Series: ২০০MP ক্যামেরায় আসছে বড় চমক?

বর্তমানে vivo-এর সেরা ৫ ফোন, কোনটার দাম কত?

Vivo X500 Series লঞ্চ: ২০০MP ক্যামেরা, 2nm চিপ ও ৮০০০mAh ব্যাটারি

কেনার আগে জেনে নিন:

- ওয়ারেন্টি Apple-এর, নাকি দোকানের নিজস্ব?

- বাংলাদেশে Apple-এর অনুমোদিত সেবাদাতার মাধ্যমে মেরামত পাওয়া যাবে কি না?

- ওয়ারেন্টি কত দিনের এবং কোন কোন সমস্যা এর আওতায় পড়বে?

- ফোনে ত্রুটি দেখা দিলে মেরামত, বদল বা ফেরতের নীতি কী?

Apple-এর অফিশিয়াল সাপোর্ট পেজ থেকে ওয়ারেন্টি ও সেবা-সংক্রান্ত তথ্য যাচাই করুন। প্রয়োজনে বিক্রেতার কাছ থেকে লিখিত শর্ত ও বৈধ ক্রয়রসিদ নিন।

৪. নতুন ফোনের বাক্স, সিরিয়াল নম্বর ও অ্যাক্টিভেশন পরীক্ষা করুন

বাক্সে সিল থাকলেই ফোনটি অব্যবহৃত—এমন নিশ্চয়তা পাওয়া যায় না। তাই টাকা দেওয়ার আগে ফোনের অবস্থা নিজে যাচাই করুন।

- বাক্সের সিরিয়াল নম্বর ও ফোনের তথ্য মিলিয়ে দেখুন।

- ফোন চালু করে সেটআপের অবস্থা পরীক্ষা করুন।

- আগে থেকেই Apple Account-এ যুক্ত আছে কি না দেখুন।

- Find My বা Activation Lock সক্রিয় থাকলে বিক্রেতাকে সেটি যথাযথভাবে সরাতে বলুন।

- স্ক্রিন, ক্যামেরা, Face ID, স্পিকার, মাইক্রোফোন, বোতাম ও চার্জিং পরীক্ষা করুন।

Apple-এর Check Coverage পেজে সিরিয়াল নম্বর দিয়ে প্রযোজ্য কভারেজ-সংক্রান্ত তথ্য দেখা যায়। তবে এই পরীক্ষা একাই ফোনটি নতুন, আসল বা কখনো ব্যবহৃত হয়নি—তা প্রমাণ করে না।

৫. ক্যামেরা ও পারফরম্যান্স আপনার প্রয়োজনের সঙ্গে মিলিয়ে নিন

iPhone 18 Pro Max-এ ৬.৯ ইঞ্চির Super Retina XDR OLED ডিসপ্লে, সর্বোচ্চ ১২০ হার্টজ রিফ্রেশ রেট এবং Apple A20 Pro চিপসেট রয়েছে। ফোনটিতে ৪৮ মেগাপিক্সেলের তিনটি রিয়ার ক্যামেরা—প্রধান, আলট্রা-ওয়াইড ও টেলিফটো—দেওয়া হয়েছে।

ভিডিও ধারণ, গেমিং, ছবি সম্পাদনা এবং দীর্ঘ সময় ভারী অ্যাপ ব্যবহারের জন্য এই বৈশিষ্ট্যগুলো কাজে আসতে পারে। কিন্তু আপনার ব্যবহার যদি মূলত কল, মেসেজ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও সাধারণ ছবি তোলার মধ্যে সীমিত থাকে, তাহলে এত ব্যয়বহুল ফোন কেনার আগে নিজের প্রয়োজন ও বাজেট বিবেচনা করুন।

৬. ব্যাটারি ও চার্জিং নিয়ে ভুল ধারণা রাখবেন না

ফোন কেনার সময় শুধু ব্যাটারির ক্ষমতা বা বিজ্ঞাপনে দেওয়া সর্বোচ্চ ব্যাকআপের দাবি দেখে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত নয়। বাস্তব ব্যাটারি ব্যাকআপ নির্ভর করে স্ক্রিনের উজ্জ্বলতা, মোবাইল নেটওয়ার্ক, গেমিং, ভিডিও ধারণ ও অন্যান্য ব্যবহারের ওপর।

নতুন সেট কেনার পর প্রথমবার ব্যবহার করার সময় ব্যাটারির অবস্থা ও চার্জিং পরীক্ষা করুন। চার্জার বা অন্য আনুষঙ্গিক পণ্য কেনার প্রয়োজন হলে ফোনের উপযোগী ও নিরাপদ পণ্য বেছে নিন। বাক্সে কী কী আনুষঙ্গিক সামগ্রী রয়েছে, তা কেনার আগে বিক্রেতার কাছ থেকে নিশ্চিত হয়ে নিন।

