Md Razib Ali
Senior Reporter
৯ম পে স্কেল: এপ্রিলে সরকারি কর্মচারীদের বড় কর্মসূচি
সরকারি কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের বঞ্চনা অবসানে এবং ৯ম পে স্কেল দ্রুত কার্যকরের দাবিতে এবার রাজপথের কর্মসূচির ডাক দিয়েছে বাংলাদেশ সরকারি কর্মকর্তা কর্মচারী কল্যাণ সমিতি। আজ মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) এক বিশেষ বিবৃতিতে সংগঠনের আহ্বায়ক আবদুল মালেক সংগঠনের পক্ষ থেকে এই নতুন ঘোষণা দেন।
মাঠ পর্যায়ে আন্দোলনের ডাক
বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, এপ্রিল মাসের প্রথম সপ্তাহ থেকেই দেশব্যাপী শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ কর্মসূচি শুরু করতে যাচ্ছে সমিতি। জেলা পর্যায়ে কর্মরত সকল সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীকে এই আন্দোলনে যোগ দেওয়ার উদাত্ত আহ্বান জানিয়েছেন আবদুল মালেক। তিনি বলেন, যারা নতুন পে স্কেলের যৌক্তিকতা মনেপ্রাণে অনুভব করেন, তাদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণই এই দাবি আদায়কে ত্বরান্বিত করবে।
২০১৫ সালের পে স্কেল নিয়ে অসন্তোষ
২০১৫ সালের বেতন কাঠামোকে সরকারি কর্মচারীদের জন্য একটি ‘অন্ধকার অধ্যায়’ হিসেবে অভিহিত করে আবদুল মালেক বলেন, তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার কর্মচারীদের ন্যায্য অধিকার কেড়ে নিয়েছিল। দীর্ঘ ১৫ বছরের প্রচলিত তিনটি টাইম স্কেল এবং সিলেকশন গ্রেড বাতিল করায় বিশেষ করে ব্লক পোস্টধারী ও পদোন্নতি বঞ্চিতরা চরম আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হন। এর পরিবর্তে ১৬ বছরে দুটি উচ্চতর গ্রেড প্রদানের যে নিয়ম করা হয়েছিল, সেটিকে তিনি ‘শুভঙ্করের ফাঁকি’ বলে মন্তব্য করেন।
বর্তমান পরিস্থিতি ও দাবি
বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে বেতন বৃদ্ধির কথা থাকলেও গত এক দশকে তা কার্যকর হয়নি। ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার কর্মচারীদের দাবির মুখে ৯ম জাতীয় পে কমিশন গঠন করে একটি সুপারিশ তৈরি করেছে। তবে সেই সুপারিশটি দীর্ঘ সময় পার হলেও এখনো বাস্তবায়নের মুখ দেখেনি। এই পরিস্থিতিতে পে স্কেল দ্রুত বাস্তবায়নের চাপ সৃষ্টি করতেই নতুন এই কর্মসূচির ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
তানভির ইসলাম/