ঢাকা, সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ১১ কার্তিক ১৪৩৩

মালয়েশিয়া মেডিকেল কবে শুরু হবে ২০২৬, সর্বশেষ খবর

প্রবাসী ডেস্ক . ২৪আপডেটনিউজ
২০২৬ অক্টোবর ২৬ ১৮:৪৮:৪৪
মালয়েশিয়া মেডিকেল কবে শুরু হবে ২০২৬, সর্বশেষ খবর

মালয়েশিয়ায় কাজের জন্য যেতে আগ্রহী বাংলাদেশিদের অপেক্ষার মধ্যে নতুন অগ্রগতি এসেছে। ২০২৬ সালের ১৫ অক্টোবর বাংলাদেশ সরকার দেশটিতে কর্মী নিয়োগপ্রক্রিয়া শুরুর ঘোষণা দিয়েছে। তবে মালয়েশিয়া কলিং ভিসা ও মেডিকেল পরীক্ষা ঠিক কবে থেকে শুরু হবে, তার নির্দিষ্ট তারিখ এখনো ঘোষণা করা হয়নি। অনুমোদিত মেডিকেল সেন্টারের তালিকা চূড়ান্ত করার কাজও চলছে। ফলে কর্মী পাঠানোর প্রক্রিয়া এগোলেও কবে মেডিকেল করানো যাবে, কখন কলিং ভিসা পাওয়া যাবে এবং কবে মালয়েশিয়া যাওয়া সম্ভব হবে—এসব বিষয়ে চূড়ান্ত সময়সূচির অপেক্ষায় থাকতে হচ্ছে আগ্রহীদের।

১৫ অক্টোবর প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় কর্মী নিয়োগপ্রক্রিয়া শুরুর ঘোষণা দেয়। এ ব্যবস্থায় সরকারি প্রতিষ্ঠান বোয়েসেল, ২৫টি প্রসেসিং ও সার্ভিস এজেন্সি এবং ৩১২টি সহযোগী রিক্রুটিং এজেন্সি যুক্ত থাকবে। একই সঙ্গে মালয়েশিয়া নীতিগতভাবে ১০ হাজার বাংলাদেশি কর্মীকে শূন্য অভিবাসন ব্যয়ে নিয়োগ দিতে সম্মত হয়েছে বলে জানিয়েছে সরকার। তবে এই সুযোগের বিস্তারিত যোগ্যতা ও কর্মী নির্বাচনের পদ্ধতি এখনো স্পষ্ট করা হয়নি।

মালয়েশিয়া মেডিকেল কবে শুরু হবে?

মালয়েশিয়াগামী কর্মীদের মেডিকেল পরীক্ষা শুরুর নির্দিষ্ট দিন-তারিখ এখনো জানানো হয়নি। মন্ত্রণালয়ের ঘোষণায় বলা হয়েছে, বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়া যৌথভাবে অনুমোদিত মেডিকেল সেন্টারের তালিকা চূড়ান্ত করার কাজ করছে।

নতুন তালিকার অনুমোদনের জন্য মালয়েশিয়ার স্বাস্থ্য, মানবসম্পদ ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে একটি দল বাংলাদেশে এসে মেডিকেল সেন্টারগুলো পরিদর্শন করবে। যাচাই-বাছাই শেষে কেন্দ্রগুলোর অনুমোদন ও তালিকা চূড়ান্ত করার প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া হবে।

তবে মেডিকেল কার্যক্রম পুরোপুরি শুরুর জন্য সব নতুন কেন্দ্রের তালিকা চূড়ান্ত হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে কি না, সে বিষয়ে ঘোষণায় এমন কোনো শর্ত দেওয়া হয়নি। বরং বিদ্যমান অনুমোদিত তালিকার বিতর্ক ও অনিয়মের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রগুলো বাদ দিয়ে অন্য কেন্দ্রগুলোর মাধ্যমে কার্যক্রম শুরুর সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়েছে।

এ কারণে মালয়েশিয়া যাওয়ার জন্য মেডিকেল করাতে আগ্রহীদের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সর্বশেষ অনুমোদিত তালিকা ও নির্দেশনা অনুসরণ করা জরুরি।

মালয়েশিয়া কলিং ভিসা কবে চালু হবে ২০২৬?

কর্মী নিয়োগপ্রক্রিয়া শুরু হওয়ার ঘোষণা এলেও সব কর্মীর কলিং ভিসা ইস্যুর নির্দিষ্ট তারিখ প্রকাশ করা হয়নি। কলিং ভিসার কার্যক্রম নিয়োগের চাহিদাপত্র, কর্মী নির্বাচন এবং সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত।

নতুন ব্যবস্থায় মালয়েশিয়ায় নিয়োগদাতাদের কাছ থেকে চাকরির চাহিদাপত্র সংগ্রহ করবে অনুমোদিত রিক্রুটিং এজেন্সিগুলো। এরপর সেই চাহিদা অনুযায়ী কর্মী নির্বাচন করা হবে। পরবর্তী সময়ে কলিং ভিসা, ই-ভিসা এবং অন্যান্য আনুষ্ঠানিকতায় সহায়তা করবে বোয়েসেল ও তালিকাভুক্ত ২৫টি প্রসেসিং ও সার্ভিস এজেন্সি।

মালয়েশিয়ার অংশের প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষ হলে সংশ্লিষ্ট এজেন্সিগুলো বাংলাদেশের প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) ছাড়পত্রের কার্যক্রম সম্পন্ন করবে।

তাই নিয়োগপ্রক্রিয়া শুরু হওয়াকে সব কর্মীর কলিং ভিসা চালু হয়ে যাওয়া বা বিদেশযাত্রা নিশ্চিত হওয়ার সমান মনে করা ঠিক হবে না। প্রত্যেক কর্মীর ক্ষেত্রে নিয়োগ ও প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হওয়ার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ।

মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানোর নতুন ব্যবস্থায় কারা থাকছে?

মন্ত্রণালয়ের ঘোষণা অনুযায়ী, বাংলাদেশ থেকে মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানোর প্রক্রিয়ায় মোট ৩৩৮টি প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণের ব্যবস্থা রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে:

বোয়েসেল: সরকারি প্রতিষ্ঠান হিসেবে নিয়োগ ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে অংশ নেবে।

২৫টি প্রসেসিং ও সার্ভিস এজেন্সি: কলিং ভিসা, ই-ভিসা এবং মালয়েশিয়ার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক কাজে সহায়তা করবে।

৩১২টি রিক্রুটিং এজেন্সি: মালয়েশিয়ায় নিয়োগদাতা খোঁজা, চাকরির চাহিদাপত্র সংগ্রহ এবং কর্মী নির্বাচনের কাজে যুক্ত থাকবে।

নতুন ব্যবস্থায় অনুমোদিত রিক্রুটিং এজেন্সিগুলো নিজ উদ্যোগে মালয়েশিয়ার নিয়োগদাতাদের কাছ থেকে চাকরির চাহিদাপত্র সংগ্রহ করতে পারবে। নির্বাচিত কর্মীদের জন্য প্রয়োজনীয় সরকারি ছাড়পত্র নেওয়ার কাজও বাংলাদেশের প্রচলিত বিধি অনুযায়ী সম্পন্ন করতে হবে।

১০ হাজার কর্মী কি বিনা খরচে মালয়েশিয়া যেতে পারবেন?

বাংলাদেশ সরকারের বিশেষ অনুরোধে মালয়েশিয়া ১০ হাজার বাংলাদেশি কর্মীকে শূন্য অভিবাসন ব্যয়ে নিয়োগ দিতে নীতিগতভাবে সম্মত হয়েছে। তবে কারা এই সুযোগ পাবেন, কোন পেশার কর্মীদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে এবং কীভাবে নির্বাচন করা হবে—এসব বিষয়ে বিস্তারিত নির্দেশনা এখনো প্রকাশ করা হয়নি।

এ কারণে মালয়েশিয়ায় যাওয়ার সব আবেদনকারী বিনা খরচে যেতে পারবেন, এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই। এই সুবিধা নির্দিষ্ট ১০ হাজার কর্মীর নিয়োগের সঙ্গে সম্পর্কিত বলে সরকারি ঘোষণায় জানানো হয়েছে।

অন্যদিকে, সাধারণ নিয়োগপ্রক্রিয়ায় কর্মীদের মোট অভিবাসন ব্যয় কত হবে, সে বিষয়ে ঘোষণার সময় নির্দিষ্ট অঙ্ক জানানো হয়নি। ফলে খরচ সম্পর্কে নিশ্চিত হতে সংশ্লিষ্ট সরকারি নির্দেশনার অপেক্ষা করতে হবে।

মেডিকেল করার আগে সতর্ক থাকুন

মালয়েশিয়ায় যাওয়ার জন্য মেডিকেল পরীক্ষা করানোর ক্ষেত্রে কেন্দ্রের অনুমোদন যাচাই করা জরুরি। অনুমোদন ছাড়া পরীক্ষা করানো বা ভুয়া মেডিকেল রিপোর্টের কারণে কর্মীদের আর্থিক ক্ষতি ও বিদেশযাত্রা নিয়ে জটিলতা তৈরি হতে পারে।

