ঢাকা, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ২ কার্তিক ১৪৩৩

নিয়মিত মাসিক হঠাৎ বন্ধ বা দেরি হচ্ছে? জেনে নিন কারণ

স্বাস্থ্য ডেস্ক . ২৪আপডেটনিউজ
২০২৬ অক্টোবর ১৭ ১৫:১৮:৩৮
নিয়মিত মাসিক হঠাৎ বন্ধ বা দেরি হচ্ছে? জেনে নিন কারণ

মাসিকের সময় কখনো এগিয়ে আসা, কখনো দেরি হওয়া কিংবা কয়েক মাস বন্ধ থাকা—এসব সমস্যার পেছনে একাধিক কারণ থাকতে পারে। অনেক সময় মানসিক চাপ, ওজনের পরিবর্তন বা হরমোনের স্বাভাবিক ওঠানামার কারণে মাসিকের চক্র বদলে যায়। আবার পলিসিস্টিক ওভারি সিনড্রোম (PCOS), থাইরয়েডের সমস্যা কিংবা গর্ভধারণের কারণেও মাসিক অনিয়মিত হতে পারে। তাই মাসিক দেরি হলেই আতঙ্কিত হওয়ার প্রয়োজন নেই, তবে পরিবর্তন বারবার ঘটলে বা অন্য উপসর্গ দেখা দিলে বিষয়টি অবহেলা করাও ঠিক নয়।

নারীর প্রজননস্বাস্থ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচক হলো মাসিকের নিয়মিততা। মাসিকের তারিখ, রক্তপাতের পরিমাণ এবং কত দিন স্থায়ী হচ্ছে—এসব পরিবর্তন শরীরের স্বাভাবিক অবস্থা সম্পর্কে ধারণা দিতে পারে। অনিয়মের কারণ বুঝতে বয়স, জীবনযাপন, ব্যবহৃত ওষুধ এবং অন্যান্য শারীরিক লক্ষণ বিবেচনা করা প্রয়োজন।

মাসিক অনিয়মিত বলতে কী বোঝায়?

মাসিকের প্রথম দিন থেকে পরবর্তী মাসিকের প্রথম দিন পর্যন্ত সময়কে মাসিক চক্র বলা হয়। প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে সাধারণত ২১ থেকে ৩৫ দিনের মধ্যে মাসিক চক্রকে স্বাভাবিক সীমার মধ্যে ধরা হয়। মাসিকের রক্তপাত সাধারণত দুই থেকে সাত দিন স্থায়ী হতে পারে। তবে ব্যক্তিভেদে কিছু পার্থক্য থাকা স্বাভাবিক।

চক্রের ব্যবধান বারবার ২১ দিনের কম বা ৩৫ দিনের বেশি হলে, মাসিকের সময়সূচিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন দেখা দিলে কিংবা রক্তপাতের ধরন বদলে গেলে সেটি অনিয়মের লক্ষণ হতে পারে। কৈশোরে প্রথম মাসিক শুরুর পর কয়েক বছর চক্র কিছুটা অনিয়মিত থাকতে পারে। মেনোপজের কাছাকাছি সময়েও মাসিকের ধরন বদলাতে পারে।

তবে আগে নিয়মিত মাসিক হওয়ার পর হঠাৎ অনিয়ম শুরু হলে সেটিকে শুধু স্বাভাবিক পরিবর্তন ধরে নেওয়া উচিত নয়।

মাসিক অনিয়মিত হওয়ার সাধারণ ৮টি কারণ

১. হরমোনের ভারসাম্যে পরিবর্তন

মাসিক চক্র নিয়ন্ত্রণে ইস্ট্রোজেন, প্রোজেস্টেরনসহ বিভিন্ন হরমোন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এসব হরমোনের স্বাভাবিক কার্যক্রমে পরিবর্তন হলে ডিম্বস্ফোটন বা ওভুলেশন অনিয়মিত হতে পারে। এর ফলে মাসিক দেরিতে আসা, নির্ধারিত সময়ের আগে রক্তপাত হওয়া কিংবা কোনো চক্রে মাসিক না হওয়ার মতো ঘটনা ঘটতে পারে।

কৈশোরে মাসিক শুরু হওয়ার পর শরীরের হরমোন-নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা পরিণত হতে সময় লাগে। এ কারণে প্রথম কয়েক বছরে কিছু অনিয়ম দেখা যেতে পারে। তবে দীর্ঘ সময় মাসিক বন্ধ থাকা বা অতিরিক্ত রক্তপাত হলে বয়স কম হলেও চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

২. পলিসিস্টিক ওভারি সিনড্রোম বা PCOS

মাসিক অনিয়মিত হওয়ার পরিচিত কারণগুলোর একটি হলো পলিসিস্টিক ওভারি সিনড্রোম। এটি হরমোন ও বিপাকীয় কার্যক্রমের সঙ্গে সম্পর্কিত একটি অবস্থা, যার কারণে ডিম্বস্ফোটন নিয়মিত নাও হতে পারে।

PCOS থাকলে মাসিক দেরিতে আসা, কয়েক মাস বন্ধ থাকা, মুখে বা শরীরের কিছু অংশে অতিরিক্ত লোম গজানো, ব্রণ এবং ওজন বাড়ার মতো লক্ষণ দেখা দিতে পারে। তবে সবার ক্ষেত্রে সব লক্ষণ থাকে না। কারও ওজন স্বাভাবিক থাকলেও PCOS থাকতে পারে।

শুধু মাসিক অনিয়মিত হওয়া বা আলট্রাসনোগ্রামে ডিম্বাশয়ে সিস্টের মতো চেহারা দেখা গেলেই PCOS নিশ্চিত করা যায় না। রোগ নির্ণয়ের জন্য চিকিৎসক উপসর্গ, শারীরিক অবস্থা এবং প্রয়োজনীয় পরীক্ষা বিবেচনা করেন।

৩. থাইরয়েডের সমস্যা

থাইরয়েড গ্রন্থি শরীরের বিপাকীয় কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখে। এই গ্রন্থি প্রয়োজনের তুলনায় কম বা বেশি হরমোন তৈরি করলে মাসিক চক্রেও পরিবর্তন দেখা দিতে পারে।

থাইরয়েডের হরমোন কম থাকলে ক্লান্তি, ওজন বৃদ্ধি, কোষ্ঠকাঠিন্য ও ঠান্ডা বেশি লাগার মতো লক্ষণ দেখা যেতে পারে। অন্যদিকে হরমোন বেশি তৈরি হলে বুক ধড়ফড়, অতিরিক্ত ঘাম, ওজন কমে যাওয়া বা অস্থিরতা হতে পারে।

আরও পড়ুন:

পুরুষদের চুল পড়ার কারণ কী? জানুন চিকিৎসা ও প্রতিকার

দাড়ি কামালে কি বেশি গজায়? জানুন আসল সত্য

সবসময় ক্লান্ত লাগে কেন? পুরুষদের যে পুষ্টির ঘাটতি হতে পারে

মাসিকের অনিয়মের সঙ্গে এসব লক্ষণ থাকলে চিকিৎসক থাইরয়েডের কার্যকারিতা পরীক্ষা করার পরামর্শ দিতে পারেন।

৪. মানসিক চাপ ও পর্যাপ্ত ঘুমের অভাব

দীর্ঘদিনের মানসিক চাপ, উদ্বেগ, অনিয়মিত ঘুম কিংবা বড় ধরনের জীবনযাত্রার পরিবর্তন মস্তিষ্কের সেই হরমোন-নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাকে প্রভাবিত করতে পারে, যা ডিম্বস্ফোটন ও মাসিক চক্রের সঙ্গে সম্পর্কিত।

পরীক্ষার চাপ, কাজের অতিরিক্ত ব্যস্ততা, পারিবারিক সমস্যা বা দীর্ঘদিন ঘুমের ঘাটতি থাকলে কারও কারও মাসিক দেরিতে আসতে পারে। তবে মাসিক অনিয়মিত হওয়ার পেছনে শুধু মানসিক চাপই দায়ী—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো ঠিক নয়।

নিয়মিত ঘুম, সুষম খাবার, পর্যাপ্ত বিশ্রাম ও মানসিক চাপ সামলানোর অভ্যাস সহায়ক হতে পারে। অনিয়ম চলতে থাকলে অন্য সম্ভাব্য কারণও পরীক্ষা করা প্রয়োজন।

৫. ওজন দ্রুত কমে যাওয়া বা বেড়ে যাওয়া

অল্প সময়ে অনেক ওজন কমে যাওয়া, পর্যাপ্ত খাবার না খাওয়া কিংবা শরীরে প্রয়োজনীয় শক্তির ঘাটতি তৈরি হলে ডিম্বস্ফোটন ব্যাহত হতে পারে। একইভাবে অতিরিক্ত ওজন বৃদ্ধি, বিশেষ করে ইনসুলিনের কার্যকারিতায় পরিবর্তন হলে, কিছু নারীর মাসিক চক্র অনিয়মিত হতে পারে।

খুব কম খাওয়া, কঠোর ডায়েট অনুসরণ করা বা দ্রুত ওজন কমানোর চেষ্টা শরীরের স্বাভাবিক হরমোনের কার্যক্রমে প্রভাব ফেলতে পারে। তাই মাসিক নিয়মিত রাখতে সুষম খাবার ও স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন গুরুত্বপূর্ণ।

তবে ওজন বাড়া বা কমার সঙ্গে মাসিকের পরিবর্তন দেখা দিলেই সেটির কারণ নিশ্চিতভাবে ওজন—এমন নয়। প্রয়োজনে চিকিৎসকের মূল্যায়ন দরকার।

৬. অতিরিক্ত ব্যায়াম ও শারীরিক পরিশ্রম

নিয়মিত ব্যায়াম শরীরের জন্য উপকারী। কিন্তু অতিরিক্ত কঠোর ব্যায়াম, পর্যাপ্ত খাবার না খাওয়া এবং শরীরের প্রয়োজনের তুলনায় কম শক্তি গ্রহণ করলে মাসিক অনিয়মিত হতে পারে।

বিশেষ করে দীর্ঘ সময় কঠোর প্রশিক্ষণ নেওয়া, দ্রুত ওজন কমানোর চেষ্টা করা কিংবা পর্যাপ্ত বিশ্রাম না পেলে শরীরের হরমোনের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হতে পারে। এর ফলে মাসিক দেরিতে আসা বা বন্ধ হয়ে যাওয়ার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে।

এ ধরনের পরিবর্তন হলে ব্যায়ামের মাত্রা, খাবার ও বিশ্রামের ভারসাম্য পর্যালোচনা করা দরকার। মাসিক দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

৭. গর্ভধারণ ও হরমোনাল জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি

যৌনসম্পর্কের পর মাসিক দেরি হলে গর্ভধারণের সম্ভাবনা বিবেচনা করা জরুরি। মাসিক বন্ধ হয়ে যাওয়া গর্ভধারণের প্রাথমিক লক্ষণগুলোর একটি হতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে উপযুক্ত সময়ে গর্ভধারণ পরীক্ষা করা উচিত।

অন্যদিকে জন্মনিয়ন্ত্রণের কিছু হরমোনাল পদ্ধতি—যেমন নির্দিষ্ট পিল, ইনজেকশন বা হরমোনযুক্ত জরায়ুর ভেতরের ডিভাইস—মাসিকের সময়সূচি ও রক্তপাতের পরিমাণ বদলে দিতে পারে। কারও রক্তপাত কমে যেতে পারে, কারও অনিয়মিত স্পটিং হতে পারে, আবার কারও মাসিক বন্ধও থাকতে পারে।

কোনো জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি শুরু বা পরিবর্তন করার পর মাসিকের ধরন বদলালে চিকিৎসক বা প্রশিক্ষিত স্বাস্থ্যকর্মীর সঙ্গে কথা বলা ভালো। নিজে থেকে হরমোনের ওষুধ শুরু বা বন্ধ করবেন না।

৮. স্তন্যদান ও মেনোপজের কাছাকাছি সময়

সন্তান জন্মের পর স্তন্যদান চলাকালে শরীরের হরমোনের পরিবর্তনের কারণে মাসিক দেরিতে ফিরতে পারে বা কিছু সময় অনিয়মিত থাকতে পারে। তবে মাসিক না হলেও ডিম্বস্ফোটন হতে পারে, তাই গর্ভধারণের সম্ভাবনা পুরোপুরি বাদ দেওয়া যায় না।

অন্যদিকে মেনোপজের কাছাকাছি সময়ে ডিম্বাশয়ের কার্যক্রম ধীরে ধীরে বদলাতে থাকে। এ সময় মাসিকের ব্যবধান বাড়তে বা কমতে পারে এবং রক্তপাতের ধরনও পরিবর্তিত হতে পারে। মেনোপজ সাধারণত টানা ১২ মাস মাসিক না হওয়ার পর নির্ধারণ করা হয়, যদি অন্য কোনো কারণ না থাকে।

মেনোপজের পর আবার যোনিপথে রক্তপাত হলে সেটিকে স্বাভাবিক ধরে নেওয়া উচিত নয়; চিকিৎসকের মূল্যায়ন প্রয়োজন।

মাসিক অনিয়মিত হলে কী করবেন?

প্রথমে মাসিকের তারিখ, কত দিন রক্তপাত হচ্ছে এবং রক্তপাতের পরিমাণ কেমন—এসব লিখে রাখুন। ক্যালেন্ডার বা মোবাইল অ্যাপ ব্যবহার করলে পরিবর্তনগুলো বুঝতে সুবিধা হতে পারে। পাশাপাশি নতুন কোনো ওষুধ শুরু করেছেন কি না, ওজন বদলেছে কি না, মানসিক চাপ বা ঘুমের সমস্যা আছে কি না, সেদিকেও নজর দিন।

গর্ভধারণের সম্ভাবনা থাকলে উপযুক্ত সময়ে গর্ভধারণ পরীক্ষা করুন। বারবার মাসিক অনিয়মিত হলে বা আগে নিয়মিত থাকার পর হঠাৎ পরিবর্তন দেখা দিলে স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।

চিকিৎসক প্রয়োজন অনুযায়ী গর্ভধারণ পরীক্ষা, থাইরয়েডের পরীক্ষা, হরমোন-সংক্রান্ত পরীক্ষা বা আলট্রাসনোগ্রামের পরামর্শ দিতে পারেন। সবার জন্য সব পরীক্ষা প্রয়োজন হয় না; উপসর্গ ও সম্ভাব্য কারণের ওপর নির্ভর করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

মাসিক নিয়মিত করার জন্য নিজের ইচ্ছায় হরমোনাল ওষুধ, মাসিক আনার ওষুধ বা ভেষজ উপাদান ব্যবহার করবেন না। কারণ না জেনে এসব ব্যবহার করলে সমস্যার প্রকৃত কারণ শনাক্ত হতে দেরি হতে পারে।

কখন দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া জরুরি?

নিচের পরিস্থিতিগুলোতে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ:

• টানা তিন মাস মাসিক না হওয়া, যদি গর্ভধারণ, স্তন্যদান বা মেনোপজের মতো ব্যাখ্যাযোগ্য কারণ না থাকে।

• মাসিক সাত দিনের বেশি স্থায়ী হওয়া বা বারবার অস্বাভাবিক রক্তপাত হওয়া।

• এক থেকে দুই ঘণ্টার মধ্যে বারবার প্যাড পুরো ভিজে যাওয়া, বিশেষ করে দুর্বলতা, মাথা ঘোরা বা শ্বাসকষ্টের সঙ্গে।

• মাসিকের মাঝখানে বা যৌনসম্পর্কের পর বারবার রক্তপাত হওয়া।

• মাসিক অনিয়মিত হওয়ার সঙ্গে অস্বাভাবিক ওজন পরিবর্তন, অতিরিক্ত মুখের লোম, ব্রণ বা অন্য হরমোন-সম্পর্কিত লক্ষণ থাকা।

• গর্ভধারণের সম্ভাবনার সঙ্গে তীব্র তলপেটের ব্যথা, মাথা ঘোরা বা রক্তপাত হওয়া।

অতিরিক্ত রক্তপাতের সঙ্গে অজ্ঞান হয়ে যাওয়া, তীব্র দুর্বলতা বা শ্বাসকষ্ট দেখা দিলে জরুরি চিকিৎসা নিন। গর্ভধারণের সম্ভাবনার সঙ্গে তীব্র পেটব্যথা বা মাথা ঘোরাও জরুরি সমস্যার লক্ষণ হতে পারে।

মাসিক অনিয়মিত হওয়ার পেছনে হরমোনের পরিবর্তন, PCOS, থাইরয়েডের সমস্যা, মানসিক চাপ, ওজনের ওঠানামা, অতিরিক্ত ব্যায়াম, গর্ভধারণ কিংবা জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতির প্রভাব থাকতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে বয়স ও শারীরিক পরিবর্তনের কারণেও মাসিকের নিয়ম বদলায়।

তবে বারবার অনিয়ম হওয়া, দীর্ঘদিন মাসিক বন্ধ থাকা বা অস্বাভাবিক রক্তপাতকে অবহেলা করা উচিত নয়। মাসিকের সময়সূচি লিখে রাখা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই কারণ শনাক্ত করার সবচেয়ে ভালো উপায়।

প্রশ্নোত্তর (FAQ)

প্রশ্ন: মাসিক অনিয়মিত হওয়ার প্রধান কারণ কী?

উত্তর: হরমোনের পরিবর্তন, PCOS, থাইরয়েডের সমস্যা, মানসিক চাপ, ওজনের পরিবর্তন, অতিরিক্ত ব্যায়াম, গর্ভধারণ ও হরমোনাল জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি এর সম্ভাব্য কারণ।

প্রশ্ন: কত দিন পরপর মাসিক হওয়া স্বাভাবিক?

উত্তর: প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে সাধারণত এক মাসিকের প্রথম দিন থেকে পরের মাসিকের প্রথম দিন পর্যন্ত ২১ থেকে ৩৫ দিনের ব্যবধান স্বাভাবিক সীমার মধ্যে পড়ে। ব্যক্তিভেদে কিছু পার্থক্য থাকতে পারে।

প্রশ্ন: মাসিক দেরি হলে কি গর্ভধারণ হয়েছে বোঝায়?

উত্তর: না। মানসিক চাপ, ওজনের পরিবর্তন, হরমোনের সমস্যা ও অন্যান্য কারণেও মাসিক দেরি হতে পারে। তবে গর্ভধারণের সম্ভাবনা থাকলে পরীক্ষা করা উচিত।

প্রশ্ন: PCOS হলে কি মাসিক অনিয়মিত হয়?

উত্তর: হ্যাঁ, PCOS-এর কারণে ডিম্বস্ফোটন অনিয়মিত হতে পারে এবং মাসিক দেরিতে আসতে বা কয়েক মাস বন্ধ থাকতে পারে। তবে শুধু মাসিক অনিয়মিত হলেই PCOS নিশ্চিত হয় না।

প্রশ্ন: কত দিন মাসিক বন্ধ থাকলে চিকিৎসকের কাছে যেতে হবে?

উত্তর: গর্ভধারণ, স্তন্যদান বা মেনোপজের মতো ব্যাখ্যাযোগ্য কারণ না থাকলে টানা তিন মাস মাসিক না হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। অতিরিক্ত রক্তপাত, তীব্র ব্যথা বা গর্ভধারণের সম্ভাবনার সঙ্গে ব্যথা ও রক্তপাত হলে আরও দ্রুত চিকিৎসা প্রয়োজন।

তানভির ইসলাম/

পাঠকের মতামত: