ড্রাইভিং লাইসেন্সে নাম সংশোধনে যে কাগজপত্র লাগবে
ড্রাইভিং লাইসেন্সে নিজের নামের বানান ভুল, নামের কোনো অংশ বাদ পড়া কিংবা জাতীয় পরিচয়পত্রের সঙ্গে নামের অমিল থাকলে বিষয়টি অবহেলা করা উচিত নয়। এ ধরনের ভুল সংশোধনের জন্য বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় আবেদন করতে হয়। সাধারণত সংশোধনের কারণ উল্লেখ করে আবেদন, বর্তমান ড্রাইভিং লাইসেন্স এবং সঠিক নামের পক্ষে প্রয়োজনীয় প্রমাণপত্র জমা দিতে হয়।
বিআরটিএর ওয়েবসাইটে ড্রাইভিং লাইসেন্সের তথ্য সংশোধনের জন্য ফরম-৪(খ) রয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আবেদন ও কাগজপত্র যাচাই করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেয়। তাই নামের ভুল ধরা পড়লে নতুন করে লাইসেন্সের আবেদন না করে আগে তথ্য সংশোধনের নিয়ম জেনে নেওয়া প্রয়োজন।
ড্রাইভিং লাইসেন্সে নাম সংশোধনের আবেদন কোথায় করবেন?
ড্রাইভিং লাইসেন্সের তথ্য সংশোধনের জন্য বিআরটিএর সংশ্লিষ্ট সার্কেল অফিসে যোগাযোগ করতে পারেন। বিআরটিএর সরকারি ওয়েবসাইটে প্রকাশিত ফরম-৪(খ)-এর শিরোনামে লাইসেন্স নবায়ন, প্রতিলিপি, শ্রেণি পরিবর্তন, ঠিকানা পরিবর্তন এবং তথ্য সংশোধনের আবেদন অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
ফরমটি দেখতে বা ডাউনলোড করতে ভিজিট করুন:
https://brta.gov.bd/pages/forms/6922d9d0933eb65569e00589
আবেদন করার আগে নিজের লাইসেন্সের রেকর্ড কোন বিআরটিএ সার্কেল অফিসের অধীনে রয়েছে, তা নিশ্চিত করুন। ওই অফিস থেকেই আপনার আবেদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র, ফি ও জমা দেওয়ার পদ্ধতি জেনে নেওয়া ভালো।
নাম সংশোধন করতে কী কী কাগজপত্র লাগতে পারে?
নামের ভুল সংশোধনের আবেদনে ভুলের ধরন অনুযায়ী প্রমাণপত্র প্রয়োজন হয়। সাধারণভাবে নিচের কাগজপত্র প্রস্তুত রাখা যেতে পারে—
বর্তমান ড্রাইভিং লাইসেন্স: লাইসেন্সের তথ্য যাচাইয়ের জন্য।
জাতীয় পরিচয়পত্রের কপি: নামের সঠিক বানান প্রমাণের জন্য।
সংশোধনের আবেদনপত্র: কী ভুল রয়েছে এবং সঠিক তথ্য কী হবে, তা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করে।
নামের পক্ষে অতিরিক্ত প্রমাণপত্র: সংশ্লিষ্ট অফিস চাইলে জন্মনিবন্ধন, শিক্ষাগত সনদ বা অন্য প্রাসঙ্গিক নথি।
ফি জমার রসিদ: সংশোধনের জন্য নির্ধারিত ফি প্রযোজ্য হলে।
বিআরটিএর প্রকাশিত ফরমে তথ্য সংশোধনের ক্ষেত্রে জাতীয় পরিচয়পত্রের কপি এবং রক্তের গ্রুপ সংশোধনের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট রিপোর্টের সত্যায়িত কপির কথা উল্লেখ রয়েছে। তবে সব ধরনের নাম সংশোধনের জন্য একই অতিরিক্ত নথি লাগবে, এমন নয়। চূড়ান্ত তালিকা সংশ্লিষ্ট সার্কেল অফিস থেকে নিশ্চিত করে নিন।
ধাপে ধাপে ড্রাইভিং লাইসেন্সের নাম সংশোধনের নিয়ম
প্রথম ধাপ: ভুলটি শনাক্ত করুন।
লাইসেন্সে ঠিক কী ভুল রয়েছে, তা আগে নিশ্চিত করুন। নামের বানান, নামের কোনো অংশ বাদ পড়া কিংবা জাতীয় পরিচয়পত্রের সঙ্গে অমিল—কোন ধরনের সমস্যা, তা আবেদনপত্রে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করতে হবে।
দ্বিতীয় ধাপ: সঠিক নামের প্রমাণ প্রস্তুত করুন।
জাতীয় পরিচয়পত্রে নাম সঠিক থাকলে তার কপি প্রস্তুত রাখুন। জাতীয় পরিচয়পত্রেও ভুল থাকলে আগে কোন নথিতে সঠিক নাম রয়েছে, তা যাচাই করুন। একাধিক নথিতে ভিন্ন নাম থাকলে বিআরটিএর কাছে কোন প্রমাণ গ্রহণযোগ্য হবে, তা জেনে নিন।
তৃতীয় ধাপ: সংশোধনের আবেদন করুন।
বিআরটিএর ফরম-৪(খ) এবং সংশ্লিষ্ট অফিসের নির্দেশনা অনুযায়ী আবেদন প্রস্তুত করুন। প্রয়োজন হলে রেজিস্টারিং বা লাইসেন্সিং কর্তৃপক্ষ বরাবর লিখিত আবেদন দিতে হতে পারে। আবেদনে বর্তমান ভুল তথ্য, সংশোধিত তথ্য এবং পরিবর্তনের কারণ স্পষ্টভাবে লিখুন।
চতুর্থ ধাপ: প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিন।
আবেদনপত্রের সঙ্গে বর্তমান লাইসেন্স, জাতীয় পরিচয়পত্র এবং কর্তৃপক্ষের চাওয়া অন্যান্য প্রমাণপত্র জমা দিন। জমা দেওয়া কাগজপত্রের কপি ও গ্রহণের রসিদ নিজের কাছে সংরক্ষণ করুন।
পঞ্চম ধাপ: ফি ও আবেদনের অবস্থা যাচাই করুন।
নাম সংশোধনের জন্য প্রযোজ্য ফি কত, তা সংশ্লিষ্ট বিআরটিএ অফিস থেকে নিশ্চিত করুন। ফি জমা দেওয়ার প্রয়োজন হলে নির্ধারিত পদ্ধতিতে পরিশোধ করে রসিদ রাখুন। এরপর কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী আবেদনটির অগ্রগতি অনুসরণ করুন।
ড্রাইভিং লাইসেন্সে নাম সংশোধন করতে কত টাকা লাগে?
নাম সংশোধনের জন্য বর্তমানে সবার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নির্দিষ্ট ফি কত, তা বিআরটিএর পাওয়া সরকারি তথ্য থেকে নিশ্চিত করা যায়নি। তাই নির্দিষ্ট কোনো অঙ্ককে নাম সংশোধনের ফি হিসেবে ধরে নেওয়া ঠিক হবে না।
বিআরটিএর সংশ্লিষ্ট সার্কেল অফিসে যোগাযোগ করে জানতে হবে—
নাম সংশোধনের জন্য আলাদা ফি দিতে হবে কি না;
আবেদনপত্রের সঙ্গে কোন কোন নথি জমা দিতে হবে;
ফি জমার নির্ধারিত পদ্ধতি কী;
সংশোধিত তথ্য ও লাইসেন্স পেতে কী প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হবে।
নবায়ন বা হারানো লাইসেন্সের প্রতিলিপি তৈরির ফি আর তথ্য সংশোধনের ফি এক বিষয় নয়। তাই অন্য কোনো সেবার ফি দেখে নাম সংশোধনের খরচ নির্ধারণ করা উচিত নয়।
নাম সংশোধন করতে কত দিন সময় লাগে?
ড্রাইভিং লাইসেন্সে নাম সংশোধনের আবেদন নিষ্পত্তির জন্য সবার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ভরযোগ্যভাবে নিশ্চিত করা যায়নি। আবেদন যাচাই, কাগজপত্রের যথার্থতা এবং সংশোধিত তথ্য রেকর্ডে অন্তর্ভুক্ত করার প্রক্রিয়ার ওপর সময় নির্ভর করতে পারে।
আবেদন জমা দেওয়ার সময় সংশ্লিষ্ট অফিস থেকে সম্ভাব্য সময় জেনে নিন। নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলে আবেদন জমার রসিদ বা রেফারেন্স নম্বর নিয়ে অফিসে যোগাযোগ করুন।
জাতীয় পরিচয়পত্রেও নাম ভুল থাকলে কী করবেন?
ড্রাইভিং লাইসেন্স ও জাতীয় পরিচয়পত্র—দুটিতেই নামের ভুল থাকলে কোন নথিতে সঠিক তথ্য রয়েছে, তা আগে নির্ধারণ করা জরুরি। জাতীয় পরিচয়পত্রে ভুল থাকলে সেটি সংশোধনের নিয়মও যাচাই করতে হবে। এরপর সঠিক তথ্যের পক্ষে গ্রহণযোগ্য প্রমাণপত্র নিয়ে বিআরটিএতে আবেদন করুন।
শুধু একটি নথির ভুল অন্য নথির সঙ্গে মিলিয়ে পরিবর্তন করার আগে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা নিন। এতে এক নথির ভুলের কারণে অন্য নথিতে নতুন অসংগতি তৈরি হওয়ার ঝুঁকি কমবে।
নামের ভুল দ্রুত ঠিক করতে যা মনে রাখবেন
ড্রাইভিং লাইসেন্সে নাম ভুল থাকলে সংশোধনের আবেদন করার আগে সঠিক নামের প্রমাণপত্র প্রস্তুত করুন এবং বিআরটিএর সংশ্লিষ্ট সার্কেল অফিসের নির্দেশনা অনুসরণ করুন। আবেদনপত্রে ভুল ও সংশোধিত তথ্য স্পষ্টভাবে লিখুন, ফি জমা দিলে রসিদ রাখুন এবং সংশোধন সম্পন্ন হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত করুন।
বিআরটিএর সরকারি ওয়েবসাইট: https://brta.gov.bd/
বিআরটিএ সার্ভিস পোর্টাল: https://bsp.brta.gov.bd/
ড্রাইভিং লাইসেন্সের ফরম: https://brta.gov.bd/pages/static-pages/6922e13b933eb65569e2b01b
প্রাসঙ্গিক প্রশ্নোত্তর (FAQ)
১. ড্রাইভিং লাইসেন্সে নাম ভুল হলে কোথায় আবেদন করব?
বিআরটিএর সংশ্লিষ্ট সার্কেল অফিসে যোগাযোগ করে তথ্য সংশোধনের প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হবে।
২. নাম সংশোধনের জন্য কোন ফরম ব্যবহার করতে হয়?
বিআরটিএর ওয়েবসাইটে ফরম-৪(খ) রয়েছে, যেখানে ড্রাইভিং লাইসেন্সের তথ্য সংশোধনের আবেদন অন্তর্ভুক্ত।
৩. নাম সংশোধনের জন্য জাতীয় পরিচয়পত্র লাগবে কি?
সঠিক নামের প্রমাণ হিসেবে জাতীয় পরিচয়পত্রের কপি প্রয়োজন হতে পারে। আপনার ক্ষেত্রে আর কী নথি লাগবে, তা সংশ্লিষ্ট অফিস থেকে নিশ্চিত করুন।
৪. ড্রাইভিং লাইসেন্সে নাম সংশোধনের ফি কত?
নাম সংশোধনের জন্য প্রযোজ্য নির্দিষ্ট ফি নির্ভরযোগ্যভাবে নিশ্চিত করা যায়নি। বিআরটিএর সংশ্লিষ্ট অফিস থেকে বর্তমান ফি জেনে নিতে হবে।
৫. নাম সংশোধন করতে কত দিন লাগে?
সবার জন্য প্রযোজ্য নির্দিষ্ট সময়সীমা নিশ্চিত করা যায়নি। আবেদন জমা দেওয়ার সময় সংশ্লিষ্ট অফিস থেকে সম্ভাব্য সময় জেনে নিন।
আল-মামুন/