জরুরি পাসপোর্টের ফি কত? জেনে নিন ২ ও ৭ দিনের হিসাব
বিদেশে যাওয়া, চিকিৎসা কিংবা জরুরি প্রয়োজনে দ্রুত পাসপোর্ট হাতে পেতে চাইলে আবেদনকারীকে নিয়মিত সেবার পরিবর্তে এক্সপ্রেস বা সুপার এক্সপ্রেস ডেলিভারি বেছে নিতে হয়। তবে দ্রুত পাসপোর্ট পেতে কত টাকা দিতে হবে, তা সবার ক্ষেত্রে এক নয়। পাসপোর্টের পৃষ্ঠা ও মেয়াদের পাশাপাশি ডেলিভারির ধরন অনুযায়ী ফি নির্ধারিত হয়।
বাংলাদেশের সরকারি ই-পাসপোর্ট পোর্টালে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, দেশে ৪৮ পৃষ্ঠার পাঁচ বছর মেয়াদি ই-পাসপোর্টের জন্য এক্সপ্রেস সেবায় ফি ৬ হাজার ৩২৫ টাকা এবং সুপার এক্সপ্রেস সেবায় ৮ হাজার ৬২৫ টাকা। নির্ধারিত সময় অনুযায়ী, এক্সপ্রেস সেবায় পাসপোর্ট পেতে ৭ কর্মদিবস এবং সুপার এক্সপ্রেস সেবায় ২ কর্মদিবস লাগতে পারে। সময় গণনা করা হয় বায়োমেট্রিক এনরোলমেন্টের তারিখ থেকে।
জরুরি পাসপোর্ট করতে কত টাকা লাগে?
ই-পাসপোর্টের ফি নির্ভর করে পাসপোর্টের পৃষ্ঠা, মেয়াদ ও ডেলিভারি সেবার ওপর। বাংলাদেশে প্রচলিত চার ধরনের পাসপোর্টের জন্য নিয়মিত, এক্সপ্রেস ও সুপার এক্সপ্রেস সেবার ফি নিচে দেওয়া হলো। সব ফিতে ১৫ শতাংশ ভ্যাট অন্তর্ভুক্ত।
৪৮ পৃষ্ঠা, ৫ বছর মেয়াদি পাসপোর্ট
নিয়মিত ডেলিভারি: ৪ হাজার ২৫ টাকা
এক্সপ্রেস ডেলিভারি: ৬ হাজার ৩২৫ টাকা
সুপার এক্সপ্রেস ডেলিভারি: ৮ হাজার ৬২৫ টাকা
৪৮ পৃষ্ঠা, ১০ বছর মেয়াদি পাসপোর্ট
নিয়মিত ডেলিভারি: ৫ হাজার ৭৫০ টাকা
এক্সপ্রেস ডেলিভারি: ৮ হাজার ৫০ টাকা
সুপার এক্সপ্রেস ডেলিভারি: ১০ হাজার ৩৫০ টাকা
৬৪ পৃষ্ঠা, ৫ বছর মেয়াদি পাসপোর্ট
নিয়মিত ডেলিভারি: ৬ হাজার ৩২৫ টাকা
এক্সপ্রেস ডেলিভারি: ৮ হাজার ৬২৫ টাকা
সুপার এক্সপ্রেস ডেলিভারি: ১২ হাজার ৭৫ টাকা
৬৪ পৃষ্ঠা, ১০ বছর মেয়াদি পাসপোর্ট
নিয়মিত ডেলিভারি: ৮ হাজার ৫০ টাকা
এক্সপ্রেস ডেলিভারি: ১০ হাজার ৩৫০ টাকা
সুপার এক্সপ্রেস ডেলিভারি: ১৩ হাজার ৮০০ টাকা
ফি ও ডেলিভারির সময় সম্পর্কে সর্বশেষ তথ্য যাচাই করতে সরকারি ই-পাসপোর্ট পোর্টালের ফি-সংক্রান্ত নির্দেশনা দেখে নেওয়া উচিত।
জরুরি পাসপোর্ট কত দিনে পাওয়া যায়?
