Md Razib Ali
Senior Reporter
মাদ্রিদ বধের ছকে বায়ার্ন: খেলবেন কি হ্যারি কেইন?
ইউরোপীয় ফুটবলের শ্রেষ্ঠত্বের লড়াইয়ে আবারও মুখোমুখি দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী—রিয়াল মাদ্রিদ ও বায়ার্ন মিউনিখ। চ্যাম্পিয়ন্স লিগের কোয়ার্টার ফাইনালের প্রথম লেগের আগে আলোচনার কেন্দ্রে এখন একটাই নাম, হ্যারি কেইন। ইংলিশ এই গোলমেশিনকে কি সান্তিয়াগো বার্নাব্যুর সবুজ গালিচায় দেখা যাবে? বায়ার্ন ভক্তদের মনে এখন এই প্রশ্নই ঘুরপাক খাচ্ছে।
কেন শঙ্কা হ্যারি কেইনকে নিয়ে?
সবকিছুর সূত্রপাত গত সপ্তাহে ইংল্যান্ড জাতীয় দলের অনুশীলন ক্যাম্পে। সেখানে গোড়ালিতে চোট পাওয়ার পর থেকেই মাঠের বাইরে আছেন কেইন। এই চোটের কারণেই উরুগুয়ে ও জাপানের বিপক্ষে জাতীয় দলের জার্সিতে নামা হয়নি তার। এমনকি বুন্দেসলিগার গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে ফ্রেইবুর্গের বিপক্ষেও তাকে বিশ্রাম দিতে বাধ্য হয় বায়ার্ন কর্তৃপক্ষ। তবে আশার কথা হলো, মাদ্রিদ সফরের আগে মিউনিখের ট্রেনিং গ্রাউন্ডে ঘাম ঝরিয়েছেন তিনি।
কোচ ভিনসেন্ত কোম্পানির পরিকল্পনা
দলের প্রধান ভরসাকে নিয়ে বেশ সতর্ক বায়ার্ন বস ভিনসেন্ত কোম্পানি। মাদ্রিদে পৌঁছানোর আগে তিনি সংবাদমাধ্যমকে জানান, “সে আজ কঠোর পরিশ্রম করেছে, যা দলের জন্য ইতিবাচক। লম্বা সময় মাঠের বাইরে থাকলেও সে তার স্বাভাবিক ছন্দ হারায়নি বলেই আমার বিশ্বাস। তবে প্রথম একাদশে তাকে রাখা হবে কি না, সেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে আমরা মঙ্গলবার পর্যন্ত সময় নিতে চাই।” কোম্পানি আরও মনে করিয়ে দেন, কেইন ছাড়াও তার স্কোয়াডে জয় ছিনিয়ে আনার মতো যথেষ্ট সামর্থ্যবান ফুটবলার রয়েছে।
মাদ্রিদ শিবিরে কেইন-আতঙ্ক ও সমীহ
ম্যাচ শুরুর আগেই বায়ার্নের আক্রমণভাগ নিয়ে নিজেদের উদ্বেগের কথা জানিয়েছেন রিয়াল তারকারা। ভিনিসিয়ুস জুনিয়র সরাসরি কেইনের প্রশংসা করে বলেন, “কেইন একজন অসাধারণ খেলোয়াড়, গোল করার অদ্ভুত ক্ষমতা আছে তার। তবে বায়ার্ন কেবল একজনের ওপর নির্ভরশীল নয়; তাদের পুরো দলটিই বৈচিত্র্যময়। যে কেউ যেকোনো পজিশন থেকে আমাদের ম্যাচ কঠিন করে দিতে পারে।”
অন্যদিকে, রিয়াল মাদ্রিদ কোচ আলভারো আরবেলোয়ার কণ্ঠেও ঝরল প্রতিপক্ষের প্রতি সম্মান। বায়ার্নকে ইউরোপের অন্যতম ধারাবাহিক দল হিসেবে আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, “তাদের খেলা অনেকটা নির্ভীক ও আগ্রাসী। বিশেষ করে রক্ষণে তারা যেমন মনোযোগী, আক্রমণে তেমনি হ্যারি কেইনের মতো একজন বিশ্বমানের স্ট্রাইকার রয়েছে। তাদের আমরা যথেষ্ট সমীহ করছি।”
পরিসংখ্যান ও সাম্প্রতিক ফর্ম
ইতিহাস বলছে, গত ১৪ মৌসুমে এটি এই দুই দলের ষষ্ঠ নকআউট দেখা। ২০১১-১২ মৌসুম থেকে দুই লেগের লড়াইয়ে বায়ার্ন মিউনিখের আধিপত্য কিছুটা বেশি। গত কয়েকটি সাক্ষাতের মধ্যে বায়ার্ন চারবার জিতেছে, যার মধ্যে সবশেষটি ছিল ২০২৪ সালে। ২০১২ সালের সেই রোমাঞ্চকর পেনাল্টি শুটআউটের স্মৃতিও এখনো অমলিন।
লড়াইয়ে নামার আগে আত্মবিশ্বাসের তুঙ্গে আছে বায়ার্ন। সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে শেষ ১৩ ম্যাচে তারা অপরাজিত, যার মধ্যে জয় ১১টিতেই। অন্যদিকে, ম্যানচেস্টার সিটিকে বিদায় করে শেষ আটে আসা রিয়াল মাদ্রিদ নিজেদের শেষ ম্যাচে মায়োর্কার কাছে হেরে কিছুটা ব্যাকফুটে রয়েছে। তবে আতালান্তাকে হারিয়ে আসা বায়ার্ন জানে, বার্নাব্যুতে রিয়াল কতটা ভয়ংকর হতে পারে।
এখন দেখার বিষয়, ইউরোপীয় ফুটবলের এই ক্ল্যাসিক লড়াইয়ে শেষ হাসি কারা হাসে—কিংশি কেইন কি পারবেন তার ম্যাজিক দেখাতে, নাকি ঘরের মাঠে মাদ্রিদই বাজিমাত করবে?
তানভির ইসলাম/