২ অক্টোবর ঢাকার পল্টনে হিউম্যান ডায়াগনস্টিক অ্যান্ড মেডিকেল সেন্টার বন্ধ করে দেয় কর্তৃপক্ষ। মালয়েশিয়াগামী ১৪ জন সম্ভাব্য কর্মীর মেডিকেল পরীক্ষা ও রিপোর্ট দেওয়ার অভিযোগ ওঠে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ২০ থেকে ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে এসব পরীক্ষা করা হয়েছিল, যদিও প্রতিষ্ঠানটির মালয়েশিয়াগামী কর্মীদের মেডিকেল করার সরকারি অনুমোদন ছিল না।

এ কারণে কোনো এজেন্সি বা মেডিকেল সেন্টার দ্রুত ভিসা করিয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিলেও অনুমোদন যাচাই না করে টাকা দেওয়া, পাসপোর্ট জমা রাখা বা মেডিকেল পরীক্ষা করানো উচিত নয়। নিয়োগপ্রক্রিয়ার আনুষ্ঠানিক নির্দেশনা অনুসরণ করাই নিরাপদ।

মালয়েশিয়া যেতে আগ্রহীদের এখন কী করা উচিত?

মালয়েশিয়ায় কাজ করতে ইচ্ছুক ব্যক্তিদের আপাতত কয়েকটি বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।

প্রথমত, অনুমোদিত রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে প্রকৃত চাকরির সুযোগ ও নিয়োগদাতার তথ্য যাচাই করতে হবে। দ্বিতীয়ত, মেডিকেল পরীক্ষার আগে অনুমোদিত কেন্দ্রের সর্বশেষ তালিকা দেখতে হবে। তৃতীয়ত, কলিং ভিসা ও বিএমইটি ছাড়পত্রের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট এজেন্সির কাছ থেকে আনুষ্ঠানিক নির্দেশনা নিশ্চিত করতে হবে।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, মালয়েশিয়া মেডিকেল ও কলিং ভিসা চালুর নির্দিষ্ট তারিখ এখনো নিশ্চিত নয়। কর্মী নিয়োগপ্রক্রিয়া শুরুর ঘোষণা দেওয়া হয়েছে, কিন্তু প্রত্যেক কর্মীর মেডিকেল, ভিসা এবং বিদেশযাত্রার সময়সূচি আলাদাভাবে নিশ্চিত হওয়ার বিষয় রয়েছে।

তাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত অনিশ্চিত তারিখ বা অনুমোদনহীন প্রতিষ্ঠানের দাবির ওপর নির্ভর না করে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়, বোয়েসেল এবং বিএমইটির আনুষ্ঠানিক নির্দেশনা অনুসরণ করা উচিত।

সচরাচর জিজ্ঞাসা (FAQ)

১. মালয়েশিয়া মেডিকেল কবে শুরু হবে ২০২৬?

মেডিকেল পরীক্ষার নির্দিষ্ট শুরুর তারিখ এখনো ঘোষণা করা হয়নি। অনুমোদিত মেডিকেল সেন্টারের তালিকা চূড়ান্ত করার প্রক্রিয়া চলছে।

২. মালয়েশিয়া কলিং ভিসা কি চালু হয়েছে?

১৫ অক্টোবর ২০২৬ কর্মী নিয়োগপ্রক্রিয়া শুরুর ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। তবে সব কর্মীর কলিং ভিসা ইস্যু ও বিদেশযাত্রার নির্দিষ্ট সময়সূচি এখনো প্রকাশ করা হয়নি।

৩. মালয়েশিয়া যাওয়ার মেডিকেল কোথায় করাতে হবে?

সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদিত মেডিকেল সেন্টারে পরীক্ষা করাতে হবে। পরীক্ষা করানোর আগে সর্বশেষ অনুমোদিত তালিকা যাচাই করা জরুরি।

৪. ২০২৬ সালে ১০ হাজার কর্মী কি বিনা খরচে মালয়েশিয়া যেতে পারবেন?

মালয়েশিয়া ১০ হাজার বাংলাদেশি কর্মীকে শূন্য অভিবাসন ব্যয়ে নিয়োগ দিতে নীতিগতভাবে সম্মত হয়েছে। তবে এই সুযোগের যোগ্যতা ও কর্মী নির্বাচনের বিস্তারিত পদ্ধতি এখনো স্পষ্ট নয়।

৫. মালয়েশিয়া যাওয়ার জন্য এখনই কি মেডিকেল করানো যাবে?

মেডিকেল করানোর আগে অনুমোদিত কেন্দ্র ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সর্বশেষ নির্দেশনা যাচাই করতে হবে। অনুমোদনহীন প্রতিষ্ঠানে পরীক্ষা করানো থেকে বিরত থাকা উচিত।

তানভির ইসলাম/

পাঠকের মতামত: