Md Razib Ali
Senior Reporter
এডহক কমিটিতে থাকা কি নির্বাচনে অংশ নিতে পারবে?
দেশের ক্রিকেটের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডে (বিসিবি) বড় ধরনের পরিবর্তনের ঢেউ আছড়ে পড়েছে। দীর্ঘদিনের জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে আজ বিসিবির নির্বাচিত কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করেছে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (এনএসসি)। একই সঙ্গে সংস্থাটি পরিচালনার জন্য ১১ সদস্যের একটি এডহক কমিটি গঠন করা হয়েছে, যা আজ থেকেই কার্যকর।
কেন এই আকস্মিক রদবদল?
মূলত গত জাতীয় নির্বাচনের পর থেকেই বিসিবির পরিচালনা পর্ষদ নিয়ে নানা মহলে অসন্তোষ তৈরি হয়েছিল। বিভিন্ন জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ের সংগঠকরা নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ তুলেছিলেন। এসব অভিযোগ খতিয়ে দেখতে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেন। গত পরশু সেই কমিটি তাদের চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেয়। সেখানে নির্বাচনে বড় ধরনের পদ্ধতিগত ত্রুটি ও অনিয়মের প্রমাণ মেলায় বর্তমান কমিটি ভেঙে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় এনএসসি।
তদন্ত প্রতিবেদনে যা উঠে এসেছে
আজ সংবাদ সম্মেলনে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের পরিচালক (ক্রীড়া) আমিনুল এহসান তদন্ত প্রতিবেদনের সারসংক্ষেপ তুলে ধরেন। প্রতিবেদনে বিসিবির সাবেক সভাপতির বিরুদ্ধে সরাসরি প্রভাব খাটানোর অভিযোগ আনা হয়েছে। উল্লেখযোগ্য বিষয়গুলো হলো:
কাউন্সিলর মনোনয়নে হস্তক্ষেপ: ঢাকা জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ে আমিনুল ইসলাম বুলবুল এবং নাজমুল আবেদীন ফাহিমকে কাউন্সিলর করার ক্ষেত্রে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদকে পুনরায় চিঠি পাঠিয়ে নাম পরিবর্তনের চাপ দেওয়া হয়েছিল, যা সভাপতির ব্যক্তিগত হস্তক্ষেপ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।
খেলোয়াড় কোটায় অস্বচ্ছতা: ‘সি’ ক্যাটাগরিতে ১০ জন জাতীয় ক্রিকেটার মনোনয়নের ক্ষেত্রে কোনো বোর্ড সভার রেকর্ড পাওয়া যায়নি। এ বিষয়ে বিসিবির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার (সিইও) কাছে ব্যাখ্যা চেয়েও কোনো উত্তর পায়নি তদন্ত কমিটি।
বিলম্বিত আবেদন গ্রহণ: নিয়ম বহির্ভূতভাবে ফারুক আহমেদের কাউন্সিলরশিপের আবেদন নির্ধারিত সময়ের পরে গ্রহণ করাকে নির্বাচনের স্বচ্ছতার পরিপন্থী হিসেবে দেখা হয়েছে।
আইনি ভিত্তি ও আইসিসির অবস্থান
বিসিবির নিজস্ব সংবিধানে এডহক কমিটির কথা উল্লেখ না থাকলেও, জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ তাদের ২০১৮ সালের আইনের ২১ নম্বর ধারা প্রয়োগ করেছে। এই আইন অনুযায়ী, দেশের যেকোনো ক্রীড়া ফেডারেশনে জরুরি প্রয়োজনে এডহক কমিটি গঠন করার পূর্ণ অধিকার সরকারের রয়েছে।
আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) নিয়ম অনুযায়ী বোর্ড পরিচালনায় সরকারি হস্তক্ষেপ নিষিদ্ধ। তবে এনএসসি জানিয়েছে, নির্বাচনী অনিয়মের সার্বিক বিষয়গুলো আইসিসিকে অবহিত করা হয়েছে। তবে আইসিসি এই নতুন এডহক কমিটিকে কীভাবে মূল্যায়ন করবে, সে বিষয়ে এনএসসি এখনো কোনো সুনির্দিষ্ট মন্তব্য করেনি।
নির্বাচনের মাঠে কি থাকতে পারবেন এডহক কমিটির সদস্যরা?
নতুন গঠিত ১১ সদস্যের এই কমিটির প্রাথমিক কাজ হলো আগামী ৯০ দিনের মধ্যে একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের হাতে দায়িত্ব বুঝিয়ে দেওয়া। তবে একটি বড় প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে—এই কমিটির সদস্যরা (যাদের মধ্যে সাবেক তারকা ক্রিকেটার বা সংগঠকরা রয়েছেন) নিজেরা নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারবেন কি না?
এ প্রসঙ্গে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের পরিচালক আমিনুল এহসান সরাসরি কোনো উত্তর দেননি। বর্তমান আইনে এ বিষয়ে কোনো স্পষ্ট নিষেধাজ্ঞা নেই। এমনকি এনএসসির নিজস্ব বিধানেও বিষয়টি অস্পষ্ট। সাধারণত জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ে এডহক কমিটির সদস্যরা ভোট দেওয়ার আগে পদত্যাগ করেন, কিন্তু বিসিবির ক্ষেত্রে পরিস্থিতি কী দাঁড়াবে তা এখনো নিশ্চিত নয়।
আগামী তিন মাস বিসিবির এই অস্থায়ী কমিটির জন্য এক বিশাল চ্যালেঞ্জ। তারা কি পারবেন অনিয়মের ছায়া কাটিয়ে একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন উপহার দিতে? উত্তর মিলবে সময়ের সাথে।
আল-মামুন/
পাঠকের মতামত:
আপনার জন্য বাছাই করা কিছু নিউজ
- আজকের স্বর্ণের দাম: (মঙ্গলবার, ৭ এপ্রিল ২০২৬)
- ড্র করলেই ইতিহাস! বাংলাদেশের সামনে বিশ্বকাপ খেলার সুযোগ
- আজকের খেলার সময়সূচি: রিয়াল বনাম বায়ার্ন
- অন্য দেশে জন্মেও যারা বিশ্বকাপ জেতালেন: অজানা ইতিহাস
- বিসিবিতে বড় ধামাকা: তামিম ইকবালকে নতুন সভাপতি ঘোষণা
- মাদ্রিদ বধের ছকে বায়ার্ন: খেলবেন কি হ্যারি কেইন?
- আজকের নামাজের সময়সূচি: ৭ এপ্রিল ২০২৬
- হাসিমুখে বিদায় নিতে চাই: বড় ঘোষণা দিলেন সাকিব