ঢাকা, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩

ওয়ারিশ সনদ দিয়ে জমি নামজারি করার নিয়ম ও খরচ

জাতীয় ডেস্ক . ২৪আপডেটনিউজ
২০২৬ অক্টোবর ২৮ ১২:২২:৫১
ওয়ারিশ সনদ দিয়ে জমি নামজারি করার নিয়ম ও খরচ

পরিবারের কোনো সদস্য মারা যাওয়ার পর তাঁর রেখে যাওয়া জমির উত্তরাধিকারীদের নামে সরকারি রেকর্ড হালনাগাদ করতে নামজারি করা প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে ওয়ারিশ সনদ গুরুত্বপূর্ণ নথি হলেও শুধু এই সনদ সংগ্রহ করলেই পুরো প্রক্রিয়া শেষ হয় না। জমির আগের খতিয়ান, মালিকানার তথ্য, মৃত ব্যক্তির পরিচয় এবং প্রত্যেক উত্তরাধিকারীর প্রাপ্য অংশের বিবরণসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রস্তুত রাখতে হয়।

বাংলাদেশে উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া জমি নামজারির জন্য অনলাইনে আবেদন করা যায়। তবে আবেদন করার আগে একটি বিষয় পরিষ্কার করা জরুরি: সব ওয়ারিশের নাম একই খতিয়ানে তুলতে চাইলে বণ্টননামা ছাড়াই যৌথ নামজারি করা সম্ভব। কিন্তু জমি ভাগ করে প্রত্যেকের নামে আলাদা খতিয়ান করতে চাইলে নিবন্ধিত বণ্টননামা দলিল প্রয়োজন। ফলে কোন পদ্ধতিতে নামজারি করবেন, তার ওপর আবেদনের কাগজপত্র ও পরবর্তী প্রক্রিয়া নির্ভর করবে।

ওয়ারিশ সনদ দিয়ে নামজারি করতে কী কী কাগজ লাগে?

নামজারির আবেদন করার আগে জমির মালিকানা এবং উত্তরাধিকারীদের পরিচয় যাচাইয়ের জন্য কয়েকটি নথি প্রস্তুত রাখা উচিত। জমির রেকর্ড ও পরিস্থিতি অনুযায়ী অতিরিক্ত কাগজও চাওয়া হতে পারে।

সাধারণত যেসব নথি প্রয়োজন হতে পারে:

ওয়ারিশ সনদ: ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, পৌরসভার মেয়র অথবা সংশ্লিষ্ট সিটি করপোরেশনের ওয়ার্ড কাউন্সিলরের কাছ থেকে সংগ্রহ করা উত্তরাধিকার সনদ।

মৃত্যু সনদ: যে ব্যক্তির জমি উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া গেছে, তাঁর মৃত্যুর প্রমাণ হিসেবে প্রযোজ্য ক্ষেত্রে মৃত্যু নিবন্ধন সনদ।

আগের খতিয়ান বা পর্চা: মৃত ব্যক্তির নামে থাকা প্রাসঙ্গিক খতিয়ানের কপি।

মূল মালিকানার দলিল: জমির মালিকানা কীভাবে অর্জিত হয়েছিল, তার প্রমাণ হিসেবে প্রাসঙ্গিক দলিল বা সার্টিফায়েড কপি।

জাতীয় পরিচয়পত্র: আবেদনকারী ও সংশ্লিষ্ট উত্তরাধিকারীদের পরিচয় যাচাইয়ের জন্য প্রয়োজনীয় পরিচয়পত্রের তথ্য বা কপি।

জমির বিবরণ: মৌজার নাম, খতিয়ান নম্বর, দাগ নম্বর, জমির পরিমাণ ও অবস্থানসংক্রান্ত তথ্য।

ভূমি উন্নয়ন করের দাখিলা: জমির কর পরিশোধের প্রাসঙ্গিক রসিদ।

বণ্টননামা দলিল: উত্তরাধিকারীরা জমি ভাগ করে পৃথক খতিয়ান করতে চাইলে নিবন্ধিত বণ্টননামা।

অন্য প্রয়োজনীয় নথি: প্রযোজ্য ক্ষেত্রে আগের নামজারি খতিয়ান, আদালতের আদেশ বা মালিকানা-সংক্রান্ত অতিরিক্ত প্রমাণ।

সব ক্ষেত্রে প্রতিটি নথি একইভাবে বাধ্যতামূলক হবে, এমন নয়। তাই আবেদন জমা দেওয়ার আগে সরকারি ই-নামজারি নির্দেশিকা দেখে জমির পরিস্থিতি অনুযায়ী কাগজপত্র প্রস্তুত করা ভালো।

যৌথ নামজারি ও পৃথক নামজারির পার্থক্য

ওয়ারিশি জমির নামজারি নিয়ে সবচেয়ে বেশি বিভ্রান্তি তৈরি হয় এই দুই পদ্ধতি ঘিরে। ২০২৫ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস) ভূমি মন্ত্রণালয়ের পরিপত্রের বরাতে জানায়, উত্তরাধিকারীদের যৌথ নামজারি এবং জমি ভাগ করে পৃথক খতিয়ান তৈরির নিয়ম আলাদা।

১. বণ্টননামা ছাড়াই সব ওয়ারিশের যৌথ নামজারি

মৃত ব্যক্তির সব উত্তরাধিকারী চাইলে একই খতিয়ানে নিজেদের নাম অন্তর্ভুক্ত করার জন্য যৌথভাবে আবেদন করতে পারেন। এ ক্ষেত্রে ওয়ারিশ সনদের ভিত্তিতে প্রত্যেকের প্রাপ্য হিস্যা উল্লেখ করে যৌথ নামজারি করা যায়।

এ পদ্ধতিতে জমির নির্দিষ্ট অংশ আলাদা করে প্রত্যেকের নামে পৃথক খতিয়ান তৈরির প্রয়োজন হয় না। তাই ওয়ারিশদের মধ্যে জমি আনুষ্ঠানিকভাবে ভাগ না হলেও যৌথ নামজারির আবেদন করা সম্ভব।

এখানে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, কোনো ওয়ারিশকে বাদ না দিয়ে সব বৈধ উত্তরাধিকারীর তথ্য সঠিকভাবে দেওয়া। উত্তরাধিকারীর নাম, পরিচয় বা প্রাপ্য অংশের তথ্য ভুল হলে আবেদন নিষ্পত্তিতে সমস্যা হতে পারে।

২. জমি ভাগ করে পৃথক খতিয়ান করতে হলে

ওয়ারিশরা যদি ঠিক করেন যে একজন একটি নির্দিষ্ট দাগের জমি নেবেন, অন্যজন অন্য অংশের জমি নেবেন এবং প্রত্যেকে আলাদাভাবে ভূমি উন্নয়ন কর দেবেন, তাহলে জমি ভাগের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে সম্পন্ন করতে হবে।

এ ক্ষেত্রে সব সংশ্লিষ্ট ওয়ারিশের সম্মতিতে আপস বণ্টননামা দলিল তৈরি করে নিবন্ধন করতে হয়। সেই নিবন্ধিত বণ্টননামার ভিত্তিতে পৃথক নামজারির আবেদন করা যায়।

মৌখিক সমঝোতা বা নিজেদের মধ্যে অনানুষ্ঠানিক ভাগাভাগি করলেই পৃথক খতিয়ান তৈরির শর্ত পূরণ হয় না। তাই আলাদা মালিকানা-রেকর্ড করতে চাইলে বণ্টননামার বিষয়টি আগে নিশ্চিত করা জরুরি।

অনলাইনে ওয়ারিশি জমির নামজারি করবেন যেভাবে

বাংলাদেশের ভূমি মন্ত্রণালয়ের ই-নামজারি ব্যবস্থায় অনলাইনে আবেদন করা যায়। আবেদন জমা দেওয়ার আগে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র স্ক্যান করে প্রস্তুত রাখুন।

