MD. Razib Ali
Senior Reporter
হঠাৎ করে বাড়লো জ্বালানি তেলের দাম
আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম আকস্মিক বৃদ্ধি: নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে জ্বালানি বাজার
আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে আকস্মিক অস্থিরতা দেখা দিয়েছে, যেখানে অপরিশোধিত তেলের দাম উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ওপেক প্লাস (OPEC+) জোটের উৎপাদন বৃদ্ধির ধীরগতির সিদ্ধান্ত এবং রাশিয়ার ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞার সম্ভাবনাই এই মূল্যবৃদ্ধির প্রধান কারণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
আজ ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ৩৫ সেন্ট বেড়ে প্রতি ব্যারেল ৬৬ দশমিক ৩৭ ডলারে দাঁড়িয়েছে। একই সময়ে, যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (WTI) তেলের দাম ৩২ সেন্ট বেড়ে প্রতি ব্যারেল ৬২ দশমিক ৫৮ ডলারে পৌঁছেছে। এই মূল্যবৃদ্ধি বৈশ্বিক অর্থনীতিতে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
ওপেক প্লাসের কৌশলগত সিদ্ধান্ত:
গত রোববার ওপেক প্লাস ঘোষণা করেছে যে তারা অক্টোবর মাস থেকে দৈনিক মাত্র ১ লাখ ৩৭ হাজার ব্যারেল তেল উৎপাদন বাড়াবে। এটি বিশ্লেষকদের প্রত্যাশার চেয়ে অনেক কম, কারণ আগস্ট ও সেপ্টেম্বরে প্রতি মাসে গড়ে ৫ লাখ ৫৫ হাজার ব্যারেল করে উৎপাদন বাড়ানো হয়েছিল। এই অপ্রত্যাশিত ধীরগতি বাজারে সরবরাহ ঘাটতির আশঙ্কা বাড়িয়ে দিয়েছে, যা তেলের দাম বাড়াতে সরাসরি ভূমিকা রাখছে।
রাশিয়ার ওপর সম্ভাব্য নিষেধাজ্ঞার প্রভাব:
পাশাপাশি, রাশিয়ার ওপর নতুন করে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপের সম্ভাবনা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে আলোচনা চলছে। যদি এই নিষেধাজ্ঞাগুলি কার্যকর হয়, তবে রাশিয়ার তেল রপ্তানি মারাত্মকভাবে প্রভাবিত হতে পারে। বাজার বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এটি বৈশ্বিক বাজারে তেলের সরবরাহ আরও কমিয়ে দেবে এবং ফলস্বরূপ দাম আরও বাড়িয়ে দেবে।
মার্কিন সুদের হার ও চাহিদা বৃদ্ধি:
এছাড়াও, যুক্তরাষ্ট্রে সুদের হার কমানোর সম্ভাবনার বিষয়টি তেলের চাহিদা বৃদ্ধির একটি অনুঘটক হিসেবে কাজ করতে পারে। সুদের হার কমানো হলে অর্থনৈতিক কার্যক্রমে উদ্দীপনা আসে, যা শিল্প ও পরিবহন খাতে তেলের ব্যবহার বাড়িয়ে দেয়।
এই সার্বিক পরিস্থিতি ইঙ্গিত দিচ্ছে যে আগামী দিনগুলোতে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজার আরও অস্থির হতে পারে, যার প্রভাব বিভিন্ন দেশের অর্থনীতি এবং ভোক্তাদের ওপর পড়তে পারে।
তানভির ইসলাম/