বাংলাদেশের ভেতরে ই-পাসপোর্টের জন্য তিন ধরনের ডেলিভারি সেবা রয়েছে। সরকারি পোর্টালে প্রকাশিত সময়সীমা অনুযায়ী—
নিয়মিত ডেলিভারি: বায়োমেট্রিক এনরোলমেন্টের পর ১৫ কর্মদিবসের মধ্যে; সাধারণ হিসাবে ২১ দিন।
এক্সপ্রেস ডেলিভারি: বায়োমেট্রিক এনরোলমেন্টের পর ৭ কর্মদিবসের মধ্যে; সাধারণ হিসাবে ১০ দিন।
সুপার এক্সপ্রেস ডেলিভারি: বায়োমেট্রিক এনরোলমেন্টের পর ২ কর্মদিবসের মধ্যে।
এখানে কর্মদিবস ও ক্যালেন্ডার দিনের পার্থক্য বুঝে আবেদন করা জরুরি। সরকারি ছুটি বা অন্য কোনো কারণে বাস্তবে সময়ের হিসাব বদলাতে পারে। নির্ধারিত সময়সীমা সেবার লক্ষ্যমাত্রা; সব আবেদনকারীর ক্ষেত্রে ওই সময়ের মধ্যেই পাসপোর্ট হাতে পাওয়া নিশ্চিত নয়।
জরুরি পাসপোর্টের আবেদন কীভাবে করবেন?
জরুরি ই-পাসপোর্টের জন্য আবেদন করতে কয়েকটি ধাপ অনুসরণ করতে হয়।
প্রথম ধাপ: অনলাইনে আবেদন করুন।
সরকারি ই-পাসপোর্ট পোর্টাল https://www.epassport.gov.bd/ থেকে আবেদনপত্র পূরণ করতে হবে। আবেদনের তথ্য জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) অথবা প্রযোজ্য ক্ষেত্রে অনলাইন জন্মনিবন্ধন সনদের তথ্যের সঙ্গে মিলিয়ে দিতে হবে।
দ্বিতীয় ধাপ: ডেলিভারির ধরন নির্বাচন করুন।
আবেদনের সময় প্রয়োজন অনুযায়ী এক্সপ্রেস বা সুপার এক্সপ্রেস সেবা নির্বাচন করুন। কোন সেবা আপনার আবেদনের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য, তা পোর্টালে দেওয়া নির্দেশনা অনুযায়ী নিশ্চিত হতে হবে।
তৃতীয় ধাপ: নির্ধারিত ফি পরিশোধ করুন।
আবেদন অনুযায়ী প্রযোজ্য ফি সরকারি পোর্টালে উল্লেখিত অনুমোদিত পদ্ধতিতে জমা দিন। পেমেন্টের রসিদ বা স্লিপ সংরক্ষণ করুন।
চতুর্থ ধাপ: পাসপোর্ট অফিসে বায়োমেট্রিক দিন।
নির্ধারিত দিনে প্রয়োজনীয় মূল কাগজপত্র ও আবেদন-সংক্রান্ত নথি নিয়ে পাসপোর্ট অফিসে উপস্থিত হতে হবে। আঙুলের ছাপ, ছবি ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় তথ্য নেওয়ার পর আবেদন প্রক্রিয়া এগোবে।
আরও পড়ুন:ই-পাসপোর্টের আবেদন বাতিল? আবার আবেদন করার নিয়ম জানুন
আবেদন করার আগে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের তালিকা সরকারি পোর্টালের নির্দেশনা পৃষ্ঠায় দেখে নেওয়া ভালো।
জরুরি ফি দিলেই কি নির্ধারিত সময়ে পাসপোর্ট পাওয়া নিশ্চিত?
না। এক্সপ্রেস বা সুপার এক্সপ্রেস সেবার জন্য নির্ধারিত ফি জমা দিলেই সব ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট দিনের মধ্যে পাসপোর্ট হাতে পাওয়া নিশ্চিত হয় না। আবেদনপত্রের তথ্য যাচাই, তথ্যের অসংগতি, প্রয়োজনীয় অতিরিক্ত যাচাই কিংবা প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার কারণে দেরি হতে পারে।
বিশেষ করে জাতীয় পরিচয়পত্র, জন্মনিবন্ধন ও আবেদনে দেওয়া তথ্যের মধ্যে অমিল থাকলে তা আগে সমাধান করা জরুরি। আবেদন জমা দেওয়ার পর সরকারি পোর্টালের মাধ্যমে আবেদনের অবস্থা যাচাই করা যায়।
আবেদনের অবস্থা দেখার ঠিকানা:
https://www.epassport.gov.bd/authorization/application-status
আবেদন করার পর কি জরুরি সেবায় পরিবর্তন করা যায়?
সরকারি ই-পাসপোর্ট পোর্টালের FAQ অনুযায়ী, পাসপোর্ট তৈরি হয়ে যাওয়ার আগে এবং আবেদন প্রক্রিয়াধীন থাকলে নির্দিষ্ট শর্তে এক্সপ্রেস ডেলিভারিতে পরিবর্তনের সুযোগ থাকতে পারে। এ ক্ষেত্রে আবেদনকারীর যোগ্যতা যাচাই করে অতিরিক্ত ফি দিতে হয়। সংশ্লিষ্ট আবেদনটি পরিবর্তনের জন্য যোগ্য কি না, তা আগে অনলাইনে যাচাই করে পাসপোর্ট অফিসের নির্দেশনা নেওয়া উচিত।
এ বিষয়ে সরকারি তথ্য: https://www.epassport.gov.bd/landing/faqs/8
কোন সেবা বেছে নেওয়া ভালো?
পাসপোর্ট হাতে পাওয়ার জন্য হাতে পর্যাপ্ত সময় থাকলে নিয়মিত সেবা তুলনামূলক কম খরচের। সাত কর্মদিবসের মধ্যে প্রয়োজন হলে এক্সপ্রেস এবং আরও দ্রুত প্রয়োজন হলে সুপার এক্সপ্রেস সেবার কথা বিবেচনা করা যায়। তবে বিদেশযাত্রার টিকিট বা ভিসার তারিখ খুব কাছাকাছি হলে শুধু নির্ধারিত ডেলিভারি সময়ের ওপর নির্ভর না করে আবেদন ও যাচাইয়ের জন্য অতিরিক্ত সময় হাতে রাখা ভালো।
সঠিক ফি জানতে পাসপোর্টের পৃষ্ঠা ও মেয়াদ অনুযায়ী সরকারি পোর্টালের তথ্য যাচাই করুন। দালালের মাধ্যমে দ্রুত পাসপোর্ট পাওয়ার নিশ্চয়তার পরিবর্তে সরকারি প্রক্রিয়া অনুসরণ করাই নিরাপদ।
প্রাসঙ্গিক প্রশ্নোত্তর (FAQ)
১. জরুরি পাসপোর্ট করতে সর্বনিম্ন কত টাকা লাগে?
৪৮ পৃষ্ঠার পাঁচ বছর মেয়াদি ই-পাসপোর্টের এক্সপ্রেস ডেলিভারি ফি ৬ হাজার ৩২৫ টাকা। সুপার এক্সপ্রেস সেবায় একই পাসপোর্টের ফি ৮ হাজার ৬২৫ টাকা।
২. জরুরি পাসপোর্ট কত দিনে পাওয়া যায়?
এক্সপ্রেস সেবার নির্ধারিত সময় ৭ কর্মদিবস এবং সুপার এক্সপ্রেস সেবার সময় ২ কর্মদিবস—বায়োমেট্রিক এনরোলমেন্টের তারিখ থেকে।
৩. ১০ বছর মেয়াদি জরুরি পাসপোর্টের ফি কত?
৪৮ পৃষ্ঠার ১০ বছর মেয়াদি পাসপোর্টের এক্সপ্রেস ফি ৮ হাজার ৫০ টাকা এবং সুপার এক্সপ্রেস ফি ১০ হাজার ৩৫০ টাকা।
৪. পাসপোর্টের ফি কি ভ্যাটসহ?
সরকারি ই-পাসপোর্ট পোর্টালে বাংলাদেশে আবেদনের জন্য প্রকাশিত ফিতে ১৫ শতাংশ ভ্যাট অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
৫. জরুরি পাসপোর্টের আবেদন কোথায় করতে হবে?
সরকারি ই-পাসপোর্ট পোর্টাল https://www.epassport.gov.bd/ থেকে আবেদন করা যায়।
তানভির ইসলাম/