বাংলাদেশ বনাম ওয়েস্ট ইন্ডিজ প্রথম টেস্টের দ্বিতীয় দিনের স্কোর
ঢাকার মিরপুরে বাংলাদেশের বিপক্ষে প্রথম টেস্টের দ্বিতীয় দিন শেষে সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে স্বাগতিকরা। প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশের ২৭২ রানের জবাবে ৪৮ ওভারে ৪ উইকেট হারিয়ে ১৩৪ রান তুলেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ফলে হাতে ৬ উইকেট থাকলেও বাংলাদেশের চেয়ে এখনো ১৩৮ রানে পিছিয়ে রয়েছে সফরকারীরা।
২৮ অক্টোবর শুরু হওয়া দুই দলের এই প্রথম টেস্টের দ্বিতীয় দিনে বাংলাদেশের ইনিংস শেষ হওয়ার পর ব্যাটিংয়ে নামে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। জন ক্যাম্পবেলের অর্ধশতক এবং তেজনারাইন চন্দরপলের অপরাজিত ৪৩ রানের সুবাদে ইনিংস এগিয়ে নিলেও নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারিয়েছে দলটি। দিনের খেলা শেষ হওয়ার সময় চন্দরপলের সঙ্গে ১৫ রান নিয়ে অপরাজিত ছিলেন জাস্টিন গ্রিভস।
শাদমানের ব্যাটে বাংলাদেশের ২৭২ রান
প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ের মূল ভরসা ছিলেন শাদমান ইসলাম। ২৩৪ বল খেলে ১১টি চারের সাহায্যে ১০৫ রান করেন তিনি। তাঁর শতরানের ইনিংসের ওপর ভর করেই লড়াই করার মতো সংগ্রহ পায় বাংলাদেশ।
তবে শাদমান ছাড়া বাংলাদেশের আর কোনো ব্যাটার অর্ধশতকের দেখা পাননি। তাওহিদ হৃদয় ৮৬ বলে ৪২ রান করেন। অন্যদিকে লিটন দাস ৮৮ বল মোকাবিলা করে ৩৪ রানে অপরাজিত থাকেন।
এ ছাড়া মুমিনুল হক ২৮, অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত ১৯ এবং মেহেদী হাসান মিরাজ ১৫ রান করেন। তানজিদ হাসান ৭, হাসান মাহমুদ ৬, নাঈম হাসান ৫ ও তাইজুল ইসলাম ১ রান করেন। শরিফুল ইসলাম কোনো রান করতে পারেননি। অতিরিক্ত থেকে বাংলাদেশের সংগ্রহে যোগ হয় ১০ রান।
সব মিলিয়ে ৯৭.৪ ওভারে ২৭২ রানে গুটিয়ে যায় বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস।
ওয়ারিকানের পাঁচ উইকেটে থামে বাংলাদেশ
বাংলাদেশের ইনিংস থামাতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের হয়ে সবচেয়ে কার্যকর ছিলেন জোমেল ওয়ারিকান। ২৩.৪ ওভার বল করে ৫৩ রান খরচায় পাঁচটি উইকেট নেন তিনি। বাংলাদেশের ব্যাটারদের নিয়মিত বিরতিতে ফিরিয়ে দিয়ে ইনিংস গুটিয়ে দিতে বড় ভূমিকা রাখেন এই বোলার।
জশুয়া বিশপ ৬১ রান দিয়ে দুটি উইকেট নেন। শামার জোসেফও দুটি উইকেট শিকার করেন। জেডেন সিলস পান একটি উইকেট। অন্যদিকে রস্টন চেজ ও জাস্টিন গ্রিভস কোনো উইকেট পাননি।
শাদমানের সেঞ্চুরি ও হৃদয়ের ৪২ রান বাংলাদেশের ইনিংসে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখলেও শেষদিকে ব্যাটাররা বড় জুটি গড়তে না পারায় স্কোর ৩০০ রানের ঘরে নেওয়া সম্ভব হয়নি।
ক্যাম্পবেলের অর্ধশতক, চন্দরপলের দায়িত্বশীল ব্যাটিং
বাংলাদেশের ২৭২ রানের জবাবে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই উইকেট হারায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ব্র্যান্ডন কিং ২০ বলে ১৫ রান করে ফিরে যান। এরপর জন ক্যাম্পবেল ও তেজনারাইন চন্দরপল মিলে ইনিংস সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেন।
ক্যাম্পবেল আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ে ৭৮ বলে ৫৪ রান করেন। তাঁর ইনিংসে ছিল ছয়টি চার ও দুটি ছক্কা। ৬১ বলে অর্ধশতক পূর্ণ করেন তিনি। তবে মেহেদী হাসান মিরাজের বলে নাজমুল হোসেন শান্তর হাতে ক্যাচ দিয়ে সাজঘরে ফেরেন এই ব্যাটার।
ক্যাম্পবেল আউট হওয়ার পরও এক প্রান্ত ধরে রাখেন চন্দরপল। ১৪৫ বল খেলে ছয়টি চারের সাহায্যে ৪৩ রান করে অপরাজিত রয়েছেন তিনি। দীর্ঘ সময় ক্রিজে থেকে ইনিংস এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেছেন এই ব্যাটার।
তবে দলের অন্য প্রান্তে উইকেট পড়তে থাকায় স্বস্তিতে থাকতে পারেনি ওয়েস্ট ইন্ডিজ। কাভেম হজ ৭ রান করে তাইজুল ইসলামের বলে মুমিনুল হকের হাতে ক্যাচ দেন। এরপর আমির জাঙ্গু কোনো রান না করেই তাইজুলের বলে তানজিদ হাসানের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফিরে যান।
একপর্যায়ে ৯৭ রানে চার উইকেট হারায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। পরে জাস্টিন গ্রিভসকে সঙ্গে নিয়ে দিন শেষ করেন চন্দরপল। গ্রিভস ২২ বলে ১৫ রান করে অপরাজিত আছেন।
বাংলাদেশের বোলিংয়ে এগিয়ে তাইজুল
ওয়েস্ট ইন্ডিজের প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশের হয়ে সবচেয়ে সফল বোলার তাইজুল ইসলাম। ১৫ ওভারে ৪৪ রান দিয়ে দুটি উইকেট নিয়েছেন তিনি। কাভেম হজ ও আমির জাঙ্গুকে ফিরিয়ে দলকে গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য এনে দেন এই স্পিনার।
মেহেদী হাসান মিরাজ ১৯ ওভার বল করে ৪৪ রান দিয়ে একটি উইকেট পেয়েছেন। জন ক্যাম্পবেলকে আউট করেন তিনি। হাসান মাহমুদ ছয় ওভারে ২৫ রান দিয়ে একটি উইকেট নেন।
অন্যদিকে শরিফুল ইসলাম পাঁচ ওভার এবং নাঈম হাসান তিন ওভার বল করলেও উইকেটের দেখা পাননি।
বৃষ্টি ও খারাপ আলোয় বাধাগ্রস্ত খেলা
দ্বিতীয় দিনের শেষ ভাগে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ব্যাটিংয়ের সময় আবহাওয়ার কারণে খেলা বারবার ব্যাহত হয়। ২৭ ওভার শেষে দলটির সংগ্রহ ছিল ৮৯ রান, তখন হাতে ছিল ৯ উইকেট। ক্যাম্পবেল ৫৩ এবং চন্দরপল ২১ রানে ব্যাট করছিলেন।
এরপর খারাপ আলো, ভেজা মাঠ ও বৃষ্টির কারণে খেলা বন্ধ রাখতে হয়। বিরতির পর খেলা শুরু হলে ওয়েস্ট ইন্ডিজ আরও তিনটি উইকেট হারায়। দিনের শেষ দিকে আবারও খারাপ আলোর কারণে খেলা বন্ধ হয়ে যায়।
এর আগে প্রথম দিন শেষে বাংলাদেশ ৭৪ ওভারে তিন উইকেটে ২১৩ রান করেছিল। শাদমান ৯৯ ও লিটন দাস ১০ রানে অপরাজিত ছিলেন। দ্বিতীয় দিনে শাদমান শতক পূর্ণ করেন। পরে ১০৫ রানে তাঁর ইনিংস শেষ হয়।
তাওহিদ হৃদয় ৪২ রান করার পর চোটের কারণে অবসর নিলেও পরে আবার ব্যাটিংয়ে ফেরেন। শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশের ইনিংস থামে ২৭২ রানে।
তৃতীয় দিনে নজর থাকবে দুই দলের ওপর
দ্বিতীয় দিন শেষে বাংলাদেশের প্রথম ইনিংসের চেয়ে ১৩৮ রানে পিছিয়ে রয়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। দলটির হাতে এখনো ছয়টি উইকেট আছে। ফলে তৃতীয় দিনে চন্দরপল ও গ্রিভসের জুটি কতটা এগোতে পারে, সেটিই হবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
বাংলাদেশের বোলারদের লক্ষ্য থাকবে দ্রুত ওয়েস্ট ইন্ডিজের বাকি ছয়টি উইকেট তুলে নেওয়া। অন্যদিকে সফরকারীরা চাইবে উইকেট ধরে রেখে ব্যবধান কমাতে এবং বাংলাদেশের প্রথম ইনিংসের সংগ্রহের কাছাকাছি পৌঁছাতে।
বাংলাদেশ ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের প্রথম টেস্টটি মিরপুরে ১ নভেম্বর পর্যন্ত চলার কথা রয়েছে। দ্বিতীয় দিনের খেলা শেষে বাংলাদেশের হাতে থাকা রান-ব্যবধান স্বাগতিকদের এগিয়ে রাখলেও ম্যাচের পরবর্তী পরিস্থিতি নির্ভর করবে তৃতীয় দিনের পারফরম্যান্সের ওপর।
প্রাসঙ্গিক FAQ
১. বাংলাদেশ বনাম ওয়েস্ট ইন্ডিজ প্রথম টেস্টের দ্বিতীয় দিন শেষে স্কোর কত?
বাংলাদেশ প্রথম ইনিংসে ২৭২ রান করেছে। জবাবে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ৪৮ ওভারে ৪ উইকেট হারিয়ে ১৩৪ রান করেছে।
২. ওয়েস্ট ইন্ডিজ বাংলাদেশের চেয়ে কত রানে পিছিয়ে?
দ্বিতীয় দিন শেষে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ১৩৮ রানে পিছিয়ে রয়েছে। তাদের হাতে আছে ৬টি উইকেট।
৩. বাংলাদেশের হয়ে সর্বোচ্চ রান করেছেন কে?
শাদমান ইসলাম ২৩৪ বলে ১০৫ রান করে বাংলাদেশের প্রথম ইনিংসে সর্বোচ্চ রান করেছেন।
৪. ওয়েস্ট ইন্ডিজের হয়ে কারা উল্লেখযোগ্য রান করেছেন?
জন ক্যাম্পবেল ৫৪ রান করেছেন। তেজনারাইন চন্দরপল ৪৩ এবং জাস্টিন গ্রিভস ১৫ রানে অপরাজিত রয়েছেন।
৫. বাংলাদেশের হয়ে সবচেয়ে বেশি উইকেট নিয়েছেন কে?
ওয়েস্ট ইন্ডিজের প্রথম ইনিংসে তাইজুল ইসলাম দুটি উইকেট নিয়েছেন। অন্যদিকে বাংলাদেশের প্রথম ইনিংসে ওয়েস্ট ইন্ডিজের জোমেল ওয়ারিকান পাঁচটি উইকেট পেয়েছেন।
তানভির ইসলাম/