ঢাকা, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩

ই-পাসপোর্টের আবেদন বাতিল? আবার আবেদন করার নিয়ম জানুন

জাতীয় ডেস্ক . ২৪আপডেটনিউজ
২০২৬ অক্টোবর ২৮ ১৬:১০:১২
ই-পাসপোর্টের আবেদন বাতিল? আবার আবেদন করার নিয়ম জানুন

ই-পাসপোর্টের আবেদন বাতিল বা ফেরত গেলে নতুন করে আবেদন করার আগে জানতে হবে, ঠিক কী কারণে আবেদনটি আটকে গেছে। আবেদনে নাম, জন্মতারিখ বা জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্যের অমিল থাকলে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দিয়ে আগের আবেদন সংশোধনের সুযোগ থাকতে পারে। আবার আবেদনটি চূড়ান্তভাবে বাতিল হয়ে গেলে নতুন করে আবেদন করার প্রয়োজন হতে পারে। তাই স্ট্যাটাস না দেখে আগের আবেদন বাদ দিয়ে আরেকটি আবেদন জমা দিলে জটিলতা বাড়তে পারে।

বাংলাদেশের ই-পাসপোর্ট পোর্টালে আবেদন জমা দেওয়ার পর তার বর্তমান অবস্থা অনলাইনে দেখা যায়। আবেদন ফেরত এলে বা অতিরিক্ত কাগজপত্র চাওয়া হলে সংশ্লিষ্ট পাসপোর্ট অফিসের নির্দেশনা অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে। আর নতুন করে আবেদন করার প্রয়োজন হলে জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) অথবা অনলাইনে যাচাইযোগ্য ইংরেজি জন্মনিবন্ধন সনদের তথ্য অনুসারে ফরম পূরণ করতে হবে।

পাসপোর্টের আবেদন কেন বাতিল বা ফেরত যায়?

পাসপোর্টের আবেদন বিভিন্ন কারণে আটকে যেতে পারে। যেমন—

আবেদনপত্রে নাম, জন্মতারিখ, বাবা-মায়ের নাম বা ঠিকানার সঙ্গে পরিচয়পত্রের তথ্যের অমিল।

প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা না দেওয়া বা ভুল নথি সংযুক্ত করা।

আগের পাসপোর্টের তথ্যের সঙ্গে নতুন আবেদনের অসামঞ্জস্য।

আবেদনকারীর দেওয়া তথ্য যাচাই করতে অতিরিক্ত প্রমাণের প্রয়োজন হওয়া।

একাধিক সক্রিয় পাসপোর্ট থাকার বিষয়টি শনাক্ত হওয়া।

আবেদনকারীর তথ্য বা নথি যাচাইয়ে অসংগতি পাওয়া।

তবে সব আবেদন বাতিল হওয়ার কারণ এক নয়। কোনো আবেদন সংশোধনের জন্য ফেরত পাঠানো হতে পারে, আবার কোনোটি বাতিলও হতে পারে। তাই পোর্টালে দেখানো স্ট্যাটাস এবং পাসপোর্ট অফিসের নির্দেশনা দেখে পরবর্তী পদক্ষেপ ঠিক করতে হবে।

আবেদন বাতিল হলে প্রথমে কী করবেন?

প্রথম কাজ হলো আবেদনের বর্তমান অবস্থা যাচাই করা। এ জন্য ই-পাসপোর্টের সরকারি ওয়েবসাইটে গিয়ে ‘Application Status’ অপশনে প্রবেশ করুন। সেখানে আবেদনের Application ID অথবা Online Registration ID এবং জন্মতারিখ দিয়ে স্ট্যাটাস দেখা যায়।

আবেদনের অবস্থা দেখার সরকারি লিংক: https://epassport.gov.bd/authorization/application-status

স্ট্যাটাস অনুযায়ী করণীয় আলাদা হতে পারে।

আবেদন ‘Rework’ বা সংশোধনের জন্য ফেরত এলে: কেন ফেরত পাঠানো হয়েছে, তা সংশ্লিষ্ট পাসপোর্ট অফিস থেকে জেনে নিন। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র বা তথ্যের ঘাটতি থাকলে তা পূরণ করে আগের আবেদনটি সম্পন্ন করার সুযোগ আছে কি না নিশ্চিত করুন। এ অবস্থায় নিজের সিদ্ধান্তে নতুন আবেদন না করাই ভালো।

আবেদন বাতিল দেখালে: বাতিলের কারণ জানতে সংশ্লিষ্ট পাসপোর্ট অফিসে যোগাযোগ করুন। আগের আবেদনটি পুনরায় চালু বা সংশোধন করা সম্ভব কি না, নাকি নতুন আবেদন করতে হবে—তা নিশ্চিত হয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ নিন।

আবেদনে ভুল তথ্য জমা দিয়ে থাকলে: আবেদন জমা দেওয়ার পর তথ্য ভুল ধরা পড়লে ই-পাসপোর্টের সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী প্রিন্ট করা ‘Application Summary’ নিয়ে পাসপোর্ট অফিসে যোগাযোগ করা যায়। প্রয়োজন অনুযায়ী এনআইডি, জন্মনিবন্ধন সনদ, আগের পাসপোর্ট বা সঠিক তথ্যের পক্ষে অন্য সরকারি নথি দেখাতে হতে পারে। ভুল তথ্য সংশোধন করা যাবে কি না, তা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা যাচাই করে নির্ধারণ করবেন।

পাসপোর্টের জন্য আবার আবেদন করবেন যেভাবে

আগের আবেদনটি চূড়ান্তভাবে বাতিল হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট অফিস থেকে নতুন আবেদন করতে বলা হলে সাধারণভাবে নিচের ধাপগুলো অনুসরণ করুন।

১. আগের আবেদনের সমস্যা সমাধান করুন

নতুন আবেদন করার আগে বাতিলের কারণ বুঝে নিন। এনআইডি ও জন্মনিবন্ধনের তথ্যের অমিল থাকলে আগে সংশ্লিষ্ট নথি সংশোধনের প্রয়োজন হতে পারে। আগের পাসপোর্টের তথ্যের সঙ্গে নতুন আবেদনের পার্থক্য থাকলে তার পক্ষে প্রয়োজনীয় প্রমাণ প্রস্তুত রাখুন।

২. সরকারি ই-পাসপোর্ট পোর্টালে প্রবেশ করুন

ই-পাসপোর্টের সরকারি ওয়েবসাইট https://www.epassport.gov.bd/ থেকে অনলাইনে আবেদনের প্রক্রিয়া শুরু করুন। নির্দেশনা অনুযায়ী নতুন আবেদন বা প্রযোজ্য আবেদন-সংক্রান্ত বিকল্প নির্বাচন করুন।

আগের আবেদনটি পোর্টালে সক্রিয় থাকলে সেটি মুছে ফেলা বা নতুন আবেদন তৈরির আগে পাসপোর্ট অফিসের পরামর্শ নিন। একই ব্যক্তির একাধিক আবেদন তৈরি হলে প্রক্রিয়ায় জটিলতা হতে পারে।

৩. পরিচয়পত্র অনুযায়ী তথ্য পূরণ করুন

আবেদনপত্রে নাম, জন্মতারিখ, বাবা-মায়ের নামসহ ব্যক্তিগত তথ্য এনআইডি অথবা অনলাইনে যাচাইযোগ্য ইংরেজি জন্মনিবন্ধন সনদের সঙ্গে মিলিয়ে লিখুন। আগের পাসপোর্ট থাকলে সেটির তথ্যও বিবেচনায় রাখুন।

কোনো তথ্য পরিবর্তন করা প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট প্রমাণপত্র প্রস্তুত রাখুন। ভুল বা অসত্য তথ্য দিয়ে আবেদন করা থেকে বিরত থাকুন।

৪. প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রস্তুত রাখুন

আবেদন ও এনরোলমেন্টের সময় পরিস্থিতি অনুযায়ী নিচের নথিগুলো প্রয়োজন হতে পারে—

অনলাইন আবেদনপত্রের প্রিন্ট কপি বা Application Summary।

জাতীয় পরিচয়পত্র অথবা অনলাইনে যাচাইযোগ্য ইংরেজি জন্মনিবন্ধন সনদ।

আগের পাসপোর্ট, যদি থাকে।

তথ্য সংশোধনের পক্ষে প্রয়োজনীয় সরকারি নথি।

প্রযোজ্য ক্ষেত্রে আবেদন ও ফি পরিশোধের রসিদ।

সব আবেদনকারীর জন্য একই কাগজপত্র প্রয়োজন হয় না। আবেদনকারীর বয়স, আগের পাসপোর্টের অবস্থা এবং তথ্য সংশোধনের ধরন অনুযায়ী অতিরিক্ত নথি চাইতে পারে পাসপোর্ট অফিস।

৫. ফি ও পরবর্তী কার্যক্রম সম্পন্ন করুন

নতুন আবেদন গ্রহণ করা হলে সরকারি পোর্টালে প্রদর্শিত নির্দেশনা অনুসরণ করে নির্ধারিত ফি পরিশোধ এবং পরবর্তী কার্যক্রম সম্পন্ন করুন। এরপর নির্ধারিত দিনে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিয়ে পাসপোর্ট অফিসে উপস্থিত হয়ে ছবি, আঙুলের ছাপসহ বায়োমেট্রিক এনরোলমেন্ট সম্পন্ন করতে হবে।

আবেদন জমা দেওয়ার পর সব তথ্য ও প্রাপ্তিস্বীকারপত্র ভালোভাবে যাচাই করুন। কোনো ভুল চোখে পড়লে দ্রুত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে জানান।

আগের আবেদনের ফি কি আবার দিতে হবে?

এটি নির্ভর করে আগের আবেদনের অবস্থা এবং ফি পরিশোধের পরিস্থিতির ওপর। আবেদন বাতিল হলেই আগের ফি স্বয়ংক্রিয়ভাবে ফেরত পাওয়া যাবে, অথবা নতুন আবেদন করলে অবশ্যই আবার পুরো ফি দিতে হবে—এমন একক নিয়ম ধরে নেওয়া ঠিক নয়।

ই-পাসপোর্ট পোর্টালের নির্দেশনা অনুযায়ী, অনলাইন পেমেন্টে টাকা কেটে নেওয়ার পরও পেমেন্ট স্ট্যাটাস ‘Failed’ দেখালে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের সঙ্গে যোগাযোগ করে রিফান্ডের ব্যবস্থা করতে বলা হয়েছে। টাকা ফেরত পাওয়ার পর ওই আবেদন মুছে নতুন আবেদন করার নির্দেশনাও রয়েছে। অন্যদিকে, টাকা না কেটে পেমেন্ট ব্যর্থ হলে অফলাইন পেমেন্টের বিকল্প নির্বাচন করা অথবা আবেদনটি বাদ দিয়ে নতুন আবেদন করার সুযোগ থাকতে পারে।

এটি পেমেন্ট ব্যর্থ হওয়ার নির্দিষ্ট পরিস্থিতির নির্দেশনা। আবেদন বাতিলের অন্য কারণগুলোর ক্ষেত্রে ফি ফেরত বা পুনরায় ফি দেওয়ার নিয়ম আলাদা হতে পারে। তাই টাকা পরিশোধের আগে সংশ্লিষ্ট পাসপোর্ট অফিস বা সরকারি পোর্টাল থেকে নিজের আবেদনের বিষয়ে নিশ্চিত হয়ে নিন।

পাসপোর্টের আবেদন বাতিল এড়াতে যা মনে রাখবেন

আবেদন জমা দেওয়ার আগে এনআইডি, জন্মনিবন্ধন ও আগের পাসপোর্টের তথ্য মিলিয়ে নিন। নামের বানান, জন্মতারিখ, বাবা-মায়ের নাম এবং অন্যান্য ব্যক্তিগত তথ্যের অমিল থাকলে আবেদন করার আগেই সংশোধনের প্রয়োজন আছে কি না যাচাই করুন।

এ ছাড়া আবেদনপত্রে ভুল তথ্য দিয়ে তা গোপন করার চেষ্টা করবেন না। পাসপোর্টের তথ্য যাচাইয়ের সময় অসংগতি ধরা পড়লে আবেদন ফেরত যেতে পারে বা বাতিল হতে পারে। কোনো সমস্যা দেখা দিলে দালালের মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা না করে সরাসরি সংশ্লিষ্ট পাসপোর্ট অফিসের সঙ্গে যোগাযোগ করুন।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, আবেদন বাতিল হয়েছে কি না এবং বাতিলের কারণ কী—তা নিশ্চিত না হয়ে নতুন আবেদন করবেন না। আগের আবেদন সংশোধন করে চালু রাখা সম্ভব হলে অপ্রয়োজনীয় নতুন আবেদন এড়ানো যাবে। আর নতুন আবেদন প্রয়োজন হলে সঠিক তথ্য ও প্রয়োজনীয় নথি দিয়ে শুরু করুন।

পাঠকের সাধারণ প্রশ্ন (FAQ)

১. পাসপোর্টের আবেদন বাতিল হলে কি নতুন করে আবেদন করতে হবে?

সব ক্ষেত্রে নয়। আবেদন সংশোধনের জন্য ফেরত এলে আগের আবেদনেই সমস্যা সমাধানের সুযোগ থাকতে পারে। চূড়ান্তভাবে বাতিল হলে সংশ্লিষ্ট পাসপোর্ট অফিসের নির্দেশনা অনুযায়ী নতুন আবেদন করতে হতে পারে।

২. পাসপোর্টের আবেদন বাতিলের কারণ কীভাবে জানব?

ই-পাসপোর্টের সরকারি ওয়েবসাইটে Application Status দেখে নিন। স্ট্যাটাসে কারণ পরিষ্কার না হলে Application ID বা Online Registration ID নিয়ে সংশ্লিষ্ট পাসপোর্ট অফিসে যোগাযোগ করুন।

৩. আবেদন বাতিল হলে আগের পাসপোর্ট ফি ফেরত পাওয়া যায় কি?

সব ক্ষেত্রে ফি ফেরতের নিশ্চয়তা নেই। পেমেন্ট ব্যর্থ হওয়া, টাকা কেটে নেওয়া এবং আবেদন বাতিল হওয়ার পরিস্থিতি এক নয়। নিজের আবেদনের অবস্থা অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট ব্যাংক বা পাসপোর্ট অফিসের নির্দেশনা অনুসরণ করুন।

৪. পাসপোর্টের আবেদন জমা দেওয়ার পর নাম বা জন্মতারিখে ভুল ধরা পড়লে কী করবেন?

প্রিন্ট করা Application Summary এবং সঠিক তথ্যের পক্ষে প্রয়োজনীয় নথি নিয়ে পাসপোর্ট অফিসে যোগাযোগ করুন। সংশোধনের সুযোগ আছে কি না, তা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা যাচাই করে জানাবেন।

৫. পাসপোর্টের আবেদন বাতিল হলে কত দিন পর আবার আবেদন করা যায়?

সব ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নির্দিষ্ট অপেক্ষার সময় বলা যায় না। বাতিলের কারণ, আগের আবেদনের অবস্থা এবং প্রয়োজনীয় সংশোধনের ওপর পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ভর করে। নতুন আবেদন করার আগে সংশ্লিষ্ট পাসপোর্ট অফিসের নির্দেশনা নিন।

আল-মামুন/

পাঠকের মতামত: