Md Razib Ali
Senior Reporter
ড্র করলেই ইতিহাস! বাংলাদেশের সামনে বিশ্বকাপ খেলার সুযোগ
সাফ অনূর্ধ্ব-২০ টুর্নামেন্টের শিরোপা জয়ের উৎসবের আবহে কিছুটা নিভৃতেই থাইল্যান্ডে বড় লক্ষ্য নিয়ে লড়ছে বাংলাদেশের নারী ফুটবলাররা। এএফসি অনূর্ধ্ব-২০ নারী এশিয়া কাপে প্রথমবারের মতো অংশগ্রহণ করেই অভাবনীয় এক অর্জনের সামনে দাঁড়িয়ে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। এশিয়ান ফুটবলের এই মর্যাদাপূর্ণ আসরে এর আগে কখনোই শেষ আটে খেলার অভিজ্ঞতা হয়নি বাংলাদেশের। এবার সেই ইতিহাস গড়ার হাতছানি দিচ্ছে আফিদা-অর্পিতাদের।
কোয়ার্টার ফাইনালের সমীকরণ
এবারের টুর্নামেন্টের নিয়ম অনুযায়ী, তিন গ্রুপের চ্যাম্পিয়ন ও রানার্সআপের পাশাপাশি সেরা দুই তৃতীয় স্থানাধিকারী দলও খেলবে কোয়ার্টার ফাইনালে। বর্তমানে ‘এ’ গ্রুপে দুই ম্যাচ খেলে টেবিলের তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে বাংলাদেশ। থাইল্যান্ড ও চীনের বিপক্ষে লড়ে বাংলাদেশের গোল ব্যবধান এখন -৩ (হজম ৫টি, গোল করেছে ২টি)। অন্যদিকে, সমান ম্যাচে কোনো পয়েন্ট না পাওয়া ভিয়েতনামের গোল ব্যবধান -৬।
আগামীকাল বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা ৬টায় গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে ভিয়েতনামের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ। এই ম্যাচে স্রেফ একটি ড্র করতে পারলেই গ্রুপে তৃতীয় স্থান নিশ্চিত হবে বাংলাদেশের।
সুবিধাজনক অবস্থানে বাংলাদেশ
অন্য দুই গ্রুপের (বি ও সি) পরিস্থিতির তুলনায়ও বাংলাদেশ বেশ এগিয়ে। বি গ্রুপে উজবেকিস্তান (-৮) এবং সি গ্রুপে চাইনিজ তাইপে (-৭) গোল ব্যবধানে বাংলাদেশের চেয়ে পিছিয়ে আছে। যদি বাংলাদেশ ভিয়েতনামের বিপক্ষে ড্র করে এবং অন্য গ্রুপগুলোতে ভারত বনাম চাইনিজ তাইপে কিংবা উজবেকিস্তান বনাম জর্ডান ম্যাচ ড্র হয়, তবে বাংলাদেশের কোয়ার্টার ফাইনাল সরাসরি নিশ্চিত হয়ে যাবে। আর ভিয়েতনামকে হারাতে পারলে কোনো নাটকীয়তা ছাড়াই শেষ আটে জায়গা করে নেবে বাঘিনীরা।
সামনে ফিফা বিশ্বকাপের হাতছানি
এশিয়ান পর্যায়ের এই সাফল্য ছাপিয়ে বাংলাদেশের সামনে রয়েছে বিশ্বমঞ্চে নাম লেখানোর সুযোগ। এ বছর সেপ্টেম্বরে পোল্যান্ডে বসবে ফিফা অনূর্ধ্ব-২০ নারী বিশ্বকাপ। এএফসি টুর্নামেন্টের সেরা চার দল অর্থাৎ সেমিফাইনালিস্টরা সরাসরি বিশ্বকাপের টিকিট পাবে। ফলে কোয়ার্টার ফাইনাল জিততে পারলেই প্রথমবারের মতো ফিফার কোনো বিশ্ব আসরে খেলার অনন্য গৌরব অর্জন করবে বাংলাদেশ।
ভুল থেকে শিক্ষা ও প্রতিশোধের মিশন
এর আগে অস্ট্রেলিয়ায় সিনিয়র এশিয়া কাপে উজবেকিস্তানকে হারাতে পারলেই শেষ আটে ওঠার সুযোগ ছিল। কিন্তু কোচ পিটার বাটলারের ‘হাই লাইন ডিফেন্স’ কৌশল কাজে না আসায় ০-৪ গোলের হারে সেই স্বপ্ন ধূলিসাৎ হয়েছিল। এবার ছোটদের সামনে সেই আক্ষেপ ঘোচানোর সুযোগ।
অন্যদিকে, গত ২৬ মার্চ পুরুষ জাতীয় ফুটবল দল ভিয়েতনামের কাছে ৩-০ গোলে পরাজিত হয়েছিল। মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে এবার নারী দলের সামনে সুযোগ বড় ভাইদের সেই হারের প্রতিশোধ নেওয়ার। আফিদারা কি পারবেন ভিয়েতনামকে হারিয়ে দেশের ফুটবলে নতুন এক রূপকথা লিখতে? ফুটবল ভক্তদের চোখ এখন কালকের সেই মহাগুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের দিকে।
তানভির ইসলাম/