ঢাকা, শনিবার, ২৩ মে ২০২৬, ৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

Alamin Islam

Senior Reporter

৬ নিরীক্ষা ফার্মকে নিষিদ্ধ করছে বিএসইসি! ঝুঁকিতে ৪ কোম্পানি

শেয়ারনিউজ ডেস্ক . ২৪আপডেটনিউজ
২০২৫ সেপ্টেম্বর ১৭ ২১:৫৩:২৫
৬ নিরীক্ষা ফার্মকে নিষিদ্ধ করছে বিএসইসি! ঝুঁকিতে ৪ কোম্পানি

শেয়ারবাজারে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে এবার নড়েচড়ে বসেছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। তালিকাভুক্ত কয়েকটি কোম্পানির আর্থিক নিরীক্ষায় গুরুতর গাফিলতি এবং অনিয়ম আড়াল করার অভিযোগে ছয়টি নিরীক্ষা ফার্ম ও তাদের সংশ্লিষ্ট নিরীক্ষকদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে যাচ্ছে সংস্থাটি।

বিএসইসি’র চেয়ারম্যান জনাব খন্দকার রাশেদ মাকসুদ এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত কমিশনের ৯৭৩তম সভায় মঙ্গলবার (১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৫) এ সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে বলে কমিশন সূত্রে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।

কমিশনের নিবিড় তদন্তে বেরিয়ে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। চারটি তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠানের নিরীক্ষকরা তাদের আর্থিক প্রতিবেদনে গুরুতর অনিয়ম থাকা সত্ত্বেও তা উল্লেখ করেননি, যা বিনিয়োগকারীদের বিভ্রান্তিতে ফেলেছে এবং শেয়ারবাজারে সঠিক তথ্যপ্রবাহকে মারাত্মকভাবে ব্যাহত করেছে।

এই গুরুতর অভিযোগের তীর যাদের দিকে, সেই অভিযুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলো হলো: সুহৃদ ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড, রিংসাইন টেক্সটাইল লিমিটেড, আমান কটন ফাইব্রাস লিমিটেড এবং ফারইষ্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেড। এদের নিরীক্ষার দায়িত্বে থাকা ফার্মগুলো হলো: এ হক অ্যান্ড কোং, আহমেদ অ্যান্ড আক্তার, মাহফেল হক অ্যান্ড কোং, আতা খান অ্যান্ড কোং, সিরাজ খান বসাক অ্যান্ড কোং এবং ইসলাম কাজী শফিক অ্যান্ড কোং।

আরও পড়ুন:পুঁজি হারাচ্ছেন? সর্বনিম্ন দামে ৫ শেয়ারে দিশেহারা বিনিয়োগকারীরা!

বিএসইসি এই নিরীক্ষক ফার্মগুলোকে পাঁচ বছরের জন্য শেয়ারবাজারের তালিকাভুক্ত কোম্পানি, বিনিয়োগ স্কিম এবং মধ্যস্থতাকারী প্রতিষ্ঠানের অডিট ও অ্যাসিউর‌্যান্স কার্যক্রম থেকে কেন অযোগ্য ঘোষণা করা হবে না, সে বিষয়ে ব্যাখ্যা তলব করেছে। একই সাথে তাদের শুনানির জন্যও তলব করা হয়েছে, যা এই পদক্ষেপের গুরুত্ব তুলে ধরে।

বাজার বিশ্লেষক মহল বিএসইসি’র এই দৃঢ় পদক্ষেপকে সাধুবাদ জানিয়েছে। তাদের মতে, এটি বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ সুরক্ষায় একটি সময়োপযোগী এবং অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ। নিরীক্ষায় গাফিলতি বাজারের আস্থায় চিড় ধরায়, তাই এমন কঠোর শাস্তি আরোপ করলে ভবিষ্যতে নিরীক্ষকরা আরও দায়িত্বশীল ও সতর্ক হতে বাধ্য হবেন।

বাজার সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, বিএসইসি’র এই পদক্ষেপ শেয়ারবাজারে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠার একটি জোরালো বার্তা। একই সাথে এটি বিনিয়োগকারীদের আস্থা পুনরুদ্ধারেও সহায়ক হবে বলে তারা আশাবাদী।

আল-মামুন/

পাঠকের মতামত:

আপনার জন্য বাছাই করা কিছু নিউজ

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