৭. Apple Intelligence ও ভাষার সুবিধা যাচাই করুন

নতুন iPhone-এর AI ফিচার নিয়ে আগ্রহ থাকলে আপনার ব্যবহৃত ভাষা ও অঞ্চলে সেগুলো কতটা কাজ করবে, তা আগে যাচাই করুন। Apple Intelligence-এর সব সুবিধা সব ভাষা ও অঞ্চলে একইভাবে পাওয়া যায় না। তাই বিজ্ঞাপনে কোনো AI ফিচারের কথা দেখেই সেটি বাংলায় সম্পূর্ণভাবে ব্যবহার করা যাবে ধরে নেওয়া ঠিক হবে না।

কেনার আগে এই চেকলিস্ট মিলিয়ে নিন

কেনাকাটার চেকলিস্ট

[ ] বাজেট ও স্টোরেজ ঠিক করেছি

[x] মডেল নম্বর ও অঞ্চলভিত্তিক সংস্করণ যাচাই করেছি

[ ] সিম ট্রে বা eSIM সুবিধা নিশ্চিত করেছি

[ ] সব IMEI নম্বর যাচাই করেছি

[ ] সিরিয়াল নম্বর ও অ্যাক্টিভেশন পরীক্ষা করেছি

[ ] ওয়ারেন্টির লিখিত শর্ত বুঝেছি

[ ] ফোনের ক্যামেরা, ডিসপ্লে ও Face ID পরীক্ষা করেছি

[ ] বিক্রয়রসিদ ও ফেরত নীতির তথ্য নিয়েছি

তাহলে iPhone 18 Pro Max কেনা কি ঠিক হবে?

আপনার বাজেট যদি দুই লাখ টাকা বা তার বেশি হয় এবং উন্নত ক্যামেরা, বড় ডিসপ্লে, শক্তিশালী পারফরম্যান্স ও দীর্ঘমেয়াদি ব্যবহারের জন্য ফোন চান, তাহলে iPhone 18 Pro Max বিবেচনা করতে পারেন। তবে কেনার ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—ফোনটি আসল ও বৈধ কি না, আপনার সিমের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না এবং ওয়ারেন্টি বাস্তবে কতটা কার্যকর।

কম দামের লোভে যাচাই না করে ফোন কেনার চেয়ে নির্ভরযোগ্য বিক্রেতার কাছ থেকে সব তথ্য মিলিয়ে কেনা ভালো। বিশেষ করে IMEI যাচাই, মডেল নম্বর, সিমের ধরন ও লিখিত ওয়ারেন্টির শর্ত নিশ্চিত না করে টাকা দেওয়া উচিত নয়।

FAQ: সচরাচর প্রশ্ন ও উত্তর

১. বাংলাদেশে iPhone 18 Pro Max কি পাওয়া যাচ্ছে?

হ্যাঁ, বিভিন্ন বিক্রেতার তালিকায় ফোনটি পাওয়া যাচ্ছে। তবে স্টক ও বিক্রির শর্ত দোকানভেদে আলাদা হতে পারে।

২. iPhone 18 Pro Max কেনার আগে সবচেয়ে জরুরি কী যাচাই করব?

মডেল নম্বর, IMEI বৈধতা, সিমের ধরন, সিরিয়াল নম্বর, অ্যাক্টিভেশন এবং ওয়ারেন্টির শর্ত যাচাই করুন।

৩. যুক্তরাষ্ট্রের iPhone 18 Pro Max-এ কি সাধারণ সিম ব্যবহার করা যায়?

যুক্তরাষ্ট্রের সংস্করণে ফিজিক্যাল সিম ট্রে নেই; এটি eSIM ব্যবহার করে। কেনার আগে আপনার অপারেটরের eSIM সুবিধা নিশ্চিত করুন।

৪. iPhone 18 Pro Max-এর ওয়ারেন্টি কীভাবে যাচাই করব?

Apple-এর Check Coverage পেজে সিরিয়াল নম্বর দিয়ে কভারেজ-সংক্রান্ত তথ্য দেখুন। পাশাপাশি বিক্রেতার লিখিত ওয়ারেন্টির শর্ত যাচাই করুন।

৫. iPhone 18 Pro Max-এর IMEI কীভাবে যাচাই করব?

মেসেজে KYD লিখে একটি স্পেস দিয়ে ১৫ সংখ্যার IMEI নম্বর যোগ করুন এবং 16002 নম্বরে পাঠান। ফিরতি মেসেজের তথ্য যাচাই করুন।

তানভির ইসলাম/

পাঠকের মতামত:

আপনার জন্য বাছাই করা কিছু নিউজ