Vivo Y600-তে ১০,০০০mAh ব্যাটারি, দাম কত?
স্মার্টফোনে বড় ব্যাটারি খুঁজছেন এমন ক্রেতাদের নজর কাড়তে পারে ভিভোর নতুন Y600। ফোনটিতে রয়েছে ১০,০০০mAh ব্যাটারি, ৬.৮৩ ইঞ্চির AMOLED ডিসপ্লে এবং MediaTek Dimensity 7300e প্রসেসর। চীনের বাজারে চারটি RAM ও স্টোরেজ সংস্করণে ফোনটি এনেছে Vivo। এর প্রাথমিক দাম রাখা হয়েছে ১,৯৯৯ ইউয়ান। তবে বাংলাদেশের বাজারে Vivo Y600-এর আনুষ্ঠানিক দাম ও বিক্রির তারিখ এখনো ঘোষণা করা হয়নি।
Vivo Y600-এর দাম ও বিক্রির তারিখ
Vivo Y600 চীনে ২০২৬ সালের অক্টোবর মাসে উন্মোচন করা হয়েছে। ফোনটির প্রি-অর্ডার শুরু হয়েছে ২৬ অক্টোবর থেকে। চীনে আনুষ্ঠানিক বিক্রি শুরু হওয়ার কথা ৩০ অক্টোবর। দেশটির বাজারে ফোনটি চারটি মেমোরি কনফিগারেশনে পাওয়া যাবে।
চীনে Vivo Y600-এর সংস্করণভেদে দাম হলো:
৬ জিবি RAM ও ১২৮ জিবি স্টোরেজ: ১,৯৯৯ ইউয়ান
৮ জিবি RAM ও ১২৮ জিবি স্টোরেজ: ২,০৯৯ ইউয়ান
৬ জিবি RAM ও ২৫৬ জিবি স্টোরেজ: ২,১৯৯ ইউয়ান
৮ জিবি RAM ও ২৫৬ জিবি স্টোরেজ: ২,৪৯৯ ইউয়ান
এই দামগুলো চীনের বাজারের জন্য নির্ধারিত। বাংলাদেশে আমদানি, কর, বিক্রেতার মূল্য নির্ধারণ এবং আনুষ্ঠানিক বাজারজাতকরণের বিষয়গুলো ভিন্ন হতে পারে। তাই চীনের দাম সরাসরি টাকায় রূপান্তর করে বাংলাদেশের সম্ভাব্য বিক্রয়মূল্য ধরে নেওয়া ঠিক হবে না।
১০,০০০mAh ব্যাটারি, চার্জিং ৪৪ ওয়াট
Vivo Y600-এর সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য এর বড় ব্যাটারি। ফোনটিতে ১০,০০০mAh টিপিক্যাল ক্ষমতার ব্যাটারি ব্যবহার করা হয়েছে। নির্মাতার তথ্য অনুযায়ী, এর রেটেড ব্যাটারি ক্ষমতা ৯,৮০০mAh।
এত বড় ব্যাটারি থাকায় ফোনটি দীর্ঘ সময় ব্যবহার করতে আগ্রহীদের জন্য বিবেচনাযোগ্য হতে পারে। তবে বাস্তবে একবার চার্জে কতক্ষণ চলবে, তা নির্ভর করবে স্ক্রিনের উজ্জ্বলতা, নেটওয়ার্ক, অ্যাপ ব্যবহার, গেম খেলা ও অন্যান্য সেটিংসের ওপর।
ব্যাটারি চার্জ করার জন্য রয়েছে সর্বোচ্চ ৪৪ ওয়াট ওয়্যারড চার্জিং সুবিধা। ফোনটি রিভার্স ওয়্যারড চার্জিংও সমর্থন করে। অর্থাৎ উপযুক্ত সংযোগের মাধ্যমে এটি দিয়ে অন্য সামঞ্জস্যপূর্ণ ডিভাইস চার্জ দেওয়া সম্ভব। তবে ১০,০০০mAh ব্যাটারি পূর্ণ চার্জ হতে কত সময় লাগবে, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট সময় ধরে নেওয়া উচিত নয়।
১২০Hz রিফ্রেশ রেটের AMOLED ডিসপ্লে
ফোনটির সামনে রয়েছে ৬.৮৩ ইঞ্চির AMOLED ডিসপ্লে। এর রেজল্যুশন ২,৮০০ × ১,২৬০ পিক্সেল, যা ১.৫K শ্রেণির ডিসপ্লে হিসেবে পরিচিত। সর্বোচ্চ ১২০Hz রিফ্রেশ রেটের কারণে সমর্থিত কনটেন্টে স্ক্রলিং ও অ্যানিমেশন তুলনামূলক মসৃণ দেখানোর কথা।
ডিসপ্লেটি ১০৭ কোটি রং প্রদর্শন করতে পারে এবং এতে HDR সমর্থন রয়েছে। পাশাপাশি P3 ওয়াইড কালার গ্যামাট ব্যবহারের সুবিধাও উল্লেখ করেছে ভিভো। ভিডিও দেখা, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার কিংবা ওয়েব ব্রাউজিংয়ের মতো কাজে বড় পর্দাটি সুবিধা দিতে পারে।
Dimensity 7300e প্রসেসরে চলবে Vivo Y600
Vivo Y600-তে ব্যবহার করা হয়েছে MediaTek Dimensity 7300e চিপসেট। এটি ৬ ন্যানোমিটার প্রক্রিয়ায় তৈরি অক্টা-কোর প্রসেসর। এর CPU-তে সর্বোচ্চ ২.৫ গিগাহার্টজ গতির চারটি কোর এবং ২.০ গিগাহার্টজ গতির আরও চারটি কোর রয়েছে। গ্রাফিকসের দায়িত্বে আছে Mali-G610 GPU।
ফোনটিতে ৬ জিবি বা ৮ জিবি RAM এবং ১২৮ জিবি বা ২৫৬ জিবি অভ্যন্তরীণ স্টোরেজের বিকল্প রয়েছে। স্টোরেজের ধরন UFS 3.1 এবং RAM-এর ধরন LPDDR4X।
এই হার্ডওয়্যার দিয়ে দৈনন্দিন অ্যাপ ব্যবহার, ভিডিও দেখা ও একসঙ্গে একাধিক অ্যাপ চালানোর কাজ করা সম্ভব হওয়ার কথা। তবে গেমিং বা দীর্ঘ সময়ের ভারী ব্যবহারে পারফরম্যান্স কেমন হবে, তা নির্ভর করবে নির্দিষ্ট গেম, গ্রাফিকস সেটিংস ও তাপমাত্রা ব্যবস্থাপনার ওপর। শুধু প্রসেসরের নাম দেখে সব ধরনের কাজে একই রকম গতি ধরে নেওয়া যায় না।
পেছনে ৫০ মেগাপিক্সেলের ক্যামেরা
ফটোগ্রাফির জন্য Vivo Y600-তে রয়েছে ৫০ মেগাপিক্সেলের একটি পেছনের ক্যামেরা। এর অ্যাপারচার f/1.8 এবং অটোফোকাস সুবিধা রয়েছে। ক্যামেরাটিতে সর্বোচ্চ ১০ গুণ ডিজিটাল জুমের সুবিধাও দেওয়া হয়েছে।
সামনে সেলফি ও ভিডিও কলের জন্য রয়েছে ৮ মেগাপিক্সেলের ক্যামেরা, যার অ্যাপারচার f/2.05। ফোনটি সর্বোচ্চ ১০৮০p রেজল্যুশনে ভিডিও ধারণ করতে পারে।
এখানে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, ফোনটির পেছনে একটিই ক্যামেরা রয়েছে। ফলে আলট্রাওয়াইড বা আলাদা টেলিফটো ক্যামেরা খুঁজছেন এমন ক্রেতাদের বিষয়টি মাথায় রাখা প্রয়োজন। আবার ক্যামেরার মেগাপিক্সেল সংখ্যা একাই ছবির মান নিশ্চিত করে না; আলো, সফটওয়্যার প্রসেসিং ও ব্যবহারের পরিস্থিতিও গুরুত্বপূর্ণ।
সফটওয়্যার, নেটওয়ার্ক ও অন্যান্য সুবিধা
Vivo Y600-তে রয়েছে Android 16-ভিত্তিক OriginOS 6। ফোনটি ৫জি নেটওয়ার্ক সমর্থন করে। পাশাপাশি রয়েছে ৪জি LTE, ডুয়াল-ব্যান্ড Wi-Fi, Bluetooth 5.4 এবং USB Type-C পোর্ট।
নিরাপত্তার জন্য ডিসপ্লের নিচে অপটিক্যাল ফিঙ্গারপ্রিন্ট সেন্সর দেওয়া হয়েছে। মুখ শনাক্ত করে ফোন আনলক করার সুবিধাও রয়েছে। এ ছাড়া NFC এবং ইনফ্রারেড রিমোট কন্ট্রোল সুবিধার কথা উল্লেখ করেছে ভিভো।
ফোনটির পুরুত্ব রঙভেদে ৮.৫৯ থেকে ৮.৬৯ মিলিমিটার এবং ওজন ২২৪ থেকে ২২৫ গ্রাম। অর্থাৎ বড় ব্যাটারির কারণে ফোনটি তুলনামূলক ভারী। কেনার আগে হাতে নিয়ে ব্যবহার করে দেখলে এই ওজন দৈনন্দিন ব্যবহারে কতটা স্বস্তিদায়ক হবে, তা বোঝা সহজ হবে।
ধুলা ও পানি প্রতিরোধের ক্ষেত্রে নির্মাতার তথ্য অনুযায়ী, ফোনটিতে IP68 ও IP69 রেটিং রয়েছে। তবে এ ধরনের রেটিং থাকলেও ফোনকে ইচ্ছাকৃতভাবে পানিতে ডোবানো বা উচ্চচাপের পানির সংস্পর্শে আনা নিরাপদ ধরে নেওয়া উচিত নয়। সুরক্ষার কার্যকারিতা ব্যবহারের অবস্থা ও সময়ের সঙ্গে বদলাতে পারে।
বাংলাদেশে Vivo Y600-এর দাম কত হতে পারে?
বাংলাদেশে Vivo Y600-এর আনুষ্ঠানিক দাম, বাজারজাতকরণের তারিখ কিংবা কোন কোন সংস্করণ পাওয়া যাবে—এসব বিষয়ে ভিভোর নিশ্চিত ঘোষণা এখনো পাওয়া যায়নি। তাই ফোনটির সম্ভাব্য বাংলাদেশি দাম সম্পর্কে নির্দিষ্ট অঙ্ককে নিশ্চিত তথ্য হিসেবে প্রকাশ করা ঠিক হবে না।
আরও পড়ুন:
Motorola Edge 70 Neo- ১৪৪Hz ডিসপ্লে ও বড় ব্যাটারি
Realme 17 Pro ও 17 Pro+: ক্যামেরা ও স্পেসিফিকেশন ফাঁস
Vivo X500 Pro Max: ২০০MP ক্যামেরা ও ৮,০০০mAh ব্যাটারি
চীনের বাজারে ফোনটির প্রারম্ভিক দাম ১,৯৯৯ ইউয়ান। কিন্তু বাংলাদেশে এলে কর, আমদানি খরচ, পরিবেশক ও বিক্রেতার মূল্য নির্ধারণের কারণে দাম আলাদা হতে পারে। ফোনটি দেশে আনুষ্ঠানিকভাবে আসবে কি না, সেটিও নিশ্চিত হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে।
সব মিলিয়ে, Vivo Y600-এর প্রধান আকর্ষণ বড় ব্যাটারি, বড় AMOLED ডিসপ্লে এবং ৫জি-সমর্থিত প্রসেসর। যারা দীর্ঘ ব্যাটারি ব্যাকআপকে অগ্রাধিকার দেন, তাদের কাছে ফোনটি আগ্রহের বিষয় হতে পারে। তবে ক্যামেরার বহুমুখিতা, ফোনের ওজন এবং বাংলাদেশের বাজারে চূড়ান্ত দাম বিবেচনা করেই কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়া ভালো।
সচরাচর জিজ্ঞাসা (FAQ)
১. Vivo Y600 কি বাংলাদেশে লঞ্চ হয়েছে?
বাংলাদেশে ফোনটির আনুষ্ঠানিক লঞ্চের বিষয়ে এখনো নিশ্চিত ঘোষণা পাওয়া যায়নি।
২. Vivo Y600-এর চীনের বাজারে দাম কত?
চীনে ৬ জিবি RAM ও ১২৮ জিবি স্টোরেজ সংস্করণের দাম ১,৯৯৯ ইউয়ান থেকে শুরু। সর্বোচ্চ সংস্করণ ৮ জিবি RAM ও ২৫৬ জিবি স্টোরেজের দাম ২,৪৯৯ ইউয়ান।
৩. Vivo Y600-এর ব্যাটারি কত mAh?
ফোনটিতে ১০,০০০mAh টিপিক্যাল ক্ষমতার ব্যাটারি রয়েছে। এর রেটেড ক্ষমতা ৯,৮০০mAh।
৪. Vivo Y600-তে কত ওয়াটের চার্জিং সুবিধা আছে?
ফোনটি সর্বোচ্চ ৪৪ ওয়াট ওয়্যারড চার্জিং সমর্থন করে। এতে রিভার্স ওয়্যারড চার্জিং সুবিধাও রয়েছে।
৫. Vivo Y600-এর ক্যামেরা কত মেগাপিক্সেল?
পেছনে রয়েছে ৫০ মেগাপিক্সেলের ক্যামেরা এবং সামনে ৮ মেগাপিক্সেলের সেলফি ক্যামেরা।
তানভির ইসলাম/
পাঠকের মতামত:
আপনার জন্য বাছাই করা কিছু নিউজ
- মালয়েশিয়া মেডিকেল কবে শুরু হবে ২০২৬, সর্বশেষ খবর
- আজকের স্বর্ণের দাম: ২২ ক্যারেট স্বর্ণের ভরি কত
- Ballon d’Or 2026 Rankings: শীর্ষে ইয়ামাল, সেরা ১০ কারা?
- OPPO Find X10 Ultra: ২০০ মেগাপিক্সেল ক্যামেরায় কী থাকছে?
- এইচএসসি রেজাল্ট ২০২৬: রোল নম্বর দিয়ে ফল দেখবেন যেভাবে
- আজকের স্বর্ণের দাম: ১৮, ২১ ও ২২ ক্যারেট প্রতি ভরি সোনার দাম