ধাপ ১: সরকারি পোর্টালে প্রবেশ করুন

ই-নামজারির সরকারি ওয়েবসাইটে যান:

https://mutation.land.gov.bd/

ধাপ ২: নামজারির আবেদন নির্বাচন করুন

পোর্টালে গিয়ে ‘অনলাইনে আবেদন করুন’ বা নামজারি আবেদনের সংশ্লিষ্ট অপশন নির্বাচন করুন। এরপর নির্দেশনা অনুযায়ী আবেদন ফরম পূরণ করুন।

ধাপ ৩: জমির তথ্য দিন

জমির জেলা, উপজেলা, মৌজা, খতিয়ান নম্বর, দাগ নম্বর এবং জমির পরিমাণসহ চাওয়া তথ্য পূরণ করুন। মৃত ব্যক্তির নাম ও উত্তরাধিকারসূত্রে আবেদন করার বিষয়টি যথাযথভাবে উল্লেখ করুন।

ধাপ ৪: উত্তরাধিকারীদের তথ্য পূরণ করুন

ওয়ারিশ সনদ অনুযায়ী সব বৈধ উত্তরাধিকারীর নাম ও প্রয়োজনীয় তথ্য দিন। প্রত্যেকের প্রাপ্য হিস্যা সম্পর্কে তথ্য সঠিকভাবে উল্লেখ করা গুরুত্বপূর্ণ।

ধাপ ৫: প্রয়োজনীয় নথি আপলোড করুন

ওয়ারিশ সনদ, খতিয়ান, দলিল এবং প্রযোজ্য অন্যান্য কাগজপত্র স্ক্যান করে পোর্টালের নির্দেশনা অনুযায়ী আপলোড করুন। সরকারি নির্দেশিকায় প্রয়োজনীয় নথি PDF ফরম্যাটে সংযুক্ত করার কথা বলা হয়েছে।

ধাপ ৬: আবেদন ফি পরিশোধ করে জমা দিন

অনলাইনে নির্ধারিত আবেদন ও নোটিশ ফি পরিশোধ করে আবেদন জমা দিন। আবেদন নম্বর ও পেমেন্টের রসিদ সংরক্ষণ করুন। পরবর্তী সময়ে আবেদনটির অবস্থা জানতে এই নম্বর কাজে লাগবে।

ধাপ ৭: আবেদন যাচাই ও সিদ্ধান্তের জন্য অপেক্ষা করুন

আবেদন জমা হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট ভূমি কর্তৃপক্ষ নথি ও তথ্য যাচাই করবে। প্রয়োজন হলে অতিরিক্ত তথ্য বা কাগজপত্র চাওয়া হতে পারে। আবেদন অনুমোদিত হলে নির্ধারিত পরবর্তী ফি পরিশোধ করে নামজারি খতিয়ান সংগ্রহ করা যায়।

ওয়ারিশ সনদ কোথা থেকে সংগ্রহ করবেন?

ওয়ারিশ সনদ সাধারণত সংশ্লিষ্ট স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান থেকে সংগ্রহ করতে হয়। গ্রামাঞ্চলে ইউনিয়ন পরিষদ, পৌর এলাকায় পৌরসভা এবং সিটি করপোরেশন এলাকায় সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ড কাউন্সিলরের কার্যালয়ে যোগাযোগ করা যায়।

আরও পড়ুন:

জমির মালিক কে, অনলাইনে তথ্য বের করার সহজ উপায়

জমির পর্চা অনলাইনে কীভাবে বের করবেন? জেনে নিন নিয়ম

জমি বিক্রি করতে কী কী কাগজ লাগে? জানুন প্রয়োজনীয় তালিকা

সনদে মৃত ব্যক্তির নাম এবং সব উত্তরাধিকারীর তথ্য নির্ভুলভাবে উল্লেখ করা হয়েছে কি না, তা যাচাই করুন। জাতীয় পরিচয়পত্র, জন্মনিবন্ধন, মৃত্যু সনদ বা স্থানীয় কর্তৃপক্ষের চাওয়া অন্যান্য নথি প্রয়োজন হতে পারে।

ই-নামজারি ব্যবস্থার সঙ্গে সরকারের ‘প্রত্যয়ন’ সিস্টেমের সংযোগ রয়েছে, যার মাধ্যমে ওয়ারিশ সনদের তথ্য যাচাই করা যায়। ফলে সনদে ভুল, অসম্পূর্ণ তথ্য বা পরিচয়পত্রের সঙ্গে নামের অমিল থাকলে আবেদন করার আগেই সংশোধনের ব্যবস্থা নেওয়া ভালো।

নামজারির সরকারি ফি কত?

ভূমি মন্ত্রণালয়ের সরকারি ভূমিসেবা ফি তালিকা অনুযায়ী, নামজারির ক্ষেত্রে নির্ধারিত ফি হলো:

আবেদন কোর্ট ফি: ২০ টাকা।

নোটিশ জারি ফি: ৫০ টাকা।

নামজারি অনুমোদনের পর রেকর্ড সংশোধন ও খতিয়ান সরবরাহের ডিসিআর ফি: ১ হাজার ১০০ টাকা।

অর্থাৎ প্রচলিত সরকারি ফি তালিকা অনুযায়ী পুরো প্রক্রিয়ায় মোট ফি ১ হাজার ১৭০ টাকা। তবে আবেদন করার সময় সরকারি পোর্টালে প্রদর্শিত সর্বশেষ ফি যাচাই করা উচিত। বিশেষ পরিস্থিতিতে অন্য কোনো সেবা বা নথির জন্য আলাদা সরকারি ফি প্রযোজ্য হতে পারে।

আবেদন ও নোটিশ ফি অনলাইনে জমা দিতে হয়। নামজারি অনুমোদনের পর ডিসিআর ফি পরিশোধ করে অনলাইন খতিয়ান ও রসিদ সংগ্রহ করা যায়। সরকারি ফি ছাড়া অতিরিক্ত টাকা চাইলে তার কারণ ও সরকারি ভিত্তি সম্পর্কে জানতে চান।

কত দিনে নামজারি সম্পন্ন হয়?

নামজারির সময় নির্ভর করে আবেদনপত্রের তথ্য, নথিপত্রের যথার্থতা, ভূমি অফিসের যাচাই এবং কোনো আপত্তি বা বিরোধ রয়েছে কি না—এসব বিষয়ের ওপর।

কাগজপত্রে ভুল থাকলে, উত্তরাধিকারীর নামের অমিল দেখা দিলে কিংবা জমির মালিকানা নিয়ে আপত্তি উঠলে নিষ্পত্তিতে সময় বেশি লাগতে পারে। তাই নির্দিষ্ট কয়েক দিনের মধ্যে নামজারি হয়ে যাবে—এমন নিশ্চয়তা ধরে না নিয়ে সরকারি পোর্টালে আবেদনের অবস্থা অনুসরণ করুন।

ওয়ারিশি জমির নামজারি আবেদন বাতিল হলে কী করবেন?

আবেদন বাতিল বা নামঞ্জুর হলে প্রথমে সিদ্ধান্তের কারণ বুঝতে হবে। নথিপত্রের ঘাটতি, ভুল তথ্য, ওয়ারিশ সনদের অসংগতি অথবা জমির মালিকানা নিয়ে বিরোধ—বিভিন্ন কারণে সমস্যা হতে পারে।

যদি প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের ঘাটতি থাকে, তাহলে কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী তা পূরণ করে পুনর্বিবেচনার আবেদন করার সুযোগ থাকতে পারে। তবে বিরোধ বা আইনি জটিলতা থাকলে সংশ্লিষ্ট ভূমি অফিসের নির্দেশনা অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে। প্রয়োজন হলে অভিজ্ঞ ভূমি আইনজীবীর পরামর্শ নেওয়া যেতে পারে।

শুধু বণ্টননামা নেই—এই কারণ দেখিয়ে সব ওয়ারিশের যৌথ নামজারি বাতিল করা হলে সংশ্লিষ্ট পরিপত্রের বিধান উল্লেখ করে বিষয়টি কর্তৃপক্ষের কাছে উত্থাপন করা যেতে পারে।

নামজারি হলেই কি জমির চূড়ান্ত মালিকানা প্রমাণ হয়?

নামজারি হলো ভূমি রেকর্ড হালনাগাদের প্রশাসনিক প্রক্রিয়া। এটি ভূমি উন্নয়ন কর নির্ধারণ ও পরিশোধ এবং সরকারি রেকর্ডে মালিকের নাম অন্তর্ভুক্ত করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ। তবে নামজারি নিজে থেকে কোনো ত্রুটিপূর্ণ মালিকানা বৈধ করে না বা সব ধরনের মালিকানা-বিরোধের চূড়ান্ত সমাধান করে না।

তাই ওয়ারিশি জমির ক্ষেত্রে মূল মালিকানার দলিল, পূর্ববর্তী খতিয়ান, উত্তরাধিকারীদের পরিচয় এবং প্রাপ্য হিস্যার তথ্যও যাচাই করা জরুরি। কোনো ওয়ারিশের অংশ নিয়ে বিরোধ থাকলে শুধু নামজারির ওপর নির্ভর না করে আইনগত সমাধান খোঁজা উচিত।

ওয়ারিশ সনদ দিয়ে জমি নামজারি করার প্রক্রিয়া এখন অনলাইনে সম্পন্ন করা যায়। তবে আবেদন করার আগে সব উত্তরাধিকারীর সঠিক তথ্য, মৃত ব্যক্তির মালিকানার নথি এবং জমির রেকর্ড প্রস্তুত রাখা জরুরি।

সব ওয়ারিশের নাম একই খতিয়ানে তুলতে চাইলে যৌথ নামজারি করা যায়; আর জমি ভাগ করে পৃথক খতিয়ান করতে হলে নিবন্ধিত বণ্টননামা প্রয়োজন। এই পার্থক্য বুঝে আবেদন করলে অপ্রয়োজনীয় জটিলতা এড়ানো সহজ হবে।

প্রাসঙ্গিক FAQ

১. ওয়ারিশ সনদ দিয়ে কি একাই জমির নামজারি করা যায়?

ওয়ারিশ সনদ গুরুত্বপূর্ণ নথি, তবে নামজারির জন্য জমির মালিকানার রেকর্ডসহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় তথ্য ও কাগজপত্রও দিতে হয়। উত্তরাধিকারীদের সঠিক হিস্যা যাচাই করাও জরুরি।

২. বণ্টননামা ছাড়া কি সব ওয়ারিশের নামে নামজারি করা যায়?

হ্যাঁ। সব ওয়ারিশের নাম ও প্রাপ্য হিস্যা উল্লেখ করে যৌথ খতিয়ানে নামজারি করা যায়। তবে প্রত্যেকের নামে আলাদা খতিয়ান করতে চাইলে নিবন্ধিত বণ্টননামা প্রয়োজন।

৩. ওয়ারিশি জমির নামজারি করতে সরকারি ফি কত?

সরকারি ফি তালিকা অনুযায়ী আবেদন ও নোটিশ ফি ৭০ টাকা এবং অনুমোদনের পর ডিসিআর ফি ১ হাজার ১০০ টাকা—মোট ১ হাজার ১৭০ টাকা। আবেদনের সময় সর্বশেষ সরকারি ফি যাচাই করুন।

৪. ওয়ারিশ সনদ কোথা থেকে পাওয়া যায়?

সাধারণত ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান, পৌরসভার মেয়র বা সংশ্লিষ্ট সিটি করপোরেশনের ওয়ার্ড কাউন্সিলরের কাছ থেকে ওয়ারিশ সনদ সংগ্রহ করা যায়।

৫. নামজারি আবেদন করতে কোথায় যেতে হবে?

সরকারি ই-নামজারি পোর্টাল https://mutation.land.gov.bd/ থেকে অনলাইনে আবেদন করা যায়। আবেদন জমা দেওয়ার পর আবেদন নম্বর দিয়ে অগ্রগতি অনুসরণ করুন।

তানভির ইসলাম/

পাঠকের মতামত: