ঢাকা, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩

টাইব্রেকারে সেশেলসকে হারিয়ে শেষ ষোলোয় বাংলাদেশ

খেলা ডেস্ক . ২৪আপডেটনিউজ
২০২৬ অক্টোবর ২৮ ১৭:৪৪:৫০
টাইব্রেকারে সেশেলসকে হারিয়ে শেষ ষোলোয় বাংলাদেশ

গ্রুপপর্বে পঞ্চম হয়ে শেষ করলেও ফিফা অনূর্ধ্ব-১৫ বিশ্বকাপ ও ফেস্টিভ্যালে নিজেদের লড়াই থামতে দেয়নি বাংলাদেশ। আজারবাইজানের বাকুতে প্লেট স্টেজের ম্যাচে সেশেলসের বিপক্ষে নির্ধারিত সময়ের খেলা ১-১ গোলে শেষ হওয়ার পর টাইব্রেকারে ৪-২ ব্যবধানে জিতেছে বাংলাদেশের কিশোররা। এই জয়ে শেষ ৩২-এর বাধা পেরিয়ে শেষ ষোলোতে জায়গা করে নিয়েছে দলটি। পরবর্তী ম্যাচে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ হবে সিঙ্গাপুর ও ইউএস ভার্জিন আইল্যান্ডসের মধ্যকার লড়াইয়ে জয়ী দল।

ফিফার প্রকাশিত সর্বশেষ সূচিতে সেশেলসের বিপক্ষে ম্যাচটি টিয়ার ‘ই’-এর অন্তর্ভুক্ত। গ্রুপপর্বের ফলের ভিত্তিতে এই টিয়ারে জায়গা পাওয়া বাংলাদেশ নকআউট পর্বের প্রথম বাধা অতিক্রম করেছে। এখন সামনে আরও একটি ম্যাচ, যেখানে জিততে পারলে কোয়ার্টার ফাইনালে যাওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।

গ্রুপপর্বের পঞ্চম স্থান থেকে নকআউট জয়

ছয় দলের ‘জি’ গ্রুপে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ ছিল ওয়েলস, পর্তুগাল, বুরুন্ডি, ইন্দোনেশিয়া ও ফিজি। ছয় ম্যাচের এই পর্বে বাংলাদেশ দুটি জয় ও দুটি ড্রয়ের পাশাপাশি হেরেছে দুই ম্যাচে। সব মিলিয়ে দলের অর্জন ৫ পয়েন্ট। গ্রুপে পঞ্চম স্থানে থাকায় শিরোপার মূল লড়াইয়ের বদলে প্লেট স্টেজে খেলতে হয়েছে বাংলাদেশকে।

তবে এই প্রতিযোগিতায় গ্রুপপর্বের অবস্থানই কোনো দলের খেলার সমাপ্তি নির্ধারণ করে না। ফিফার বিশেষ আয়োজনটিতে পরবর্তী ধাপের ম্যাচগুলো বিভিন্ন টিয়ারে ভাগ করে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। সেই ব্যবস্থার অংশ হিসেবেই সেশেলসের বিপক্ষে মাঠে নামে বাংলাদেশ। নির্ধারিত সময়ের ১-১ সমতার পর টাইব্রেকারে ৪-২ ব্যবধানে জিতে পরের পর্ব নিশ্চিত করে দলটি।

ফিফার টিয়ার পদ্ধতিতে কীভাবে এগোচ্ছে দলগুলো?

এই প্রতিযোগিতায় গ্রুপপর্বের ফল অনুযায়ী দলগুলোকে আলাদা টিয়ারে রাখা হয়েছে। টিয়ার ‘এ’-তে রয়েছে ৩২টি গ্রুপের চ্যাম্পিয়ন ৩২ দল। তাদের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হচ্ছে প্রতিযোগিতার এক নম্বর স্থান বা চ্যাম্পিয়ন হওয়ার জন্য।

পয়েন্ট টেবিলের দ্বিতীয় স্থানে থাকা ৩২টি দল খেলছে টিয়ার ‘বি’-তে। এই টিয়ারে লক্ষ্য ৩৩তম স্থান নির্ধারণী ফাইনালে পৌঁছানো। আর গ্রুপপর্বে পঞ্চম স্থানে থাকা ৩২টি দলকে রাখা হয়েছে টিয়ার ‘ই’-তে, যেখানে খেলছে বাংলাদেশও।

টিয়ার ‘ই’-তে শেষ ৩২-এর ম্যাচ জিতে শেষ ষোলোতে উঠেছে বাংলাদেশ। এই পর্বে সামনে রয়েছে কোয়ার্টার ফাইনাল ও সেমিফাইনাল। পাশাপাশি এই টিয়ারের দলগুলোর মধ্যে ১২৯তম স্থান নির্ধারণী ফাইনালে পৌঁছানোর লড়াইও চলছে।

বিরতি ছাড়াই পরের ম্যাচ বাংলাদেশের

সেশেলসের বিপক্ষে জয় উদ্‌যাপনের পর বাংলাদেশের সামনে দ্রুতই নতুন চ্যালেঞ্জ। আগামীকালই আবার মাঠে নামবে দলটি। সিঙ্গাপুর ও ইউএস ভার্জিন আইল্যান্ডসের ম্যাচে যারা জিতবে, শেষ ষোলোতে তাদের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ।

অর্থাৎ, পরের ম্যাচে জয় পেলে কোয়ার্টার ফাইনালে যাওয়ার পথ খুলবে বাংলাদেশের সামনে। প্লেট স্টেজে টিকে থাকার পাশাপাশি আরও এক ধাপ এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ এখন কিশোর ফুটবলারদের সামনে।

গ্রুপপর্ব শেষে কাউকেই বিদায় নিতে হয় না

ফিফা অনূর্ধ্ব-১৫ বিশ্বকাপ ও ফেস্টিভ্যালের কাঠামোটি প্রচলিত বিশ্বকাপের নকআউট ব্যবস্থার চেয়ে আলাদা। এখানে গ্রুপপর্বের পর কোনো দলকে পুরোপুরি প্রতিযোগিতার বাইরে পাঠানো হয় না। বরং দলগুলোর অবস্থান অনুযায়ী আলাদা টিয়ারে পরবর্তী ম্যাচের ব্যবস্থা করা হয়।

এর ফলে শীর্ষে থাকা দলগুলো যেমন চ্যাম্পিয়ন হওয়ার জন্য লড়াই চালিয়ে যায়, তেমনি অন্য দলগুলোরও বিভিন্ন স্থান নির্ধারণী পর্বে খেলার সুযোগ থাকে। প্রতিযোগিতার শেষ দিন পর্যন্ত সব দলকে মাঠে রাখাই এই আয়োজনের অন্যতম বৈশিষ্ট্য। গ্রুপপর্বে পঞ্চম হওয়া বাংলাদেশও সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে সেশেলসকে হারিয়ে শেষ ষোলোতে পৌঁছেছে।

প্রাসঙ্গিক প্রশ্ন ও উত্তর

১. সেশেলসের বিপক্ষে কত গোলে জিতেছে বাংলাদেশ?

নির্ধারিত সময়ের খেলা ১-১ গোলে ড্র হওয়ার পর টাইব্রেকারে ৪-২ ব্যবধানে জয় পেয়েছে বাংলাদেশ।

২. জয়ের ফলে বাংলাদেশ কোন পর্বে উঠেছে?

সেশেলসকে হারিয়ে শেষ ৩২ পেরিয়ে শেষ ষোলোতে জায়গা করে নিয়েছে বাংলাদেশ।

৩. বাংলাদেশের পরবর্তী প্রতিপক্ষ কে?

সিঙ্গাপুর ও ইউএস ভার্জিন আইল্যান্ডসের ম্যাচের বিজয়ী দলের বিপক্ষে আগামীকাল খেলবে বাংলাদেশ।

৪. গ্রুপপর্বে বাংলাদেশের পয়েন্ট কত ছিল?

ছয় ম্যাচে দুটি জয়, দুটি ড্র ও দুটি পরাজয়ে বাংলাদেশের সংগ্রহ ছিল ৫ পয়েন্ট। দলটি ‘জি’ গ্রুপে পঞ্চম স্থানে ছিল।

৫. এই প্রতিযোগিতায় গ্রুপপর্বের পর দলগুলো কি বাদ পড়ে যায়?

না। ফিফার এই প্রতিযোগিতায় গ্রুপপর্ব শেষে দলগুলোকে বিভিন্ন টিয়ারে ভাগ করে পরবর্তী ম্যাচ আয়োজন করা হয়। ফলে সব দলই প্রতিযোগিতার শেষ দিন পর্যন্ত খেলার সুযোগ পায়।

আল-সাদ/

পাঠকের মতামত: