ঢাকা, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩

লিটারে ১৯ টাকা বাড়ানোর প্রস্তাব, সয়াবিন তেলের দাম নিয়ে সিদ্ধান্ত

জাতীয় ডেস্ক . ২৪আপডেটনিউজ
২০২৬ অক্টোবর ২৮ ১০:৩৭:২০
লিটারে ১৯ টাকা বাড়ানোর প্রস্তাব, সয়াবিন তেলের দাম নিয়ে সিদ্ধান্ত

রমজানের আগে ভোজ্যতেলের দাম বাড়ানোর উদ্যোগ আপাতত কার্যকর হচ্ছে না। লিটারপ্রতি ১৯ টাকা বাড়ানোর জন্য মিল মালিকদের সংগঠনের দেওয়া প্রস্তাবে সম্মতি দেননি বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। প্রস্তাবটি অনুমোদন পেলে এক লিটার বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম ১৯৯ টাকা থেকে বেড়ে ২১৮ টাকা এবং পাঁচ লিটারের বোতলের দাম ৯৭৫ টাকা থেকে বেড়ে ১ হাজার ৭০ টাকা হতো। খোলা সয়াবিন তেলের ক্ষেত্রেও লিটারে ১৯ টাকা বাড়ানোর প্রস্তাব ছিল।

বাংলাদেশ ভেজিটেবল অয়েল রিফাইনার্স অ্যান্ড বনস্পতি ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন গত ১৩ অক্টোবর বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে দাম সমন্বয়ের আবেদন পাঠায়। আন্তর্জাতিক বাজারে ভোজ্যতেলের মূল্যবৃদ্ধি এবং দেশের অভ্যন্তরে উৎপাদন ও বাজারজাতকরণের খরচ বেড়ে যাওয়াকে এর কারণ হিসেবে উল্লেখ করে সংগঠনটি। তবে দেশের সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে সরকার আপাতত প্রস্তাবটি গ্রহণ করেনি।

কোন তেলের দাম কত করার প্রস্তাব ছিল

মিল মালিকদের পাঠানো প্রস্তাবে বোতলজাত ও খোলা—দুই ধরনের সয়াবিন তেলের দাম বাড়ানোর কথা বলা হয়। এক লিটার বোতলজাত সয়াবিন তেলের প্রস্তাবিত মূল্য ছিল ২১৮ টাকা। পাঁচ লিটারের বোতলের ক্ষেত্রে দাম ১ হাজার ৭০ টাকা করার প্রস্তাব দেওয়া হয়। অন্যদিকে, বর্তমানে লিটারপ্রতি ১৮০ টাকা দরের খোলা সয়াবিন তেলের নতুন দাম ১৯৯ টাকা নির্ধারণের কথা বলা হয়েছিল।

গত সোমবার (২৬ অক্টোবর) বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজার পরিস্থিতি পর্যালোচনা সভায় বিষয়টি আলোচনায় আসে। ওই সভায় ভোজ্যতেলের পাশাপাশি ডিম, ডাল, ছোলা, খেজুর ও চিনির বাজার পরিস্থিতিও পর্যালোচনা করা হয়। সেখানে মূল্য সমন্বয়ের প্রস্তাব উঠলেও বাণিজ্যমন্ত্রী তাতে সায় দেননি।

দাম না বাড়ালে সরবরাহে সমস্যা হতে পারে, দাবি ব্যবসায়ীদের

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিবের কাছে পাঠানো চিঠিতে সংগঠনটি জানিয়েছে, গত ছয় মাসে আন্তর্জাতিক বাজারে ভোজ্যতেলের দাম বেড়েছে। বর্তমানে প্রতি মেট্রিক টন ভোজ্যতেলের মূল্য ১ হাজার ৩২৫ ডলারে দাঁড়িয়েছে। এই দরের ভিত্তিতে হিসাব করলে এক লিটার বোতলজাত সয়াবিন তেলের ব্যয় প্রায় ২৩৩ টাকা হয় বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

শুধু আন্তর্জাতিক বাজারের মূল্যবৃদ্ধিই নয়, দেশের ভেতরেও উৎপাদন ও বাজারজাতকরণের ব্যয় বেড়েছে বলে দাবি করেছে সংগঠনটি। তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, জ্বালানি তেল, পরিবহন ও বিদ্যুতের দাম বাড়ায় ভোজ্যতেল উৎপাদন এবং বাজারে পৌঁছে দেওয়ার খরচ বেড়েছে।

এই পরিস্থিতিতে দাম সমন্বয় করা না হলে ভবিষ্যতে ভোজ্যতেলের সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে চিঠিতে জানানো হয়। এর ফলে আসন্ন রমজানে বাজার পরিস্থিতিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলেও সতর্ক করেছে সংগঠনটি।

আগের মূল্য সমন্বয়ের আশ্বাসের কথা তুলে ধরেছে সংগঠন

সংগঠনটির নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নুরুল ইসলাম মোল্লার সই করা চিঠিতে গত ২ সেপ্টেম্বরের মূল্য সমন্বয়ের প্রসঙ্গ উল্লেখ করা হয়েছে। চিঠিতে বলা হয়, ওই সময় সরকার অল্প সময়ের মধ্যে আবারও দাম সমন্বয়ের আশ্বাস দিয়েছিল। সরকারের অনুরোধ ও সেই আশ্বাসের ভিত্তিতে লোকসান সত্ত্বেও বাজারে ভোজ্যতেলের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা হয়েছে বলে দাবি করেছে মিল মালিকদের সংগঠনটি।

গত ২ সেপ্টেম্বর বোতলজাত সয়াবিন তেলের এক লিটারের দাম ১৯৯ টাকা থেকে পাঁচ টাকা বাড়িয়ে ২০৪ টাকা করা হয়েছিল। পাঁচ লিটারের বোতলের দাম ৯৭৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে নির্ধারণ করা হয়েছিল ১ হাজার টাকা। তবে ওই মূল্য সমন্বয়ে খোলা সয়াবিন তেল ও পাম তেলের দাম অপরিবর্তিত ছিল।

আমদানি বাড়লেও দাম সমন্বয়ের দাবি

দেশে ভোজ্যতেল আমদানি এবং আমদানির জন্য ঋণপত্র বা এলসি খোলার পরিমাণ—দুটিই বেড়েছে। সংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, এ সময়ে দেশে ভোজ্যতেল আমদানির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৮ লাখ ২৩ হাজার মেট্রিক টন। গত বছরের একই সময়ে আমদানি হয়েছিল ৭ লাখ ৫ হাজার মেট্রিক টন। অর্থাৎ, এক বছরের ব্যবধানে আমদানি বেড়েছে ১ লাখ ১৮ হাজার মেট্রিক টন।

এদিকে, ভোজ্যতেল আমদানির জন্য এলসি খোলা হয়েছে ৮ লাখ ৫ হাজার মেট্রিক টন। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় এ পরিমাণ বেড়েছে ১ লাখ ৩১ হাজার মেট্রিক টন।

সয়াবিন বীজ আমদানিতেও বৃদ্ধি দেখা গেছে। এ সময়ে আমদানি হয়েছে ৫ লাখ ১ হাজার মেট্রিক টন, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ১ লাখ ১৩ হাজার মেট্রিক টন বেশি।

আমদানি ও এলসি খোলার পরিমাণ বাড়ার পরও আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্যবৃদ্ধি এবং দেশে উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাওয়ার কথা তুলে ধরে দাম সমন্বয়ের আবেদন জানিয়েছে ব্যবসায়ী সংগঠনটি। তবে রমজানের আগে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজার স্থিতিশীল রাখার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে সরকার আপাতত ভোজ্যতেলের দাম বাড়ানোর প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে।

সচরাচর জিজ্ঞাসা

১. ভোজ্যতেলের দাম বাড়ানোর প্রস্তাব কে দিয়েছিল?

বাংলাদেশ ভেজিটেবল অয়েল রিফাইনার্স অ্যান্ড বনস্পতি ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন এ প্রস্তাব দেয়।

২. কত টাকা দাম বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছিল?

প্রস্তাবে ভোজ্যতেলের দাম লিটারপ্রতি ১৯ টাকা বাড়ানোর কথা বলা হয়।

৩. এক লিটার বোতলজাত সয়াবিন তেলের প্রস্তাবিত দাম কত ছিল?

প্রস্তাব অনুযায়ী, এক লিটার বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম ১৯৯ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২১৮ টাকা করার কথা ছিল।

৪. সরকার কেন প্রস্তাবে সম্মতি দেয়নি?

দেশের সার্বিক পরিস্থিতি এবং রমজানের আগে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজার স্থিতিশীল রাখার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী আপাতত প্রস্তাবটি গ্রহণ করেননি।

৫. দেশে ভোজ্যতেল আমদানি কি কমেছে?

না। দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এ সময়ে আমদানি হয়েছে ৮ লাখ ২৩ হাজার মেট্রিক টন, যেখানে গত বছরের একই সময়ে তা ছিল ৭ লাখ ৫ হাজার মেট্রিক টন। অর্থাৎ আমদানি বেড়েছে ১ লাখ ১৮ হাজার মেট্রিক টন।

পাঠকের মতামত: