চরম দু:সংবাদ: বিদায় মোহাম্মদ আমির
মাত্র ৯ মাস আগে অবসর ভেঙে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফিরেছিলেন পাকিস্তানের তারকা পেসার মোহাম্মদ আমির। তবে এই প্রত্যাবর্তন দীর্ঘস্থায়ী হলো না। ২০২৪ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের পর আর কোনো সিরিজে জায়গা না পেয়ে দ্বিতীয়বারের মতো আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে বিদায় নেওয়ার ঘোষণা দিলেন তিনি।
শনিবার (১৪ ডিসেম্বর) পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) দেওয়া এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আমির ও অলরাউন্ডার ইমাদ ওয়াসিমের অবসরের খবর জানানো হয়। এর আগে শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অবসরের সিদ্ধান্ত জানান ইমাদ।
৩২ বছর বয়সী বাঁ-হাতি পেসার মোহাম্মদ আমির বলেন,
"পাকিস্তানের হয়ে সব ফরম্যাটে প্রতিনিধিত্ব করা ছিল আমার জন্য অনেক বড় সম্মানের। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসর নেওয়া কঠিন সিদ্ধান্ত, কিন্তু আমি বিশ্বাস করি, নতুন প্রজন্মের হাতে দায়িত্ব তুলে দেওয়ার এখনই সঠিক সময়। আমি পিসিবি ও ভক্তদের প্রতি কৃতজ্ঞ, যারা আমার পুরো ক্যারিয়ারজুড়ে আমাকে সমর্থন করেছেন।"
অন্যদিকে, ৩৫ বছর বয়সী অলরাউন্ডার ইমাদ ওয়াসিম বলেন,
"অনেক চিন্তা-ভাবনার পর আমি আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসর নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। পাকিস্তানের হয়ে বৈশ্বিক মঞ্চে প্রতিনিধিত্ব করাটা ছিল আমার জীবনের সবচেয়ে গর্বের বিষয়। সবুজ জার্সি গায়ে মাঠে নামার প্রতিটি মুহূর্ত ছিল অসাধারণ। তবে আন্তর্জাতিক অধ্যায়ের ইতি টেনে এখন আমি ঘরোয়া ও ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটে মনোযোগ দিতে চাই। আশা করছি, সেখানে নতুনভাবে আপনাদের বিনোদিত করতে পারব।"
২০০৯ সালে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেকের পর আমির সম্ভাবনার নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেন। তবে ২০১০ সালে স্পট ফিক্সিং কেলেঙ্কারিতে তার ক্যারিয়ারে বড় ধাক্কা লাগে। পাঁচ বছরের নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে ফিরে এসেও পুরোনো ছন্দ পুরোপুরি ফিরে পাননি। তবুও সহজাত প্রতিভার জোরে সমর্থকদের মুগ্ধ করেছেন তিনি।
আমিরের ক্যারিয়ারে উল্লেখযোগ্য পরিসংখ্যান:
টেস্ট: ৩৬ ম্যাচ, ১১৯ উইকেট
ওয়ানডে: ৬১ ম্যাচ, ৮১ উইকেট
টি-টোয়েন্টি: ৬২ ম্যাচ, ৫৯ উইকেট
ব্যাটিং (সব ফরম্যাট মিলিয়ে): ১১৭৯ রান
তিনি ২০০৯ সালে পাকিস্তানের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জয়ী দলের সদস্য ছিলেন এবং ২০১৭ চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে ভারতের বিপক্ষে ফাইনালে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করে শিরোপা জয়ে বড় ভূমিকা রাখেন।
ইমাদ ওয়াসিম পাকিস্তানের হয়ে ৫৫ ওয়ানডে ও ৭৫ টি-টোয়েন্টি খেলেছেন। ক্যারিয়ারে বল হাতে যেমন কার্যকর ছিলেন, তেমনি ব্যাট হাতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন।
ইমাদের উল্লেখযোগ্য পরিসংখ্যান:
টি-টোয়েন্টি: ৭৫ ম্যাচ, ৭৩ উইকেট, ৫৫৪ রান
ওয়ানডে: ৫৫ ম্যাচ, ৪৪ উইকেট, ৯৮৬ রান (গড় ৪২.৮৬)
তিনি শর্টার ফরম্যাটে এক সময় নাম্বার ওয়ান বোলারের স্থানও অর্জন করেছিলেন। ২০১৭ সালে পাকিস্তানের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি জয়ী দলের সদস্য ছিলেন ইমাদ। এছাড়া ২০১৬ ও ২০২১ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ এবং ২০১৯ ওয়ানডে বিশ্বকাপেও খেলেছেন তিনি।
পিসিবির সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের পর আমির ও ইমাদকে আর কোনো সিরিজে সুযোগ না দেওয়াই তাদের এই সিদ্ধান্তের পেছনে বড় কারণ। তবে উভয়েই ঘরোয়া ও ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটে মনোযোগী হতে চান।
মোহাম্মদ আমির ও ইমাদ ওয়াসিম পাকিস্তান ক্রিকেটে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। তাদের অবসর পাকিস্তান দলের জন্য একটি বড় শূন্যতা তৈরি করলেও নতুন প্রতিভাদের উঠে আসার সুযোগ তৈরি করবে। ঘরোয়া ও ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটে তাদের পারফরম্যান্স ভক্তদের জন্য নতুন প্রত্যাশার জাগরণ ঘটাবে।
পাঠকের মতামত:
আপনার জন্য বাছাই করা কিছু নিউজ
- ড্র করলেই ইতিহাস! বাংলাদেশের সামনে বিশ্বকাপ খেলার সুযোগ
- আজকের স্বর্ণের দাম: (মঙ্গলবার, ৭ এপ্রিল ২০২৬)
- আজকের খেলার সময়সূচি: রিয়াল বনাম বায়ার্ন
- বুধবার ৮ ঘণ্টা বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ, দেশের যেসব এলাকায়
- এডহক কমিটিতে থাকা কি নির্বাচনে অংশ নিতে পারবে?
- বিসিবিতে বড় ধামাকা: তামিম ইকবালকে নতুন সভাপতি ঘোষণা
- অন্য দেশে জন্মেও যারা বিশ্বকাপ জেতালেন: অজানা ইতিহাস
- মাদ্রিদ বধের ছকে বায়ার্ন: খেলবেন কি হ্যারি কেইন?
- নতুন এডহক কমিটির প্রথম সভা আজকেই
- আজকের নামাজের সময়সূচি: ৭ এপ্রিল ২০২৬
- ইয়ামালের পাশে ভিনিসিয়ুস: বর্ণবাদ রুখবে রিয়াল-বার্সা তারকা
- আজকের মালয়েশিয়ান রিংগিত রেট (৭ এপ্রিল ২০২৬)
- হাসিমুখে বিদায় নিতে চাই: বড় ঘোষণা দিলেন সাকিব