ঢাকা, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ২ কার্তিক ১৪৩৩

সবসময় ক্লান্ত লাগে কেন? পুরুষদের যে পুষ্টির ঘাটতি হতে পারে

স্বাস্থ্য ডেস্ক . ২৪আপডেটনিউজ
২০২৬ অক্টোবর ১৭ ১৫:১২:০৯
সবসময় ক্লান্ত লাগে কেন? পুরুষদের যে পুষ্টির ঘাটতি হতে পারে

পর্যাপ্ত ঘুমের পরও শরীরে শক্তি না পাওয়া, কাজে মনোযোগ ধরে রাখতে কষ্ট হওয়া কিংবা সামান্য পরিশ্রমেই অবসাদ অনুভব করা—এ ধরনের সমস্যা অনেক পুরুষের দৈনন্দিন জীবনকে ব্যাহত করতে পারে। এর পেছনে খাদ্যাভ্যাসের কারণে আয়রন, ভিটামিন বি১২ বা ফোলেটের ঘাটতি থাকতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে ভিটামিন ডির ঘাটতিও শারীরিক দুর্বলতার সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে। তবে সব সময় ক্লান্ত লাগার কারণ শুধু পুষ্টির অভাব নয়; ঘুমের ঘাটতি, মানসিক চাপ, রক্তস্বল্পতা, ডায়াবেটিস, থাইরয়েডের সমস্যা কিংবা ঘুমের মধ্যে শ্বাসপ্রশ্বাসের ব্যাঘাতও এর কারণ হতে পারে।

তাই ক্লান্তি দূর করতে নিজের ইচ্ছায় ভিটামিন বা খনিজের ওষুধ খাওয়ার বদলে সমস্যার কারণ বোঝা জরুরি। বিশেষ করে কয়েক সপ্তাহ ধরে ক্লান্তি থাকলে, দৈনন্দিন কাজে প্রভাব পড়লে কিংবা এর সঙ্গে অন্য উপসর্গ দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

পুরুষদের সব সময় ক্লান্ত লাগার সম্ভাব্য কারণ

ক্লান্তি বলতে শুধু ঘুম ঘুম ভাব বোঝায় না। কারও শরীরে শক্তি কম লাগে, কেউ কাজে মনোযোগ দিতে পারেন না, আবার কারও সামান্য কাজের পর বিশ্রামের প্রয়োজন হয়। একই উপসর্গের পেছনে একাধিক কারণও থাকতে পারে।

নিয়মিত পর্যাপ্ত ঘুম না হওয়া, রাত জেগে কাজ করা, অনিয়মিত খাবার, দীর্ঘস্থায়ী মানসিক চাপ, পানিশূন্যতা এবং শারীরিকভাবে নিষ্ক্রিয় জীবনযাপন ক্লান্তি বাড়াতে পারে। পাশাপাশি কিছু ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া কিংবা দীর্ঘমেয়াদি রোগও এর জন্য দায়ী হতে পারে।

পুরুষদের ক্ষেত্রে পুষ্টির ঘাটতি নিয়ে আলোচনা করার সময় একটি বিষয় মনে রাখা দরকার: শুধু ক্লান্তির লক্ষণ দেখে নির্দিষ্ট কোনো ভিটামিন বা খনিজের ঘাটতি নিশ্চিত করা যায় না। প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসকের মূল্যায়ন ও পরীক্ষা করে কারণ নির্ণয় করতে হয়।

আয়রনের ঘাটতি: ক্লান্তি ও দুর্বলতার একটি সম্ভাব্য কারণ

আয়রন শরীরে হিমোগ্লোবিন তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। হিমোগ্লোবিন রক্তের মাধ্যমে অক্সিজেন বহন করে। শরীরে আয়রনের ঘাটতি হলে আয়রন-স্বল্পতাজনিত রক্তস্বল্পতা তৈরি হতে পারে। এতে ক্লান্তি, দুর্বলতা, মাথা ঘোরা, ফ্যাকাশে ত্বক, বুক ধড়ফড় করা কিংবা পরিশ্রমে শ্বাসকষ্ট দেখা দিতে পারে।

মাংস, মাছ, ডাল, ছোলা এবং আয়রনসমৃদ্ধ অন্যান্য খাবার থেকে শরীর আয়রন পেতে পারে। উদ্ভিজ্জ উৎসের আয়রন শোষণে ভিটামিন সি-সমৃদ্ধ খাবার সহায়ক হতে পারে। যেমন ডাল বা শাকের সঙ্গে লেবু কিংবা অন্য ভিটামিন সি-সমৃদ্ধ খাবার খাওয়া যায়।

আরও পড়ুন:

পুরুষদের চুল পড়ার কারণ কী? জানুন চিকিৎসা ও প্রতিকার

দাড়ি কামালে কি বেশি গজায়? জানুন আসল সত্য

তবে প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষদের আয়রনের ঘাটতি দেখা দিলে শুধু খাবারে আয়রন কম থাকার কথা ধরে নেওয়া ঠিক নয়। পাকস্থলী বা অন্ত্রে রক্তক্ষরণসহ অন্য কারণও খতিয়ে দেখা প্রয়োজন হতে পারে। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া আয়রন ট্যাবলেট শুরু করবেন না। শরীরে অতিরিক্ত আয়রন জমা হওয়াও ক্ষতিকর হতে পারে।

ভিটামিন বি১২-এর অভাব: শক্তি কম লাগার পাশাপাশি অন্য লক্ষণও দেখা দিতে পারে

ভিটামিন বি১২ স্নায়ুতন্ত্রের স্বাভাবিক কার্যক্রম ও লোহিত রক্তকণিকা তৈরির জন্য প্রয়োজনীয়। এই ভিটামিনের ঘাটতি হলে রক্তস্বল্পতা, ক্লান্তি, দুর্বলতা, জিহ্বায় ব্যথা বা লালচে ভাব দেখা দিতে পারে। কারও কারও হাত-পায়ে ঝিনঝিন করা, অবশ লাগা, ভারসাম্য রাখতে সমস্যা কিংবা স্মৃতিশক্তি ও মনোযোগে পরিবর্তনও হতে পারে।

মাছ, মাংস, ডিম, দুধ ও দুগ্ধজাত খাবার ভিটামিন বি১২-এর উৎস। নিরামিষ বা ভেগান খাদ্যাভ্যাসে থাকা ব্যক্তিদের পর্যাপ্ত বি১২ পাওয়ার বিষয়ে বাড়তি পরিকল্পনা প্রয়োজন হতে পারে। তবে খাবারে ঘাটতি না থাকলেও শরীরে ভিটামিনটি শোষণের সমস্যা, কিছু পরিপাকতন্ত্রের রোগ কিংবা নির্দিষ্ট ওষুধের দীর্ঘমেয়াদি ব্যবহারের কারণে ঘাটতি হতে পারে।

ভিটামিন বি১২-এর ঘাটতি সন্দেহ হলে চিকিৎসকের পরামর্শে পরীক্ষা করা উচিত। বিশেষ করে হাত-পায়ে ঝিনঝিন বা অবশ ভাবের মতো স্নায়বিক উপসর্গ থাকলে দেরি না করাই ভালো।

ফোলেটের ঘাটতি: রক্তস্বল্পতা তৈরি করতে পারে

ফোলেট হলো ভিটামিন বি৯-এর একটি রূপ। নতুন কোষ তৈরি এবং লোহিত রক্তকণিকা গঠনে এটি গুরুত্বপূর্ণ। শরীরে ফোলেটের ঘাটতি হলে এক ধরনের রক্তস্বল্পতা হতে পারে, যার ফলে ক্লান্তি, দুর্বলতা ও মনোযোগের সমস্যা দেখা দিতে পারে।

সবুজ শাকসবজি, ডাল, ছোলা, মটরশুঁটি এবং কিছু ফল ফোলেটের ভালো উৎস। নিয়মিত বৈচিত্র্যময় খাবার খেলে ফোলেট পাওয়ার সুযোগ বাড়ে।

তবে ফোলেটের ঘাটতি সন্দেহ হলে নিজে থেকে উচ্চমাত্রার ফোলিক অ্যাসিড গ্রহণ করা উচিত নয়। কারণ ভিটামিন বি১২-এর ঘাটতি থাকলে শুধু ফোলিক অ্যাসিড খেলে রক্তস্বল্পতার কিছু লক্ষণ কমে গেলেও স্নায়ুর ক্ষতি শনাক্ত হতে দেরি হতে পারে। প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসক পরীক্ষা করে উপযুক্ত ব্যবস্থা নিতে পারেন।

ভিটামিন ডির ঘাটতি কি ক্লান্তির কারণ হতে পারে?

ভিটামিন ডি হাড় ও পেশির স্বাভাবিক কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এর ঘাটতিতে হাড়ে ব্যথা ও পেশির দুর্বলতা দেখা দিতে পারে। কিছু মানুষের ক্ষেত্রে ক্লান্তিও থাকতে পারে, তবে শুধু ক্লান্তি থাকলেই ভিটামিন ডির অভাব হয়েছে—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় না।

চর্বিযুক্ত মাছ, ডিমের কুসুম এবং ভিটামিন ডি-সমৃদ্ধ কিছু খাবার থেকে এই ভিটামিন পাওয়া যায়। সূর্যালোকের সংস্পর্শেও ত্বকে ভিটামিন ডি তৈরি হয়, তবে এর পরিমাণ ঋতু, সময়, ত্বকের রং, পোশাক ও অন্যান্য বিষয়ের ওপর নির্ভর করে।

অকারণে উচ্চমাত্রার ভিটামিন ডি সাপ্লিমেন্ট খাওয়া নিরাপদ নয়। প্রয়োজন হলে চিকিৎসক উপসর্গ ও ঝুঁকি বিবেচনা করে পরীক্ষা বা সাপ্লিমেন্টের পরামর্শ দিতে পারেন।

শুধু পুষ্টির ঘাটতি নয়, ক্লান্তির পেছনে থাকতে পারে যেসব সমস্যা

পুষ্টির ঘাটতি ছাড়াও কয়েকটি স্বাস্থ্যগত কারণে দীর্ঘদিন ক্লান্ত লাগতে পারে। তাই উপসর্গের ধরন ও স্থায়িত্ব বিবেচনা করা জরুরি।

ঘুমের ঘাটতি ও স্লিপ অ্যাপনিয়া: রাতে পর্যাপ্ত সময় ঘুমালেও ঘুমের মান ভালো না হলে দিনের বেলায় অবসাদ থাকতে পারে। জোরে নাক ডাকা, ঘুমের মধ্যে শ্বাস আটকে আসা বা হাঁসফাঁস করে জেগে ওঠার মতো লক্ষণ থাকলে স্লিপ অ্যাপনিয়ার সম্ভাবনা বিবেচনা করা প্রয়োজন।

থাইরয়েডের সমস্যা: থাইরয়েড গ্রন্থি প্রয়োজনের তুলনায় কম হরমোন তৈরি করলে ক্লান্তি, ওজন বৃদ্ধি, কোষ্ঠকাঠিন্য, ঠান্ডা বেশি লাগা ও মনোযোগের সমস্যা দেখা দিতে পারে।

ডায়াবেটিস: অতিরিক্ত তৃষ্ণা, ঘন ঘন প্রস্রাব, অকারণে ওজন কমে যাওয়া এবং ক্লান্তি একসঙ্গে দেখা দিলে রক্তে শর্করার সমস্যা আছে কি না, তা পরীক্ষা করা প্রয়োজন হতে পারে।

মানসিক চাপ ও বিষণ্নতা: দীর্ঘদিনের উদ্বেগ, কাজের চাপ, মন খারাপ কিংবা আগ্রহ কমে যাওয়ার সঙ্গে ঘুম ও শক্তির মাত্রার পরিবর্তন হতে পারে।

অন্যান্য রোগ ও ওষুধের প্রভাব: কিছু সংক্রমণ, দীর্ঘমেয়াদি অসুস্থতা এবং নির্দিষ্ট ওষুধও ক্লান্তি বাড়াতে পারে। তাই চিকিৎসকের কাছে গেলে বর্তমানে যেসব ওষুধ গ্রহণ করছেন, সেগুলোর কথাও জানানো উচিত।

পুরুষদের ক্লান্তি দূর করতে খাবারে কী রাখবেন?

প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় বৈচিত্র্য রাখা পুষ্টির ঘাটতি প্রতিরোধে সহায়ক। শুধু একটি খাবার বা একটি ভিটামিনের ওপর নির্ভর না করে বিভিন্ন খাদ্যগোষ্ঠী থেকে প্রয়োজনীয় পুষ্টি পাওয়ার চেষ্টা করুন।

মাছ, ডিম, দুধ, মাংস বা উপযুক্ত বিকল্প খাবার থেকে প্রোটিন ও ভিটামিন বি১২ পাওয়া যায়। ডাল, ছোলা, মটরশুঁটি, বাদাম ও সবুজ শাকসবজি খাদ্যতালিকায় আয়রন ও ফোলেট যোগ করতে পারে। ফলমূল ও শাকসবজি বিভিন্ন ভিটামিন ও খনিজ সরবরাহ করে। ভিটামিন ডির জন্য চর্বিযুক্ত মাছ, ডিমের কুসুম এবং ভিটামিন ডি যোগ করা হয়েছে এমন খাবারের লেবেল দেখতে পারেন।

পাশাপাশি নিয়মিত খাবার খাওয়া, পর্যাপ্ত পানি পান এবং বয়স ও শারীরিক সক্ষমতা অনুযায়ী নিয়মিত হাঁটা বা ব্যায়াম করা উপকারী। প্রাপ্তবয়স্কদের সাধারণত প্রতি রাতে সাত থেকে নয় ঘণ্টা ঘুমের প্রয়োজন হয়, যদিও ব্যক্তিভেদে চাহিদা কিছুটা আলাদা হতে পারে।

তবে সুষম খাবার খাওয়ার পরও ক্লান্তি চলতে থাকলে শুধু খাদ্যতালিকা পরিবর্তন করে সমস্যার সমাধান হবে—এমন নিশ্চয়তা নেই।

কখন চিকিৎসকের কাছে যাবেন?

কয়েক সপ্তাহ ধরে ক্লান্তি থাকলে, পর্যাপ্ত ঘুম ও বিশ্রামের পরও উন্নতি না হলে কিংবা কাজকর্ম ও দৈনন্দিন জীবনে সমস্যা তৈরি হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। ক্লান্তির সঙ্গে ওজন কমে যাওয়া, জ্বর, বুক ধড়ফড়, ফ্যাকাশে ত্বক, অতিরিক্ত তৃষ্ণা, ঘন ঘন প্রস্রাব বা শ্বাসকষ্ট থাকলেও পরীক্ষা করানো প্রয়োজন হতে পারে।

চিকিৎসক উপসর্গ, খাদ্যাভ্যাস, ঘুম, ওষুধের ব্যবহার ও শারীরিক অবস্থা বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা নির্ধারণ করতে পারেন। পরিস্থিতি অনুযায়ী রক্তের পূর্ণাঙ্গ পরীক্ষা, আয়রনের মজুত, ভিটামিন বি১২, ফোলেট, রক্তে শর্করা বা থাইরয়েডের পরীক্ষা লাগতে পারে। সবার জন্য সব পরীক্ষা প্রয়োজন হয় না।

বুকব্যথা, তীব্র শ্বাসকষ্ট, অজ্ঞান হয়ে যাওয়া বা হঠাৎ গুরুতর দুর্বলতা দেখা দিলে জরুরি চিকিৎসা নিন।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা হলো, নিজে থেকে আয়রন, ভিটামিন ডি, বি১২ বা অন্য সাপ্লিমেন্টের উচ্চমাত্রা গ্রহণ করবেন না। কোন পুষ্টির ঘাটতি রয়েছে, আদৌ কোনো ঘাটতি আছে কি না এবং কতটা চিকিৎসা প্রয়োজন—এসব নির্ধারণ করেই ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।

পুরুষদের সব সময় ক্লান্ত লাগার পেছনে আয়রন, ভিটামিন বি১২ বা ফোলেটের ঘাটতি থাকতে পারে। ভিটামিন ডির অভাবেও পেশির দুর্বলতা দেখা দিতে পারে। তবে ক্লান্তি একা কোনো নির্দিষ্ট পুষ্টির ঘাটতির প্রমাণ নয়। ঘুমের সমস্যা, মানসিক চাপ, ডায়াবেটিস, থাইরয়েডের অসুখ ও অন্যান্য কারণও বিবেচনায় রাখতে হবে।

তাই ক্লান্তি দীর্ঘস্থায়ী হলে শুধু ভিটামিন খাওয়ার ওপর নির্ভর না করে কারণ নির্ণয় করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। সুষম খাবার, নিয়মিত ঘুম এবং প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসা—এই তিনটি বিষয় শক্তি ও সুস্থতা বজায় রাখতে সহায়তা করতে পারে।

প্রশ্নোত্তর (FAQ)

প্রশ্ন: পুরুষদের সবসময় ক্লান্ত লাগার প্রধান কারণ কী?

উত্তর: ঘুমের ঘাটতি, মানসিক চাপ, অনিয়মিত খাদ্যাভ্যাস, রক্তস্বল্পতা, ডায়াবেটিস, থাইরয়েডের সমস্যা ও কিছু পুষ্টির ঘাটতি সম্ভাব্য কারণ। নির্দিষ্ট কারণ জানতে উপসর্গ ও প্রয়োজনীয় পরীক্ষা বিবেচনা করতে হয়।

প্রশ্ন: কোন ভিটামিনের অভাবে দুর্বলতা ও ক্লান্তি হতে পারে?

উত্তর: ভিটামিন বি১২ ও ফোলেটের ঘাটতি রক্তস্বল্পতা সৃষ্টি করে ক্লান্তি ও দুর্বলতা ঘটাতে পারে। ভিটামিন ডির ঘাটতিতে পেশির দুর্বলতা ও ব্যথা দেখা দিতে পারে। তবে শুধু ক্লান্তি দিয়ে কোনো নির্দিষ্ট ভিটামিনের ঘাটতি নিশ্চিত করা যায় না।

প্রশ্ন: পুরুষদের আয়রনের ঘাটতি হলে কী লক্ষণ দেখা দেয়?

উত্তর: আয়রন-স্বল্পতাজনিত রক্তস্বল্পতায় ক্লান্তি, দুর্বলতা, ফ্যাকাশে ত্বক, মাথা ঘোরা, বুক ধড়ফড় ও পরিশ্রমে শ্বাসকষ্ট হতে পারে। পুরুষদের আয়রনের ঘাটতি ধরা পড়লে এর অন্তর্নিহিত কারণও খুঁজে দেখা জরুরি।

প্রশ্ন: ক্লান্তি দূর করতে নিজে থেকে ভিটামিন খাওয়া যাবে?

উত্তর: কারণ না জেনে সাপ্লিমেন্ট শুরু করা ঠিক নয়। অতিরিক্ত আয়রন বা ভিটামিন ডি ক্ষতিকর হতে পারে, আর কিছু ক্ষেত্রে সাপ্লিমেন্ট প্রয়োজন না-ও হতে পারে। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া ভালো।

প্রশ্ন: কখন দীর্ঘস্থায়ী ক্লান্তির জন্য চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত?

উত্তর: কয়েক সপ্তাহ ধরে ক্লান্তি থাকলে, দৈনন্দিন কাজে প্রভাব পড়লে কিংবা ওজন কমা, বুক ধড়ফড়, অতিরিক্ত তৃষ্ণা বা শ্বাসকষ্টের মতো উপসর্গ দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। তীব্র শ্বাসকষ্ট বা বুকব্যথা হলে জরুরি চিকিৎসা প্রয়োজন।

তানভির ইসলাম/

পাঠকের মতামত: