ঢাকা, রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ৩ কার্তিক ১৪৩৩

হঠাৎ চুল পড়া বেড়েছে? শরীরের এই সমস্যাগুলো হতে পারে কারণ

স্বাস্থ্য ডেস্ক . ২৪আপডেটনিউজ
২০২৬ অক্টোবর ১৮ ১১:২৮:২০
হঠাৎ চুল পড়া বেড়েছে? শরীরের এই সমস্যাগুলো হতে পারে কারণ

প্রতিদিন কিছু চুল ঝরে পড়া স্বাভাবিক। তবে হঠাৎ করে চুল পড়ার পরিমাণ বেড়ে যাওয়া, মাথার ত্বক দৃশ্যমান হয়ে ওঠা কিংবা চুলের ঘনত্ব কমতে থাকা শরীরের ভেতরের কোনো পরিবর্তন, পুষ্টির ঘাটতি বা মাথার ত্বকের সমস্যার ইঙ্গিত হতে পারে। বংশগত প্রবণতা, মানসিক চাপ, হরমোনের পরিবর্তন, আয়রনের ঘাটতি, থাইরয়েডের সমস্যা এবং চুলের অতিরিক্ত প্রসাধন বা রাসায়নিক ব্যবহারের মতো বিভিন্ন কারণে চুল পড়া বাড়তে পারে।

অনেকেই চুল পড়া শুরু হলে প্রথমেই তেল, শ্যাম্পু বা ঘরোয়া পদ্ধতির ওপর নির্ভর করেন। কিন্তু সব ধরনের চুল পড়ার কারণ এক নয়। কারও ক্ষেত্রে সাময়িকভাবে চুল ঝরে পড়লেও অন্য কারও ক্ষেত্রে এটি দীর্ঘমেয়াদি চুল পাতলা হওয়ার লক্ষণ হতে পারে। তাই চুল পড়ার কারণ বোঝা, প্রয়োজন অনুযায়ী পরীক্ষা করা এবং সঠিক যত্ন নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের প্রচলিত চিকিৎসাবিজ্ঞানের তথ্য অনুযায়ী, প্রতিদিন প্রায় ৫০ থেকে ১০০টি চুল ঝরে পড়া সাধারণত স্বাভাবিক বলে বিবেচিত হয়। তবে এই সংখ্যা সবার ক্ষেত্রে এক নয়। নিজের চুলের স্বাভাবিক অবস্থার তুলনায় হঠাৎ ঝরে পড়া বেড়ে গেলে বা দৃশ্যমানভাবে চুল পাতলা হলে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা উচিত।

চুল পড়া বেড়ে যাওয়ার ১০টি সাধারণ কারণ

1. বংশগত কারণ

চুল পাতলা হয়ে যাওয়া বা ধীরে ধীরে টাক পড়ার অন্যতম সাধারণ কারণ হলো বংশগত প্রবণতা। পরিবারের অন্য সদস্যদের এ ধরনের সমস্যা থাকলে নিজেরও ঝুঁকি বাড়তে পারে। নারী ও পুরুষ উভয়ের ক্ষেত্রেই এই সমস্যা দেখা যায়। পুরুষদের কপালের দুই পাশ থেকে চুল পেছাতে পারে, আর নারীদের মাথার মাঝের সিঁথি চওড়া হয়ে চুলের ঘনত্ব কমতে পারে। এ ধরনের চুল পড়া সাধারণত ধীরে ধীরে বাড়ে।

2. অতিরিক্ত মানসিক চাপ

দীর্ঘদিনের মানসিক চাপ চুলের স্বাভাবিক বৃদ্ধিচক্রে প্রভাব ফেলতে পারে। বড় ধরনের মানসিক ধাক্কা, পারিবারিক সমস্যা, অতিরিক্ত কাজের চাপ কিংবা দীর্ঘদিন উদ্বেগের মধ্যে থাকলে কিছু মানুষের চুল বেশি ঝরতে শুরু করে।

এ ক্ষেত্রে চাপের ঘটনার সঙ্গে সঙ্গে চুল পড়া শুরু না-ও হতে পারে। অনেক সময় কয়েক মাস পর চুল ঝরা বেড়ে যায়। কারণটি সাময়িক হলে এবং অন্য কোনো সমস্যা না থাকলে সময়ের সঙ্গে চুলের ঘনত্ব আবার ফিরে আসতে পারে।

3. জ্বর, অসুস্থতা বা অস্ত্রোপচার

উচ্চ জ্বর, গুরুতর অসুস্থতা কিংবা অস্ত্রোপচারের পর অনেকের চুল পড়া বেড়ে যায়। শরীরের ওপর বড় ধরনের চাপ পড়লে চুলের স্বাভাবিক বৃদ্ধিচক্রের পরিবর্তন ঘটতে পারে। এর ফলে একসঙ্গে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি চুল ঝরে পড়ে।

এ ধরনের চুল পড়া অনেক সময় অসুস্থতা থেকে সেরে ওঠার কয়েক মাস পর চোখে পড়ে। কারণ দূর হলে চুল ধীরে ধীরে আগের অবস্থায় ফিরতে পারে। তবে দীর্ঘদিন সমস্যা চললে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।

4. আয়রন, প্রোটিন ও পুষ্টির ঘাটতি

চুলের স্বাভাবিক বৃদ্ধি বজায় রাখতে শরীরের পর্যাপ্ত পুষ্টি প্রয়োজন। খাদ্যতালিকায় প্রোটিনের ঘাটতি, আয়রনের অভাব এবং কিছু ক্ষেত্রে জিঙ্কের ঘাটতি চুল পড়ার সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে।

আরও পড়ুন:

হঠাৎ চুল পড়া বেড়েছে? শরীরের এই সমস্যাগুলো হতে পারে কারণ

রান্নাঘরের তেলচিটে ভাব দূর করার সহজ ও কার্যকর উপায়

ফ্রিজের দুর্গন্ধ দূর করার ৭টি সহজ উপায়, জানুন ঘরোয়া কৌশল

দীর্ঘদিন অপর্যাপ্ত খাবার খাওয়া, কঠোর ডায়েট করা কিংবা দ্রুত ওজন কমানোর চেষ্টা করলে পুষ্টির ঘাটতি দেখা দিতে পারে। তবে সবার চুল পড়ার পেছনে ভিটামিন বা খনিজের অভাব থাকে না। তাই পরীক্ষা বা চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া নিজে থেকে আয়রন কিংবা উচ্চমাত্রার সাপ্লিমেন্ট খাওয়া ঠিক নয়।

5. হরমোনের পরিবর্তন

হরমোনের পরিবর্তনের কারণেও চুল পড়া বেড়ে যেতে পারে। সন্তান জন্ম দেওয়ার পর অনেক নারীর চুল সাময়িকভাবে বেশি ঝরে। আবার মেনোপজের সময় কিংবা কিছু হরমোনজনিত সমস্যায় চুল পাতলা হতে পারে।

পলিসিস্টিক ওভারি সিনড্রোমের (পিসিওএস) মতো সমস্যায়ও কিছু নারীর মাথার চুল পাতলা হতে পারে। তবে শুধু চুল পড়া দেখে হরমোনের সমস্যা নিশ্চিত করা যায় না। অনিয়মিত মাসিক, ব্রণ বা অন্য উপসর্গ থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

6. থাইরয়েডের সমস্যা

থাইরয়েড গ্রন্থি শরীরের বিপাকক্রিয়া নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এই গ্রন্থি প্রয়োজনের তুলনায় কম বা বেশি হরমোন তৈরি করলে চুলের বৃদ্ধিচক্রে প্রভাব পড়তে পারে।

থাইরয়েডের সমস্যায় চুল পাতলা হয়ে যাওয়া বা স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি চুল ঝরে পড়ার পাশাপাশি ক্লান্তি, ওজনের পরিবর্তন কিংবা শরীরের তাপমাত্রা সহ্য করতে অসুবিধার মতো লক্ষণ দেখা দিতে পারে। এমন উপসর্গ থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা করানো যেতে পারে।

7. কিছু ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া

কিছু ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হিসেবে চুল পড়তে পারে। ক্যানসারের চিকিৎসায় ব্যবহৃত কিছু ওষুধসহ নির্দিষ্ট কিছু ওষুধ চুলের বৃদ্ধিতে প্রভাব ফেলে। আবার কোনো ওষুধ শুরু করা বা বন্ধ করার পরও কিছু ক্ষেত্রে চুল পড়ার পরিবর্তন দেখা যেতে পারে।

তবে কোনো ওষুধ খাওয়ার পর চুল পড়ছে মনে হলেই সেটিকে দায়ী করা ঠিক নয়। চিকিৎসকের সঙ্গে কথা না বলে নির্ধারিত ওষুধ বন্ধ করবেন না। প্রয়োজনে চিকিৎসক ওষুধের ধরন, মাত্রা বা বিকল্প নিয়ে সিদ্ধান্ত দিতে পারেন।

8. মাথার ত্বকের সংক্রমণ ও প্রদাহ

মাথার ত্বকে ছত্রাকের সংক্রমণ, প্রদাহ কিংবা অন্য কোনো চর্মরোগের কারণেও চুল পড়তে পারে। বিশেষ করে মাথার ত্বকে চুলকানি, লালচে ভাব, খোসা ওঠা, ব্যথা বা গোলাকার জায়গায় চুল উঠে যাওয়ার মতো লক্ষণ থাকলে বিষয়টি অবহেলা করা উচিত নয়।

কিছু সংক্রমণ চিকিৎসা না করালে চুলের গোড়ার ক্ষতি হতে পারে। তাই মাথার ত্বকে অস্বাভাবিক পরিবর্তন দেখা দিলে শুধু তেল বা শ্যাম্পু বদলে সময় নষ্ট না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া ভালো।

9. চুল শক্ত করে বাঁধা

নিয়মিত খুব শক্ত করে পনিটেল, খোঁপা বা বেণি বাঁধলে চুলের গোড়ায় টান পড়ে। দীর্ঘদিন এমন অভ্যাস চলতে থাকলে ট্র্যাকশন অ্যালোপেশিয়া নামের এক ধরনের চুল পড়ার সমস্যা হতে পারে।

এ ক্ষেত্রে কপালের দুই পাশের চুল পাতলা হয়ে যাওয়া কিংবা চুলের রেখা পেছাতে থাকার মতো লক্ষণ দেখা দিতে পারে। দীর্ঘদিন টান পড়তে থাকলে কিছু ক্ষেত্রে চুলের গোড়ার স্থায়ী ক্ষতিও হতে পারে। তাই চুল ঢিলেঢালাভাবে বাঁধা এবং গোড়ায় টান পড়ে এমন স্টাইল কম ব্যবহার করা ভালো।

10. অতিরিক্ত তাপ ও রাসায়নিক ব্যবহার

বারবার চুলে রং করা, রাসায়নিক দিয়ে সোজা বা কোঁকড়া করা এবং অতিরিক্ত তাপ দিয়ে স্টাইল করার কারণে চুলের গঠন দুর্বল হতে পারে। এর ফলে চুলের গোড়া থেকে ঝরে পড়ার পাশাপাশি চুলের মাঝখান থেকে ভেঙে যাওয়ার সমস্যাও দেখা দেয়।

চুল ভেঙে যাওয়া আর চুলের গোড়া থেকে ঝরে পড়া এক বিষয় নয়। তবে দুই ক্ষেত্রেই চুলের ঘনত্ব কমে যেতে পারে। এ সমস্যা কমাতে অতিরিক্ত হিট ব্যবহার সীমিত করুন, মৃদু শ্যাম্পু ব্যবহার করুন এবং ভেজা চুল জোরে ঘষা বা আঁচড়ানো এড়িয়ে চলুন।

চুল পড়া কমাতে প্রতিদিন কী করবেন?

চুল পড়া কমানোর জন্য প্রথমে এর সম্ভাব্য কারণ শনাক্ত করা জরুরি। শুধু দামি শ্যাম্পু বা তেল ব্যবহার করলেই সব ধরনের চুল পড়া বন্ধ হয় না। বরং দৈনন্দিন কিছু অভ্যাস পরিবর্তন চুলের ক্ষতি কমাতে সাহায্য করতে পারে।

প্রতিদিনের খাবারে পর্যাপ্ত প্রোটিন, আয়রনসমৃদ্ধ খাবার এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় পুষ্টি রাখুন। পর্যাপ্ত ঘুমানোর চেষ্টা করুন এবং মানসিক চাপ সামলাতে নিয়মিত শরীরচর্চা বা আরামদায়ক কাজে সময় দিন।

চুলে অতিরিক্ত তাপ প্রয়োগ, ঘন ঘন রাসায়নিক ট্রিটমেন্ট এবং শক্ত করে চুল বাঁধার অভ্যাস কমান। চুল ধোয়ার সময় মাথার ত্বক পরিষ্কার রাখুন এবং ভেজা চুল আলতোভাবে আঁচড়ান।

চুল পড়া বন্ধ করার আশায় নিজের ইচ্ছায় ভিটামিন, আয়রন বা চুল গজানোর ওষুধ ব্যবহার করবেন না। শরীরে কোনো পুষ্টির ঘাটতি আছে কি না, তা প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসকের পরামর্শে পরীক্ষা করে নেওয়া উচিত।

কখন চিকিৎসকের পরামর্শ নেবেন?

চুল পড়া হঠাৎ অনেক বেড়ে গেলে, মাথার কোনো নির্দিষ্ট জায়গায় গোলাকারভাবে চুল উঠে গেলে কিংবা অল্প সময়ে চুলের ঘনত্ব উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

এ ছাড়া মাথার ত্বকে ব্যথা, চুলকানি, লালচে ভাব, ক্ষত বা অতিরিক্ত খোসা ওঠার সমস্যা থাকলেও দেরি করা ঠিক নয়। চুল পড়ার সঙ্গে ক্লান্তি, অস্বাভাবিক ওজন পরিবর্তন বা অন্য শারীরিক উপসর্গ থাকলে সেগুলোও চিকিৎসককে জানান।

চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ চুল ও মাথার ত্বক পরীক্ষা করে প্রয়োজন অনুযায়ী রক্ত পরীক্ষা বা অন্য পরীক্ষা দিতে পারেন। কারণ অনুযায়ী চিকিৎসা শুরু করলে অনেক ধরনের চুল পড়া নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। তবে সব ধরনের চুল পড়া পুরোপুরি বন্ধ করা বা আগের মতো ঘন চুল ফিরে পাওয়া নিশ্চিত নয়।

চুল পড়া বেড়ে যাওয়ার পেছনে বংশগত প্রবণতা থেকে শুরু করে পুষ্টির ঘাটতি, মানসিক চাপ, হরমোনের পরিবর্তন এবং মাথার ত্বকের রোগ—বিভিন্ন কারণ থাকতে পারে। তাই অন্য কারও ব্যবহৃত তেল বা ওষুধ নিজের ক্ষেত্রে কার্যকর হবে, এমন ধরে নেওয়া ঠিক নয়। চুল পড়ার ধরন ও সম্ভাব্য কারণ বুঝে ব্যবস্থা নেওয়াই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

সাধারণ জিজ্ঞাসা

প্রশ্ন: প্রতিদিন কত চুল পড়া স্বাভাবিক?

উত্তর: সাধারণত প্রতিদিন প্রায় ৫০ থেকে ১০০টি চুল ঝরে পড়া স্বাভাবিক বলে বিবেচিত হয়। তবে ব্যক্তিভেদে এই পরিমাণ পরিবর্তিত হতে পারে। নিজের স্বাভাবিক অবস্থার তুলনায় হঠাৎ চুল পড়া বেড়ে গেলে কারণ খুঁজে দেখা প্রয়োজন।

প্রশ্ন: মানসিক চাপের কারণে কি চুল পড়ে?

উত্তর: হ্যাঁ। অতিরিক্ত মানসিক চাপের কারণে সাময়িকভাবে চুল ঝরে পড়া বেড়ে যেতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে চাপের ঘটনার কয়েক মাস পর এই সমস্যা দেখা দেয়।

প্রশ্ন: কোন ভিটামিনের অভাবে চুল পড়ে?

উত্তর: চুল পড়ার সঙ্গে কিছু পুষ্টির ঘাটতির সম্পর্ক রয়েছে। আয়রন, প্রোটিন ও জিঙ্কের ঘাটতি গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। তবে সব ক্ষেত্রে ভিটামিনের অভাব দায়ী নয়। প্রয়োজন অনুযায়ী পরীক্ষা করে ঘাটতি নিশ্চিত করা উচিত।

প্রশ্ন: তেল ব্যবহার করলে কি চুল পড়া বন্ধ হয়?

উত্তর: তেল চুলের শুষ্কতা কমাতে ও চুলের পরিচর্যায় সাহায্য করতে পারে। তবে বংশগত সমস্যা, থাইরয়েডের রোগ বা পুষ্টির ঘাটতিজনিত চুল পড়ার মূল কারণ শুধু তেল দিয়ে দূর করা যায় না।

প্রশ্ন: চুল পড়া বেশি হলে কোন চিকিৎসকের কাছে যাবেন?

উত্তর: চুল পড়া দীর্ঘস্থায়ী হলে, হঠাৎ বেড়ে গেলে বা মাথার ত্বকে সমস্যা দেখা দিলে চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন। তিনি প্রয়োজন অনুযায়ী পরীক্ষা ও চিকিৎসার পরামর্শ দিতে পারবেন।

আল-মামুন/

পাঠকের মতামত: